যেন আঙুর থেকে শুকনো কিসমিস‚ কুঁচকে ছোট হয়ে যাচ্ছে চাঁদ

ছোট হচ্ছে চাঁদ। বলা ভাল, কুঁচকে যাচ্ছে। যার ফলে তার ভূপৃষ্ঠে ফাটল দেখা দিচ্ছে। জন্মের সময় যা চেহারা ছিল, তার থেকে অনেকটাই ‘পাতলা’ হয়ে গিয়েছে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। বিজ্ঞানীদের হিসেবে প্রায় ১৫০ ফুট পাতলা হয়েছে চাঁদ! এমনটাই জানাচ্ছে নাসা।

গত সোমবার নাসা প্রেরিত এলআরও (লুনার রিকনাইসেন্স অরবিটার)-এর পাঠানো ছবি প্রকাশ পেয়েছে। প্রায় ১২ হাজার ছবি খুঁটিয়ে দেখে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, চাঁদের উত্তরমেরুতে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। আসলে পৃথিবীর মতো সক্রিয় টেকটনিক প্লেট নেই চাঁদের। এই টেকটনিক প্লেটের সক্রিয়তাই পাহাড় পর্বত সৃষ্টি করে এবং আমাদের গ্রহটাকে উষ্ণ রাখে। কিন্তু চাঁদের ক্ষেত্রে তেমন কিছু হয়নি। আর তাই প্রাণ সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশও তৈরি হয়নি। এরই পাশাপাশি চাঁদ একটু একটু করে আরও ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে চাঁদের সৃষ্টির পর থেকেই উষ্ণতা হারাচ্ছে সে। আর তার ফলেই যেভাবে একটি আঙুর শুকিয়ে অসংখ্য ভাঁজযুক্ত কিসমিস হয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেভাবেই চাঁদেও সৃষ্টি হচ্ছে বহু ভাঁজ।

গত শতাব্দীর ছয় ও সাতের দশকে অ্যাপোলো মিশনের নভশ্চররা চাঁদের মাটিতে হওয়া ভূমিকম্প খুঁটিয়ে দেখে বুঝতে পারেন চাঁদের ভূত্বকের উপরিভাগে যতটা কম্পন দেখা দেয়, তার থেকে বেশি কম্পন অনুভূত হয় তার গভীরে। আর এর ফলেই বদলে যাচ্ছে চাঁদ। তবে সে বদল খুব দ্রুত নয়। কিন্তু মহাকাশবিজ্ঞানীদের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে সেই পরিবর্তন । প্রসঙ্গত, এই টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলেই পৃথিবীতে ভূমিকম্পের মতো ভয়ানক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও, তারই ফলে পাহাড়-পর্বতের সৃষ্টি হয়। বলতে গেলে সেই চলনের ফলেই পৃথিবী সবুজ ও প্রাণবন্ত। এটা না থাকলে পৃথিবীও হত চাঁদের মতোই মৃত ও শুষ্ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here