অন্যের হৃদয় নিয়েই ম্যারাথনে দৌড়বেন তিনি

67

শরীরে সামান্য কাটা ছেঁড়া হলেও আমরা কোনও শারীরিক কসরতের কাজ করতে ভয় পাই বা এড়িয়ে চলি | কিন্তু হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের পরেও মনের জোর হারিয়ে ফেলেননি রূপায়ণ রায় |

কলকাতার ৪৪ বছরের এল আই সির এইচ আর রূপায়ণ রায় একজন খেলোয়াড় | ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তাঁর ডাইলেটেড কার্ডিওমায়োপ্যাথি ধরা পড়ে | এই রোগটিতে মানুষের হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বড় হয়ে যায় | হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচলের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে থাকে | বহু ডাক্তার দেখানোর পর তাঁকে পরামর্শ দেওয়া হয় চেন্নাই গিয়ে হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করানোর |

চেন্নাইতেই ড. কে আর বালাকৃষ্ণনের সান্নিধ্যে আসেন রূপায়ণ | তাঁরই তত্ত্বাবধানে অন্ধ্রপ্রেদেশের এক দুর্ঘটনায় মৃত এক ব্যক্তির হৃদযন্ত্রের সাহায্যে প্রতিস্থাপন করা হয় | অপারেশনের আগে হুইলচেয়ারে করে অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার সময় তিনি ভাবছিলেন ভবিষ্যতের কথা | তাঁর ২ বছরের ছেলে সে সময় গভীর ঘুমে মগ্ম | স্ত্রী জয়তীর চোখে জল |

কিন্তু তারপরে আর কখনও দুশ্চিন্তা গ্রাস করেনি রূপায়ণকে | ড. বালাকৃষ্ণনের জীবনের প্রতি সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি রূপায়ণকে অপারেশনের সময় মনোবল যোগায় | অপারেশনের ৪ মাসের মধ্যেই তিনি হাঁটতে শুরু করেন | অল্প অল্প দৌড়তেও শুরু করেন তিনি | ক্রিকেট খেলতে ভালবাসতেন তিনি | হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের পরেও নিজের ভিতরকার খেলোয়াড় সত্ত্বাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে পারেননি রূপায়ণ | ড.বালাকৃষ্ণনের সম্মতি নিয়েই বিএসএফের একটি ম্যারাথনে নিজের নাম নথিভুক্ত করান | তাঁর এই সিদ্ধান্তে আত্মীয় স্বজন সকলেই হতচকিত | কিন্তু তাতেও পিছিয়ে যাননি  | গত বছরে ৪ টি ২০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের  ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি | জানুয়ারির ২০ তারিখে টাটা মুম্বই ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করতে মুম্বই যাচ্ছেন |

রূপায়ণ জানিয়েছেন মুম্বইয়ের ২১ কিলোমিটারের এই হাফ ম্যারাথনটি তাঁর অংশগ্রহণ করা সবথেকে বড় ম্যারাথন | তাঁর হৃদযন্ত্র দাতার পরিবারকে ধন্যবাদ জানাতে চান তিনি | সেই মানুষটির পরিবারের মানুষজনদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদেরকে বলতে চান তাঁদের  সন্তান যেখানেই থাকুন তাঁদের সন্তানের হৃদয় ঠিকই আছে ‚ ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করে নিজের জীবনের খুশিকে খুঁজে নিচ্ছে |

মুম্বইয়ের হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ ড. নন্দকিশোর কাপাডিয়া জানাচ্ছেন অঙ্গ প্রতিস্থাপন হওয়া মানুষদের শুধুমাত্র প্রতিস্থাপনের প্রথম বছরে সতর্কতা বজায় রাখতে হয় | কিন্তু তারপর থেকেই ধীরে ধীরে নিজেদের স্বাভাবিক জীবনের রোজকার কাজকর্মে ফিরে আসতে পারেন তাঁরা | পশ্চিমের দেশে প্রায়শই দেখা যায় হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের পরেও বহু মানুষ পাহাড়ে চড়েছেন | হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের পরে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে আসতে যে কোনওরকম সমস্যা থাকে না তা  ই প্রমাণ করে দিচ্ছেন রূপায়ণরা |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.