সভ্যতার আগ্রাসী থাবায় কোণঠাসা প্রকৃতির অভিভাবকরা

সত্যজিৎ রায়ের শেষ ছবি ‘আগন্তুক’-এ উৎপল দত্ত অভিনীত ভূপর্যটক মনমোহন মিত্র সারা পৃথিবী ঘুরে এই সিদ্ধান্তে এসেছিলেন, সভ্য মানুষ যাদের ‘জংলি’ বলে দেগে দেয়, তারা কোনও অংশে কম নয় সভ্য মানুষের থেকে। বরং তারা প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে মাটির কোলে যে জীবন কাটাচ্ছে তা এক অভিনব যাপন। সেই মানুষেরা আজও আছে। সারা পৃথিবী জুড়েই। কিন্তু দ্রুত তাদের উপরে নেমে আসছে সভ্যতার বিষ। বিপন্ন হয়ে পড়ছে সেই মানুষেরা।

আমাজনের ‘রেইন ফরেস্ট’ থেকে শুরু করে আন্দামানের গভীরে বসবাসকারী এই মানুষরা পূর্বপুরুষদের শেখানো পদ্ধতি অবলম্বন করে আজও বেঁচে আছে। ঠিক যেমন আদিম পৃথিবীতে বাঁচত জলে জঙ্গলে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন মানুষ।

দ্রুত বদলাচ্ছে এই গ্রহ। এতকালের গতির দ্বিগুণ বেগে গলছে মেরুর বরফ। চাহিদার সঙ্গে জোগান দিতে আরও বেশি করে পৃথিবীর কো‌ল থেকে তুলে আনা হচ্ছে কয়লা সহ অন্যান্য প্রাণীজ ও উদ্ভিজ্জ পদার্থ। এতে থাকার জায়গা থেকে অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে এই সব অরণ্যচারীদের। ফলে বাড়ছে বিপদ। লড়তে হচ্ছে টিকে থাকার জন্য। ইউনাইটেড নেশনস-এর জৈব বৈচিত্রের সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী হাজার হাজার বছর ধরে যারা দিব্যি টিকে রয়েছে এই পৃথিবীতে তাদের অস্তিত্ব ক্রমেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।

আইপিবিইএস (ইউএন ইন্টারগভর্মেন্টাল সায়েন্স পলিসি প্ল্যাটফর্ম অন বায়োডাইভার্সিটি অ্যান্ড ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস)-এর হিসেব অনুযায়ী এই পৃথিবীর অন্তত এক-চতুর্থাংশ জমিই এই মানুষদের দখলে। ৩০ কোটি থাকেন একেবারে নির্জন প্রকৃতির কোলে। আরও ৬০ কোটি সভ্যতার গা ঘেঁষে বাস করেন। কিন্তু তাঁদের ক্রমশ পিছু হটতে হচ্ছে। সভ্যতার অগ্রগতির ফলে দখল হয়ে যাচ্ছে তাঁদের থাকার জায়গা। ‘গার্ডিয়ানস অফ নেচার’ বলা হয় এদের। অর্থাৎ প্রকৃতির অভিভাবক। এই অভিভাবকদের বিপন্ন করে আসলে সভ্য মানুষ নিজেদেরই বিপদ ডেকে আনছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

pakhi

ওরে বিহঙ্গ

বাঙালির কাছে পাখি মানে টুনটুনি, শ্রীকাক্কেশ্বর কুচ্‌কুচে, বড়িয়া ‘পখ্শি’ জটায়ু। এরা বাঙালির আইকন। নিছক পাখি নয়। অবশ্য আরও কেউ কেউ