যুদ্ধের কাজে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয় ঘর-বাড়ি নির্মাণের কাজে ! এমন ঘটনাই ঘটেছে আফগানিস্তানে। আফগানিস্থানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়জলাবাদ গ্রামে যুদ্ধে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ঘর-বাড়ি তৈরি করে দিব্যি বসবাস করছেন ইজাতুল্লাহ্‌ নামে এক ব্যক্তি।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ঘটনা ভাইরাল হতে যুদ্ধে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বাড়ি তৈরির বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে যে, ক্ষেপণাস্ত্রর তৈরি বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দিব্যি সুখের সংসার পেতে বসেছেন ইজাতুল্লাহ্‌। বিশেষত তাঁর বাড়ির ছাদটি পুরোটাই দাঁড়িয়ে রয়েছে রকেটের খোলের উপরে। কিন্তু বাড়ি বানাতে ক্ষেপণাস্ত্র কেন ব্যবহার করা হয়েছে ? এর উত্তরে ইজাতুল্লাহ্‌ জানিয়েছেন, তাঁর বাড়ির ছাদের বিমের জন্য ব্যবহৃত রকেটখোলগুলি আদতে আশির দশকের। সেইসময়ে আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়েছিল রাশিয়ার সেনাবাহিনীরা। পরবর্তীকালে রুশ সেনা বিদায় নিলে দুর্দিন নেমে আসে আফগান মানুষের জীবনে। চরম অভাবের কবলে পড়ে আফগানিস্তানবাসী। মাথার ওপরে ছাদ দেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না তাঁদের অনেকেরই। সেই কারণে রাশিয়ার পরিত্যক্ত সেনাঘাঁটিতে মজুত অস্ত্রশস্ত্র সেই কাজে লাগানো হয়। ফেলে যাওয়া অস্ত্র দিয়েই চলে ঘর-বাড়ি নির্মাণের কাজ। ছোটখাটো ব্রিজও তৈরি হয় এইসব ক্ষেপণাস্ত্রর সাহায্যে।

রকেট আর ক্ষেপণাস্ত্রর তৈরি ঘরে বসবাস করলেও নিরাপত্তা সম্পর্কে একেবারেই ওয়াকিবহাল ছিলেন না বাসিন্দারা। এর জেরে অনেক দুর্ঘটনার কবলেও পড়েছেন ওই গ্রামের বাসিন্দারা। একবার বাড়ি নির্মাণের সময়ে একটি রকেট স্থানান্তরিত করতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুও হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময়ে এইসব ক্ষেপনাস্ত্রের বিস্ফোরণের জেরে বহু মানুষের অঙ্গহানিও হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীকালে বিষয়টি এক ভিনদেশির নজরে এলে তিনি প্রশাসনকে বিস্তারিত জানান। গ্রামে বিস্ফোরক ধ্বংসের যন্ত্রও পাঠানো হয়। বাসিন্দাদের সচেতন করার পরে বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ রকেট সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  ধুতি-কুর্তায় ক্রিকেটার! ধারাভাষ্য সংস্কৃতে!

NO COMMENTS