আরিটার…পাহাড়, জঙ্গল আর মনোরম লেক

আরিটার…পাহাড়, জঙ্গল আর মনোরম লেক

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

পাহাড়ের ওপর একটা বড় লেক থাকলে জায়গাটা আরও আকর্ষনীয় হয়ে ওঠে | এই কারণে ‘আরিটার’ যাবার ইচ্ছেটা ছিল | পূর্ব সিকিমের ছোট্ট এই গ্রামে টুরিস্ট ভিড় করতে শুরু করেছে সবেমাত্র কয়েক বছর হলো, বলতে গেলে কৃত্রিমভাবে বানানো ওই লেকটার টানেই | ইদানিং আবার সিল্ক রুট যাবার হিড়িক বেড়েছে ফলে সারা বছরই এদিকটা সরগরম থাকে | জয়দীপ স্কুলের ছেলেমেয়েদের নিয়ে এক্সকারশন করতে এই সব পাহাড়ে প্রায়ই আসে, ওই আশিষ গুরুং-এর নম্বর দিয়ে বলেছিল আরিটারে গিয়ে ওর হোটেলেই থাকতে, দারুণ পর্ক খাওয়ায় | অতএব আশিষকে ফোন লাগলাম, নভেম্বর মাসে যাচ্ছি | ঘর নিয়ে কোনও সমস্যা নেই চাইলে শিলিগুড়ি থেকে একদম আরিটার অবধি গাড়ির ব্যবস্থাও হয়ে যাবে | আশিষকে জানালাম আমরা শুধু কর্তা-গিন্নি, খামোখা চার ডবল খরচা করব কেন? তার চেয়ে এন জে পি স্টেশন থেকে গ্যাংটকের শেয়ার জিপে করে রংপো অব্দি চলে যাচ্ছি, তুমি ওখান থেকে আমাদের তুলে নাও | রংপো থেকে আরিটার মাত্র এক ঘন্টার রাস্তা এবং পুরোটাই জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে খাড়াই উঠেছে |

লামপোখরির সাদা কালো স্কেচ

গোলগাল, মিষ্টি ছেলে আশিষ, ওর হোটেল রেসিডেন্সি-র তিনতলার ঘরটাও বেশ পছন্দসই, সামনেটা পুরো খোলা, জানলা দিয়ে দূরের পাহাড়টার গায়ে পেডং শহরটা আবছা দেখা যায়, ওটা আমাদের পশ্চিমবাংলা | আরিটারের মূল বাজার অঞ্চলটা আরো ওপরে যেখান থেকে দুটো রাস্তার একটা গেছে স্থানীয় একটা গুম্ফার দিকে অন্যটা শেষ হয়েছে লেক অবধি গিয়ে, যার নাম লামপোখরি | তিন দিকে পাহাড় আর ঘন সবুজে ঘেরা জায়গাটা অতি মনোরম |

আরিটার গুম্ফা

লেকটাকে ঘিরে হাঁটার রাস্তা, মাঝে একটা ছোট্ট গুম্ফা আর একধারে পাহাড়ের ঢালুর ওপর সাজানো বেশ কিছু কটেজ, এটা ‘আরিটার লেক রিসর্ট’| শুধু লেকটা উপভোগ করতে চাইলে এখানে থাকাই ভালো |বাইরে থেকে এসেও দিব্যি সারাদিন কাটানো যায়, অনেকেই দল বেঁধে গাড়ি নিয়ে এখান ওখান থেকে চলে আসে |

এটা সিজন নয়, তাই ভিড় কম | এক মহিলা মিনারেল ওয়াটার, চিপস, মুড়ি আর খেলনার ডালা সাজিয়ে বসেছেন | খদ্দের নেই, এই মওকায় ওঁর একটা স্কেচ করে নিলাম, স্থানীয় অনেকেই ঘিরে দাঁড়িয়ে দেখছিল |

ডালা সাজিয়ে বসে আছে পবিত্রা রাই

তারা জানাল সামনের ওই পাহাড়টার মাথায় উঠলে ওপর থেকে লেকটা নাকি দারুণ দ্যাখায় | পরের দিন যাওয়া যাবে ঠিক করে নিয়ে এবার হাঁটা দিলাম অন্য রাস্তা ধরে গুম্ফার উদ্দেশ্যে | আরিটার গুম্ফা নামে পরিচিত এই মঠ সংলগ্ন জায়গাটি একেবারে হালে গজিয়েছে | দেখলাম গুম্ফা আপাতত বন্ধ, চারদিকে একটা ঢিলেঢালা ভাব, কেবল একধারে একটা তিব্বতি স্কুলে জোরকদমে ক্লাস চলছে আর থেকে থেকে হুঙ্কার ছাড়ছেন এক মাস্টার | আমাদের ঘোরাঘুরি করতে দেখে এমনিতেই “ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি” ছাত্ররা উসখুস শুরু করেছিল এবার আমি খাতা আর রং-টং বের করে ছবি আঁকতে বসায় পড়াশুনো একেবারে লাটে উঠল, এমনকি সেই দুঁদে মাস্টার অবধি আমার প্রায় ঘাড়ের ওপর চড়ে দেখতে লাগল আমি কী করছি |

বয়স্ক ফুর্বা লামা

বয়স্ক একজন লামাকে বসিয়ে আঁকলাম, আমার গিন্নি আবার সেই স্কেচটা ওঁর হাতে ধরিয়ে চটপট ক্যামেরাবন্দি করে ফেলল | পুরো ব্যাপারটায় বাকিদের সঙ্গে এই লামাসাহেবও দেখলাম বেশ মজা পেলেন, ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত স্বর্গীয় একটা হাসি ফুটে রইল সারাক্ষণ |

আরিটারে এসে সব থেকে বিড়ম্বনা হয়েছিল আশিষ-এর হোটেলে তিনবেলা এলাহি খাওয়ার ব্যবস্থা | ওর কুক ‘ওয়াংচুক’ ফাটিয়ে রান্না করে, ঘুরে বেড়াব কি যত খাচ্ছি মনে হচ্ছে একটু শুয়ে বসে নিই | রাতে নুডলস-এর সঙ্গে গলা অবধি চিলি পর্ক খেয়ে পরদিন সকালে পাহাড়ে উঠতে প্রচুর দেরি হয়ে গেল, ভোর থাকতে গেলে বলেছিল সানরাইজ দেখা যাবে, সেটা আর হলো না |

লেকের একটা কোণা দিয়ে পাহাড়ে চড়ার রাস্তা, যেতে যেতে চারপাশটা দারুণ দেখতে লাগে | পাহাড়টার নাম ‘মাঞ্চকিম’, ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক ঘরবাড়ি রয়েছে সেই সঙ্গে নানারকমের ফুলের বাগান | প্রায় চল্লিশ মিনিট লাগল টং-এ পৌঁছতে |

পাহাড়ের মাথায় বসে আঁকা লামপোখরি

সামনেই শিবমন্দির, চত্বরটা বেশ পরিষ্কার, পিছনেই গ্রিলে ঘেরা একটা জায়গা যেখান থেকে নিচে লেকটাকে এতটুকু দেখায় | অতএব কর্তা-গিন্নির একজন বসে গেলেন ছবি আঁকতে অন্যজন ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ক্যামেরা নিয়ে | লেক থেকে ফেরার পথে একটা সুন্দর বসার ছাউনি দেখে গিন্নি কিছুক্ষণ ওখানে কাটাতে চাইল, জায়গাটা অসম্ভব নিরিবিলি, চারধারে খালি উঁচু উঁচু গাছ আর পাখির আওয়াজ | ওকে ওখানে বসিয়ে আমি পাহাড়ের অন্য দিকে হাঁটা লাগলাম, আজই তো আরিটারে আমাদের শেষ দিন |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

pandit ravishankar

বিশ্বজন মোহিছে

রবিশঙ্কর আজীবন ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের প্রতি থেকেছেন শ্রদ্ধাশীল। আর বারে বারে পাশ্চাত্যের উপযোগী করে তাকে পরিবেশন করেছেন। আবার জাপানি সঙ্গীতের সঙ্গে তাকে মিলিয়েও, দুই দেশের বাদ্যযন্ত্রের সম্মিলিত ব্যবহার করে নিরীক্ষা করেছেন। সারাক্ষণ, সব শুচিবায়ু ভেঙে, তিনি মেলানোর, মেশানোর, চেষ্টার, কৌতূহলের রাজ্যের বাসিন্দা হতে চেয়েছেন। এই প্রাণশক্তি আর প্রতিভার মিশ্রণেই, তিনি বিদেশের কাছে ভারতীয় মার্গসঙ্গীতের মুখ। আর ভারতের কাছে, পাশ্চাত্যের জৌলুসযুক্ত তারকা।