রোজের পাতে মাশরুম? জানেন এর কত গুণ!

মাশরুম বাঙালি তুলনায় কম খায়। কারণ, বাঙালি জানে না মাশরুম খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি এই উপাদান দিয়ে বানানো হালকা ফ্রাই, কারি বা স্যুপ খেলে শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে এক নয়, একাধিক রোগ দূরে পালায়… 

আয়রনের ঘাটতি মেটায়: লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে রক্তাল্পতার মতো সমস্যা দূর করতে এবং শরীরের সচলতা বাড়াতে আয়রন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই কারণেই নিয়মিত মাশরুম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। কারণ এতে উপস্থিত কপার আয়রনের শোষণ মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে দেহে এই খনিজটির ঘাটতি হাওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

প্রদাহ কমায়: গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ২-৩ দিন যদি মাশরুম খাওয়া যায় তাহলে শরীরে এর্গোথিয়েনাইন নামক একটি উপাদানের মাত্রা বেড়ে যেতে শুরু করে। যার প্রভাবে সারা শরীরে প্রদাহের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি নানা রোগ ঘাড়ে চেপে বসার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

ক্যান্সার দূরে পালায়: মাশরুমে বিটা-গ্লকেন এবং লাইনোলিক অ্যাসিড নামে দু’টি উপাদান থাকে, যা শরীরে প্রবেশ করার পর কার্সিনোজেনিক গ্রোথ হতে দেয় না। সেই সঙ্গে শরীর থেকে টক্সিক উপাদানদেরও বের করে দেয়। ফলে ক্যান্সার ধারেকাছে ঘেঁষতে পারে না। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে যে হারে ক্যান্সার রোগের প্রকোপ বেড়েছে, তাতে মাশরুমের মতো অ্যান্টি-কার্সিনোজেনিক খাবার খাওয়া খুব প্রয়োজন।

অ্যানিমিয়া সেরে যায়: শরীরে আয়রনের পরিমাণ কমতে শুরু করলে লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদনও কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অ্যানিমিয়া বাড়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে মাশরুমের কোনও বিকল্প নেই। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটি আয়রনে ঠাসা। ফলে অ্যানিমিক রোগীদের নিয়ম করে মাশরুম খাওয়ালে রোগের প্রকোপ কমতে বেশি সময় লাগে না।

পুষ্টির ঘাটতি মেটায়: একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে শরীরকে চালাতে যে যে পুষ্টিকর উপাদানগুলির প্রয়োজন, তার বেশিরভাগই মজুত থাকে মাশরুমে। যেমন ভিটামিন ডি। এই উপাদানটি শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে সচল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। মাশরুম খাওয়া শুরু করলে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের ঘাটতিও দূর হয়।

ব্লাড প্রেসার বাড়ে না: নানা কারণে রক্তচাপ কি খুব ওঠানামা করছে? তাহলে অবশ্যই নিয়ম করে মাশরুম খান।কারণ, এর মধ্যে থাকা পটাশিয়াম, শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য ঠিক রাখার মধ্যে দিয়ে ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে: পরিবারে সুগার রোগী আছেন? তাহলে রোজের ডায়েটে মাশরুমের অন্তর্ভুক্তি মাস্ট! কারণ এতে থাকা প্রকৃতিক ইনসুলিন শরীরে প্রবেশ করার পর রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে শুরু করে। ফলে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে। তবে এখানেই শেষ নয়, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে মাশরুম, লিভার, প্যানক্রিয়াস এবং অন্যান্য এন্ডোক্রনিক গ্ল্যান্ডের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

কোলেস্টেরল কমায়: মাশরুমে মজুত থাকা ফাইবার এবং উপকারি এনজাইম ধীরে ধীরে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বা এল ডি এল মাত্রা কমাতে শুরু করে। অন্যদিকে বাড়তে শুরু করে উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে কমে অ্যাথেরোস্কেলেরোসিস, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের আশঙ্কাও কমে।

হাড় মজবুত করে: ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় নিয়মিত মাশরুম খেলে ধীরে ধীরে হাড়ের গঠন মজবুত হয়। সেই সঙ্গে নানাবিধ হাড়ের রোগ হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়। তাই বুড়ো বয়সে যদি জয়েন্টের ব্যথায় কাবু হতে না চান, তাহলে এখন থেকেই মাশরুমকে আপন করে নিন। 

যৌবন ধরে রাখে: ২০১৭-র একটি গবেষণায় দেখা গেছে মাশরুমে রয়েছে বিশেষ ধরনের কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বকের বয়স কিয়ে দেয় দ্রুত। সেই সঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতেও সময়  নেয় না। ৩০ পেরনোর পরেও যদি চান ত্বক ষোড়শীর মতোই থাকুক, তাহলে রোজের ডায়েটে মাশরুমকে রাখতে ভুলবেন না ।

জেল্লাদার দাঁত-চুল-নখ: হাড়কে শক্তপোক্ত করার পাশাপাশি দাঁত-চুল-নখের সৌন্দর্য বাড়াতে এই উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এর মধ্যে থাকা সেলেনিয়াম-ই এই ম্যাজিক ঘটায়। এবার বুঝেছেন তো, রোজের ডায়েটে মাশরুম থাকা কতটা জরুরি? 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here