বিদ্বজনদের মধ্যে খেয়োখেয়ি কি তৃণমূলের পতনের সূচক ?

বিদ্বজনদের মধ্যে খেয়োখেয়ি কি তৃণমূলের পতনের সূচক ?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

এককালে হিটলার জার্মানির বিদ্বজনদের সমর্থন পেয়ে দেশবাসীর মনে নায়কের মর্যাদা পেয়েছিলেন | যার জেরে জার্মান জাতির মধ্যে হিটলারের জনপ্রিয়তা ছিল
প্রশ্নাতীত | কিন্তু‚ ন্যুরেনবার্গকাণ্ড হিটলারের কাছ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল বিদ্বজনদের | জার্মান বিদ্বজনদের হিটলার বিরোধিতা সূচনা করেছিল এক ঐতিহাসিক পতনের | যার পরিণতিতে হিটলারের শেষ হয়ে যাওয়া ছিল শুধুই সময়ের অপেক্ষা |

এ রাজ্যের বুকে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা যেন ন্যুরেবার্গের স্মৃতিকেই টেনে আনছে | সম্প্রতি নাট্যস্বজন ও নাট্য অ্যাকাডেমিতে পদত্যাগের হিড়িক যেন তুলনা টানছে হিটলের ন্যুরেনবার্গকে |

ক্ষমতার জোরেই কি এখন বুদ্ধিমত্তাকেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ? সম্প্রতি নাট্য স্বজন এবং নাট্য অ্যাকাডেমিতে যে উথাল-পাতাল তৈরি হয়েছে তার জেরে এখন এমন প্রশ্নটা অস্বাভাবিক নয় | বুদ্ধিমত্তার বিকাশের মধ্যে দিয়ে সমাজে চিন্তার উন্মেষ হয় | আর এই চিন্তার উন্মেষ কোনও সময় সমাজে জীবনদর্শন থেকে সংস্কৃতি-তে প্রভাব ফেলে | আমরা জানি এককালে ব্রাত্য বসুর ‘উইঙ্কল-টুইঙ্কল’ নাটকটি বাম শাসনের কালো দিকটিকে তুলে ধরেছিল | আবার অর্পিতা ঘোষের পশুখামার নাটকের শো বন্ধ করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সাধারণ মানুষ থেকে বিদ্বজনেদের কাছে ভিলেনে পরিণত হয়েছিলেন | সিঙ্গুর‚নন্দীগ্রাম নিয়ে ব্যাকফুটে থাকা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কাছে পশুখামার নাটকের শো বন্ধ করা আত্মহত্যার সামিল বলেই সেইসময় পরিগনিত হয় | এমনকী‚ এককালে ঘোরতর বাম বিদ্বজন হিসাবে খ্যাত কৌশিক সেনের বিভিন্ন নাটক নিয়ে আপত্তি জানিয়েও আরও কোণঠাসা হয়েছিল আলিমুদ্দিন |

স্বাভাবিকভাবেই সিঙ্গুর‚নন্দীগ্রাম আন্দোলন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল একদল বিদ্বজনকে‚যাঁদের কথা-প্রতিবাদ সেদিন রাজ্যের
মানুষের মনে স্থান পায় | এই দলে যেমন ছিলেন বাম শিবিরে কল্কে না পাওয়া বিদ্বজনেদের দল‚ তেমনই ছিলেন অতি বাম বলে পরিচিত বিদ্বজনেরাও | দীর্ঘ চৌত্রিশ বছরের বাম শাসনের পতনে এই দুই দলের অবদান অস্বীকার করার জায়্গা নেই | ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনশন মঞ্চ থেকে রবীন্দ্র সদন মোড়ে ফেস্টুন‚মাইক নিয়ে বাম নীতির বিরোধিতায় সেদিন পথে নেমেছিলেন অপর্ণা সেন‚কৌশিক
সেন‚ শাঁওলি মিত্র‚ অর্পিতা ঘোষ‚ ব্রাত্য বসু‚ বিভাস চক্রবর্তী‚সুমন মুখোপাধ্যায়রা | মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে ভোট চাইতে এঁদের অনেকেই ঘরে ঘরে ঘুরেছিলেন | কিন্তু‚চিত্রনাট্য বদলাতে শুরু করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ক্ষমতা দখল নেওয়ার পর | যে বিদ্বজনেদের সমর্থন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুর‚নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় থেকে পেয়ে আসছিলেন সেই বিদ্বজনেদের অনেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে যান | কেউ কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থেকে তৃণমূলে নাম লিখিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসাবে আত্ম প্রকাশ করেন | যেমন ব্রাত্য বসু‚ অর্পিতা ঘোষ | আর যাঁরা দূরে গিয়েছিলেন‚ তাঁদের মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য সুমন মুখোপাধ্যায়‚ কৌশিক সেন | এমনটা নয়‚ এঁরা ফিরে গিয়ে সিপিএম-এ যোগ দিয়েছিলেন‚ বরং যে গলা এককালে বামেদের বিরুদ্ধে তুলেছিলেন‚ সেই গলাই এ বার কাঠগড়ায় তোলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলকে | এই পরিস্থিতিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ব্রাত্য বসু‚ অর্পিতা ঘোষেদের নেতৃত্বে জন্ম নেয় নাট্য স্বজন | আবার পশ্চিমবঙ্গ নাট্য অ্যাকাডেমিতে মনোজ মিত্রের মতো ব্যক্তিদের নিয়ে আসা হয় | পরিণামে‚ মনোজ মিত্রও তৃণমূল নেত্রীর সদবুদ্ধিতে আস্থা রেখেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন | কিন্তু কী এমন ঘটল মনোজ মিত্রের‚ যে নাট্য অ্যাকাডেমি ছেড়ে সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিলেন ! এই ঘটনার কিছুদিন আগেই নাট্য স্বজন থেকে ইস্তফা দেন নাট্য ব্যক্তিত্ব মণীশ মিত্র‚ দেবেশ চট্টোপাধ্যায়‚অর্পিতা ঘোষ ! যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ‚ সেই ব্রাত্য বসুও যখন নিজে নাট্য স্বজন থেকে পদত্যাগ করে বসেন তখন নাটকীয়তা আরও বেড়ে যায় | এখানেই শেষ নয় | নবান্নে বৈঠক করে নাট্য স্বজন নিয়ে যাবতীয় জটিলতা কাটাতে ব্রাত্য ও অর্পিতাকে নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় |

তৃণমূলনেত্রীর এই নির্দেশ আদৌ কতটা কাজে দেবে‚তা নিয়েই খোদ সন্দেহ রয়েছে বিদ্বজনেদের মধ্যে | এই অংশের অভিযোগ‚মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য পাওয়া কিছু বিদ্বজন নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি ছাড়া আর কিছুই করছেন না | নাট্য সংস্কৃতির মানোন্নয়ন বলে যা বলা হচ্ছে তা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয় | মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গত কয়েক বছর ধরে যে পরিমাণ ক্লাবকে আর্থিক অনুদান দিয়েছে‚ তার ছিঁটেফোঁটাও নাট্যক্ষেত্রের জন্য দেখা যায়নি | অথচ‚ তৃণমূল সরকারের পর্যটন মন্ত্রী এখন বড় নাট্য ব্যক্তিত্ব বলে পরিচিত | তৃণমূলের লোকসভা সাংসদ অর্পিতা ঘোষও নাটকের পরিচয়ে আজ ওই জায়গায় পৌঁছেছেন | বিদ্বজনেদের একাংশের প্রশ্ন ‚ কোথায় শাঁওলী মিত্ররা ? দূরবীন দিয়ে শাঁওলী মিত্রদের খুঁজে বেড়াতে হয় | বিভাস চক্রবর্তীর ভূমিকা শুধুই মিছিল মিটিং-এ অংশ নেওয়া | মমতার সঙ্গে ভাল যোগাযোগ থাকলেও নাটকের উন্নতিতে সেই যোগাযোগ কাজে লেগেছে বলে শোনা যায় না |

বামেরাও যখন ক্ষমতায় এসেছিল‚ তখন তাদের পিছনে ছিল বুদ্ধিজীবীদের একটা বড় অংশ | সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অংশ বিরাট আকার নিয়েছিল | সিঙ্গুর‚ নন্দীগ্রাম-কাণ্ড তাঁদের অনেককে বামেদের থেকে সরালেও তাঁদের অনেকেই কিন্তু এখনও বামেদের সঙ্গেই আছেন | সম্প্রতি‚ সুবোধ সরকার‚ অরিন্দম শীলদের মতো দু-একজনকে বামেদের ঘর ভাঙিয়ে তৃণমূল পরিচালিত সংগঠনগুলোতে আনা গেলেও তাতে খুব একটা খুশি হওয়ার কিছু নেই |

আসলে‚ সারদা কাণ্ড থেকে খাগড়াগড়‚ কামদুনি‚ প্রশাসনিক ব্যর্থতা‚ তৃণমূলের হাতেই লাগাতার পুলিশের মার খাওয়ার ঘটনা‚ পাড়ুই কাণ্ড‚ সবমিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত বিধ্বস্ত | বিতর্ক আর দুর্নীতির অভিযোগ সামলাতেই হিমসিম অবস্থা | এই অবস্থায় নাট্যস্বজন‚ নাট্য অ্যাকাডেমি নিয়ে বিতর্ক ‚ নেত্রীকে আরও চাপে ফেলেছে | মমতা নিজেও বিদ্বজনেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি কীভাবে মেটাবেন বুঝতে পারছেন না |

তাই‚ নাট্যস্বজন‚ নাট্য অ্যাকাডেমিতে পদত্যাগের হিড়িক কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তিলজলায় তৃণমূল ভবনের কাছে কোনও বার্তা ?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

pandit ravishankar

বিশ্বজন মোহিছে

রবিশঙ্কর আজীবন ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের প্রতি থেকেছেন শ্রদ্ধাশীল। আর বারে বারে পাশ্চাত্যের উপযোগী করে তাকে পরিবেশন করেছেন। আবার জাপানি সঙ্গীতের সঙ্গে তাকে মিলিয়েও, দুই দেশের বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত ব্যবহার করে নিরীক্ষা করেছেন। সারাক্ষণ, সব শুচিবায়ু ভেঙে, তিনি মেলানোর, মেশানোর, চেষ্টার, কৌতূহলের রাজ্যের বাসিন্দা হতে চেয়েছেন। এই প্রাণশক্তি আর প্রতিভার মিশ্রণেই, তিনি বিদেশের কাছে ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের মুখ। আর ভারতের কাছে, পাশ্চাত্যের জৌলুসযুক্ত তারকা।