দিবানিদ্রা মোটেই কোনও বদঅভ্যাস নয়। জানেন কেন?

দুপুরে ভাত খাওয়ার পরেই ঘুমে চোখ বুজে আসে? অফিসে দুপুরে খাওয়ার পর চোখ দুটো খুলে রাখাই কঠিন হয়ে যায়? আর ছুটির দিনগুলোতে বাড়িতে থাকলেই ভাতঘুমের অভ্যেস রয়েছে?-এই সব প্রশ্নের উত্তর যদি ইতিবাচক হয়, তাহলে এই খবর আপনার জন্য। অনেকেই বলেন দিবানিদ্রা নাকি একটি বদ অভ্যাস। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেন দিবানিদ্রা মোটেই কোনও বদঅভ্যাস নয়, বরং এর কিছু ভাল দিক রয়েছে। জেনে নিন সেগুলি কি কি…

* কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে- প্রতিদিন অফিসে গিয়ে কাজ করতে হোক, বা বাড়িতে বসে কাজ, দুপুরের পর শরীরে আলস্যভাব দেখা দেয়, যা কাজ করার ক্ষমতা বা কাজের মান দুই’ই কমিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন এই সময়ে কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নেওয়া খুব ভাল। এতে যেমন কাজের মান বাড়ে তেমনই নতুন উদ্যোমে কাজ করার ক্ষমতাও বাড়ে।

* মনোসংযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে- দৈনন্দিন জীবনে যেকোনও কাজের ক্ষেত্রেই মনোসংযোগ একান্ত জরুরি এবং সেইসঙ্গে প্রয়োজন সতর্কতা।  একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে দিনে অন্তত চল্লিশ মিনিটের দিবানিদ্রা কাজের প্রতি মনোসংযোগ বাড়িয়ে তোলে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে (যেমন- রাস্তা পারাপার, গাড়ি চালানো) সতর্ক হতে সাহায্য করে।

* সৃজনশীল ক্ষমতা বৃদ্ধি- বিশেষজ্ঞরা বলেন, দিনের বেলা কাজের ফাঁকে একটু ঘুমিয়ে নেওয়া খুব দরকার। এতে নাকি নতুন সৃজনশীল ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

* স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি- বিশেষত যারা পড়ুয়া তাদের জন্য স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি হওয়া একান্ত জরুরি। পরীক্ষার সময়ে যারা রাত জেগে পড়াশোনা করে তারা যদি দুপুরে খাওয়ার পর খানিকটা সময়ের জন্য ঘুমিয়ে নেয়, খুব ভাল ফল পাওয়া যাবে।

* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে- সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, যাঁরা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন, তাঁরা যদি চিকিৎসার পাশাপাশি দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ধরে ঘুমের অভ্যাস করেন তাহলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

* মুড ভাল রাখতে সাহায্য করে- ঘুমোনোর সময়ে মস্তিষ্ক থেকে সেরোটনিন হরমোন নিঃসরণ হয়ে থাকে, যা আমাদের মন ভাল রাখার জন্য বিশেষ জরুরি। তাই ক্লান্তি ও বিষণ্ণতা কাটাতে দিবানিদ্রা ভীষণ জরুরি।

* সুস্বাস্থ্য গঠনে সাহায্য করে- একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে। ঘুম কম হলে আমাদের শরীরে কর্টিসল হরমোনের পরিমাণ অত্যন্ত বেড়ে যায়। যার ফলে স্ট্রেস বাড়ে। ঘুমের অভাব পূরণ করতে তাই দিবানিদ্রা খুবই প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here