বার্ধক্যের সঙ্গী নেশা!! আপনার স্বামী এমন করলে কী করবেন?? (‘মন নিয়ে’ পর্ব ৬)

795

অ্যালকোহল বা নিকোটিন— সব ধরনের নেশাই সর্বনাশা| শুধু কী কমবয়সীরাই নেশার জালে জড়িয়ে পড়েন? একেবারেই না| মনোবিজ্ঞান বলছে, বার্ধক্যেও নেশার হাতছানিতে ভুলতে পারেন কাছের মানুষ| এই সমস্যার সমাধান কীজানাচ্ছেন মন বিশ্লেষক পারমিতা মিত্র ভৌমিক

ঘটনা ১: লোকে বার্ধক্যে বারাণসী যায়| ৭৩ বছরের অঞ্জন ভৌমিক মাথা থেকে পা পর্যন্ত ডুবে থাকতেন মদ-সিগারেটে| ৩৭ বছরে প্রথম নেশা ধরেন অঞ্জনবাবু| বয়সটা বদলে যখন ৭৩ হল, তখন নেশা চেপে ধরেছে অঞ্জনবাবুকে| মদ-সিগারেট ছাড়া এক মুহূর্ত চলে না| নষ্ট হতে বসেছিল পারিবারিক শান্তি| স্ত্রী, ছেলে বিরক্ত অঞ্জনবাবুকে নিয়ে| নেশার কোপে নিজের ছেলের নামটুকু মনে রাখতে পারতেন না| বারেবারে বলে বলে মনে করিয়ে দিতে হত| সঙ্গে অকারণ রাগ, বিরক্তি আর ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যে কথা| অত্যাচারে জেরবার বাড়ির লোক অঞ্জনবাবুকে নিয়ে এসেছিলেন আমার কাছে| তারপর কী হল?      

সমাধান— অঞ্জনবাবুর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, আত্মবিশ্বাসের অভাব থেকেই তাঁর এই আসক্তি| আগে তবু নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারতেন| আমার কাছে আসার দু’মাস আগে থেকে ব্যাপারটা আয়ত্তের বাইরে চলে গেছে|

নেশা ছাড়াতে প্রথমে ৩ সপ্তাহের জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়| সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি কথোপকথনের মাধ্যমে বোঝানো হয়, মানুষের কতটা ক্ষতি করে নেশা| হাসপাতালে থাকতে থাকতেই অনেকটা উন্নতি হয় অঞ্জনবাবুর| ধীরে ধীরে হারানো স্মৃতি ফিরে পাচ্ছিলেন|

৩ সপ্তাহ পরে ছুটি পেয়ে বাড়িতে ফেরার পর অঞ্জনবাবুর সপ্তাহে একদিন মনোবিদ এবং মনোবিশ্লেষকের কাছে আসা যাওয়া করতে শুরু করেন| রোগীর অবস্থা বুঝে এরপর টানা ৩ মাস ধরে সপ্তাহে তিনদিন করে তাঁর সাইকোথেরাপি চলতে থাকে| এরই মধ্যে অঞ্জনবাবু দু’বার লুকিয়ে সিকিউরিটি গার্ডকে দিয়ে মদ আনতে গিয়ে ধরা পড়েন|

মদ ছাড়ানোর জন্য আরও দেড় বছর টানা চিকিৎসা চলে তাঁর| ওষুধের পাশাপাশি কথা বলে, যুক্তি দিয়ে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, নেশার কবলে পড়ে নিজের এবং পরিবারের কতটা সর্বনাশ করেছেন তিনি|

এভাবে অঞ্জনবাবু যখন অনেকটাই সুস্থ, ঠিক তখনই স্ট্রোকে মারা গেলেন তিনি| এতদিনের অত্যাচার শরীর আর নিতে পারেনি|

অঞ্জনবাবু তো শুধু একটি উদাহরণ মাত্র| বয়সের ভারে, হতাশায় ডুবে, বাড়ির লোকেদের অবহেলায়, শ্রান্ত-ক্লান্ত-অবসন্ন হাজার অঞ্জনবাবু ছড়িয়ে আছেন আশপাশে| নিজেদের বিপন্ন অস্তিত্ব বাঁচাতে তাঁরা ডুব দিচ্ছেন নেশার করাল গ্রাসে| দয়া করে খেয়াল করুন তাঁদের| বোঝান| পরিবারকে বলুন মনোবিশ্লেষক এবং চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে| বাকি অঞ্জনবাবুরাও যদি একের পর এক এভাবে হারিয়ে যান, সমাজের স্তম্ভগুলোই যে গুঁড়িয়ে যাবে| তখন এই সমাজ, আপনার পরিবার, বাঁচবে তো?

যোগাযোগ: ৯৮৩০০-২১৫৬৭      

 

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.