ঝাড়ুপেটা করে খুন কি আদৌ সম্ভব ? প্রশ্ন হাইকোর্টের

80

ঝাঁটা মেরে খুনের অভিযোগ উঠেছিল মা ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। সেইমতো নিম্ন আদালত মা ও ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল। কিন্তু ঝাঁটা দিয়ে মারতে মারতে কাউকে কি খুন করা যায়?- নিম্ন আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে এমন প্রশ্নই ছুঁড়ে দিল তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট। হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, ঝাঁটাকে কি আদৌ মারণাস্ত্রের তালিকায় ফেলা যায়?

ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার করিমনগর জেলায়। সেখানকার বাসিন্দা ইউ ভেঙ্কাটাম্মা এবং তাঁর উনিশ বছরের ছেলে ইউ রাজাশেখরের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে ঝাঁটা দিয়ে মেরে খুন করার অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, সামান্য বচসার জেরে এক ব্যক্তিকে ঝাঁটা দিয়ে মারতে থাকে মা ইউ ভেঙ্কাটাম্মা। এরপর ওই ব্যক্তিছে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় ছেলে ইউ রাজাশেখর। ওই ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন, এবং ব্রেন হ্যামারেজ থেকেই মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।

এই অন্যায়ের শাস্তি হিসেবেই নিম্ন আদালত অভিযুক্ত মা ও ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। কিন্তু তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সওয়াল করে বলে যে, ঝাঁটাপেটা করে কাউকে খুন করা যায় না। এবং সেই মর্মে মা ও ছেলেকে জামিনের আদেশ দেয় তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট। অভিযুক্ত মা ও ছেলে আদালতকে জানিয়েছে যে ওই ব্যক্তিকে খুন করার কোনও উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং তা নিতান্তই একটা দুর্ঘটনা। তাছাড়া ডাক্তারি রিপোর্টেও ঝাঁটা দিয়ে মারার কারণেই যে মৃত্যু হয়েছে, সেকথা স্পষ্ট করে বলা নেই। এমনকি পড়ে গিয়েই যে ব্রেন হ্যামারেজ হয়েছে সেকথাও স্পষ্ট নয়। সেইজন্যই তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের দাবি যে একে কখনওই খুনের ঘটনা বলা চলে না।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.