যাকে ভালবেসে বিয়ে করেছি‚ যার সন্তানের মা হয়েছি‚ সে একজন মহিলাকে ধর্ষণ করেছে, একথা চোখের সামনে দেখলেও যে বিশ্বাস করা কঠিন

835

ধর্ষণে সাজাপ্রাপ্ত বন্দির স্ত্রী হওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ? কীভাবে সমাজের মুখোমুখি হয় একজন ধর্ষকের পরিবার ? নির্যাতিতার থেকে তাদের সামাজিক লজ্জা‚ কুণ্ঠাও তো কম নয় | যদি একজন স্ত্রী চিঠি লেখেন তাঁরধর্ষক স্বামীকে ? কেমন হবে তার বয়ান ? ভাবার চেষ্টা করলেন দীপান্বিতা রায় 

জয়দীপ‚

আজকের রাতটা ভারি অদ্ভুত | ঘুম আসার প্রশ্নই নেই | তবু অনেকক্ষণ চুপ করে শুয়ে ছিলাম | বুঝতে পারছিলাম‚ পাশের ঘরে তোমার মা-বাবাও জেগে আছেন | বাবা পায়চারি করছিলেন | মা বারবার উঠে জল খাচ্ছিলেন | যতক্ষণ ওদের নড়াচড়ার শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল‚ আমি প্রাণপণে নিঃশব্দে শুয়ে থাকার চেষ্টা করছিলাম | গত তিন বছর ধরে এমনভাবে নিশ্চুপে‚ নির্ঘুমে রাত কাটিয়ে দেওয়াটাই আসলে আমার অভ্যাস হয়ে গেছে | একসময় পায়ের শব্দ আস্তে আস্তে থেমে এল | ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন | দুশ্চিন্তা দুর্ভাবনা সব মিলিয়েই দুজনে একদম বিপর্যস্ত | এত কিছু সত্বেও বয়সের ভারেই হয়তো একসময় ঘুম নেমে এল চোখে | একটু সময়ের জন্য অন্তত শান্তি |

আমার কিন্তু সেটুকুও হয় না | ওষুধ খেলে রাতটা একটা ঘোরের মধ্যে কাটে বড়জোর | কিন্তু নিশ্চিন্তে গভীর ঘুমে তলিয়ে যাওয়ার বোধ আমি ভুলে গেছি | অথচ দ্যাখো‚ শ্বশুরবাড়ি‚ বাপেরবাড়ি সর্বত্রই ঘুমকাতুরে বলে আমার দুর্নাম ছিল | পাশের ঘরে সব চুপচাপ হয়ে গেলে‚ বাবুয়া অঘোরে ঘুমোচ্ছে দেখে আমি খাট থেকে নেমে এসে টেবিলে বসেছি | সেই যে নীল রঙের ঝালর বসানো কাপড়ের টেবিলল্যাম্পটা আমরা নিউমার্কেট থেকে কিনেছিলাম‚ সেটা জ্বেলেই তোমাকে চিঠি লিখতে বসেছি | আর কয়েকঘন্টা পরেই তো তোমার সঙ্গে দেখা হবে | কাঠের রেলিংয়ের ওপাশে থাকবে তুমি | পুলিশভ্যানে তোলার আগে নিশ্চয়ই একবার কথা বলতে দেবে | তখনই তোমার হাতে চিঠিটা দিয়ে দেব |

গত রবিবার রাতটাও আমার এরকমভাবেই জেগে কেটেছিল | তবে সেদিন জাগার মধ্যে একটা উত্তেজনা ছিল‚ কিছুটা আশাও ছিল | ভাবছিলাম‚ সব কিছু বিবেচনা করে হয়তো জজসাহেব বুঝতে পারবেন যে আসলে তুমি নির্দোষ | নিউ ইয়ার্স ইভ-এর রাতে এলিয়ট রোডে ঘটে যাওয়া ওই জঘন্য ঘটনাটার সঙ্গে তোমার কোনও যোগ নেই | বুঝতে পারবেন‚ আসলে অন্ধকারে ওই মহিলা‚ কারা তাঁর ওপর অত্যাচার করেছে‚ তাদের ঠিকমতো চিনতে পারেননি | আশা করেছিলাম‚ কারণ তুমি বারবার বলেছিলে‚ সেদিন তুমি ওখানে ছিলে না | একটু বেশি ড্রিঙ্ক করে ফেলেছিলে বলে বাড়ি ফিরতে পারোনি ঠিকই‚ কিন্তু তুমি সে রাতে বিল্টুদের বাড়িতে চলে গিয়েছিলে | আখতার‚ ববি আর পিন্টু গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল | বিল্টু আর তুমি গাড়িতে ওঠার আগে পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলে বলেই‚ পুলিশ তোমাকে সন্দেহ করে ধরে নিয়ে গেছে | আমি তোমার কথা বিশ্বাস করেছিলাম | কিংবা হয়তো বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছিলাম | কারণ বিশ্বাস না করে তো আমার কোনও উপায় নেই | যাকে ভালবেসে বিয়ে করেছি‚ যার সন্তানের মা হয়েছি‚ সে মধ্যরাতে একজন অসহায় মহিলাকে ধর্ষণ করেছে একথা চোখের সামনে দেখলেও বিশ্বাস করা কঠিন হয় | বিশ্বাস করতে চায় না মানুষ | তাই অশা করেছিলাম‚ যে হয়তো তুমি নির্দোষ প্রমাণিত হবে | তিন বছর পর‚ হাসিমুখে তোমার সঙ্গে বাড়ি ফিরব |পরদিন সকালে স্নান সেরে মা যাবেন কালীঘাটে পুজো দিতে |

কিন্তু সেসব কিছুই হল না | আইনের জটিল ধারা না বুঝলেও জজসাহেবের রায় শুনে এটুকু বুঝতে অসুবিধা হল না যে‚ তুমি যে সেদিন ওখানে ছিলে এবং ওই মহিলার ওপর অত্যাচারে তোমারও সরাসরি ভূমিকা আছে‚ সে বিষয়ে বিচারকদের অন্তত কোনও সন্দেহ নেই | প্রমাণ তাঁরা ঠিকঠাকই পেয়েছেন আর সেজন্যই বাকিদের সঙ্গে তোমাকেও দোষী সাব্যস্ত করেছেন | কাল সাজা ঘোষণা | উকিলের কাছে শুনেছি‚ সবথেকে কম সাজা হলে সেটা হবে দশ বছরের জেল | বেশি হলে যাবজ্জীবন হতেও বাধা নেই | তবে ফাঁসি হবে না |

গত তিন বছর ধরে তুমি জেলে আছ | আমি অনেকবার তোমার সঙ্গে দেখা করতে গেছি | কিন্তু কিছু কথা তোমাকে কোনদিনই বলিনি | একটাই কারণে‚ যদি তুমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে বাড়ি ফিরে আস‚ তাহলে তখন এই কথাগুলো মনে করলে তোমার খারাপ লাগবে | নিজেকে অপরাধী মনে হবে | তাই আমি কিংবা তোমার মা-বাবা কেউই তোমার কাছে আমাদের কষ্টের কথা বলতাম না | ওঁরা হয়তো আজও বলবেন না | সন্তানের মনে কষ্ট দেওয়াটা তাঁদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব | কিন্তু আজ তো আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে তুমি দোষী‚ তাই আমার আর কোনও দ্বিধা নেই | আমি কথাগুলো তোমাকে বলতে চাই | বলব বলেই এই চিঠি লিখতে বসেছি |

তোমাকে যখন পুলিশ অ্যারেস্ট করল‚ বাবুয়া তখন তিন বছরের | পাড়ার মন্টেসরি স্কুলে পড়ত | সে বছরই ওর বড় স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা | আমাদের দুজনেরই ইচ্ছে ছিল ওকে সেন্ট অকল্যান্ডে ভর্তি করার | বাবুয়া হোলি অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়েছে শুনে তুমি আমায় জিজ্ঞাসা করেছিলে‚

-সেন্ট অকল্যান্ডে কেন ভর্তি করলে না ছেলেকে ?

আমি বলেছিলাম‚

-এখন টাকা-পয়সার টানাটানি যাচ্ছে | উকিলের পিছনে অনেক টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে | তুমি বাড়ি এসো‚ তারপর স্কুল চেঞ্জ করব |

সেদিন তোমাকে আমি মিথ্যে কথা বলেছিলাম জয়দীপ | বাবুয়াকে সেন্ট অকল্যান্ড নেয়নি | বাবুয়ার কোনও দোষে নয় | তোমার জন্য | ইন্টারভিউয়ের দিন বাবা কেন আসেনি জিজ্ঞাসা করায় আমি সত্যি কথাই বলেছিলাম | তখনই ওঁরা আমাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন‚ এই ধরনের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ছেলেকে তাঁরা স্কুলে নেবেন না | এতে অন্য বাচ্চাদের ওপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে | আমি খুব একটা আশ্চর্য হইনি | কারণ ততদিনে পাড়ার যে মন্টেসরি স্কুলটাতে ও পড়ত‚ সেখান থেকেও আমাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল বাচ্চাকে ওদের স্কুলে যেন আর না পাঠাই |

স্মার্ট‚ চটপটে বাচ্চা | ওইটুকু বয়সে তার যতটুকু পড়াশোনা জানা দরকার‚ সবটাই জানে | তবু কোনও স্কুলে ওকে নেবে না‚ কারণ ওর বাবা একজন মহিলাকে ধর্ষণের অপরাধে জেলে বন্দি | আমার ছোটবেলার বন্ধু সুস্মিতাকে কি তোমার মনে আছে ? ও এখন  হোলি অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল | ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে অনেক আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ওর সাহায্যে বাবুয়া হোলি অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হল | না হলে হয়তো তোমার ছেলের আর স্কুলে পড়াই হত না | টাকা-পয়সার অভাব আমাদের হয়নি | কারণ তোমাদের ব্যবসা থেকে আয় ভালই | তাছাড়া আমারও তো একটা চাকরি আছে | ভাগ্য ভাল‚ সেটা সরকারি চাকরি‚ তাও আবার কেন্দ্রীয় সরকারের | তা না হলে এতদিনে আমার চাকরিটাও যেত নিশ্চিত |

তবে চাকরি না গেলেও অফিসে যাওয়াটা আমার কাছে এখন একটা দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা | অফিসের প্রতিটি লোক আমার দিকে সহানুভূতির চোখে তাকায় | দেখতে ভাল বলে আমার মনে মনে অল্প অহঙ্কারই ছিল | এখন মনে হয় সেটা আসলে অভিশাপ | এমনই সুন্দর দেখতে বউকে‚ যে তার স্বামী‚ সুযোগ পেয়ে একজন মধ্যবয়্স্ক মহিলকে ধর্ষণ করে ! আমার মত মেয়েকে তো সবাই করুণাই করবে‚ তাই না ! তবে শুধু করুণাই নয়‚ তার সঙ্গে আবার নিষিদ্ধ আনন্দ উপভোগের ইচ্ছেও থাকে | অনেকেই‚ বিশেষ করে পুরুষ কলিগরা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে জানতে চায়‚ তুমি ওই মহিলার সঙ্গে ঠিক কী করেছিলে‚ মানে ব্যাপারটা আসলে কতটা উপভোগ করেছিলে‚ কেমন লেগেছিল তোমার | ওদের ওই আভাসে-ইঙ্গিতে জানার ইচ্ছেটা বুঝে গা-ঘিনঘিন করে আমার | কিন্তু কিছু তো করার নেই | তাই চুপ করে সহ্য করে যাই | চাকরি আমায় করতেই হবে‚ কারণ বাবুয়াকে আমাকে মানুষ করতে হবে |

তোমাকে বিয়ে করার সময় আমার বাড়ি থেকে আপত্তি ছিল সেকথা তো জানোই | সেরকম তো অনেকেরই থাকে | তারপর বাবুয়া হওয়ার পর নাতির মুখ দেখে মা-বাবা দুজনেই গলে গেলেন | কিন্তু তোমাকে এতদিন বলিনি‚ যেদিন তুমি অ্যারেস্ট হলে‚ সেদিনই বাবা ফোন করে বলে দিয়েছিলেন‚ আমি যেন ও বাড়িতে আর না যাই | আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখলে তিন্নি‚ মুন্নির বিয়ে দিতে অসুবিধে হবে | সেদিন অবশ্য আমি খুব জোরের সঙ্গে বলেছিলাম‚জয়দীপের কোনও দোষ নেই | ও কয়েকদিনের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যাবে | তখন কিন্তু তুমি ডাকলেও আর যাব না |

বাবা নিশ্চয়ই বুঝেছিলেন‚ আমার আশা কতখানি অলীক | তাই বলেছিলেন‚ ভগবান করুন‚ তুমি যা ভাবছ‚ তাই যেন হয় | তারপর থেকে আমি আর একদিনের জন্যও শ্যামবাজারে যাইনি | গত সোমবার মা একবার লুকিয়ে ফোন করে শুধুই কাঁদছিল | আমি কিছু বলতে পারিনি | আমি জানি আর কোনওদিনই আমি শ্যামবাজারে যেতে পারব না |  

অবশ্য শুধু আমার মা-বাবারই বা দোষ দেব কেন ! তোমার আত্মীয়স্বজনরাও তো আমাদের খোঁজখবর নেওয়া ছেড়ে দিয়েছেন | তুমি গ্রেফতার হওয়ার পর প্রথমে একটা কৌতূহলের বন্যা বয়ে গেছিল | টিনামাসিরা তো আমেরিকা থেকে ফোন করে খোঁজ নিচ্ছিলেন‚ ঠিক কী তুমি করেছ‚ জানতে | অনেকেই তখন দেখা করতে বাড়িতে এসেছিলেন | কেউ কেউ তো আবার ওই মহিলার সঙ্গে তোমার অনেকদিনের সম্পর্ক‚ এমন ইঙ্গিতও করেছেন | মা ঘর থেকে বেরোতে চাইতেন না | বাবা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতেন | ওদের সব প্রশ্ন‚ সব সহানুভূতি আমাকেই মাথা পেতে নিতে হত |

একেক সময় মনে হত পাগল হয়ে যাব | ইচ্ছে করত সবাইকে গলাধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দিই | তবে গত সোমবার রায় বেরিয়ে যাওয়ার পর আর একবারও ফোন বাজেনি | মনে হচ্ছে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাটা ওঁরা আর নিরাপদ মনে করছেন না | নিরাপদ মনে করছেন না‚ তোমাদের ৮‚ প্রসন্ন সরকার লেনের প্রতিবেশীরাও | চায়না কাকিমা কিংবা শ্যামল জেঠুরা রাস্তায় দেখা হলেও আমাদের সঙ্গে আর কথা বলেন না | বাড়িটা ভাগ্যিস নিজেদের | নইলে হয়তো পাড়াছাড়া হতে হত |

কাজের লোকেরা অবশ্য এখনও আসছে | তবে যেদিন রায় বেরোল‚ আমাদের বাসনমাজুনি কলির মা আমাকে বলেছে‚ তুমি বলে এখনও এমন সোয়ামীর ঘরে রয়েছ |  আমি হলে কবে মুখে নুড়ো জেলে দিয়ে চলে যেতাম | বাবুয়া এসবই দেখছে | এখনও মাত্র ছয় | তাই সবটা হয়তো বোঝে না |কিন্তু কিছুটা নিশ্চিত বোঝে | চুপচাপ হয়ে গেছে | পাড়ার বাচ্চারা ওর সঙ্গে খেলে না | বাবুয়াও আর বাইরে খেলতে যাওয়ার জন্য বায়না ধরে না মোটেই |

জয়দীপ‚ওর এই বোঝাটা আমি আর বাড়াতে চাই না | অফিসে দরখাস্ত করেছিলাম | বদলি মঞ্জুর হয়েছে | আগামী মাসের এক তারিখে জয়েনিং | বাবুয়াকে নিয়ে চলে যাব | কোথায় যাব‚ সেটা ইচ্ছে করেই বললাম না | যাওয়ার আগে তোমার মা-বাবাকে বলে যাব | ওঁরা একা হয়ে পড়বেন জানি | কিন্তু আমার সন্তানের মুখ চেয়ে এই নিষ্ঠুরতা আমাকে করতেই হবে | আসলে বিকাশ-উকিল তো বলেই দিয়েছে‚ ফাঁসির সাজা তোমার হবে না | তোমার মা-বাবার কাছে এখন এটাই একমাত্র সান্ত্বনা | কিন্তু মানুষ মরে গেলে‚ তাকে অনেক সহজে‚ অনেক দ্রুত অন্যরা ভুলে যায় | তুমি বেঁচে থাকবে‚ আর সেই বেঁচে থাকার মাশুল হবে আমার আর বাবুয়ার প্রতি মুহূর্তের মৃত্যুযন্ত্রণা | এ আমি হতে দেব না | হতে দিতে পারি না | তাই এই সিদ্ধান্ত নিলাম |

আরও একটা কথা মনে হচ্ছে বলে দেওয়া দরকার | যদি সামান্য সন্দেহও থাকত যে‚ হয়তো তুমি একাজ করনি‚ তোমার নামে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে‚ তাহলে এমন সিদ্ধান্ত নিতাম না | অপেক্ষা করতাম | প্রয়োজনে সারাজীবন | কিন্তু সন্দেহ আর আমার নেই | আমি জানি সেদিন আখতার‚ ববি আর পিন্টুর মতো তুমিও ওই মহিলাকে ধর্ষণ করেছিলে | আমার ভালবাসা কিংবা বাবুয়ার কচি মুখ কিছুই সেদিন তোমার মনে পড়েনি | তাই আমারও অপেক্ষা করার প্রয়োজন ফুরিয়েছে |

জেলের ভিতরে তো আর ভাল থাকা যায় না‚ তাই ভাল থাকতে বললাম না |

ইতি
মণিকা

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.