দেরাদুনের এক দম্পত্তি ২০১৫ সালে পঞ্চাশ হাজার টাকার বিনিময়ে এক সারোগেট মায়ের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। সন্তান প্রসব হওয়ার পর ওই দম্পত্তি জানতে পারেন, তাঁদের যমজ সন্তানের মধ্য এক শিশু মারা গিয়েছে। এরপর থেকেই আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি ওই মহিলার। তবে এই ঘটনা বিশ্বাস করেননি তাঁরা। ওই দম্পত্তির মনে হয়ে ছিল, হয়তো তাঁদের আর এক সন্তানও বেঁচে রয়েছে। ওই শিশুকে চুরি করা হয়েছে বলে সন্দেহ হয় তাঁদের। এর জন্য প্রথমে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।

পুলিশ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, দেরাদুনের অশুতোষ নগরের ওই দম্পতি ২০১৪ সালে সারোগেসির জন্য ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযুক্ত মহিলা পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের একটি হাসপাতালে যমজ সন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ‚  ওই দম্পতিকে একটি সন্তান তুলে দিয়ে অপরটিকে মৃত বলে, সেখান থেকে আরেকটি বাচ্চা নিয়ে পালিয়ে যান। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রমাণ অভাবের কারণে ওই দম্পতির অভিযোগ দায়ের করতে অস্বীকার করে। এরপর এই দম্পতি উপযুক্ত প্রমাণের জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে অবশেষে কিছু প্রমাণ জোগাড় করে। এরপর গত বছর দেরাদুনে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর গত বছরই সেই অভিযুক্ত মহিলাকে আলিপুরদুয়ার থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু তখনও বাচ্চাটিকে উদ্ধার করতে পারেনি তারা। এরপর আটদিন ওই মহিলাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। কিন্তু বাচ্চা সম্বন্ধে পুলিশ কোনও কথাই জানতে পারেনি ওই মহিলার থেকে। এরপর পুলিশের একটি বিশেষ দল খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে। অবশেষে রবিবার আলিপুরদুয়ারের একটি এক কালীমন্দির থেকে উদ্ধার করা হয় ওই শিশুকে। জানা গিয়েছে, ওই মহিলার এর আত্মীয়র কাছেই এতদিন ছিল শিশুটি।

আরও পড়ুন:  আকাশকুসুম চাকরি ! কিছুই করতে হবে না‚ অথচ হাতে মোটা বেতনের নগদনারায়ণ

NO COMMENTS