তেজপাতার তেজে কাবু হতে পারে অনেক সমস্যা। জেনে নিন…

মাংস হোক বা পোলাও তেজপাতা একটি পরিচিত উপকরণ। তবে রান্নায় ব্যবহার করা হলেও তেজপাতা কিন্তু আমরা খাই না, ফেলে দিই। কিন্তু, বিশেষজ্ঞদের মতে, তেজপাতায় রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান যা ব্যাকটেরিয়া নিধন করা, জ্বালাপোড়া কমানোসহ আরও অনেক উপকার করে। সাধারণত তাজা এবং শুকনা এই দুই অবস্থায় পাওয়া যায় তেজপাতা। আসুন জেনে নেওয়া যাক তেজপাতা আমাদের শরীরে কী কাজ করে…

* ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ- এক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা দিনে দুইবার তেজপাতার গুঁড়ো জলে মিশিয়ে পান করেন তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে  গেছে। এই পাতাতে আছে এমন উপকারী উপাদান যা, টাইপ টু ডায়াবেটিস রোধ করতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিও কম করতে সাহায্য করে।

* হার্ট ভাল রাখে- তেজ পাতা হৃদযন্ত্রের দেওয়ালগুলিকে শক্ত করে তুলতে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে সাহায্য করে।  উচ্চ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে বাচাঁতে পারে তেজপাতা।

* হজমে সাহায্য করে- কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, পেট ভার প্রভৃতি নানাবিধ সমস্যা থেকে বাঁচাতে পারে তেজপাতা। আয়ুর্বেদের মতে, তেজপাতা শরীর থেকে টক্সিনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যার ফলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়।

* ব্যথা থেকে মুক্তি- শরীরের যেকোনও ধরনের ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে তেজপাতা। বাতের ব্যথাতেও অব্যর্থ তেজপাতা। তেজপাতা বেটে একটা পেস্ট তৈরি করে শরীরের ব্যথাস্থানে এই পেস্ট লাগিয়ে ২০ মিনিট বিশ্রাম নিতে হবে। ব্যথা থেকে নিমেষে মুক্তি পাওয়া যাবে। প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসারে, যন্ত্রণার উপশমে তেজপাতার তেল ব্যবহার করা হত।

* সর্দি-কাশি কমাতে- সর্দি-কাশি কমাতে তেজপাতা বিশেষভাবে সাহায্য করে। তেজপাতা সর্দি-কাশির ব্যাকটেরিয়ার উপর বিশেষভাবে কাজ করে। ৪-৫টি তেজপাতা পরিষ্কার জলে ফুটিয়ে নিয়ে তাতে একটি পরিষ্কার কাপর ভিজিয়ে নিয়ে বুকে পিঠে গরম সেঁক নিলে আরাম পাওয়া যাবে।

* চুল দ্রুত বাড়তে এবং খুসকি দূর করতে সাহায্য করে- খুশকি সমস্যায় ভোগেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। চুল থেকে খুশকি দূর করে মাথার ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে তেজপাতা। চুলের যেকোনো ধরনের সমস্যা সমাধানে তেজপাতা একটি প্রাচীন প্রতিকার। কয়েকটি তেজপাতা জলে ফুটিয়ে নিয়ে সেই জল মাথার স্ক্যাল্পে ব্যবহার করলে খুসকির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

যে কোনও ধরণের ঘরোয়া টোটকা নিজের দায়িত্বে ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.