‘ধর্ষণে বাধা পেয়ে নৃশংস ভাবে পল্লবীকে খুন করে সজ্জন পাঠান’

30

‘ধর্ষণে বাধা পেয়ে পল্লবী পুরকায়স্থকে খুন করে সজ্জন আহমেদ পাঠান |’ সোমবার এই রায় দিল মুম্বইয়ের আদালত | জানাল, খুনের আগে শ্লীলতাহানি করা হয় ২৫ বছরের তরুণী আইনজীবী পল্লবীর | তারপর ধর্ষণের চেষ্টাও করা হয় | কিন্তু প্রবল প্রতিরোধ করে জাতীয় স্তরের সাঁতারু পল্লবী | এরপরেই তাঁকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে খুন করে তাঁর ফ্ল্যাটের গার্ড সজ্জন আহমেদ পাঠান |

মুম্বইয়ের ওয়াডালায় ‘হিমালয়ান হাইটস’-এ থাকতেন পল্লবী | সঙ্গে প্রেমিক অভীক সেনগুপ্ত | ২০১২-র ৯ অগাস্ট পল্লবীকে নৃশংস ভাবে খুন করে সজ্জন | সেই রাতে অভীক অফিসে থাকায় বহুতলের ১৬ তলায় নিজের ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন পল্লবী |

সব জেনে ইচ্ছাকৃত ভাবে ফ্ল্যাটের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় সজ্জন | কারণ সে জানত তার কাছে সাহায্যের জন্য আসবেন পল্লবী | হয়ও তাই | ইলেকট্রিশিয়ানকে নিয়ে ফ্ল্যাটে ঢোকে সজ্জন | সেই সুযোগে চুরি করে নিয়ে যায় ফ্ল্যাটের চাবি |

পরে ওই চাবি দিয়ে গভীর রাতে আবারও পল্লবীর ফ্ল্যাটে ঢোকে সজ্জন | ঘুমন্ত পল্লবীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সে | ধর্ষণে উদ্যত সজ্জনকে প্রবল বাধা দেন পল্লবী | কিন্তু শেষ অবধি পরাস্ত হন |

পরের দিন ভোরবেলা অফিস থেকে বাড়ি ফেরেন পল্লবীর প্রেমিক অভীক সেনগুপ্ত | ফ্ল্যাটের দরজার মুখে রক্তের স্রোতে প্রেমিকাকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি|

তদন্ত শুরু করে সজ্জনের দিকে নজর পড়ে পুলিশের | জম্মু কাশ্মীরে নিজের গ্রামে পালিয়ে যাওয়ার আগেই গ্রেফতার করা হয় তাকে |

সজ্জন দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় খুশি পল্লবীর বাবা-মা | কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চ পদস্থ এই দুই আধিকারিক চান, তাঁদের মেয়ের খুনিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক |

অন্যদিকে পল্লবীর প্রেমিক অভীক সেনগুপ্তও অসুস্থ অবস্থায় মারা গিয়েছেন গত নভেম্বরে | এই মামলায় অন্যতম সাক্ষী হিসেবে তিনি পুলিশি তদন্তে সাহায্য করেছেন | ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা জানিয়েছেন, পল্লবীর মৃত্যুতে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন অভীক | দুঃসহ বিরহের পরে তিনিও পাড়ি দিয়েছেন অমৃতলোকে| তাঁর পল্লবীর কাছে |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.