দু হাজার বছরের প্রাচীন পানপাত্রের গায়ে ইতিহাস লিখে রেখেছে গোপন চিরকুট

ইতিহাস সময়ের ফাঁকে অনেক সময়ই লিখে রাখে গোপন চিরকুট। কেবল তাকে খুঁজে পেতে হয়। ঠিক যেমন অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর জেলার অন্তর্গত গোট্টিপ্রোলু। সেখানকার ৪০ একর পাঁচিল ঘেরা এক স্থান যেন ইতিহাসের এক টুকরো অংশ। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় থেকে প্রথম শতকের মধ্যবর্তী সময়ে এই স্থান ছিল উপকূলবর্তী বাণিজ্যিক কেন্দ্র। জায়গাটি আবিষ্কার হয়েছে বহু বছর আগে। কিন্তু সম্প্রতি এমন সব নিদর্শনের সন্ধান মিলল, যা থেকে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিকরা সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছেন, তাঁদের অনুমান নির্ভুল।

ঐতিহাসিক এই স্থানে সম্প্রতি সন্ধান মিলেছে পানপাত্র ও শঙ্কু আকৃতির পাত্রের। প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তুগুলির আবিষ্কারক আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া-র প্রত্নতাত্ত্বিক ড. শ্রীলক্ষ্মী জানাচ্ছেন, এই পাত্রগুলি রান্নার জন্য ব্যবহৃত হত না। মদ্যপানের জন্যই প্রাচীন ভারতে এই পাত্রের চল ছিল।

ওই ধরনের পাত্র আসলে সমকালীন রোমান পাত্রের অনুকরণে নির্মিত। তাছাড়াও ওখানে সন্ধান মিলেছে ২ মিটার উঁচু ও ৩.৪ মিটার চওড়া ইটের এক স্থাপত্যের। পাওয়া গিয়েছে একাধিক ভাঙা টেরাকোটা পাইপ, যেগুলিকে একটির মধ্যে অন্যটি ঢুকিয়ে ফেলা যায়। এমনই নানা নিদর্শনের সন্ধান পেয়ে উত্তেজিত প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিকরা।

১৯৯৩ সালে হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক গবেষক কেপি রাও স্বর্ণমুখী নদীর ধারে আবিষ্কার করেন এই স্থানটি। ছ’ফুট উঁচু পাঁচিলে ঘেরা এই স্থানটি তখন থেকেই কৌতূহল জাগিয়েছিল প্রত্নতাত্ত্বিকদের। কেপি রাওয়ের মতে, দক্ষিণ ভারতে আবিষ্কৃত অন্যান্য প্রাচীন স্থানে মেলা নিদর্শনের সঙ্গে এই স্থানের নিদর্শনের ফারাক আছে। তাঁর মতে সম্ভবত প্রতিরক্ষা, উপকূলবর্তী বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে সমৃদ্ধ এই এলাকাই ছিল আঞ্চলিক রাজধানী।

আরিকামেন্ডু, পুদুচেরি বা শিশুপালগড়ে পাওয়া নিদর্শনের সঙ্গে মিল থাকলেও এই অঞ্চলটি তার থেকে অনেকটাই বড়। ইতিহাসের এই অসামান্য অঞ্চলকে বলা হচ্ছে ‘কোটা ডিব্বা’। যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘সুরক্ষিত টিলা’।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ওয়র্থ ব্রাদার্স সংস্থার লেটারহেড

মায়ার খেলা

চার দিকে মায়াবি নীল আলো। পেছনে বাজনা বাজছে। তাঁবুর নীচে এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে উড়ে বেড়াচ্ছে সাদা ঝিকমিকে ব্যালে