হার্ট ভালো রাখে, সানস্ট্রোক থেকে বাঁচায়, আর কী কী উপকার করে তরমুজ?

গরমে কীসে তাজা আমরা? কেন, জলে! কিন্তু সারাক্ষণ কি শুধু জল খেতে ভালো লাগে? আবার বেশি কোলা জাতীয় ঠান্ডা পানীয় খেলে তার নানা সাইড এফেক্ট আছে| তাই তেষ্টা মেটাতে আমরা দু’টি ফলের দিকে সাধারণত হাত বাড়াই| ডাবের জল আর তরমুজ| আজ জেনে নিন তরমুজের মধ্যে থাকা গুণের লিস্টি—

তরমুজ খেলে কী পাবেন?

তরমুজ মূলত গ্রীষ্মকালের ফল| যদিও কৃষি বিজ্ঞানের উন্নতিতে এখন সারা বছর ফলটি বাজারে মেলে| তরমুজের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি২, সি, বি৬, ই আছে| এছাড়াও আছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, বিটা ক্যারোটিনের মতো মিনারেলস| এই ফলে ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম| তাই পেট ভরে খেলেও ওজন বেড়ে যাওয়া নিয়ে নো টেনশন|

গুণাগুণ

১. যে ফলে এত ভিটামিন আর মিনারেলসের সমাহার সেই ফল যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে তাতে আর আশ্চর্য কী? তাই সারা গরম একবাটি তরমুজ মানেই রোগ-বালাই থেকে থেকে একধাপ দুরে থাকলেন আপনি|

২. তরমুজ হার্টের পক্ষে খুব ভালো| ফলটি খুব ঠান্ডা হওয়ায় ধমনীকে শীতল ও নমনীয় রাখে| জলের ভাগ বেশি থাকায় স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে| ফলে, তরমুজ খেলে চট করে আপনিও হার্টের রোগে আক্রান্ত হবেন না| স্ট্রোক, হার্ট এটাক সহজে ঘেঁষবে না|

২. ডাবের জলে যে যে গুণ আছে সেই একই গুণ রয়েছে তরমুজের রসে| তাই ডাবের জলের মতই কিডনির অসুখে তরমুজ খুব উপকারী| এর মধ্যে থাকা ফ্লুইড কিডনি ও মুত্রথলির মধ্যে জমে থাকা দুষিত পদার্থ পরিষ্কার করে দেয়| তাই কিডনিতে পাথর হলে ডাক্তারবাবু তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দেন|

৩. এর মধ্যে থাকা বিটা ক্যারোটিন চুল সতেজ রাখে| চোখের দৃষ্টি শক্তি উন্নত করে| বিশেষ করে চোখে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ হতে দেয় না|

৪. ভিটামিন সি, লাইকোপিন ত্বকের জন্য খুব ভালো| এটি যেমন ত্বকে লিরেখা পড়তে দেয় না তেমনি চামড়ার অসুখ থেকেও দুরে রাখে আপনাকে| পাশাপাশি এর মধ্যে থাকা জল ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে দেয়| আর্দ্রতা ধরে রাখে| এতে ত্বক নরম থাকে| তরমুজের রস খুব ভালো astringent| যা রোদে পোড়া ত্বকের কালচে ভাব কাটায়| রোমকূপের ছিদ্র ছোট করে ত্বক টানটান রাখে| তরমুজের রস ফ্রিজে রেখে দিন| রোদ থেকে ফিরে তুলোয় করে সারা মুখে মেখে নিন| রোজ করলে তফাত আপনার চোখেই ধরা পড়বে| এতে ব্রণ, মেচেতাও কমবে|

৫. তরমুজের মধ্যে থাকা ভিটামিন আর মিনারেলস দ্রুত এনার্জি ফেরাতে সাহায্য করে| তাই বাড়িতে এই মরশুমে একবাটি তরমুজ হাতের গোড়ায় রেখে দিন| গরমের দাপটে কাবু হয়ে পড়লেই খেয়ে নিন| নিমেষে তাজা আপনি| ওই জন্য ভারী অসুখ থেকে ওঠার পর ডাক্তারবাবু অনেককেই তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন|

৬. গরম মানেই ঘেমে-নেয়ে স্নান আপনি| আর এই ঘামের মধ্যে দিয়ে জরুরী খনিজ, জল শরীর থেকে বেরিয়ে যায়| ফলাফল, শরীরে জলের অভাব| এই দুই সমস্যা সহজে মেটাতে চাইলে হাতের কাছে থাকা গরমের এই ফলের মত উপকারী আর কী হতে পারে? এছাড়া, এই ফলের মধ্যে থাকা জল সানস্ট্রোক কমাতেও সাহায্য করে| 

৭. বয়স একটু ভারির দিকে গড়ালেই অনেকে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের অভাবে ভুগতে শুরু করেন| এতে নানা ধরনের বার্ধক্যজনিত সমস্যা দেখা দেয়| এই খনিজের অভাবে সেরিব্রাল স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে| ওষুধ ছাড়া এই সমস্যা মেটাতে চাইলে হাতের কাছের ভালো অপশন তরমুজ| বিশ্বাস না হলে নিজে ট্রাই করে দেখতে পারেন| এছাড়া ফলটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কফি হাউসের আড্ডায় গানের চর্চা discussing music over coffee at coffee house

যদি বলো গান

ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স-এ সারা রাত ক্লাসিক্যাল বাজনা বা গান শোনা ছিল শিক্ষিত ও রুচিমানের অভিজ্ঞান। বাড়িতে আনকোরা কেউ এলে দু-চার জন ওস্তাদজির নাম করে ফেলতে পারলে, অন্য পক্ষের চোখে অপার সম্ভ্রম। শিক্ষিত হওয়ার একটা লক্ষণ ছিল ক্লাসিক্যাল সংগীতের সঙ্গে একটা বন্ধুতা পাতানো।