‘বদলা’ রিলিজ করেছে ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারীদিবসের দিনে। ছবি রিলিজের এই তারিখটা নিছক একটা সমাপতন, নাকি খুব ভেবেচিন্তে প্রি-ডিজাইন্‌ড প্ল্যান? ‘বদলা’র পোস্টারগুলো খেয়াল করে দেখলে এটা দেখতে পাবেন, তারিখটা কী রকম বিশেষ ভাবে হাইলাইট করা হয়েছে সেখানে। আলাদা একটা লাইন লিখে ছবির নামের সঙ্গে তারিখ একেবারে ইনটিগ্রেট করা আছে! এই ট্রিটমেন্ট দেখেশুনে মনে হচ্ছিল, সেই ‘কাহানি’র (২০১২) মত সুজয় ঘোষের এই ছবিতেও বোধহয় একলা নারীর যুদ্ধ জেতার গল্প রয়েছে কোন।

এরপর ছবিটা দেখে বেশ ঘাবড়ে গেলাম কিন্তু। করেছেন কী ডিরেক্টর সুজয় ঘোষ এটা! ‘আধুনিক নারী’ বলতে সমাজ এখন যে প্রোটোটাইপটা চেনে, তাঁদের গালে গুছিয়ে একটা থাবড়া কষিয়ে বসে আছেন যে তিনি! নারী তো তাঁর ছবির ‘হিরো’ নয়, ‘ভিলেন’!

ছবিটা থ্রিলার এবং প্রচুর টুইস্টে ভর্তি বলে ছবির ‘ভিলেন’ সেই মহিলার নাম এখানে লিখে দিচ্ছি না আমি। বলে দিলে তো ছবি দ্যাখার অনেকটা মজাই মাটি! শুধু এটুকু লিখি যে, এই মহিলা সমাজের উচ্চকোটির আধুনিকা এক ‘লেডি’! নিজের স্বার্থে ঘা পড়লে রাস্তার অচেনা লোককে তো বটেই, নিজের প্রেমিকটিকেও বিনা বাক্যে নিজের হাতে খতম করতে হাত কাঁপে না তাঁর!

‘কনত্রাত্রিয়েমপো’ (ইংরেজি নাম ‘দ্য ইনভিজিবল গেস্ট’, রিলিজ ২০১৬) নামে এক স্প্যানিশ ক্রাইম থ্রিলার ছবির অফিসিয়াল রিমেক হল এই ‘বদলা’। এখন মজাটা হল, মূল সেই স্প্যানিশ ছবিতে আধুনিক নারীকে ‘ভিলেন’ হিসেবে প্রোজেক্ট করার এই বিষয়টা লেশমাত্রও নেই! ছবিটা যদি দ্যাখেন তো দেখতে পাবেন, সেই ছবিতে ‘ভিলেন’ হল পুরুষ! আর সেই ভিলেনের দফা-রফা করে যিনি ছাড়ছেন, সেই ‘হিরো’ হলেন নারী!

Banglalive-8

সেখান থেকে অ্যাডাপ্ট করে হিন্দি সিনেমা বানাতে গিয়ে সুজয় প্রধান সব ক্যারেক্টারের জেন্ডারগুলো উলটে দিয়েছেন পুরো! আর এটা করতে গিয়ে একবার একটু ভেবে দ্যাখেন নি যে, এর ফলে গোটা ছবিটাই পলিটিক্যালি ইনকারেক্ট হয়ে পড়ছে কিনা!

Banglalive-9

সত্যি কি সুজয় এটা ভাবেন যে, উঁচুতলার কেরিয়ারমুখী মেয়েরা এমন খল, ক্রুর, শঠ হয়?    

কিছু মনে করবেন না প্লিজ। স্প্যানিশ ছবিটা আর তার এই হিন্দি কপি ব্যাক টু ব্যাক দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, হিন্দি এই রিমেক ছবি তৈরি হয়েছে অনেকটা প্রায় নির্বোধের মতো!

মূল ছবিতে যে কাজগুলো পুরুষ ভিলেন করেন, হিন্দি কপিতে সে কাজগুলো মহিলা ভিলেনকে করতে দেখবেন আপনি! কিন্তু এই সিনগুলো শুট করতে গিয়ে নির্মাতারা এটুকু কেউ ভাবলেন না যে, গল্পের আর কিছু চেঞ্জ না করে শুধু জেন্ডারগুলো বদলে দিলে পুরো ব্যাপারটা দেখতে কোথাও খুব খাপছাড়া আর অবিশ্বাস্য মনে হবে!

আসুন একটু ছবির গল্পে আসি। লুকিয়ে এক্সট্রাম্যারিটাল অ্যাফেয়ার সেরে নির্জন পথে ড্রাইভ করে ফিরছিল এক পুরুষ এবং নারী। মূল স্প্যানিশে দ্যাখান হচ্ছে, পুরুষটি ড্রাইভ করছে, তাঁর পাশের আসনে নারী। এরপরে হাইওয়েতে হঠাৎ আসা এক হরিণকে বাঁচাতে গিয়ে উলটো দিকের গাড়ির সঙ্গে তুমুল অ্যাক্সিডেন্ট।

উলটো দিকের সেই গাড়িটি চালাচ্ছিল এক অল্পবয়সী তরুণ। সে চোখের পলকে মৃতের মত নিথর!

এখন এই ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ ডাকার ঝুটঝামেলা করতে চায় না পুরুষ মানুষটি। কারণ, একবার এই সিনে যদি পুলিশ ঢোকে, শুধু লুকিয়ে রাখা রিলেশনটাই ফাঁস হবে না, কেলেঙ্কারির জের গিয়ে পড়বে তাঁর বিজনেস ডিলে সোজা!

স্প্যানিশ ছবিতে দ্যাখান হচ্ছে, ওই তরুণের লাশ আর গাড়ি, দুটোকেই হাপিশ করার প্ল্যান এঁটে ফ্যালে ‘ভিলেন’ পুরুষ দ্রুত। তাদের নিজেদের গাড়িটা দুর্ঘটনার চোটে স্টার্ট নিচ্ছে না তখন। সঙ্গী নারীটিকে সে থাকতে বলে সেই অচল গাড়ির কাছে। কোনভাবে কারুর থেকে হেল্প নিয়ে যদি সে গাড়ি ঠিক করাতে পারে। আর নিজে সেই তরুণের নিথর শরীর ড্রাইভারের সিট থেকে সরিয়ে এনে ডিকিতে ঢোকাল সে। তারপর গিয়ে বসল ড্রাইভারের সিটে। ড্রাইভ করে গাড়িটাকে নিয়ে গেল অনেক দূরে নির্জন এক জলাশয়ের কাছে।

এরপর গাড়ি থেকে নেমে সেই গাড়িকে ঠেলতে ঠেলতে জলাশয়ে ফেলে ডুবিয়ে দিয়ে অপরাধের সব চিহ্ন সাফ করে দিয়ে শান্তি হল তার।

ওদিকে সেই সঙ্গী মেয়েটি হাইওয়ে থেকে অন্য লোকের সাহায্য নিয়ে গাড়ি সারিয়ে নিল। পরে ফোনে যোগাযোগ হ’লে সেই ছেলেটিকে গাড়িতে আবার উঠিয়েও নিল সে।

এখানে হিন্দি ভার্সনে সুজয় অন্ধের মতো বদলে দিয়েছেন এই পুরুষ এবং নারীর রোলদুটো। মূল গল্পে পুরুষটি যা যা করে, হিন্দি ছবিতে দ্যাখা গেল মেয়েটি করছে সেগুলো। আর সেখানে মেয়েটি যা যা করেছিল, হিন্দি ছবিতে সেগুলো করছে পুরুষ ক্যারেকটার।

এখন আপনি বলুন, হাইওয়েতে অ্যাক্সিডেন্ট ঘটার পরে গাড়ি ডুবিয়ে লাশ গায়েব করতে যাচ্ছে একটি মেয়ে, আর ওদিকে তার বয়ফ্রেন্ড রাস্তার ধারে আকুল নয়নে দাঁড়িয়ে থাকছে পথচলতি অন্য কারুর ‘হেল্প’ চাইবে বলে – ঘটনা হিসেবে এগুলো আদপে কতটা কনভিন্সিং হল!

স্প্যানিশ ছবিতে দ্যাখান হয়েছিল, নিজেদের এই গোপন কর্ম ফাঁস হয়ে গেলে নিজের ব্যবসা কিংবা কেরিয়ারের বারোটা বাজবে, এই ভয় থেকে নিজের সঙ্গিনী ওই মেয়েটিকেও দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করে সেই ছেলে। মিথ্যে মিথ্যে গল্প বানিয়ে দূরের এক হোটেল রুমে মেয়েটিকে নিয়ে তোলে। তারপর হঠাৎ করে অ্যাটাক এবং খুন।

এবার হিন্দিতে জেন্ডার উলটে দিয়ে দ্যাখান হল যে, ছেলেটিকেই খতম করার প্ল্যান আঁটে সেই মেয়ে। না হলে তার বিজনেসে নাকি ক্ষতি হয়ে যাবে বলে। এবং তারপর চুপিসাড়ে এক হোটেল রুমে অ্যাটাক এবং খুন।

একটি ছেলের হাতে একটি মেয়ে হোটেল রুমে খুন হয়ে গেল, এটা মানতে অসুবিধে কিছু নেই। কিন্তু উলটে যদি দ্যাখান হয়, একটা মেয়ের হাতে হোটেল রুমে এক আঘাতেই খুন হচ্ছেন বলশালী এক যুবক! তখন এটা মনে হবে না যে, এসব এখানে কী দেখতে হচ্ছে, ভাই?

নারীবাদিরা রেগে যাবেন না, কিন্তু এটা বলুন, স্বাভাবিক গড়নের কোন মেয়ের পক্ষে এত সহজে এক আঘাতে দৃশ্যত তার চেয়ে বেশি শক্তপোক্ত কোন ছেলেকে খতম করা সম্ভব? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, খুনই যদি করতে হবে, এরকম শারীরিকভাবে অ্যাটাক করেই কেন? কেন বিষ খাইয়ে বা অন্য আর কোন ভাবে নয়?

এই সিকোয়েন্সের শেষের দিকটা ভাবুন। ‘কনত্রাত্রিয়েমপো’ ছবিতে দ্যাখান হচ্ছে, বন্ধ দরজা ভেঙে হোটেল রুমে ঢুকে পড়ছে পুলিশ। ঢুকে দেখছে, মেয়েটার লাশ জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটির ঢং করছে ছেলে। কোন কথা না শুনে পিস্তল উঁচিয়ে ছেলেটাকে হাত ওপরে তুলতে বলছে তারা। অ্যারেস্ট হচ্ছে ছেলে।

আর এখানে? দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পুলিশ দেখছে ছেলেটার লাশের ওপর ডুকরে পরে কাঁদছে সেই মেয়ে। স্প্যানিশ ছবিতে ছেলেটাকে যে স্টাইলে অ্যারেস্ট করেছিল, এই হিন্দি ছবিতে সেই এক স্টাইলে মেয়েটাকে দেখি অ্যারেস্ট করছে পুলিশ! এখন একলা একটা মেয়ে, তার হাতে কোন অস্ত্র অবধি নেই। দশটা হোঁৎকা পুলিশ পিস্তল হাতে কার্যত সেই ‘অবলা’ মেয়েকে বিনা বাক্যে ‘হ্যান্ডস আপ’ করতে বলে বন্দি করছে দ্রুত – এরকম কিম্ভুত সিন শুট করতে কোথাও বাধল না কিছু, সুজয়?

বোঝা যাচ্ছে তো এবার যে, মূল ছবিটার পাশে এই হিন্দি ভাষায় তৈরি ‘কপি’টা পিছিয়ে পড়ছে কেন!

জেন্ডার পালটানোর এই খেলাটা খেলতে খেলতে একটা সিনে তো এটাও দ্যাখান হয়েছে যে, বরফ মোড়া শহরে হোটেল রুমে খুনের সিনে সেই রুমের জানলা দিয়ে বেরিয়ে এসে সরু কার্নিশ বেয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন রীতিমত বয়স্ক প্রবীণ এক নারী। এই সিনগুলো দেখতে দেখতে হাসব নাকি কাঁদব, সেটা বুঝতে পারি নি আমি।

পয়সা আর প্রতিপত্তি পাওয়ার লোভে মহিলারাও যে নিষ্ঠুর আর হিংস্র হন, সেই বিবরণ তো লেডি ম্যাকবেথেই আছে। কিন্তু সেই নিষ্ঠুরতা দ্যাখাতে গেলে ক্যারেকটারটাকে তো সেভাবে এসট্যাবলিশ করতে হবে, নাকি? না হলে তো পুরোটা খুব আনকনভিন্সিং বলে মনে হতে পারে, ভায়া!

আর সব থেকে বড় প্রশ্ন হল এইটে যে বিদেশী ছবির অফিসিয়াল রিমেক বানাতে বসে সুজয় হঠাৎ ক্যারেকটারগুলোর লিঙ্গ এভাবে পালটে দিলেন কেন? এতে কী লাভ হল এ ছবির?

লাভ বলতে এইটে যে, এই চেঞ্জগুলো করার ফলে ছবিতে অমিতাভ বচ্চনকে নেওয়া গেল জোরদার এক রোলে। এই চেঞ্জগুলো না করলে ছবিতে তাঁকে নেওয়ার মত রোল থাকত না কোন।

কিন্তু শুধু একজন অভিনেতাকে নেওয়ার জন্যে ছবির গল্প এরকমভাবে তুবড়ে দেওয়া কি যায়? কী মনে হয়, এটা কি আসলে আহাম্মকি নয়?

আর অসহায়দের বাঁচাতে এখনও অমিতাভকেই ত্রাতার রোলে আসতে হবে – এই বা কেমন কথা?  

মনে করে দেখুন যে, এর আগে অন্য ছবিতেও ডিরেক্টর ভদ্রলোকের একই ভুল আছে! তাঁর প্রযোজনায় তৈরি ছবি ‘তিন’ (২০১৬), ডিরেক্টর ছিলেন ঋভু দাশগুপ্ত। ‘বদলা’ যেমন স্প্যানিশ ছবির রিমেক, সেই ‘তিন’ ছিল সাউথ কোরিয়ান ছবির রিমেক। মূল ছবিটার নাম ছিল ‘মনটাশ’ (২০১৩)। আর সেটাও ছিল এটার মতই এক মায়ের ‘বদলা’ নেওয়ার গল্প! ‘মনটাশ’-এর হিন্দি ভার্সনে মায়ের ক্যারেকটার কেটে বাদ দিয়ে সেই জায়গায় জোর করে অমিতাভ বচ্চনকে ঠুসে দিয়েছিলেন সুজয়। তাতে অবশ্য লাভ হয় নি তেমন, বক্স অফিসে ছবি ডুবে যায় পুরো।

আর এবারেও ‘কনত্রাত্রিয়েমপো’ থেকে আরেক মায়ের ক্যারেকটার কেটে অমিতাভকে এনে ফিটিং করিয়ে দিলেন!

হালে কোন একটা ইন্টারভিউতে দেখলাম সুজয় নিজের পরিচয় দিয়েছেন অমিতাভের ‘ফ্যানবয়’ বলে। আরে দাদা, ‘ফ্যানবয়’ আর ‘ডিরেক্টর’ – এই শব্দদুটোর মাঝখানে যে হাজার মাইল ফারাক! ‘ফ্যানবয়’ হয়ে বিশেষ এক অভিনেতাকে ছবির মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া কি ছবির ডিরেক্টরের কাজ?

এটা কেন ভেবে দ্যাখেন না যে, যতই বিদেশি ছবির রিমেক করুন, ইন্টারনেটের দৌলতে অরিজিনাল সেই ছবিটাও পাবলিকের হাতের নাগালে আছে! আপনার ছবি দেখতে যাওয়ার আগে মূল ছবিটা প্রিভিউ করে লোকে যে আপনার ভুল ধরতে তৈরি!

মূল ছবির ফ্রেমে-ফ্রেমে যে যত্নের ছাপ, এই হিন্দি কপিতে সেই যত্নটা উধাও। একেক সময় তো মনে হচ্ছিল ভেবেচিন্তেই এমন গল্প বাছা হয়েছে, যেটার বেশির ভাগ শুটিংই ছোট্ট একটা ঘরের মধ্যে সেরে ফ্যালা যাবে দ্রুত! কম পয়সায় গোটা ছবির শুট সেরে ফেলে রিলিজ করানো কম ক্রেডিটের কথা নাকি!

স্প্যানিশ জানি না, মূল ছবিটা ইংরেজি সাবটাইটেল দিয়ে দেখতে হয়েছে তাই। ইংরেজি সেই সংলাপে যে স্মার্টনেস ছিল, হিন্দি ছবিতে সে ব্যাপারটাও দেখতে পাই নি কোথাও! বেশিরভাগ জায়গা তো যেন ট্রান্সলেটরে ফেলে দিয়ে অনুবাদ করে দেওয়া! আর যেখানে এক্সট্রা কোন কেরামতি দ্যাখাতে গ্যাছেন, সেগুলো ছড়িয়ে মাত হয়ে গ্যাছে পুরো। উদাহরণ হিসেবে, যে দৃশ্যে হাইওয়ের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একলা পুরুষটি এক দম্পতির গাড়িতে লিফট পাবে, সেই সিকোয়েন্সটাই ধরুন। অরিজিনাল স্প্যানিশের সঙ্গে তুলনা করলে মনে হবে যে, হিন্দি কপিতে সবাই মিলে সাজানো এবং মেকি বুলি কপচে যাচ্ছে যেন!

সিনেমায় ‘দেশি’ ফিলিং আনার জন্যে ডায়ালগের কোথাও আবার মহাভারতের রেফারেন্স গোঁজা আছে! এখন আপনি বলুন, হাড়ে-মজ্জায় বিদেশি ছবিতে এমন ভাবে কি ভারতীয়ত্ব ইনজেক্ট করা যায়?

ডায়ালগের আরেকটা ব্যাপার আমার অন্তত কানে লেগেছে খুব। জিমি (অভিনয়ে মানব কৌল) নামে এক ভদ্রলোক নয়না শেঠির (তাপসী পান্‌নু) সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শুনলাম উল্লেখ করলেন অমিতাভ বচ্চনের নাম। এর মানে তো ইনডিরেক্টলি এটাই বোঝান যে, এই ছবিটা এমন একটা রিয়্যালিটিতে রয়েছে যেখানে ‘অমিতাভ বচ্চন’ নামে মেগাস্টারটিও এগজিস্ট করে বেশ।

এবার সেটাই যদি হবে, তাহলে এই নয়নার কাছে গিয়ে যখন হাজির হবেন বাদল গুপ্ত (অভিনয়ে অমিতাভ বচ্চন), তখন তো তাঁকে দেখে নয়নার খুব চমকে ওঠা উচিৎ! প্রথম রিয়্যাকশন তো এটা হওয়ার কথা ছিল যে, আরে মিস্টার গুপ্ত, আপনাকে যে একেবারে অমিতাভ বচ্চনের মতো দেখতে! কই, এখানে তো তেমন কিছু নেই?

শেষ করার আগে আরও একটা কথা। মূল ছবি ‘কনত্রাত্রিয়েমপো’ দ্যাখার পর খুব এটা মনে হচ্ছিল যে, সেই ছবির প্লটের ছাঁচটা জে. বি. প্রিস্টলে-র ‘অ্যান ইন্সপেক্টর কল্‌স’ (১৯৪৫) থেকে ধার নেওয়া হল কিনা! ‘অ্যান ইন্সপেক্টর কল্‌স’ থেকেই স্টোরি ধার করে বাংলায় পরে ‘থানা থেকে আসছি’ (১৯৬৫) হয়। ‘বদলা’ দেখতে গিয়ে দেখবেন তো, দুটোর মধ্যে মিলগুলো আপনারও চোখে পড়ছে কিনা।

আর হ্যাঁ, আগে থেকে যদি ‘কনত্রাত্রিয়েমপো’ না দ্যাখা থাকে তো, ‘বদলা’ দেখতে খারাপ লাগবে না তেমন। বিশেষ করে হঠাৎ যখন মোড় ঘুরছিল স্টোরির, সেখানে তো ‘জিও গুরু’ বলে সিনেমা হল-এ আবেগ-উল্লাসও উঠতে শুনেছি আমি।

তবে এটাও সত্যি যে, সুজয়ের সেই ‘কাহানি’ ছবির তুল্য ম্যাজিক এই ছবিতেও ফেরত আসে নি কিন্তু!

আচ্ছা, সুজয় ঘোষের নিজেরও কি এটা মনে হয় না যে, ‘কাহানি’ ছবির এত বছর পরেও ওঁর অন্য ছবিতে সেই ম্যাজিকটা আর ফেরত এল না কেন!

দর্শক হিসেবে আমার প্রশ্ন, বাকি জীবনটা সুজয় কি শুধু রিমেক বানিয়েই যাবেন?

আরও পড়ুন:  মালাইকাকে ছাড়ার পর আরবাজ এখন 'খোলা ষাঁড়'! নেটিজেনদের আক্রমণের জবাব দিলেন অভিনেতা

1 COMMENT

  1. মাফ করবেন, ফিল্ম criticism এর যোগ্যতার ধারে কাছেও নেই, তাই সেই প্রচেষ্টাও করছি না। একটাই প্রশ্ন, রিভিউ এর নামে প্লট বলে দেওয়াটাই কি নিয়ম আজকাল? বিশেষ করে থ্রিলার এর?