বার্ধক্যের সঙ্গী নেশা!! আপনার স্বামী এমন করলে কী করবেন?? (‘মন নিয়ে’ পর্ব ৬)

অ্যালকোহল বা নিকোটিন— সব ধরনের নেশাই সর্বনাশা| শুধু কী কমবয়সীরাই নেশার জালে জড়িয়ে পড়েন? একেবারেই না| মনোবিজ্ঞান বলছে, বার্ধক্যেও নেশার হাতছানিতে ভুলতে পারেন কাছের মানুষ| এই সমস্যার সমাধান কীজানাচ্ছেন মন বিশ্লেষক পারমিতা মিত্র ভৌমিক

ঘটনা ১: লোকে বার্ধক্যে বারাণসী যায়| ৭৩ বছরের অঞ্জন ভৌমিক মাথা থেকে পা পর্যন্ত ডুবে থাকতেন মদ-সিগারেটে| ৩৭ বছরে প্রথম নেশা ধরেন অঞ্জনবাবু| বয়সটা বদলে যখন ৭৩ হল, তখন নেশা চেপে ধরেছে অঞ্জনবাবুকে| মদ-সিগারেট ছাড়া এক মুহূর্ত চলে না| নষ্ট হতে বসেছিল পারিবারিক শান্তি| স্ত্রী, ছেলে বিরক্ত অঞ্জনবাবুকে নিয়ে| নেশার কোপে নিজের ছেলের নামটুকু মনে রাখতে পারতেন না| বারেবারে বলে বলে মনে করিয়ে দিতে হত| সঙ্গে অকারণ রাগ, বিরক্তি আর ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যে কথা| অত্যাচারে জেরবার বাড়ির লোক অঞ্জনবাবুকে নিয়ে এসেছিলেন আমার কাছে| তারপর কী হল?      

সমাধান— অঞ্জনবাবুর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, আত্মবিশ্বাসের অভাব থেকেই তাঁর এই আসক্তি| আগে তবু নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারতেন| আমার কাছে আসার দু’মাস আগে থেকে ব্যাপারটা আয়ত্তের বাইরে চলে গেছে|

নেশা ছাড়াতে প্রথমে ৩ সপ্তাহের জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়| সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি কথোপকথনের মাধ্যমে বোঝানো হয়, মানুষের কতটা ক্ষতি করে নেশা| হাসপাতালে থাকতে থাকতেই অনেকটা উন্নতি হয় অঞ্জনবাবুর| ধীরে ধীরে হারানো স্মৃতি ফিরে পাচ্ছিলেন|

৩ সপ্তাহ পরে ছুটি পেয়ে বাড়িতে ফেরার পর অঞ্জনবাবুর সপ্তাহে একদিন মনোবিদ এবং মনোবিশ্লেষকের কাছে আসা যাওয়া করতে শুরু করেন| রোগীর অবস্থা বুঝে এরপর টানা ৩ মাস ধরে সপ্তাহে তিনদিন করে তাঁর সাইকোথেরাপি চলতে থাকে| এরই মধ্যে অঞ্জনবাবু দু’বার লুকিয়ে সিকিউরিটি গার্ডকে দিয়ে মদ আনতে গিয়ে ধরা পড়েন|

মদ ছাড়ানোর জন্য আরও দেড় বছর টানা চিকিৎসা চলে তাঁর| ওষুধের পাশাপাশি কথা বলে, যুক্তি দিয়ে তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, নেশার কবলে পড়ে নিজের এবং পরিবারের কতটা সর্বনাশ করেছেন তিনি|

এভাবে অঞ্জনবাবু যখন অনেকটাই সুস্থ, ঠিক তখনই স্ট্রোকে মারা গেলেন তিনি| এতদিনের অত্যাচার শরীর আর নিতে পারেনি|

অঞ্জনবাবু তো শুধু একটি উদাহরণ মাত্র| বয়সের ভারে, হতাশায় ডুবে, বাড়ির লোকেদের অবহেলায়, শ্রান্ত-ক্লান্ত-অবসন্ন হাজার অঞ্জনবাবু ছড়িয়ে আছেন আশপাশে| নিজেদের বিপন্ন অস্তিত্ব বাঁচাতে তাঁরা ডুব দিচ্ছেন নেশার করাল গ্রাসে| দয়া করে খেয়াল করুন তাঁদের| বোঝান| পরিবারকে বলুন মনোবিশ্লেষক এবং চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে| বাকি অঞ্জনবাবুরাও যদি একের পর এক এভাবে হারিয়ে যান, সমাজের স্তম্ভগুলোই যে গুঁড়িয়ে যাবে| তখন এই সমাজ, আপনার পরিবার, বাঁচবে তো?

যোগাযোগ: ৯৮৩০০-২১৫৬৭      

 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Illustration by Suvamoy Mitra for Editorial বিয়েবাড়ির ভোজ পংক্তিভোজ সম্পাদকীয়

একা কুম্ভ রক্ষা করে…

আগের কালে বিয়েবাড়ির ভাঁড়ার ঘরের এক জন জবরদস্ত ম্যানেজার থাকতেন। সাধারণত, মেসোমশাই, বয়সে অনেক বড় জামাইবাবু, সেজ কাকু, পাড়াতুতো দাদা