ডাক্তার ধোলাই

হা-হা’র মানে জানেন? হারামির হাতবাক্স। কারা বলুন তো? ওই ক্লাসটা। যাদের সামনে ‘বাবু’ বলেন, পেছনে বউয়ের ছোটভাই।

শালা ডাক্তারদের গাফিলতি, অবহেলা আর ভুল চিকিৎসায় এত মানুষ মরছে যে দেশের জনসংখ্যা দিনদিন কমছে!

কাতারে কাতারে বাচ্চা জন্মাচ্ছিল বছর পঁচিশ আগেও। আজকের শিশু, আঠারোয় যিশু। ‘কলকাতার যিশু’ না মশাই, ভারতের যিশু। যিশু বড় দয়ালু, নোটের দয়ায় ভোট জেতা যায়, পেটো পাইপগান চমকালু! গণতন্ত্রের পিলার ভবিষ্যতের যিশুদের মারছে হারামজাদা ডাক্তারগুলো! শালারা শুধু গণশত্রু? না, দেশের শত্রু।

হাসপাতালে বাচ্চা মরছে পটাপট। মায়ের পেটে। সিজারে-নরমালে পৃথিবীর ‘প্রথম আলো’ দেখার পর যখন তখন। ওদিকে বিয়ে হয়েও বাচ্চা হচ্ছে না হাজার হাজার মেয়েদের ছোট বেলায় কি ওষুধ, ইঞ্জেকশন খাইয়ে দিচ্ছে শালারা কে জানে! ছেলেদের ‘সিমেন্‌টে পোকা’ কমছে। মেয়েদের ‘ওবাড়ি’ তে গুচ্ছের ঘামাচি। আমাদের পাড়ার নেট ডাক্তার’ সিধু নেট ঘেঁটে বলেছে, সিমেন্ট হল শুক্র, পোকা শুক্রাণু। ‘ওবাড়ি’ ডিম্বাশয়। ‘ওবাড়ির ঘামাচি’ নাকি পলিসিস্টিক ওভারি’। আর জানতে চাইবেন না মশাই। মুকুন্দপুর কলেজের নন গ্র্যাজুয়েট! ফাইভে এ বি সি ডি, কলেজে ইউনিয়ন। এটুকু বলতেই পোঁ-, সরি পশ্চাৎ ফেটে যাচ্ছে।

পাড়ায় পাড়ায় ‘নলজাতক কেন্দ্র’ খুলে বসে গেছে হারামজাদার দল! লাখ খানেক টাকা খসিয়ে টেস্টটিউবে বাচ্চা বানিয়ে বন্ধ্যার পেটে ভরে দিচ্ছে। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করেও ‘নো গ্রান্টি’। বাচ্চা খসে যাচ্ছে যখন তখন। আকছার মা মরছে নলের বাচ্চাও। কত লোক যে দেহ রাখছে ‘পিলের জ্বর আর পাণ্ডুরোগে’, স্বর্গরথে চাপছে ডেঙুতে ম্যালেরিয়ায়। মরলেই বলে ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া’। পাবলিককে ছাগল ভাবে হারামিগুলো! গুগুল জেঠু বলেছে, ম্যালিগন্যান্ট মানে ক্যানসার, নেট ডাক্তার বলল। কোথায় কম্পজ্বর, কোথায় ক্যানসার ম্যালেরিয়ার ক্যানসার! কচুর আলুকাবলি! চার অক্ষরের ডাক্তাররা খাওয়ালেই আমরা খেয়ে নেব? হুঁ হুঁ বাওয়া! জনগণ বুদ্ধিমান, বৈদ্যগণ খোকা!

দেড়পাতা লিখেই ফুচকা বাগবাজারের রোয়াকের আড্ডায়। ঢাকার বাঙাল কেষ্ট জ্যাঠাকে বলতেই ‘পইড়া শুনাও’। ওর হাত থেকে কাগজটা নিয়ে পড়ছে রৌদ্র গম্ভীর হয়ে শুনছে বাঙালবুড়ো, লালটুদা, মধু দে। কোথা থেকে এসে হাজির ডাক্তার নির্ভয় বৈদ্য। যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়! ফুচকা থতমত।

-ডাক্তারগো শুয়াইয়া দিছে! বললেন কেষ্ট জ্যাঠা।

-কি যে বলেন! ফেসবুকে ছাড়ব বলে এমনিই লিখেছি!

-ডাক্তারগো নিয়া এইগুলান লেইখ্যা লোক খ্যাপাইবা! সাধে কি হগলে তুমারে বিশু না কইয়া ব্যাকা ফুচকা কয়!

-এই লেখা পোস্ট করলেই কয়েকশো লাইক আর কমেন্ট পড়বে টপাটপ।

-তাতে লোকে বিশু খাঁড়া ওরফে ফুচকাকে বিশাল কেউকেটা ভাববে! তোলাবাজ, গুণ্ডারা আরও বেশি করে ভাড়া করবে তোকে! রেটও বাড়বে! হাসছে লালটু।

-জ্বরে পড়লে যাইবা কই? গুণ্ডা দিয়া চিকিৎসা করাইবা?

-নির্ভয় স্যারের কাছে যাব, উনি ভগবান। দাঁত দিয়ে নখ খাচ্ছে ফুচকা। মাথা নিচু।

-ভুলেও আসবে না আমার কাছে। আমরা আর ভগবান নেই, শয়তান বনে গেছি। এলে ভুল চিকিৎসায় মরবে।

-আমার ইয়ে পেয়ে গেছে। কাগজ পকেটে পুরে হাঁটা লাগাল ফুচকা।

-একটা চড় মারতেই ইচ্ছে করছিল আমার। অনেক কষ্টে সামলেছি। মুখ খুললেন মধু দে।

-ভাইগ্য ভালো, মারেন নাই। অখন রাজারহাটের ল্যাংড়া চিপার শাগরেদ হইছে ফুচকা।

-সেটা আবার কে?

-ল্যাংড়া চিপা রিমোট কন্ট্রোলে মারপিট, ভাঙচুর করে। গ্রেড এ তোলাবাজ। এখন নর্থ থেকে শুরু করে বাইপাসের সব কটা হাসপাতাল ওর কন্ট্রোলে। সব হাসপাতালে ওর দালাল পোস্টিং করা থাকে দিনরাত। গণ্ডগোল বাঁধলে বাচ্চা হাতিতে চাপিয়ে গুণ্ডা, লাঠি, ইট পাটকেল পাঠায়।

বাচ্চা হাতি চেনেন তো! হাই পিক আপ মাল, মাস্তান, মাতাল, মাফিয়া, মার্বেল, ইক্ষু (আখ), ইট, পাটকেল। বংশদণ্ড ও উপলখণ্ড (পাথর) পরিবহনের ছোট্ট গাড়ি। চলে না! উড়িয়ে নিয়ে যায়। ল্যাংড়া চিপার রাজারহাট সেন্টারের নাম ‘মার-মার মর-মর’।

এসি রুমে আটটা সেলফোন হাতে ল্যাংড়া গদি মোড়া চেয়ারে দোল খায়। বাইরে ইট পাথর লাঠির স্টক সহ পচা, হাবু, লাবু, বুলেট, দানা, পেটো, টারজানরা চারটে হাতি নিয়ে অপেক্ষায়।

হাসপাতাল থেকে ফোন এলেই হাতি ছোটে ঝড়ের বেগে।

নির্ভয়দা সরকারি ডাক্তার। সেদিন চুরাশি বছরের এক বৃদ্ধ হাসপাতালে ঢোকার আগেই মরে গেছেন। ডেড বডি পা নাড়ছে! ডাক্তার মরেছে বলতেই কুড়ি মিনিটে চিপার দলবল এসে গেল।

তিন ডাক্তারকে পেটাল। ভাঙল গেট, আলো কম্পিউটার চেয়ার টেবিল। দশ মিনিটে অ্যাকশন শেষ। চিপার দল ভ্যানিস্‌।

পরের গল্পটা শুনেছি ডাক্তার বন্ধু লহরির কাছে। বাচ্চা নড়ছে না গতকাল থেকে, দুপুরের মাংস ভাত খেয়ে ও খাইয়ে ভরা মাসের পোয়াতিকে নিয়ে এসেছেন স্বামী, শ্বশুর। ডাক্তাররা যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে বললেন, বাচ্চার হার্ট বিট আশি, বাঁচবে না। তবু এখনই সিজার করলে যদি মির‍্যাকল ঘটে।

‘আমারও পালসবিট আশি, আলবাত বাঁচবে! পেটের বাচ্চার নর্মাল হার্ট রেট কম বেশি একশো চল্লিশ!’ হাই রিস্ক বন্ডে সই করিয়ে সিজার হল। বাচ্চা বাঁচল না, নাতি দেখে শ্বশুর ফায়ার। ‘মেরে ফেললেন তো নাতিটাকে। ওরে দমদমে খবর দে’। চিপার সেকেন্ড ক্যাম্পাস থেকে এক লড়ি মাসলম্যান এলো। দমদম দাওয়াই, ভাঙচুর, তাণ্ডব।

আগে আত্মা ছিল অজর অমর অক্ষয়। এখন মানুষ অমর! কেউ মরবে না, মরলেই ডাক্তার-ধোলাই! রোজ দেশজুড়ে অন্তত দেড়শ ডাক্তার ‘গণপ্রহার’ এ বিছানা নিচ্ছে। প্রতিদিন সরকারি চাকরি ছাড়ছেন শ’দুয়েক। মারের ভয়ে বিদেশে পালাচ্ছেন অনেকে।

রাজা বিদেশে গিয়ে বলে এসেছেন, দেশের অগ্রগতিতে মূল বাধা বৈদ্যকুল। খেদাও, পেঁদাও, শুইয়ে দাও! আধুনিক চিকিৎসার ধাপ্পাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে কয়েক বছরে। ফাঁক ভরাবে ব্রিজ ডাক্তার। আয়ুশ ডাক্তার। গোমূত্র, গোবর্জ্য, গোক্ষুর চূর্ণ, গোমাতার শিঙ ধোয়া জল এসে গেছে! আসছে গোমূত্র-স্ব-মূত্রর সর্বরোগহর ককটেল।

নির্ভয় বৈদ্য সভয়ে চাকরি ছেড়ে দিলেন। বন্ধ চেম্বার। চলে যাচ্ছেন কানাডা। রৌদ্র সেদিন খবর দিল তিনটে। স্কুপ নিউজ। ‘কাউকে বলবেন না। এবং ফুচকা পটলডাঙায় ‘বৈদ্য ধোলাই’ সেন্টার খুলেছে। দুই, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ডাক্তার পেটানোর ‘বৈদ্যপ্রহরি’ (নিরামিষ) যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন বৈজ্ঞানিক শ্রীযুক্ত মনুরঞ্জন রাম। যন্ত্র বাজারে এসে গেছে। তিন, নিরুপায় ডাক্তাররা হালতুর ‘আত্মশক্তি জিমখানায় জিম-ক্যারাটে-যোগের পাঞ্চে মাসল ফোলাচ্ছেন। হেলমেট স্টিল জ্যাকেট পরে ডাক্তারি করছেন একুশ জন। একশ একুশ জন পুষছেন বাউন্সার।

নির্ভয়দাকে ধরাধরি করে সেদিন টালিগঞ্জে ‘বৈদ্য প্রহার’ যন্ত্র দেখতে গেলাম। ট্রায়াল রুমে আমাকে ঠেলে ঢুকিয়ে দিলেন নির্ভয় বৈদ্য। ছোট্ট জামাকাপড়ের ট্রায়াল দেবার ঘরের মত, বাইরে কম্পিউটার। হঠাৎ দেয়াল থেকে একটা ধাতব হাত বেরিয়ে এসে ঠাসিয়ে চড় মারল বার তিনেক। তারপর দুটো হাতে আচ্ছাসে কানমলা, মাথায় গাট্টা, পেটে কিল!

সারা শরীরে ব্যথা নিয়ে তিনদিন বিছানায়। ফোন এলো। ফুচকা, ‘আমাদের ধোলাই ব্যবসা উঠে যাবে দাদা? নাকি হাত আর যন্ত্র দুটোই চলবে? মেশিনে ট্রায়াল দিয়ে এলেন? এবার আমাদের হাতে একবার ট্রায়াল দিন। লোক পাঠাচ্ছি’।

হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল। পালিয়ে এসেছি এক অচিনপুরে। জায়গার নামটা জানতে চাইবেন না প্লিজ!

Advertisements
Previous articleবাইক বিহার
Next articleসন্তানদের জন্য খাদ্য-পানীয় নিয়ে দেবী পীনোন্নত পয়োধরা
শ্যামল চক্রবর্তী
শ্যামল চক্রবর্তী পেশায় শুধু চিকিৎসক নন, পুরোদস্তুর লেখক। আনন্দ থেকে প্রথম বই ' স্বপ্ন দেখেন কেন' প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ তে। রম্যরচনা , রবীন্দ্রনাথ, ভ্রমণ , বাচ্চাদের গল্প, শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে এ পর্যন্ত প্রকাশিত বই ৩১ টি। রম্যরচনার বই ' খোশগল্প' প্রকাশিত হয়েছে দে'জ পাবলিশিং থেকে। ' ডাক্তারবাবু হাসুন ' ও ' গণৎকার ডাক্তার ' পত্রভারতী থেকে। আরও তিনটি বই প্রকাশিত হবার পথে। বাংলাভাষায় ধারাবাহিক অবদানের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাব্দীপ্রাচীন ' জগত্তারিণী স্বর্ণপদক ' পেয়েছেন ২০১৬ সালে।

11 COMMENTS

  1. Daktar der opor nirjaton hocche eta, onek khetre e okarone eta thik kotha. Manus khub besi matra te restless hoe gache eta sotti. Kintu Dr. Chakraborty akhne AYUSH doctor der tacchillyo kora r karon ta ki? Tara o kintu apner moto 5.6 yrs porasona kore e doctor hoyeche. Poroborti kal e MD pass korche. Tara o kintu manus ke suchikitsa daber e chesta korche. Jani na apnader modhye 1 ta tendency ache sob baper e AYUSH fraternity ke choto kore dakhanor. Seta thik na. Apner answer er opekkha te thaklam. Asa kori answer daben. Amer mail id: poddar.priyanko87@gmail.com.

  2. Worldwide ebong amader deshe allopathy i accepted medical ‘science’. Karon allopathy medicine kono bicchino, empirical chikitsha noe. Er pechone century after century howa microbiological ,biochemical, genetic ,pharmaceutical research joriye ache. Joriye achde protita drug er scientific clinical trial. Protita procedure scientific evidence sohokare approve korbar jonno nirdishto worldwide medical body. Ebong sorbopori royeche regulation. Ar tai allopathy medicine-surgery-radiodiagnosis er informatiom pool ra protibochor bere choleche lafie lafiye. Ei bipul pool ta ke memort te capture kore scientifically apply korar nam Mbbs pora. Every year je course er syllabus bare, practical application bare, ebong regulation and medicolegal hyapa o bare. Ar sei sob kichu ke accept kore tobei mbbs hoye otha jae. Pg entrance er bipuo competetion ar everincreasing syllabus er kotha naai bollam. Protibochor kom kore 1.5 lakh doctor NEET PG exam e bosen. Tai mbbs er sathe homeopathy, ayurveda etc static and almost stagnant ,empirical ,experimental skill ke compare kora ta hasyokor !! Praye kono ayurbedic ba homepathy hosp ei sompurno AYUSH method e chikitsha hoyena, inevitably dhar newa hye sei allopathy thekei. Tachara ei sob subject (subject i bolchi ,karon jar pechone substantial research ebong proman nei take science bolte parchina) 100 200 300 bochor dhore sei eki jaegae pore ache !! Sei semiscientific/unscientific, nonregulated ,substantial proof-heen subject ke gayer jowari bridge course koriye ekjon mbbs doctor er somotulyo kore felle seta desher manusher pokhye voyanok khotikarok hoye darabe !! Ei sotyi ta opoman mone hole biswas korun amader ba lekhok er kicchu korar nei!!!!

  3. Worldwide ebong amader deshe allopathy i accepted medical ‘science’. Karon allopathy medicine kono bicchino, empirical chikitsha noe. Er pechone century after century howa microbiological ,biochemical, genetic ,pharmaceutical research joriye ache. Joriye achde protita drug er scientific clinical trial. Protita procedure scientific evidence sohokare approve korbar jonno nirdishto worldwide medical body. Ebong sorbopori royeche regulation. Ar tai allopathy medicine-surgery-radiodiagnosis er informatiom pool ra protibochor bere choleche lafie lafiye. Ei bipul pool ta ke memort te capture kore scientifically apply korar nam Mbbs pora. Every year je course er syllabus bare, practical application bare, ebong regulation and medicolegal hyapa o bare. Ar sei sob kichu ke accept kore tobei mbbs hoye otha jae. Pg entrance er bipuo competetion ar everincreasing syllabus er kotha naai bollam. Protibochor kom kore 1.5 lakh doctor NEET PG exam e bosen. Tai mbbs er sathe homeopathy, ayurveda etc static and almost stagnant ,empirical ,experimental skill ke compare kora ta hasyokor !! Praye kono ayurbedic ba homepathy hosp ei sompurno AYUSH method e chikitsha hoyena, inevitably dhar newa hye sei allopathy thekei. Tachara ei sob subject (subject i bolchi ,karon jar pechone substantial research ebong proman nei take science bolte parchina) 100 200 300 bochor dhore sei eki jaegae pore ache !! Sei semiscientific/unscientific, nonregulated ,substantial proof-heen subject ke gayer jowari bridge course koriye ekjon mbbs doctor er somotulyo kore felle seta desher manusher pokhye voyanok khotikarok hoye darabe !! Ei sotyi ta opoman mone hole biswas korun amader ba lekhok er kicchu korar nei

  4. খুব ভাল লাগলো, সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একদম বাস্তব লেখা।

  5. সব ধরণের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর আস্থা রেখে, সন্মান প্রদর্শন করেই লিখছি ,
    প্রত্যেক চিকিৎসা ব্যবস্থার , তা সে আলোপ্যাথিই হোক , বা আয়ুস, ইউনানী, হোমিওপ্যাথি ইত্যাদি ই হোক না কেন , তার নিজস্ব একটা মাত্রা আছে, রোগ নির্ণয়ের একটা স্বতন্ত্র নিয়ম বা উপায় আছে, যা একে অপরের থেকে কিছুটা আলাদা । সেজন্যই এক শাখার চিকিৎসকদের অন্য শাখার ওষুধ লিখতে না করা হয় যাতে না জেনে ভুল করা না হয় ও রোগীর ক্ষতি না হয় ।
    ডাক্তারি শিক্ষার একদম প্রথম দিন থেকে এক একটি শাখার ছাত্র ছাত্রী দের এমন ভাবে শিক্ষা প্রদান করা হয় যাতে পরবর্তী কালে রোগ নির্ণয় ও তার চিকিৎসা করা ডাক্তারবাবুদের রক্তে মিশে যায় ওই শাখার একান্ত নিজস্ব ঢঙে । এই কারণে প্রত্যেক শাখার চিকিৎসকদের যে নিজস্ব চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পৃক্ত চিকিৎসা ধারা আছে তা কখনোই একটা ব্রিজ কোর্স করে অন্য ধারায় ঢেলে দেওয়া যায় না । ডাক্তারিটা একটা বই পড়া বিদ্যা নয়, এটা একটা বিশেষ অনুভব । সে জন্যই ডাক্তারের খুব খারাপ ছাত্রও খুব ভালো পড়াশুনার ছাত্রর থেকে অনেক ভালো ডাক্তার হয়ে উঠতে পারে ।
    এই ব্রিজ কোর্সের সিদ্ধান্ত টা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এর সাথে মানুষের বা ডাক্তারের ভালো করা বা জ্ঞান বৃদ্ধির কোনো যোগাযোগ নেই। সরকারের কেবল কাজ চালিয়ে দেওয়ার লোক চাই । তার জন্য জোড়াতালি দিয়ে কোনো কিছু খাড়া করে দিতে পারলেই হলো । কারণ সব দোষ তো ডাক্তাদের ঘাড়েই চাপবে ।
    এর থেকে অনেক বেশি ভালো হতো, যদি সরকার সমস্ত ধরণের চিকিৎসা ব্যবস্থার শাখা গুলি কে তার নিজস্ব কায়দায় উৎকর্ষিত করার চেষ্টা করতো । এতে ডাক্তারদের মান ও কুল দুই ই রক্ষা পেতো । এবং এটাই উচিত ছিল।
    আর যদি আলোপ্যাথি ওষুধই খাবে, তাহলে রোগী কেনো অন্য শাখার হাসপাতালে , অন্য শাখার ডাক্তারবাবুদের কাছে যাবে , এবং উল্টোটাও ।

  6. রম্যরচনা হিসেবে চমৎকার। বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.