মোদীর হাত থেকে এলপিজি সংযোগ নেওয়া মহিলাকে ফিরতে হয়েছে ঘুঁটের উনুনেই

লোকসভা ভোটের সময়ই মুখ পুড়ল নরেন্দ্র মোদী সরকারের। গত বার ক্ষমতায় আসার পরে নরেন্দ্র মোদী যে ক’টি প্রকল্প নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছিলেন তার অন্যতম ছিল ‘প্রধানমন্ত্রী উজালা স্কিম’। প্রধানমন্ত্রীর সেই স্বপ্নের প্রকল্পের রূঢ় বাস্তব দিকটা ধরা পড়ল এবার।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র এক প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে ওই প্রকল্পের প্রাথমিক ভাবে অন্তর্ভুক্ত অধিকাংশই আর প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নেই। এমনকী, প্রকল্পের একেবারে শুরুতে প্রথম যে মহিলার হাতে গ্যাসের সংযোগ আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী, সেই গুড্ডি দেবীই আর গ্যাসে রান্না করেন না ! তিনি ফিরে গিয়েছেন চুলহায় (চুল্লি) রান্নার পুরনো পদ্ধতিতেই। ঘুঁটে ও কাঠের জ্বালানিতে রান্না করেন তিনি । অথচ সব হোর্ডিং-এ এখনও মোদীর পাশে উজ্জ্বল গুড্ডিদেবীর মুখ |

বিবিসি-কে এ ব্যাপারে গুড্ডি দেবী জানিয়েছেন, ‘‘আমরা যখন সংযোগ নিয়েছিলাম (২০১৬-তে), তখন একটি সিলিন্ডারের মূল্য ছিল ৫২০ টাকা। আর এখন তারই দাম হয়েছে ৭৭০। সিলিন্ডার কেনার জন্য অত টাকা কোথায় পাব?’’

‘প্রধানমন্ত্রী উজালা স্কিম’-এর নিয়ম ছিল দারিদ্র সীমার নীচে থাকা পরিবারগুলিকে বছরে বারোটি ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডার দেওয়া হবে। গ্যাসের সংযোগ নেওয়ার প্রারম্ভিক খরচ ও প্রথম সিলিন্ডারের দাম দেবে সরকারই। পরবর্তী সিলিন্ডারগুলি অবশ্য উপভোক্তাকেই কিনতে হবে।

গুড্ডি দেবী গত তিন বছরে এগারোটির বেশি সিলিন্ডার কিনতে পারেননি। বিবিসি-র ওই প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যাচ্ছে, অখিলেশ গুপ্তা নামের এক গ্যাস এজেন্সির মালিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘আমরা দেখতে পাচ্ছি উজালা স্কিমের সুবিধাভোগীদের মধ্যে মাত্র তিরিশ শতাংশ গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে আসেন। বরং যাঁরা ওই প্রকল্পের আওতাধীন নন, তাঁদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা দ্বিগুণ।’’

রাইস (রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর কমপ্যাশনেট ইকোনমিক্স)-এর হিসেবে সংখ্যাটা আরও কম। ওই প্রতিষ্ঠানের করা সমীক্ষা অনুযায়ী বিহার, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানে ৮৫ শতাংশ উজালা স্কিম-এর সুবিধাভোগীই গ্যাসে রান্না না করে চুলহা বা চুল্লিতে রান্না করেন।

প্রসঙ্গত, মোদী সরকারের আরও একটি প্রকল্পের বিরুদ্ধেও অভিযোগ, সেই প্রকল্প সম্পর্কে যা দাবি ছিল তা সঠিক নয়। মহারাষ্ট্রের হরিশাল গ্রামকে ভারতের প্রথম ‘স্মার্ট ভিলেজ’-এর তকমা দিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। কিন্তু মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা-র মুখ্য রাজ থাকরের দাবি, ডিজিটাল ভারতের মুখ হিসেবে ওই গ্রামকে তুলে ধরা হলেও আসল ছবিটা অন্য। ওই গ্রামটিতে উন্নয়নের তেমন কোনও চিহ্নই নেই। ওই গ্রামের এক যুবককে বিজেপির বিজ্ঞাপনে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেই যুবকই জানিয়েছেন, তিনি এখনও কর্মহীন। চাকরি পাননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

afgan snow

সুরভিত স্নো-হোয়াইট

সব কালের জন্য তো সব জিনিস নয়। সাদা-কালোয় উত্তম-সুচিত্রা বা রাজ কপূর-নার্গিসকে দেখলে যেমন হৃদয় চলকে ওঠে, এ কালে রণবীর-দীপিকাকে দেখলেও ঠিক যেমন তেমনটা হয় না। তাই স্নো বরং তোলা থাক সে কালের আধো-স্বপ্ন, আধো-বাস্তব বেণী দোলানো সাদা-কালো সুচিত্রা সেনেদের জন্য।স্নো-মাখা প্রেমিকার গাল নিশ্চয়ই অনের বেশি স্নিগ্ধ ছিল, এ কালের বিবি-সিসি ক্রিম মাখা প্রেমিকাদের গালের চেয়ে।