সকালে সুখস্বপ্ন ভেঙে কিছুতেই উঠতে না পারার জন্য কি রোজই অফিসে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে আপনার ? নরম মোলায়েম বালিশের আলিঙ্গন মুক্ত করে বিছানা ছেড়ে ওঠার কাজে সঙ্গ দিচ্ছে না ইচ্ছেশক্তি ? রোজ ভোরে অ্যালার্ম দিয়েও কি শেষ পর্যন্ত দেরি করেই ঘুম থেকে উঠছেন ? চিন্তা করবেন না | এ সমস্যা আপনার একার নয় | রোজ হাজারো মানুষ এই একই সমস্যায় পড়েন | সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে না পারার জন্য দায়ী আমাদেরই নিত্যনৈমিত্তিক কিছু বদভ্যাস | ঘুমোনোর সময় নানান কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়া‚ সারাদিনের কাজের চাপ‚ অস্বাস্থ্যকর খাবার দাবার খাওয়ার মত রোজকার নানা অভ্যাসের জন্য আমাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে বা ঘুম ভাঙতে দেরি হয় |

প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে দেরিতে ঘুম ভাঙার সমস্যার একটি সমাধানের কথা বলা হয়েছে | সূর্যাস্তের ৪৫ মিনিট আগে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করার কথা বলা হয়েছে সেখানে | এই সময়টিকে বলা হয় ব্রহ্ম মূহুর্ত | ব্রহ্ম মূহুর্তে নিয়মিত ওঠার অভ্যাস তৈরি করতে পারা আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের মতে স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল | এই সময়ে ঘুম থেকে উঠতে পারলে সূর্যের তরঙ্গের সঙ্গে মানবদেহের তরঙ্গ মিলে যেতে পারে | এই জন্য সারদিনই শরীর স্বাস্থ্যসতেজ ও চনমনে থাকে | তবে আয়ুর্বেদ ছাড়াও দেরিতে ঘুম ভাঙার সমস্যা মেটাতে কাজে আসতে পারে কিছু সহজ উপায় |

১| রাতে হাল্কা খাবার খেয়ে ঘুমোতে যাওয়া : রাতের খাবার হাল্কা হলে তা হজম হতে সুবিধা হয় | হজম হবার অসুবিধা হলে বা ভারী খাবার খেলে শরীর ভারী হয়ে যায় | ফলত সকালে ঘুম থেকে উঠতে ইচ্ছে করে না | অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার বা মিষ্টি খাওয়া যতটা সম্ভব বর্জন করুন | রাতের খাবার যত হাল্কা হবে শরীর তত হাল্কা বোধ হবে এবং বিছানা ছেড়ে উঠতে সুবিধা হবে |

২| ঘুমোতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস জল খাওয়া : রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে অন্তত এক গ্লাস জল খেলে মূত্রাশয়ে চাপ পড়বে | সকাল সকাল তাই আপনার বাথরুমে যাওয়ার দরকার হবে | সাথে ঘুমও বিদেয় হবে | কিন্তু তাই বলে ঘুমোনোর আগে অতিরিক্ত জল খাওয়া উচিৎ নয় | বিশেষত ডায়বেটিস থাকলে বেশি জল না খাওয়াই উচিৎ | ডায়বেটিক রোগীদের এমনিতেই বারবার মূত্রত্যাগের প্রয়োজন বোধ হয় |

৩| অ্যালার্ম দেওয়া ঘড়িটিকে নিজের থেকে দূরে রাখা : আমরা অনেকেই অ্যালার্ম সেট করে শুলেও হাতের কাছে থাকা ফোন বা ঘড়ির অ্যালার্ম বাজলেই তা বন্ধ করে আবার পাড়ি দিই ঘুমের দেশে | অ্যালার্ম দেওয়া ঘড়ি বা ফোনটিকে যদি আমর যেখানে ঘুমোচ্ছি তার থেকে খানিকটা দূরে রাখা যায় তাহলে অ্যালার্ম বন্ধ করতে তো বিছানা ছেড়ে উঠতেই হবে ! আর কিছু উপায় থাকবে না তখন | বিছানা থেকে একবার উঠে অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার বিছানায় ফিরে ঘুমোনো সম্ভব হয় না | ফলত ঘুমঘোর কেটে যাবে |

৪| ঠান্ডা জলে স্নান করা : ঘুম থেকে উঠে পড়লেও ঘুমের ঘোর না কাটার জন্য আমরা অনেকে আবারও ঘুমিয়ে পড়ি | ঘুমের ঘোর কাটানোর জন্য ঘুম ভাঙলেই ঠান্ডা জলে স্নান করে নেওয়া যায় | সকালে ঠান্ডা জলে স্নান করলে সারাদিন সতেজ বোধ হয় ‚ মনোসংযোগ করার ক্ষমতাও বাড়ে |

৫| ঘুম ভাঙলেই বিছানা ছেড়ে উঠে পড়া : ঘুম ভেঙে গেলেও আলস্যের জন্য আমরা বিছানায় শুয়ে থাকি | ঘুমের ঘোর ঘুম ভাঙার পরেও থাকে বলে বিছানায় থাকলে আবারও ঘুমিয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে | তাই ঘুম ভাঙলে সাথে সাথেই বিছানার হাতছানি এড়িয়ে উঠে পড়তে হবে |

এই উপায়গুলি প্রাথমিক ভাবে ঘুম ভাঙাতে সাহায্য করবে | তবে ঘুম থেকে ওঠার জন্য সবথেকে দরকার কিন্তু ইচ্ছেশক্তির | যতই মা মুখে জল ছেটান বা ঘরের পর্দা টেনে খুলে দেওয়ায় মুখে আলো এসে পড়লেও নিজে না উঠলে জোর করে টেনে কাউকেই তোলা সম্ভব নয় বেশিদিন |

আরও পড়ুন:  ঝটপট ডালপুরি

NO COMMENTS