প্রেম প্রত্যাখ্যান ? এতো সাহস ! কিশোরীর উপর দিয়ে ভটভটি চালিয়ে দিল ‘প্রেমিক’…চাপ চাপ রক্তে মেয়েটির নিথর দেহ থেকে ফিনিক্স পাখি হয়ে মাথা তুলল লড়াই

শাড়িটা পরা হয়ে গেছে দ্রুতহাতে চুলে বিনুনি বাঁধছিল মিনতি | বাইরে থেকে মঞ্জুর গলা শোনা গেল‚ মিনতি তোর ? তাড়াতাড়ি কর |
বিনুনির নিচে গার্টারটা টাইট করে লাগাতে বেরিয়ে এল মিনতি |
দাঁড়া দাঁড়া‚ দুদণ্ড দাঁড়া মা |
বলতে বলতে রান্নাঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে এসেছে কাকিমা | পিছনে আঁচলে হাত মুছতে মুছতে মা | কাকিমার হাতে একটা ছোট বাটি | বাটিতে আঙুল ডুবিয়ে মিনতির কপালে দই-হলুদের ফোঁটা দেয় কাকিমা | দুগগা দুগগা শুনতে শুনতে দাওয়া থেকে নেমে পড়ে মিনতি | মঞ্জু অপেক্ষা করছিল | দুজনে মিলে জোরপায়ে স্কুলের দিকে দৌড় | আজ রেজাল্ট বেরোবে মাধ্যমিকের |
একটু এগোতেই কালভার্টের পাশে দেখা গেল মূর্তিমান দাঁড়িয়ে আছে বাইক নিয়ে |
ও ই দ্যাখ ‚ আবার এসেছে | ফিসফিস করে বলে মঞ্জু | তাকাস না | পাশ কাটিয়ে চলে যাব |
কথা বলতে বলতে আঁচলটা কোমরে গুঁজে নেয় মিনতি | এই এক উৎপাত চলছে বেশ কিছুদিন | গোবর্ধন মণ্ডলের ছেলে পরেশ | দ্যাখ না দ্যাখ মিনতির পিছনে লেগে রয়েছে | যখন-তখন তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে চক্কর | স্কুল যাওয়া আসার পথে তো রোজ দাঁড়িয়ে থাকা বাঁধা | গোবর্ধন মণ্ডল এলাকার নামডাকওলা বড়লোক | বিঘের পর বিঘে ধানিজমি | চালকল ‚ লরির ব্যবসা | কী নেই ! এককথায় টাকার কুমির | তার একমাত্র ছেলে পরেশের কেন হঠাৎ দিন মজুরি খেটে খাওয়া হারাধন গড়ুইয়ের মেয়ে মিনতিকে কেন পছন্দ হল ভগবানই জানে | তবে মিনতির যে তাকে পছন্দ নাও হতে পারে সেটা সম্ভবত পরেশের কল্পনার অতীত | তাই সে বেয়াড়ার মত পিছ্নে লেগে আছে |
আজ অবশ্য পরেশকে নিয়ে মাথা ঘামানোর মত মনের অবস্থা ছিল না মিনতির | কোনওরকমের পাশ কাটিয়ে দ্রত এগিয়ে যায় দুজনে | খানিকটা এগিয়ে বাঁক নিতেই স্কুলবাড়ি | দুজনে সোজা বড়দির ঘরে | সেখানে তখন জড়ো হয়েছে তাদের ক্লাসের আরও অনেকে | মিনতি আর মঞ্জু ঘরে ঢুকতেই বড়দি মুখ তুলে তাকিয়ে হেসে বললেন‚
এই তো এসে গেছে | এ বার তাহলে খবরটা দিয়ে দেওয়া যাক |

শোনো মেয়েরা‚ আমাদের সরলাবালা হাইস্কুলের মাধ্যামিকের রেজাল্ট এবার খুব ভাল হয়েছে | তোমরা ৫২ জন পরীক্ষা দিয়েছিলে | সবাই পাস করেছো |
মেয়েদের গলা থেকে একটা সমবেত উল্লাসধ্বনি বেরিয়ে আসে | সেটাকে থামতে সময় দিয়ে ফের বড়দি বলেন‚ ফার্স্ট ডিভিশনে পাস করেছে দশ জন | আর সবথেকে আনন্দের কথা হল এবছর আমাদের এক ছাত্রী চারটে বিষয়ে লেটার নিয়ে স্টার পেয়েছে | সে কে জানো তোমরা ? মিনতিবালা গড়ুই | আমাদের মিনতি |
কাঁচা মাটির রাস্তাটা ধরে ছুটতে ছুটতে আসছে মিনতি | পায়ের প্লাস্টিকের চটিটা কখন ছিটকে গেছে‚ খেয়াল নেই | কাঁটায় দু-চারবার শাড়ি আটকেছে‚ ভ্রুক্ষেপ করেনি | তাদের মাটির বাড়িটা দেখা যাচ্ছে | চালের খুঁটিটা ধরে মা দাঁড়িয়ে আছে | হাতের ঝাঁটাটা ছুড়ে ফেলে এগিয়ে আসছে কাকিমা |
মা‚ মা‚ আমি স্টার পেয়েছি | স্কুলে ফার্স্ট হয়েছি মা আমি ফার্স্ট হয়েছি

*************

গল্পটা তো এরকম হতেই পারত | হলে হয়তো আমরা অনেকেই খুশিও হতাম | কিন্তু মেয়েটার নাম যে মিনতিবালা গড়ুই | পরিচয়‚ জনমজুর খাটা হারাধন গড়ুইয়ের মেয়ে | তার জীবনটা এরকম সরলপথে এগোনো যে বড় কঠিন | তার ক্ষেত্রে তাই বাস্তব হাঁটল অন্য পথে.|

মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে | রেজাল্ট বেরোনোর আগে কাকিমার সঙ্গে কয়েকদিনের জন্য মিনতি গেছিল কাকিমার বাপের বাড়ি উরালি গ্রামে | ফেরার সময় বাস থেকে নামল যখন বেলা তখন প্রায় চারটে | কাকিমা ধীরেসুস্থে হাঁটছে | মিনতি পা চালাল জোরে | কিন্তু একটু এগিয়েই দেখে হরি ময়রার দোকান পেরিয়ে যেখানে রাস্তাটা বাঁক নিয়েছে মোটরসাইকেলে হেলান দিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে পরেশ | সাইকেল চড়ত‚ এখন আবার বাইক কিনেছে একখানা | মিনতিকে একা দেখেই এগিয়ে এল পরেশ | চোয়াল শক্ত করে দেখেও না দেখার ভান করছিল মিনতি | কিন্তু পরেশ ছাড়বার পাত্র নয় | রাস্তার মাঝখানে দু-পা ফাঁক করে দাঁড়িয়ে বলল‚

একটা কথা ছিল |

উত্তর না দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাবার চেষ্টা করে মিনতি | কিন্তু রাস্তার প্রায় সবটা জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে পরেশ | ফের বলে‚ বললাম‚ যে একটা কথা ছিল | একমিনিট দাঁড়িয়ে শুনে গেলে ভাল হয় |
আমার সময় নেই | রাস্তা ছাড়ুন |
হিসহিসিয়ে ওঠে মিনতি |
এত ব্যস্ত কীসের হ্যাঁ ? বড় যে গুমোর দেখছি |
এবার আর সামলাতে পারে না মিনতি | সোজা তাকিয়ে বলে‚
আপনার মত রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর সময় আমার নেই | সরুন‚ না হলে এবার চেঁচিয়ে লোক ডাকব |
কয়েক সেকেন্ড একটু থতিয়ে যায় পরেশ | তারপর সরে যেতে যেতে দাঁতে-দাঁত ঘষে বলে‚
কাজটা ভাল করলি না মিনতি |
কোনওদিকে না তাকিয়ে সামনে এগোয় মিনতি | মাথার ভেতরটা যেন আগুন হয়ে আছে | দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে প্রায় দৌড়চ্ছে | কাকিমা যে অনেকটা পিছনে পড়ে গেছে সে খেয়াল নেই | এমনকী‚ মোটরসাইকেলের জান্তব আওয়াজটা যে ক্রমশ কাছে চলে আসছে সেটাও খেয়াল করেনি | যখন করল তখন আর সময় নেই | ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাওয়া মেয়েটাকে পিষে দিয়ে চলে গেল পরেশ | গোবর্ধন মণ্ডলের শিব রাত্তিরের সলতে |

আপনারা বলছেন এটা অ্যাক্সিডেন্ট নয়‚ খুন ? আপনারা দেখেছেন ? নিজের চোখে দেখেছেন ?
হ্যাঁ হ্যাঁ দেখেছি গো | নিজের চক্ষে দেখেছি | গোবর্ধন মণ্ডলের ছেলে আমাদের মেয়েটার ওপর দিয়ে ভটভটিটা চালায়ে দিল | আমাদের মেয়েটা মরে গেল গো | মুখ দিয়ে রক্ত উঠে মরে গেল |

থানার বড়বাবুর সামনে দাঁড়িয়ে হাউহাউ করে কাঁদছিল মিনতির কাকিমা | কাকিমার টিপছাপ নিলেন বড়বাবু | সেদিন রাতেই পরেশকে গ্রেফতার করল পুলিশ | পরদিন তাকে আদালতে তোলা হলে জজসাহেব বারো দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিলে
মোটরসাইকেলের আলোটা দেখা যাচ্ছিল দূর থেকেই | কিন্তু সেটা তাদের বাড়ির কাছে এসে দাঁড়াবে ভাবেনি কেউই | পর পর দুটো বাইক | গোবর্ধনবাবু আর তার দুই শাকরেদকে আসতে দেখে একটু সামলে বসে মিনতির বাবা-কাকা | দাওয়ায় উঠে ভাঙা চৌকিটাতেই বসে গোবর্ধন | শাকরেদরা দাঁড়িয়ে থাকে |

একটা অস্বস্তিকর নীরবতা | তারপর গলা খাঁকারি দিয়ে গোবর্ধন মণ্ডল বলে‚ দ্যাখ হারাধন‚ যা হওয়ার তা তো হয়ে গেছে | তোদের মেয়ে তো আর ফিরে আসবে না | খামোখা আমার ছেলেটা জেলের ঘানি পিষবে | আমার একমাত্র ছেলে | তোরা বাবু মামলাটা তুলে নে | আমি তোদের পুষিয়ে দেব |

মেয়েটা আমার মরে গেছে দাদা | ওর মা‚ একফোঁটা জল খাচ্ছে না |

এর বেশি আর কিছু বলতে পারে না মিনতির বাপ |

জানি রে জানি | আমিও তো ছেলেপুলের বাপ | আমার বাড়িতেও তো একই অবস্থা | ওর মা শুধু মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদছে আর বলছে আমার ছেলেকে ফিরিয়ে এনে দাও | তোদের তো আরও দু-পাঁচটা আছে | আমাদের তো ওই একটিই | আমি কথা দিচ্ছি‚ হারা‚ তোদের কোনও অভাব রাখব না |

কীসের অভাব রাখবেন না বাবু ? আমাদের মেয়ের অভাব পুরায়ে দেবেন ? আপনি কি ভগমান ? মিনতির কাকিমার আলগা আঁচল মাটিতে লুটোচ্ছে | দুচোখ যেন দুখণ্ড আগুনের গোলা |

গোবর্ধন  মণ্ডল কিন্তু মিছরিমাখা গলায় বলে‚
জানি রে জানি | তোরা হলি মায়ের জাত | আমার কথাটা শোন | কিছু করতে হবে না | থানায় গিয়ে কিছু বলতেও হবে না | শুধু কেস যেদিন উঠবে সেদিন সাক্ষী দিতে যাসনি | বাড়িতে একটা বড় মেয়ে আছে | আর একটা বড় হচ্ছে | ছেলেটাকে মানুষ করতে হবে | এসব কথাও তো মাথায় রাখতে হবে |

আরও কিছুক্ষণ ধানাই-পানাই করে চলে যায় গোবর্ধনবাবু | কিন্তু তার পরের দিন আবার আসে | তারপরের দিনও | রোজই | কখনও নিজে | কখনও তার চেলারা | মিনতির বাবা-কাকার হাতে টাকা গুঁজে দেয় | চালের বস্তা ঢুকিয়ে রাখে রান্নাঘরে | নিচু গলায় ফিসফিসিয়ে বাড়াতে থাকে টাকার অঙ্ক | নাকের ডগায় গাজরের মত ঝোলাতে থাকে একটা শ্যামলা মেয়ের জীবনের বিনিময়ে সারা পরিবারের নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন |

কেস ওঠে বারো দিন পরে | বাদী পক্ষের কেউ সাক্ষী দিতে আসেনি | কিন্তু তবু তো খুনের মামলা | তাই আবার দু সপ্তাহের পুলিশ হেফাজত হয় পরেশের |আরও দুবার কেস ওঠে | সাক্ষী না থাকায় হেফাজতের মেয়াদ বাড়ে | থানা থেকে খবর নেয় গোবর্ধন মণ্ডল | এবার কেস যখন উঠবে বাদী পক্ষের সাক্ষী না থাকলে জামিন হয়ে যাবে পরেশের | মামলা অবশ্য চলবে | কিন্তু তাতে কী ? ছেলে ঘরে ফিরলে বড় উকিল লাগিয়ে ও মামলা যে শেষ পর্যন্ত খারিজ করাতে পারবে‚ এমন বিশ্বাস গোবর্ধন মণ্ডলের নিজের ওপর আছে | দশ লক্ষ টাকা আর পাঁচ বিঘে জমি দুই ভাইয়ের নামে লিখে দেওয়া হবে | কাগজপত্র সব তৈরি | সহজে অবশ্য হয়নি | দুই ভাই-ই বেগড়বাঁই করেছে অনেক | মেয়ের জন্য দরদ উথলে দিয়েছে | পাঁচ লাখে হয়ে যাবে ভাবা গেছিল | কিন্তু দশ লাখ পর্যন্ত উঠতে হল | সঙ্গে চাপা শাসানি | জলে থেকে কুমিরের সঙ্গে বিবাদ করার ফল যে ভাল হয় না তার নানারকম উদাহরণ |

কেসের দিন সকাল সকালই মিনতিদের বাড়িতে পাহারা দিতে চলে এসেছে গোবর্ধনের শাকরেদ নেতাই | আজকের দিনটা কেটে গেলেই নিশ্চিন্ত | বাড়ির কেউই আজ ঘর থেকে বেরোয়নি | ভয় আর অপরাধবোধের একটা গুমোট কম্বল যেন ঢেকে আছে গোটা বাড়িটাকে | এদিন আবার মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরোবে

বসে বসে ঢুল আসছিল নেতাইয়ের | হঠাৎ পায়ের শব্দে চটকা ভাঙল নেতাইয়ের | ভাঙা বেড়ার গেটটা পেরিয়ে ছুটে ঢুকছে একটা মেয়ে |নীলপাড় শাড়ি পরা | মেয়েটাকে চেনে নেতাই | …. মরা মেয়েটার বন্ধু ছিলমঞ্জু না কি যেন নামএ আবার কী ঝামেলা পাকাতে এল…..ভাবতে ভাবতেই চিৎকার করে ওঠে মঞ্জু‚ কাকিমাকাকিমা গো ‚ মিনতি ফার্স্ট হয়েছে‚ ফার্স্ট হয়েছে‚ স্টার পেয়েছে কাকিমা…..চারটে লেটার পেয়েছে….আমাদের সবার থেকে বেশি নম্বর পেয়েছে গো মিনতি….সবার থেকে বেশি…. ছুটে বেরিয়ে এসেছে মিনতির কাকিমা | বিদ্যুৎস্পৃষ্টের মত চমকে উঠেছে মা |

আমি ভ্যান রিকশা নিয়ে এসেছি কাকিমা‚
মঞ্জুর গলা কাঁপছে |
দিদি চলো |
আঁচলটা কোমরে গুঁজে নিয়ে মিনতির মায়ের হাত ধরে টানে কাকিমা | কোনও এক অমিত শক্তিতে ভর করে এগিয়ে আসে মাও |

অ্যাই অ্যাই‚ কেউ কোথথাও যবে না | অ্যাই ছুঁড়ি‚ ভাগ এখান থেকেনইলে….
লাফ দিয়ে এগিয়ে এসেছে নিতাই | কোমরে লুকিয়ে রাখা মেশিনটা মুহূর্তে হাতের মুঠোয় |

কাকে মারবে তুমি ? কজনকে মারবে ?
কোমরে হাত দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মঞ্জু | চমকে উঠে নিতাই দেখে বেড়ার ধারে নীল পাড় সাদা শাড়ির ভিড় | শ্যামলা মুখ‚ শক্ত চোয়াল | চোদ্দ-পনেরোর সতেজ চোখে নির্ভীক দৃষ্টি | আরও আসছে | অনেক | দূরের আলপথ ধরে ধেয়ে আসছে |

বাড়ির সামনে রাখা ভ্যান রিকসায় ততক্ষণে চেপে বসেছে পারুলের মা | উঠতে গিয়েও থেমে যায় কাকিমা | নেতাইয়ের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে‚ তোর মালিককে গিয়ে বলিস‚ আমাদের মেয়ে ফার্স্ট হইছে রে….লেটার পেইছে | এসব কথার মানে জানে না তোর মালিক | মানেটা শিখে নিতে বলিস |

ভ্যান রিকসা ছেড়ে দেয় | নীল-সাদা বেয়নেটের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় এগিয়ে যায় শহরের দিকে | ভেঙে খানখান হয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোকে আবার নতুন করে বুনতে শেখার শক্তি সংগ্রহ করতে |

**********************

( সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা  | কয়েক বছর আগে একতরফা প্রেম প্রত্যাখ্যান করার মাশুল নিজের প্রাণ দিয়ে দিয়েছিল বাংলার কোনও এক গ্রামের কিশোরী  | ধনী বাবার একমাত্র উদ্ধত ছেলের দুর্বিনীত বাইক পিষে দিয়েছিল সেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থিনীকে  | মৃত্যুর কদিন পরে প্রকাশিত হয়েছিল সেই মেয়ের তাক লাগানো ফল  | তার হয়ে আইনি লড়াই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তার সহপাঠিনীরা  )

Advertisements

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.