গলনাঙ্ক

137

দ্ুরে অন্ধকার, ঝোপ জঙ্গলের মধ্য়ে টিমটিম করে একটা আলো জ্বলছে | একটা কোনমতে দাঁ্ড় করানো টিনের ছাউনির নিচে কয়েকজন বসে | কয়েকটা বেঞ্চ পাতা, ম্ুলত দুটো দলে ভাগ হয়ে বসে আছে ছেলেমেয়েরা | মেয়ে রয়েছে গোটা চারেক | পৌঁ্ছে সে দেখল মাটিতে একটা উনুন জ্বলছে, এক বয়স্কা মহিলা কিছু একটা ভাজছেন কড়াইতে, চপ টপ জাত্িয় কিছু | যে দলটা আলোর আওতার বাইরে বসে আছে গোল হয়ে রিপনরা সেই দলটার কাছে নিয়ে গেল তাকে | মাটিতে একটা ছেঁ্ড়া ফাটা মাদুর বিছানো, তার ওপরেই বসেছে সবাই | পরস্পরের গায়ে গা ঠেকিয়ে, মুড়ি ঝুরি দিয়েও ঠান্ডায় কাঁ্পছে সব | কোথা থেকে একটা মোড়া জোগাড় হয়ে গেল | তেজু বলল, ’ আপনি বসুন রঘুদা’
সে বসতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ছাউনির পেছন থেকে বেরিয়ে এল একটা ম্ুর্তি, একটা হিলহিলে সাপের মতো শর্ির | শুধু তার চোখের দৃষ্টি, দৃষ্টি আভাসই চমকে দিল রঘুব্িরকে

সেই শেষ বিকেলে এই চোখ দেখেই ভয় পাওয়া শুরু হয়েছিল রঘুব্িরের | তারপর কোনটা ভয়ের, কোনটা ভয়ের নয় এই স্িমারেখা মুছে যেতে যেতে যখন সে টের পাচ্ছিল ভয় পাওয়ার জন্য় আজকাল আর তার কোনও কারণেরও প্রয়োজন থাকে না, সে এমনিই দিব্য়ি স্লুইস গেট খোলা পেয়ে বেরিয়ে আসা ভয়ের সঙ্গে ভেসে চলে যায় – তখনই মোহরের পুনরাবির্ভাব তার একপ্রস্থ ভয়ের কোটাকে প্ুর্ণ করে দিল যেন | এতক্সণ সে বন্দুকের নলের সামনে দাঁ্ড়িয়ে কাঁ্পছিল | এইবার ট্রিগার টিপে দিল কেউ এবং তার মাং্স, মেদ, মজ্জা, হাড় চৌচির হয়ে গেল মোহরের ভয়ে | এক বিভৎ্স স্তুপের মতো বসে পড়ে রঘুব্ির হাত বাড়াল রিপনের সদ্য় প্রজ্জ্বলিত জয়েন্টটা নিতে

তারপর চেতনার ওপর মারিজুয়ানার গাঢ় প্রলেপ পড়তে রঘুব্ির দেখল িষৎ টলছে তার পৃথিব্ি, পায়ের তলায় পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে সরে সরে যাচ্ছে অভ্য়ন্তর্িন প্লেট্‚ কোটি কোটি বছরের প্রক্রিয়া অনুভ্ুত হচ্ছে হঠাৎ্ | সে দেখল তার উঠে দাঁ্ড়াতে ইচ্ছে করছে, দাঁ্ড়াতে গিয়ে সে দেখল দাঁ্ড়াচ্ছে তো দাঁ্ড়াচ্ছেই | কি ইন্দ্রিয়গত সেই উঠে দাঁ্ড়ানো, প্রতিটা মুভমেন্ট সোয়েল করে যাচ্ছে যেন, উঠে দাঁ্ড়াল, পৃথিব্ি টলছে, সে কিছু বলার চেষ্ট করল, বলছে তো বলছেই, লম্বা লম্বা হয়ে যাচ্ছে কথাগুলো, সময় নিজের বুৎ্পত্তি ভুলে টেনে যাচ্ছে দ্ির্ঘস্ুত্রতায় | হিসেব মিলিয়ে দেখলে সে তো সেই তিন মিনিট সময়ই নিল উঠে দাঁ্ড়াতে আর সেটাই কি ভাবে অনন্তকাল হয়ে গেল? শুধু এটাকে বোঝার জন্য়ই বারবার উঠে দাঁ্ড়াতে আর বসতে লাগল রঘুব্ির, শর্িরটা ঝরঝরে থাকে | তার মনে হচ্ছিল ছাত্রাবস্থায় ফিরে গেছে — গাঁ্জায় দম দেওয়া দিনগুলো ধোঁ্য়া, ধোঁ্য়া, অস্পষ্ট ও ঘোলাটে সমস্ত চিন্তাভাবনা থেকে ক্রমশ উঠে দাঁ্ড়িয়েছে এক ধ্বজা, দৃষ্টিদিব্য়তায় উড়ছে, ক্রমশ জ্ির্ণ হয়ে আসছে অবচেতন | সেখানে এখন ভয় ছাড়া কিছু নেই

এত মারাত্মক নেশা আগে কখনও হয়নি তার, হোক না জুতো পরা পা স্পর্শ করে আছে তার, অথচ সে পালিয়ে যাচ্ছে না?

কোনওদিন কি এমন হতে পারে — রঘুব্ির এই ভয়ের সাম্রাজ্য়ের বাইরে পা রাখল? বেঁ্চে থাকার চেষ্টা করে সে দেখেছে গোটা জগতটাই ভয়ের্ | বাস্তবতা ভয়ের্ | কারণ বাস্তবতা ক্লান্তিকর, বাস্তবতা এমন একটা লোহার তৈরি বড়সড় জাহাজ যা কিছুতেই ডুবতে জানে না, বিট্রে করতে শেখায়, অতি ব্য়ক্তিগত ও অদ্বিত্িয় অবচেতনকে‚ ত্িব্র, উগ্র, নারক্িয় সমস্ত বাসনাকে ফ্লিটিং ভিশনের মতো সামনে এনে দাঁ্ড় করায় তাও এখন কি এক উপায়ে বাস্তবতার সন্গে মিলেমিশে গেছে — যেন একই গর্ভাশয় থেকে উদগত চিন্তা ও কল্পনা যে যার নিজের মতো সাবল্িল, বিবাদ ও বিতর্ক ভুলে বাঁ্চে, সবাই সবাইকে চেনে | দুটো জগতের মধ্য়ে যাতায়াতের দরজাটা অবাধে খোলা — পালাবার পথ নেই, , পরাবাস্তবাতার মধ্য়ে তার স্ুত্রগুলো রাখা আছে | পরাবাস্তবতা এক ধরনের জ্ঞান, , মানে ত্িব্র অবাস্তবতাকেও; চমৎ্কার স্য়ুরিয়ালিজম-কেও সিনেমায় একটা বাস্তব মেথড্-এ প্রকাশ করতে হয় এবং সেটা করতে গিয়ে বস্তুগত দিক থেকে ব্য়াপারটা খুবই , কল্পনার দিক থেকে যেটা অত্য়ন্ত চ্য়ালেঞ্জিং আর এই সাবজেক্টিভ এক্সপ্রেশন পরাবাস্তবতা বা স্য়ুরিয়ালিজমকে ক্সেত্রবিশেষে ফেক বা সিউডো রিয়ালিটির র্ুপ দিয়ে দেয়, আবেগের ঘ্ুর্ণির কথাও বলা যাবে যার কোনও বস্তুগত পরিচয় নেই, ইমেজারি নেই, র্ুপ বা চেহারা নেই, কোড ডিকোড করার অপেক্সা

বারবার সেই উঠছিল আর বসছিল | কিন্তু এবার সে যাবে বলেই উঠে দাঁ্ড়াল | সবাইকে শুনিয়ে সে বলল, , , আপনি একা যেতে পারবেন না | আপনাকে আমি পৌঁ্ছে দিয়ে আসব, চিত্রদা, শ্মশ্রুগুম্ফময় সুন্দর মুখ, একতারা বাজিয়ে গান গাইছে ছেলেটা, বেশ ভাল গায় | একটা গান শেষ করে আবার আর একটা গান ধরল ভুবন | অর্ক, রিপন‚ রক্তিমরা কেউ এখন আর খেয়াল করছে না তাকে, চোখ বুজে গান শুনছে কিং্বা আসলে গান শুনছে না কেউ, ওদের প্রত্য়েকের আত্মা এখন বেরিয়ে চলে গেছে কোথাও, ওদের যাবত্িয় ফ্য়ান্টাসিগুলোর নানাবিধ কম্পোজিশনের মধ্য়ে রচিত হচ্ছে যোগাযোগ, সিনথেসিস ঘটছে, তার বাড়ি পনেরো মিনিটের হাঁ্টা পথ | নেশায় চুর হয়ে না থাকলে ওই রাতে হেঁ্টে বাড়ি যাওয়ার কথা সে ভাবতে পারত না | আজকাল রাস্তা পার হওয়াও ক্রমশ দুর্ুহ কাজ হয়ে উঠছে তার কাছে | এমন কি হাঁ্টতেও ভয় লাগে রাস্তা দিয়ে, ফুটপাত ধরে | তার পাশ দিয়ে যাওয়া প্রতিটা গাড়ি, বাস মনে হয় ব্রেক ফেল করে ছুটছে, তার জ্িবনের তরন্গের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা না দেখিয়ে তাকে পিষে দিয়ে চলে যাবে | অত, দরজা খোলা ও বন্ধের সময় হাত চাপা পড়ার ভয় হতে থাকে এবং তারপরও সুড়ন্গের মধ্য়ে শট্-সার্কিট হয়ে আগুন লেগে যাওয়ার আশঙ্কায় কাঁ্টা হয়ে থাকে রঘুব্ির্ |

এইভাবে এগোতে থাকে তার প্রতিটা দিন্ | ছমছমে আতঙ্কে, যার দিনকে ভয়, যার রাতকে ভয়, আলোকে অন্ধকারের থেকেও উৎ্প্িড়ক মনে হয় যার কখনও কখনও, বাড়ির বাইরে এবং বাড়ির ভেতরে — দু, দেওয়ালের টিকটিকি তার সমস্ত স্নায়ু স্থবির করে বসিয়ে রেখে দেয় ঘন্টার পর ঘন্টা, আরশোলার শ্ুড় নাড়া দেখে কিছুক্সণের জন্য় বোবা হয়ে যায় সে | ইলেকট্রিকের সুইচ টিপতে প্রতিবার ঢোক গেলে এবং তার থেকেও ভয়াবহ যার কাছে দেওয়ালে দেওয়ালে তারের মধ্য়ে দিয়ে ২৪ ঘন্টা প্রবাহিত হতে থাকা প্রটোন ও নিউটন কণাগুলো যা শুধু আলো, পাখা, ফ্রিজ, এসি চালানোর নিয়ন্ত্রণে না থেকে যে কোনওদিন বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটাতে প্রস্তুত, এতই উদ্দাম যে লিখে শেষ করা যায় না, কেন্দ্র্িভ্ুত, স্বাদহ্িন, সমারোহহ্িন, বেওয়ারিশ

অন্ধকারে কিছুই তেমন দেখা যাচ্ছিল না, তবু তার মনে হল এখানে অনেক শেয়ালকাঁ্টার গাছ আছে, ট্রাউজারে জড়িয়ে যাচ্ছে শেয়ালকাঁ্টা, পাঁ্চিলের ভাঙা প্রবেশ পথ খুঁ্জে বের করে সে নিষ্ক্রান্ত হল কোম্পানি এরিয়া থেকে | হাঁ্টতে লাগল কাঁ্ধ উঁ্চু করে এবং কিছু দ্ুর হাঁ্টার পর বুঝতে পারল গাড়িটা আসছে তার পেছন পেছন

মৃতদেহ বহন করার একটা কাচের গাড়ি সবসময় সন্গে সন্গে ঘোরে তার্ | এক একদিন খুব কাছে এসে পড়ে | অন্য়ান্য় দিন দেখা মাত্র রঘুব্ির সিঁ্টিয়ে যায়, মনে হয় চামড়ার নিচে ভেপসে যাচ্ছে মাং্স | সে রাতে সে অতটা গা করল না — অবল্িলাক্রমে রাস্তা পার হয়ে হাঁ্টতে লাগল গন্তব্য়স্থলের দিকে |

পাড়ায় ঢোকার মুখে প্রচন্ড চেঁ্চাতে লাগল কুকুরগুলো | প্রতিদিনই কুকুরগুলো তাকে দেখলে দাঁ্ত বের করে তেড়ে আসে | গর, বিস্তর কুকুর্ |

প্রত্য়াশিত ভয় সেদিন আর কিন্তু গ্রাস করল না তাকে — কুকুরগুলোকে পাশ কাটিয়ে সে নিজের বাড়ির গেটের সামনে পৌঁ্ছে গেল | এবং দেখল ঠিক গেটের পাশেই দাঁ্ড়িয়ে দুজন মানুষ্ | ভিখিরিই মনে হল দেখে – নোং্রা পোষাক, কাং্ধে ঝোলা মাথার চুলে জট | ভাল করে লক্স্য় করার পর সে বুঝল একজন নার্ি, অন্য়জন পুরুষ্ | তাকে দেখে আরও কিছুটা এগিয়ে এল ভিখিরি দুটো | স্ট্রিট লাইটের আলো এবার মুখে পড়ল দুজনের্ | সন্গে সন্গে চমকে উঠল রঘুব্ির — একি, দুজনেই বিকৃত রকম ট্য়ারা | দু, এদিক্-ওদিক যেন সব দিকে ছিটকে গিয়ে ফিরে আসছে তারই মুখের ওপর

মারিজুয়ানা অন্িহায় ত্য়াগ করে গেল তাকে তখনই, হাঁ্টুর জোর কমে গেল তার্ | হাতড়ে হাতড়ে গেট খুলে দরজা অবধি গেল সে | চাবি বের করতে গিয়ে দেখল চাবিগুলো পেঁ্চিয়ে গেছে একে অন্য়ের সন্গে, শান্ত স্বরে, খুবই শান্ত স্বরে,, গেটের কাছে আলো-আঁ্ধারির মধ্য়ে একটা মেয়ের শর্ির দেখল সে দাঁ্ড়িয়ে আছে | মেয়েটা এগিয়ে এল তার দিকে | , আমি একটু আগেই ঘুরে গেছি আপনার খোঁ্জে, তখনও আপনি ফেরেননি দেখে আবার এলাম্ |

গর্ব্ি মিত্রা, সেকেন্ড ইয়ার – তার ছাত্র্ি | চিনতে পেরেছিল রঘুব্ির | ‘রঘুব্িরদা, আপনার ফোনটা টেবিলের তলায় পড়েছিল, খুঁ্জে পেয়ে আমি আপনাকে ফোনটা ফেরৎ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম তখনই | কিন্তু আপনাকে কোথাও দেখতে পাইনি, তারপর কোথায় চলে গেছেন ওরা জানে না | আই টুক আ চান্স – ভাবলাম হয়ত বাড়ি ফিরেছেন’

মেয়েরা সবসময় ভয়ের জোব্বা গায়ে দিয়ে এসে দাঁ্ড়ায় তার সামনে, ফোন ফেরৎ নিয়ে সে ধন্য়বাদ বলল গর্ব্িকে | ‘বাই’ বলে চলে গেল মেয়েটা |

গর্ব্ি এসে দাঁ্ড়াতেই যে তার ভয়টা চলে গেছিল এ কথা সে তখন সেই মুহ্ুর্তেই অনুধাবন করেনি | তারপর এই মাস দেড়েক সময়ে গর্ব্ির সঙ্গে বারবার দেখা হয়েছে তার দেখা হওয়ার মতো করে | যেখানে সে প্রায় ভ্িত, সন্ত্রস্ত বা ভয় পাচ্ছে পাচ্ছে, পেতে শুরু করেছে এই অবস্থায় হয়ত রাস্তা হারিয়ে ঘুরছে গলফ ক্লাবের পেছন দিকের কবরখানায়, কিং্বা ইউনিভার্সিটির সামনে রাস্তা পার হতে পারছে না অথবা লেকচার দিতে দিতে ভুলে গেছে বক্তব্য় আর গর্ব্ি আচমকাই উঠে এসেছে যেন পাতাল ফুঁ্ড়ে তার সামনে আর সে ধ্িরে ধ্িরে বুঝতে পেরেছে গরব্ির উপস্থিতি তার ভয়ের খুলতে থাকা কয়েলটাকে ফের গুটিয়ে দেয় | সে বলতে বলতে থেমে গেলে গর্ব্ি যেই মাথা চুলকোতে চুলকোতে বলেছে ‘ রঘুব্িরদা আর একবার রিপিট করবেন?’ অমনি কনটেক্সট মনে পড়ে গেছে তার, কোথায় হারিয়ে গেছিল রাস্তা সেই জায়গাটা মনে পড়ে গেছে, এত অচল কুয়াশা তার অন্তর্জগতে – গর্ব্িকে দেখলে সেই কুয়াশা কিছুক্সণের জন্য় অন্তর্ঃিত হয়, ‘আজ আমরা সাহিত্য় এবং সিনেমার সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনা করব…

‘ I wish they had electric guitar in cotton feilds back in good old days!’ জিমি হেনড্রিক্স | নিজের মিউজিকের প্রতি এতদ্ুর আস্থাবান ছিলেন এই কালো মানুষটা’ রঘুব্ির চৌধুরি পায়চারি শুরু করলেন | গর্ব্ির ভ্িষণ জলতেষ্টা পেয়েছে, সন্তপর্ণে ঝোলা খুলে দু ঢোক জল খেল সে | তারপর মোনোনিবেশ করার চেষ্টা করল রঘুব্িরদার ভাষণে | সবাই বলে রঘুব্ির চৌধুরি এক অস্বাভাবিক প্রকৃতির মানুষ, কেউ কেউ বলে মানুষটা বিকারগ্রস্ত, ছিটিয়াল | ফিল্ম স্টাডিজের অন্য় ফ্য়াকাল্টিরা সবচেয়ে বেশি বির্ুপ রঘুব্িরদার প্রতি | রঘুব্িরদার ব্য়ক্তিগত জ্িবন নিয়ে প্রচুর রিউমারস বাজারে, অন্য়মনস্ক হয়ে যাওয়া আর প্রায়ই সেভ করতে গিয়ে গাল কেটে ফেলা

সেই রাতে ফোন ফেরৎ দিতে যাওয়ার পর থেকে রঘুব্ির চৌধুরি আজকাল একটা চেনা চোখে তাকায় তার দিকে , দৃষ্টিতে অদ্ভ্ুত কৃতজ্ঞতা – ফোন ফেরৎ পাওয়ার কৃতজ্ঞতা? মনে মনে কাঁ্ধ ঝাঁ্কাল গর্ব্ি, তারপর নোট নিতে ব্য়াস্ত হয়ে পড়ল, ‘ আপাতভাবে সাহিত্য় বা সিনেমার কাজ, বা মিউজিক বা যে কোনও আর্ট ফর্মের কাজ মানুষকে আনন্দ দেওয়া, এন্টারটেইন করা হলেও সাহিত্য়, সিনেমা, থিয়েটার সবকিছুই পৃথিব্ির তাবড় সব সমাজ-বিপ্লবে হাতিয়ার হিসেবে, ‘টুল’ হিসেবে ব্য়বহৃত হয়েছে | কিন্তু ঘটনা হচ্ছে একদিকে যেমন তা মানুষের শোষণ এবং বঞ্চনার বিরুদ্ধে কথা বলেছে, মানুষের চেতনাকে জাগরিত করেছে, মানুষের হয়ে প্রশ্ন তুলেছে তেমনি অন্য়দিকে, আমাদের মনে রাখতে হবে আর্ট কিন্তু সিসটেমকেও সাহায্য় করেছে তার শিকারকে বুঝতে’অয়্ান্টি-সিসটেম আর্ট’-ও সিসটেমের দ্বারা অয়্াবসর্বড এবং ইউটিলাইজড হয়েছে অয়্াজ বোথ অয়্াজ আ ব্রেক, সেল্ফ-কারেকশন এবং এন্টারটেনমেন্ট, পাল্টে ফেলেছে সময়ে সময়ে এবং এ ব্য়াপারে তাকে না চেয়েও তলে তলে পথ দেখিয়েছে আর্ট’

পায়চারি করতে করতে তার সামনে এসে দাঁ্ড়িয়ে পড়লেন রঘুব্িরদা

লেকচারের শেষে কতগুলো কোট দিলেন রঘুব্িরদা | বার্গম্য়ান, চ্য়াপলিন, রেনোয়া, সত্য়জিৎ – সিনেমা এবং সাহিত্য়ের সম্পর্ক ক্ি এ বিষয়ে এঁ্দের মতামত, সে কানে না তুলে হাত নাড়তে নাড়তে ছুটে বেরিয়ে এসে রাস্তা পার হল, অটো থামিয়ে উঠে বসল তাতে | গোলপার্ক থেকে বাসে উঠল, ঘড়ি দেখতে লাগল বার বার, মনে মনে ভাবল পিং্কির কাছে পৌঁ্ছতে হাফ এন আওয়ার দের্ি হবেই তার | সেক্সেত্রে দেশপ্রিয় পার্কে যশমাল্য়র অফিসে না গিয়ে আটটা নাগাদ সে সোজা যাবে যশের ফ্ল্য়াটে, ‘ পালিয়ে গেলি? কলেজ স্ট্র্িট যাওয়ার কথা ছিল আজ মনে নেই তোর?’
‘হ্য়াঁ, তাই তো?’ বলল সে | সত্য়িই মনে ছিল না তার্ |
‘যাবি না?’
‘নাহ, আমার পড়ানো আছে | তোরা যা’
‘পড়িয়ে চলে আয় | আমরা হেদুয়ায় বসব |’
‘হবে না, যশের সঙ্গে বসা আছে আমার |’ ফোন কেটে দিল গর্ব্ি | যশের ব্য়াপারে রক্তিম, রিপনদের নানা রকম ইনহিবিশন আছে | ওদের মতে যশমাল্য় সিউডো, লোকটা নিজেকে মনে করে খুব বড় আঁ্তেল কিন্তু আসলে ওর উচ্চবিত্ত জ্িবনের পাতি সাজানো গোছানো সেন্টিমেন্টাল গল্প বলার বেশি কোনও ক্সমতা নেই’টেক এনি পিপল, এনি সিচুয়েশন অয়্ান্ড শ্য়ুট’ আট-ন মাস আগে প্রথম আলাপের দিনই যশ এই কথাটা বলেছিল তাকে |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.