৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৃষ্ণার্ত পখিদের জন্য ১০ হাজার মাটির পাত্র বিলি বৃদ্ধর

প্রচণ্ড দাবদাহে নদীনালা জলাধার সব শুকিয়ে যাচ্ছে। দেখা দিচ্ছে পর্যাপ্ত পানীয় জলের অভাব। ফলে মানুষের সঙ্গে সমস্যায় ভুগছে পশুপাখিও। তাই অনেকেই জানালায়, বারান্দায় বা ছাদে পাখিদের জন্য জল রেখে দেন। এই গরমে তাই পাখিদের কথা ভেবেই সত্তর বছর বয়সের এক বৃদ্ধ তাই নিজ হাতে দশ হাজার মাটির পাত্র বানিয়ে বিনা পয়সায় সেগুলো মানুষের কাছে বিলি করে দিচ্ছেন। যাতে করে পাখির জন্য জলের যোগান দিতে পারেন সবাই।

দক্ষিণ ভারতের এর্নাকুলামের মুপ্পাথড়ামের বাসিন্দা তিনি। নাম শ্রীমন নারায়ণ। সবাই তাঁকে লটারি ব্যবসায়ী হিসেবে জানলেও তাঁর আরও পরিচয় আছে। অবসরে লেখেন শ্রীমন নারায়ণ। এমনকি বই লিখে পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। তবে বর্তমানে তিনি বেশি চিন্তিত বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে। আর তাই সমস্ত কাজ ছেড়ে মাটির কাছে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। একা হাতে একের পর এক পাত্র বানিয়েছেন মাটি দিয়ে। যাতে পাখিরা সহজেই এসে স্নানও করতে পারে এবং জলও পায়। এর জন্য তার খরচ হয়েছে ছ’লক্ষ টাকা।


নারায়ণের মতে, “খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে গ্রীষ্মের চেহারা। নদীনালা শুকিয়ে গিয়ে পাখিদের জল খাওয়ার জায়গা নেই কোথাও। গ্রীষ্মে পর্যাপ্ত জল না পেলে শুধু মানুষ নয়, পশুপাখিও অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই এই রকম একটা মাটির পাত্রে জল ভরে রাখলে কম করে শ’খানেক পাখি জল খেতে পারবে।”

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর্নাকুলামের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর বানানো মাটির পাত্র। আবাসন, অফিস, স্কুল ক্লাবে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে পাত্রগুলো। দশ হাজার পাত্রের মধ্যে নয় হাজারই বিলি হয়ে গিয়েছে। শ্রীমান এই প্রকল্পের নাম দিয়েছেন-‘জীব জলথিনু ওরু মানু পাত্রম’ যার অর্থ জীবনদায়ী জলের জন্য একটি মাটির পাত্র।

বছর ত্রিশেক আগে স্ত্রীকে হারিয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই নানারকম কাজে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। গত বছরেই পঞ্চাশ হাজার চারাগাছ বিনামূল্যে বিলি করেছেন তিনি। খরচ করেছিলেন পনেরো লক্ষ টাকা। তিনি মনে করেন, “ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমানোর চেয়ে ভবিষ্যতকে সুন্দর করার চেষ্টাটাই এই মুহূর্তে জরুরি। প্রকৃতি ধ্বংস হয়ে গেলে ভবিষ্যতের জন্য জমানো টাকা দিয়ে কী হবে!”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here