হাঁটুর ব্যথায় কাবু? আরামে থাকুন ঘরোয়া উপায়ে

2854
knee pain home remedies

ইদানিং ব্যথার যেন কোনও বয়েস নেই! পঁচিশের যৌবনও যখন তখন কাবু হাঁটুর ব্যথায়। কারণও রয়েছে যথেষ্ট। সারাক্ষণ লিফটে ওঠানামা, বেশিক্ষণ বসে কাজ, গাড়িতে যাতায়াত, এসিতে থাকা, শরীরচালনার অভাব এবং জাঙ্ক ফুড খেয়ে ওজনবৃদ্ধির সৌজন্যেই সবাই কাতর ‘এ ব্যথা কী যে ব্যথা’ বলে। কী করলে আর কী না করলে বশে থাকবে ব্যথা? আজকের প্রতিবেদন তাই নিয়ে—-

কেন ব্যথা: হাঁটুর জয়েন্ট অনেকটাই দরজার কবজার মতো। দরজার কবজায় যেমন তিনটি লক থাকে হাঁটুর ক্ষেত্রেও তাই। এই তিনটি লক— ফিমার, টিবিয়া আর এই দুইয়ের মধ্যে থাকা কার্টিলেজ ও মালাইচাকি। পাতলা ফাইবার দিয়ে তৈরি কার্টিলেজ স্নায়ুহীন হওয়ায় হাঁটুর জয়েন্টে এটি অনেকটাই পাতলা গদি বা কুশনের কাজ করে। ঘর্ষণ লাগা থেকে হাঁটুকে বাঁচায়। কোনোভাবে কার্টিলেজ নষ্ট হয়ে গেলেই সরাসরি ঘষা লাগে ফিমার আর টিবিয়ায়। তখনই ব্যথায় বিবশ আপনি। এছাড়াও বাত বা আর্থারাইটিস, চোট, ইনফেকশন, রক্তে চিনি বা ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি হাঁটুব্যথার জন্য যথেষ্ট।

ব্যথার বয়স: যদিও এখন ব্যথার কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই তবু মহিলাদের ক্ষেত্রে ৪৫-এর পর আর পুরুষ ৬০ পেরোলেই কমবেশি কষ্ট পান হাঁটুর ব্যথায়। মেনোপজ বা ঋতুস্রাব বন্ধ হলেই ইস্ট্রোজেন হরমোন ক্ষরণ কমে যায় নারী শরীরে। ফলে, নারী অল্প বয়সেই বিড়ম্বনায় ভোগেন হাঁটু নিয়ে।

ব্যথা কমাতে ‘করবেন’ আর ‘করবেন না’ কী কী—

গরম সেঁক: ব্যথা পুরনো হলে ডাক্তারবাবুরা বলেন, গরম সেঁক দিতে। সেক্ষেত্রে শুকনো সেঁকের বদলে তিল তেল বা সর্ষের তেল হালকা গরম করে তাতে এক চিমটে হলুদ মেশান। সেই তেল মালিশ করুন হাঁটুতে। টানা কয়েকদিন করলে আরাম পাবেন।

ঠান্ডা সেঁক: সদ্য পাওয়া চোট, আঘাত থেকে হাঁটুর ব্যথা কমাতে চিকিতসকের পরামর্শ বরফ ঘষুন। দিনে তিনবার পরপর তিনদিন ঠান্ডা সেঁক নিলে অনেকটাই কমবে অসহ্য ব্যথা।

বীজ কমাবে ব্যথা: ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ শন বীজ, আখরোট, তিল বীজ ডায়েটে থাকলে ব্যথা কমতে বেশি সময় নেবে না।সাপ্লিমেন্টারি ক্যালসিয়াম ওষুধের বদলে এগুলো ট্রাই করে দেখতে পারেন।

হলুদের গুঁড়ো: পারে ব্যথা কমাতে। হলুদের মধ্যে আছে অ্যান্টিসেপটিক এবং ব্যথা কমানোর উপাদান। তাই রোজ সকালে গরম দুধে হলুদগুঁড়ো বা বাটা হলুদ মিশিয়ে খেলে প্রদাহ থেকে মুক্তি পাবেন। কমবে ব্যথাও।

মেথিতে ব্যথামুক্তি: শীত এলেই যাঁরা হাঁটু নিয়ে ব্যতিব্যস্ত তাঁদের জন্য এই উপকারী টোটকা। এক কাপ জলে এক চামচ মেথি ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই জল ছেঁকে খালি পেটে খান। গোটা শীত মানতে পারলে উপকার পাবেনই।

আদার ঝাঁঝ: হলুদের মতোই ব্যথা তাড়াতে সিদ্ধহস্ত। তাই আদা মেশানো চা বা দুধ খেতে পারেন নিয়মিত। কিংবা আদার তেল গরম করে মালিশ করলেও আরাম পাবেন।

তুলসী, আঙুর: সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, আর্থ্রারাইটিসের প্রথম ধাপে নিয়মিত তুলসী আর আঙুর খেলে নাকি হাঁটুর ব্যথা ঠেকানো সম্ভব।

আদা-হলুদের যুগলবন্দি: এক কাপ জলে সমপরিমাণ আদা-হলুদ মিশিয়ে ভালো করে ফোটান। মিশ্রণটি আধকাপ হলে ঠান্ডা করে মধু মিশিয়ে নিয়মিত খেতে পারেন।

আরও কিছু: এসব ঘরোয়া টোটকা ছাড়াও আরাম পেতে নরম জুতো পড়ুন। নিয়মিত হাঁটুর ব্যয়াম করুন। লিফট এড়িয়ে সিঁড়ি ভাঙুন। কমোড ব্বহার করুন। একটানা না বসে থেকে কাজের ফাঁকে মাঝেমধ্যে হেঁটে নিন। রোজ কম করে মিনিট চল্লিশ হাঁটুন।

করবেন না: হাঁটু মুড়ে মাটিতে বসবেন না। একটানা বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না। ব্যথার সময় সিঁড়ি ভাঙবেন না। ওজন বাড়াবেন না। এতে হাঁটুর ওপর চাপ বাড়ে। ছোটো থেকেই হাই হিল এড়িয়ে চলুন। অ্যালকোহল নৈব নৈব চ।  

 

    

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.