বছর-বছর শীতের সময় এক পিস করে জোজোর স্টোরি নামতে থাকল বলে! 

এটা আপনি কী করলেন রাজ চক্রবর্তী? কিশোর অভিনেতাকে দিয়ে যে সিন আপনি শুট করালেন ‘অ্যাডভেঞ্চার্স অফ জোজো’তে, সত্যি কথা বলতে গেলে সেটা তো প্রায় নির্যাতনের সামিল!

খালি চোখে দেখে মনে হল, ছবির এই সিনটাতে অন্তত গ্রাফিক্সের কারিকুরি নেই কোন। পুরোটাই রিয়্যাল লাইফ শুট। আর সত্যি যদি সেরকমটা হয়ে থাকে তো বলতেই হবে, কিশোর সামিউল আলমের রীতিমতো কষ্ট হয়েছে ওই সিনটা শুট করার সময়। 

ছবির অন্যতম প্রধান অভিনেতা হল সামিউল। যে দু’জন বাচ্চা ছেলেকে নিয়ে এই অ্যাডভেঞ্চারের গল্প, তাদের একজন হল কলকাতার শহুরে ছেলে জোজো, সেই ভূমিকায় অভিনয় করেছে অভিনেতা জয়জিৎ ব্যানার্জির ছেলে যশোজিৎ। আর গল্পে আরেকজন হল অরুণাচলের মাহুত বিজুর ছেলে শিবু। সেই ভূমিকায় দেখা গেছে সামিউল আলমকে। এই নামটা শুনে চট করে যদি কিছু মনে না পড়ে তো ধরিয়ে দিই, হালে ‘সহজ পাঠের গপ্পো’ (২০১৭) ছবিতে দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় জনের ভূমিকায় অভিনয় করে সকলের নজরে পড়েছিল ও। সেই সূত্রে পেয়েছিল জাতীয় পুরস্কারও।

এবার বলি সেই সিনটার কথা, শুরু করেছি যেটার কথা লিখে। সিকোয়েন্সটা হল জঙ্গলে চোরাশিকারীদের হাতে ধরা পড়ে গেছে সেই কিশোর মাহুত শিবু। আর ওই দুষ্টু লোকেরা তাকে দড়িতে বেঁধে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়েছে বাঘের টোপ হিসেবে ইউজ করার জন্য।

বাঘের টোপ হিসেবে মানুষের বাচ্চাকে ঝুলিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটা নতুন কিছু না, এই তো সেদিন বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের ‘টোপ’ (২০১৭) ছবিতেও এই ব্যাপারটা দেখলাম। কিন্তু এখানে শিবুকে ঝোলানো হলটা কী ভাবে, জানেন? পায়ের গোড়ালি দুটো একসঙ্গে বেঁধে উলটো করে ওকে ঝোলানো হল গাছে! মানে, পা-ওপরে আর মাথাটা ঝুলছে নিচে! বাকি দর্শকদের কার কী মনে হচ্ছিল তখন জানি না, কিন্তু সিনটা দেখে আঁতকে উঠেছিলাম আমি।

এইভাবে পা ওপরে মাথা নিচে রেখে শূন্যে ঝুলে থাকা কি ইয়ার্কির কাজ? তার ওপরে এই সিনটা আবার চলল বেশ কিছুক্ষণ ধরে, এমন কি ওই ভাবে ঝুলতে ঝুলতে ডায়ালগ অবধি বলতে হল সামিউলকে। আমি এইটা বুঝতে পারছিলাম না যে, ওই ভাবে উলটো করে না ঝুলিয়ে ওকে যদি সোজা ভাবে বেঁধে ঝোলান হত, ক্লাইম্যাক্সের ধার কিংবা বক্স অফিসের ভার কি তাতে কমে যেত নাকি কিছু?

দুটো গোড়ালিতে দড়ি না বেঁধে কী ক্ষতি হত যদি দড়ি বাঁধা হত হাতের কবজিদুটোতে?

অজ পাড়া গাঁয়ের ছেলে সামিউল, জীবনে প্রথমবার এত বড় ব্যানারের বড় ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ। কিন্তু শুধু সেই সুযোগটা দেওয়ার বদলে ওকে কি এক্সপ্লয়েট করা যায়? সোজাসুজি লিখছি ভাই, খালি মনে হচ্ছিল গাঁয়ের ছেলে সামিউলকে যে ভাবে ঝুলিয়ে দেওয়া গেল, পারতেন এ ছবির অন্য খুদে অভিনেতা যশোজিৎকে সেই ভাবে ঝুলিয়ে দিতে?

খুব কৌতূহল হচ্ছিল এটা বুঝতে যে ঠিক কী ভাবে শুট হয়েছিল সিনটা? কোন ডাক্তার বা ট্রেনার কি হাজির ছিলেন শুটে? হঠাৎ শরীর খারাপ হয়ে গেলে সেটা সামলানো হত কী করে? সেটা জানার জন্য খুঁটিয়ে দেখলাম ছবির প্রমোশনাল আর মেকিং ভিডিওগুলো। কিন্তু এমন কোন ভিডিও পেলাম না, যেখানে ওই অস্বস্তিকর সিনটা নিয়ে একটা শব্দও আছে!

‘অ্যাডভেঞ্চার্স অফ জোজো’ ছবির শুরু থেকে শেষ অবধি ওয়াইল্ড লাইফ নিয়ে ভরপুর সব জ্ঞান। ‘পৃথিবীটা তো শুধু আমাদের একার না। পশুপাখি না থাকলে গাছপালা থাকবে না। গাছপালা না থাকলে অক্সিজেন থাকবে না। আর অক্সিজেন যদি না থাকে তাহলে আমরা একদিন…’ জেঠু সুরজিৎ (এই ভূমিকায় চিত্রনাট্যকার পদ্মনাভ দাশগুপ্ত) বুঝিয়ে বলছে দেখলাম ক্লাস সিক্সের জোজোকে। খুব মহৎ জ্ঞান এটা সন্দেহ নেই। কিন্তু যে ছবিতে মিনিটে মিনিটে এরকম ভারি-ভারি সব কথা, সেই ছবি তৈরির সময় অভিনেতাদের আরেকটু কেয়ারফুলি ট্রিট করা যেত না নাকি?

এটা অবশ্য মানতে হবে যে, সিনেমাটা দেখতে ঝকঝকে হয়েছে খুব। সৌমিক হালদারের ক্যামেরায় চোখ জুড়ানো জঙ্গলের সব সিন, আর স্ক্রিন জুড়ে একের পর এক জীব-জন্তুর ভিড়। এখন এই ব্যাপারটা ইন্টারপ্রেট করতে পারেন দু’ভাবে। একটা হতে পারে এরকম যে, এর আগে ‘চাঁদের পাহাড়’ বা ‘অ্যামাজন অভিযান’ বানাতে গিয়ে জন্তু-জানোয়ারের যে পাহাড়-প্রমাণ স্টক শট কেনেন প্রোডিউসার, তার পড়ে-থাকা ছাঁট মাল দিয়েই কেমন সুন্দর একটা আস্ত সিনেমা নেমে গেল। আজ্ঞে হ্যাঁ, সিনেমা জুড়ে যা জীব-জন্তু দ্যাখা গেছে, জোজোর হাতিটা ছাড়া বাকি পুরোটাই স্টক শট বা গ্রাফিক্সবাজির লীলা।

বা, ব্যাপারটা পজিটিভলি এই অ্যাঙ্গেল থেকেও ভাবতে পারেন যে, সার্কাস থেকে জংলি জানোয়ার ঝেড়ে-পুঁছে সব সাফ হয়ে যাওয়ার পর শীতের মরসুমে অ্যাট লিস্ট এমন তো কিছু এল, যেখানে ঘরের কুচো-কাঁচাদের নিয়ে মনের সুখে জাঙ্গল সাফারির ‘দুধের-স্বাদ-ঘোলে’ মার্কা আমেজটা নেওয়া চলে।

আগেও যেটা বলতে চেয়েছি, ছবির বেসিক ভাবনাটা প্রশংসনীয় খুব। কিন্তু কিছু মনে করবেন না, সেটার একজিকিউশন সময়-সময় বেশ ভালরকম ঢিলে। স্ক্রিপ্টটা তো এত কাঁচা যে মাঝে মাঝে হাঁ হয়ে যাচ্ছিলাম পুরো।

যেমন ধরুন, সিনেমার একদম শুরুতে দেখতে পাচ্ছি, জোজোর ঠাকুমা অসুখ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আর জোজোর মা-বাবা সম্ভবত চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকবেন বলে জোজোকে সেই ক’টা দিন পাঠিয়ে দিলেন অরুণাচলে তার জেঠুর বাড়িটায়। এখানে অনেক চেষ্টা করেও এটা বুঝতে পারলাম না যে, জেঠুর কাছে অরুণাচলে তো জোজো এমনিই ঘুরতে যেতে পারে, তার জন্যে ঠাকুমার অসুখ দ্যাখাতে হল কেন?

হাসপাতালে নাকে অক্সিজেনের নল লাগিয়ে শুয়ে আছেন যে ন্যুব্জ বৃদ্ধা, তাঁর কাছে গিয়ে ছোট্ট জোজো যে ভাবে নিজের ঘুরতে যাওয়ার গল্প শোনায়, সেটা খুব ইনসেনসিটিভ একটা বিহেভিয়ার বলে মনে হচ্ছিল আমার। যে বড়রা অষ্টপ্রহর জ্ঞান দিয়ে গেল পরিবেশ আর প্রকৃতি-বাঁচাও বলে, তাঁদের কেউ জোজোকে এটা বলে দিল না যে, একজন শয্যাশায়ী চলৎশক্তিরহিত মানুষকে বেড়াতে যাওয়ার গল্প শোনালে তাঁর মন খারাপ হবে খুব! ব্যাপারটা যে লাগল প্রায় স্যাডিস্টিক প্লেজার পাওয়ার মত!

মনে হচ্ছিল ডিরেক্টরকে ডেকে বলি যে, শুধু লীলা মজুমদারকে ছবি উৎসর্গ করলেই হয় না, ওঁর ধারেকাছে পৌঁছতে গেলেও মগজের দমছুট সব খাটনি লাগে, দাদা!

কয়েকটা ব্যাপার খুব সুন্দর লেগেছে আমার। যেমন জোজোর দুই জ্যাঠতুতো দাদা বুবুন আর তুতুনের ক্যারেকটার দুটো। যেভাবে ছবির শুরুর থেকেই তারা জোজোকে পড়া ধরে নাস্তানাবুদ করতে থাকে আর শেষে আবার তারাই বাধ্য হয় জোজোর দামালপনাকে তারিফ করতে – মার্ভেলাস হয়েছে পুরো সেটা। আর তেমন মিষ্টি লেগেছে আমার খুদে জোজোর মুখে ‘জাজাই’ বলে ডাকটা। জেঠুকে আদর করে এরকম ভাবে ‘জাজাই’ বলে আগে কাউকে ডাকতে শুনি নি আমি। আর জোজোর ভূমিকায় ওই যশোজিৎ তো সুপার স্যুইট ছেলে!

কিন্তু সেরকম আবার খটকা এবং খারাপ লাগার জায়গাগুলোও আছে! খটকা মানে যেমন ধরুন, ‘ছুটুক ছুটুক ছুটির গাড়ি’ গানের সুরটা কোথাও কোথাও মনে হচ্ছিল যেন ‘ইয়েতি অভিযান’-এর ‘দূরের দিগন্তে প্রশ্ন হাজার’ গানটার মত। ভাবছিলাম, ওই রেশটা দেওয়ার জন্য ইচ্ছে করেই কি করা হয়েছে এটা? বা মনে হচ্ছিল, ধরুন এই যে পুরো ছবিটার নাম রাখা হল ‘অ্যাডভেঞ্চার্স অফ জোজো’ – অর্থাৎ জোজোর অনেকগুলো অ্যাডভেঞ্চার, কিন্তু অ্যাডভেঞ্চার তো দ্যাখান হল মাত্র একটা! তো’ সেটাও কি স্রেফ জেনেবুঝে করা ভুল নাকি অন্য কিছু!

তুতো দাদাদের প্রশ্নের উত্তরে জোজোকে বলতে শুনলাম যে সে নাকি অঙ্কে মোটে উনিশ পেয়েছে। কত’র মধ্যে উনিশ? সেটা অবশ্য বলে নি জোজো, কিন্তু বলার টোনে মনে হল একশোর মধ্যে উনিশ। এখন এটা যদি সত্যি ঘটে থাকে তো তাহলে তো জোজোর বাড়িতে তুলকালাম হয়ে যাওয়ার কথা। অঙ্কে তেরো পাওয়ার পর গোঁসাইবাগানের বুরুনের বাড়িতে ঠিক যেমনটা হয়। কিন্তু এখানে তো দেখছি জোজোর লাইফে তেমন কিচ্ছু ঝুটঝামেলাই নেই! কেউ ওকে বলে নি কিস্যু উনিশ পাওয়ার জন্য! আর গ্ল্যাডলি এমনভাবে ও নাম্বারটা বলে যে, উনিশ পেয়েছি, বেশ করেছি, তোর তাতে কী? সিনেমার জন্যে লাইসেন্স যদি নিয়েও থাকেন, তবু তাতেও এটা পসিবল হয় কখনও, বলুন?

অনেকে দেখেছি বলছেন যে, ছবির গ্রাফিক্স বা অ্যানিমেশনের কাজগুলো বেশ কাঁচা। সেটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না আমি। কারণ গ্রাউন্ড রিয়্যালিটি যিনি জানেন, তিনি এটা বুঝতে পারবেন যে, কম বাজেটের বাংলা ছবিতে এর চেয়ে বেশি খরচ সম্ভবও নয় করা।

কিন্তু ছবির স্ক্রিপ্টে কেন হঠাৎ-হঠাৎ ঘাপলা থাকবে ভাই? এর সঙ্গে তো বাজেট কম-বেশির রিলেশন নেই কোন!

যেমন ধরুন জঙ্গলে কোন একটা জন্তুর ছাল-ছাড়ানো রক্ত আর মাংস মাখা কাঠামোটা পড়ে থাকতে দেখেই দেখছি জোজো আর শিবু আঁচ করে নিচ্ছে, নির্ঘাত এটা ‘বড়পাহাড়ির কেঁদো বাঘ চেঙ্গিজ’-এর বডি। চেঙ্গিজকে যে বাঁচানো গেল না, সেটা নিয়ে দুজনেই তখন শক্‌ড। এটা নিয়ে কিছুক্ষণ গল্প এগোনোর পর অন্য ক্যারেকটারদের ডায়ালগ থেকে জানা যাচ্ছে, মারা যেটা গ্যাছে সেটা অন্য একটা বাঘ, সেই ‘কেঁদো চেঙ্গিজ’ নয়।

এখন ‘চেঙ্গিজ’ যে মরে নি, সেটা শুনে তো শিবু আর জোজো – এই দুই খুদেরই তখন খুশিতে লাফিয়ে ওঠা উচিৎ! রিয়্যাকশন হিসেবে সেটাই তো ন্যাচারাল বলে জানি! কিন্তু সিনেমায় কোত্থাও কিন্তু তেমন কিচ্ছু নেই! ‘চেঙ্গিজ’ মরে গ্যাছে শুনে মূহ্যমান হয়ে পড়েছিল যারা, সে বেঁচে আছে শোনার পর তারা কোন রিয়্যাক্ট না করে নর্মাল ভাবে কথাবার্তা চালিয়ে যেতে থাকে!

গ্যাপটা কোথায় রয়ে যাচ্ছে, বুঝতে পারছেন তো? বলুন দেখি, বাচ্চাদের সিনেমা মানেই কি এলেবেলে করে বানিয়ে দিতে হবে?

বা আরেকটা সিকোয়েন্স ধরুন, যেখানে দুষ্টু লোক স্বপনের পেছনে ধাওয়া করে বড়পাহাড়ি ট্যুরিস্ট লজে গিয়ে পৌঁছচ্ছে জোজো আর শিবু। এখন এই ‘ধাওয়া’ করার ব্যাপারটা কী ভাবে দ্যাখান হচ্ছে জানেন? স্বপন যাচ্ছে সাইকেলে জোর প্যাডেল করে, আর তার পেছনে মাইলের পর মাইল দৌড়তে দৌড়তে ধাওয়া করছে দুই খুদে! স্রেফ দৌড়তে দৌড়তে মাইলের পর মাইল সাইকেলের পিছু নেওয়ার ব্যাপারটা চোখের সামনে ঘটতে দেখে বিষম লাগে প্রায়!

আরও গণ্ডগোলের কেস হল এরপরের সিকোয়েন্সে। সেই ট্যুরিস্ট লজ থেকে ফেরার সময় একলা ফেরে জোজো। অচেনা জায়গায় রাস্তা চিনে চিনে খুদে জোজো তার জেঠুর বাংলোতে ফিরল কী করে, সেটারও কিন্তু এই ছবিতে আর ব্যাখ্যা নেই কোন!

এরপর একটা সময় ছবিটা তো হয়ে দাঁড়াল ছেলেখেলার মত! দিন-দুয়েক আগে মারা বাঘের চামড়াটা দেখতে পেলাম শুকিয়ে ভাঁজ করে রাখা আছে ব্যাগে! মনে হচ্ছিল কী জানেন? এটা বাঘের চামড়া না কচু! দোকান থেকে সস্তা দরে কিনে আনা জালি একটা মাল!

সত্যজিতের ‘টু’ (১৯৬৪) ছবিতে অনেকটা এই জোজো আর শিবু’র মতই দু’জন বালক আছে। একজন বড়লোক, সাজানো বাড়িতে থাকে। অন্যজন গরিব ঘরের ছেলে। বড়লোক ছেলেটাকে দেখতে পাবেন মিকি মাউসের মত কান লাগিয়ে ঘুরছে আর গুলতি ছুঁড়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে গরিব ছেলের ঘুড়ি।

সেখান থেকে রাজ ইন্সপিরেশন নিলেন কিনা, জানি না সেটা আমি। কিন্তু এই ছবিতেও দেখতে পেলাম, জোজোর পরনে মিকি মাউসের শার্ট আর শিবুর হাতে দুষ্টুদের কাবু করার জন্য সেই গুলতি!  এই অবধি ঠিকই ছিল, কিন্তু তারপর বন্দুক হাতে গুণ্ডারা যখন একের পর এক গুলতির ঢিলে কুপোকাত হয়ে পড়ছে, তখন মনে হচ্ছিল বদ-হজমের ওভারডোজ হয়ে যাচ্ছে যেন!

আর শিবু মানে সামিউলের মাথায় লাগানো ওই পরচুলোটা তো চরম রকম খারাপ। ওর চেয়ে বেটার কিছু কি আর পেলেন না নাকি খুঁজে?

ছবির ক্লাইম্যাক্সে দেখতে পেলাম ফরেস্ট অফিসারের ছোঁড়া গুলি নিখুঁত লক্ষ্যে গিয়ে বিঁধছে চোরাশিকারীদের বুকে! বিশ্বাস করুন, নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না তখন আমি। ছোটদের জন্য তৈরি ছবিতে একের পর এক মানুষ খুনের সিন? শরীরের অন্য কোথাও গুলি না করে সটান বুকের বাঁ দিক মেপে গুলি? সত্যি কি ইনি ফরেস্ট অফিসার নাকি জেমস বন্ডের বাবা?

বাচ্চারা অবশ্য ছবিটা দেখতে গিয়ে মজা পাচ্ছে খুব। একেকটা সিনে হল-এ হুল্লোড় আর হাসির পুরো ঝড় উঠছে যেন! আর সত্যি তো! ফুর্তি করতে গিয়ে পাবলিক লজিক মাপবে নাকি?

তখন কে ভাই অত তলিয়ে দেখবে যে, অরুণাচলের গ্রামের মাহুত বাংলা ভাষার রীতি মেনে বলতে পারে না, ‘চলি’ বলতে নেই, বলতে হয় ‘আসি’! আর কে-ই বা গ্রাফিক্স দিয়ে আঁকা বাঘ চেঙ্গিজের মুখ দেখে ককিয়ে উঠে এটা বলবে যে, ভারতীয় বাঘের মুখ আবার এরকম হয় নাকি?

কম বাজেটের যে মডেলে ছবিটা তৈরি, তাতে ছবির ‘আর.ও.আই.’ অর্থাৎ ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’ জমিয়ে হওয়ার কথা। তাহলে তো পুরো হয়েই গেল দাদা! ওসব ডিটেল-ফিটেল বা সেনসিটিভিটি সরিয়ে রাখুন দূরে! তৈরি থাকুন, বছর-বছর শীতের সময় এক পিস করে জোজোর স্টোরি নামতে থাকল বলে! 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here