গলনাঙ্ক

254

রঘুবীর কি করে জানলেন যে সে ফেরেনি — এ প্রশ্নও করে গর্বী রঘুবীরকে | সাত তলার একটা ফ্ল্যাটে দুই দিদি একসন্গে থাকে‚ কিন্তু তাদের একজনকেও দারোয়ানরা ফিরতে দেখেনি এবং ফ্ল্যাটও অন্ধকার – দারোয়ানদের কাছ থেকে এই তথ্য পেয়েই রঘুবীর সিদ্ধান্ত নেন বাইরে অপেক্ষা করবেন | রঘুবীরকে তখন আবার বাড়ি অবধি এগিয়ে দিতে যাচ্ছে গর্বী, হাঁটতে হাঁটতে রঘুবীর বললেন এগারটা নাগাদ যে লোকটা পাড়া টহল দিতে বেরোয়, প্রতিটা বাড়িত গেটে গেটে লাঠির আওয়াজ করে, হুইসিল বাজায় রোজ রাত্রে সেই নেপালি বাহাদুরকে দেখে আজ আচমকাই ভয় পেয়ে গেছেন রঘুবীর্ | কিন্তু এ অন্য ধরনের এক ভয় | এতদিন ওই রাত প্রহরীর হুইসিলের শব্দ পেলে তার যে বোধ জাগরিত হত‚ আজ তার তুলনায় সম্পূর্ণ উল্টো এক চিন্তা অন্ধকার দিকচক্রবাল থেকে তেড়ে এসে সম্মোহিত করে তুলেছে তাঁকে! যে কোনও নিশুতি রাতে বাইরে পাহারা রেখে যে মানুষ নিজের প্রাণ‚ সম্পত্তি‚ পরিবার সম্পর্কে নিশ্চিন্তে হয়ে ঘুমোতে চলে যায় বিছানায় সে জানে প্রয়োজনে নিজের প্রাণের বিনিময়ে সেই পাহারাদার তাকে রক্ষা করবে | তার প্রাণ, সম্পত্তি তছনছ হওয়াকে প্রতিরোধ করবে, বিপদের মধ্যে | মানুষের মানুষকে পাহারা দেওয়া কি আদিম, বর্বরোচিত এক প্রথা! যে এই কথাটা মনে হয় রঘুবীরের অমনি সমস্ত পাড়াটা, মানুষের নিশ্বাসে ভারী হয়ে থাকা পাড়াটা অচেনা হয়ে যায় রঘুবীরের সামনে! আলো নিভে আসতে থাকা বাড়িগুলোয় তাঁর মনে হতে থাকে বাস করে নিষ্ঠুর, হৃদয়হীন, সব মানুষ! এই পর্যন্ত শুনেই গর্বী বলে ওঠে, ‘নেপালি বাহাদুর সে রকম বিপদ দেখলে কি দাঁড়িয়ে থাকবে রঘুবীরদা, পালিয়ে যাবে!’ তাই শুনে অসম্মতিক্রমে মাথা নাড়তে থাকেন রঘুবীর | যখন বন্দুক হাতে, মেশিনগান হাতে এক দল লোক আমাদের পাহারা দেয় তখন পরিস্থিতিটা আরও ভয়ঙ্কর! তখন আমাদের মনের গভীরে গোপনে আরও বেশি নিরাপত্তার প্রত্যাশা, তখন আমাদের মনে বন্দুকের প্রতি, লড়াইয়ের প্রতি, হত্যা এবং রক্তপাতের প্রতি আরও বেশি ভরসা, এক পক্ষের বন্দুক হাতে ধরা মানুষ অপর পক্ষের কাছের ভয়ের, ভয়ই এখানে আসল হাতিয়ার!’ রঘুবীর নেতিয়ে পড়েন | ‘সবাই সবাইকে বহয় দেখাতে চায় গর্বী! অন্যের ভয়কে, ত্রাসকে ক্যাপিটাল করে বাঁচে |’ আর যত এসব ভাবতে থাকেন রঘুবীর তত যোধপুর পার্কের বিকৃতরুচি পাড়াটার পরিধি বাড়তে বাড়তে হয়ে যায় গোটা শহর | শহর ছড়িয়ে যায় আরও অপরিমিত সীমায়, সেখানে সব মানুষই একে অপরের কাছে ইউস্যুয়ান সাসপেক্ট, সেখানে সবাই ভাবে বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটা যে কোনও মুহূর্তে যে কোনও রকম মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, করছে না শুধু ভয়ে! ভয়ের নেশা কমে এলেই অপরাধের প্রবৃত্তি বেড়ে বেড়ে যাবে | নিজের ভাবনায় নিজেই কোণঠাসা হয়ে গিয়ে রঘুবীর চান গর্বীর সঙ্গে দেখা করতে বা ফোনে কথা বলতে, আর তাই করতে গিয়েই তাঁর মনে পড়ে গর্বীর ফোন নাম্বার তাঁর কাছে নেই |

গর্বী বলে ওঠে, ‘ এতো সত্যি রঘুবীরদা | এ তো আমরা সবাই জানি | এই ভাবেই টিকে থাকে মানুষ পৃথিবীতে | মানুষ মানুষকে ভয় দেখায়, ভয় পায় বলেই ভয় দেখায় | ভয় পাওয়া আর ভয় দেখানোটাই যে কোনও সম্পর্কের প্রাথমিক শর্ত |’

‘আমরা অনেক কিছু জানি | কিন্তু হঠাৎ করে কিছু কিছু সত্য যেমন গলাছাড়া দাপাদাপি শুরু করে দেয় শরীরের মধ্যে, একটা ডাইরেক্ট সাক্ষাৎ ঘটে যায় যখন সত্যটার সঙ্গে তখন এরকম হয় | জেনেও উপেক্ষা করা, দেখেও না দেখা কদর্যতা লাফিয়ে বেরিয়ে আসে অস্পৃশ্য ঝোলা থেকে, আর আমাদের বিবেক ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখোমুখি হতে বাধ্য হয় | তুমি জানো গর্বী তখন তো আমি সব কিছুকে ভয় পাই, অজড়-অনড়, জ্ঞাত-অজ্ঞাত, রহস্য কল্পনা, বাস্তব-অবাস্তব সব কিছুকে ভয় পাই — ভয় পেতে পেতে আমার বোধ, বুদ্ধি, অনুভূতি, উপলব্ধি সব একে একে হারিয়ে গেছে, তবু মানুষের প্রতি মানুষের ক্রুয়েলটি এখনও সহ্য হয় না আমার | এখনও মানুষের মানুষে ভায়োলেন্স আমার কাছে শকিং‚ স্টুপিফায়িং | এই যেমন কদিন আগে শুতে গিয়ে দেখি পাশ বালিসটা নি:শ্বাস নিচ্ছে, আমাকে ভয় দেখাচ্ছে আমার পাশ বালিস, এতে দু:খ হয় আমার কিন্তু রাগ হয় না কিন্তু নিষ্ঠুরতা দেখলে মাথার মধ্যে চিড়িক চিড়্ক করে ওঠে এখনও, আমার মতো জগত সংসারের সঙ্গে খেই হারানো, দুর্বল মানুষেরও এমন হয়!

‘ এখন চারপাশে রিলেন্টলেস, হাইপার অ্যাক্টিভ ভায়োলেন্স দেখে দেখে আমাদের চোখ সয়ে গেছে | কিন্তু আপনি এত ভয় কেন পান রঘুবীরদা?’

‘আমি তো ভয় পেতে চাইনি গর্বী | আস্তে আস্তে ভয় পেতে শিখেছি | এখন এই পৃথিবীতে নিজেকে আমার এলিয়েন মনে হয়, সম্পূর্ণ এলিয়েন! কিন্তু তার মধ্যেও‚ এত যন্ত্রণার মদ্যে আমি আবিষ্কার করেছি তোমার শরীরের মধ্যে থেকে কোনও ভয়ের গন্ধ বেরোয় না! কি স্বস্তি তোমার সামনে দাঁড়ালে তুমি যদি আমার জায়গায় থাকতে তাহলে বুঝতে পারতে!’

‘ সিনেমাও কি আপনার কাছে ভয়ের?’

সেটা নিয়ে আমি আর ভাবিই না! একবার কলেজ ফেস্টের টাকা থেকে কিছু টাকা সরিয়ে ছিলাম আমি, সরিয়ে সেই টাকায় কবিরাজি কাটলেট খেয়ে এলিটে ঢুকলাম একটা সিনেমা দেখতে, সেই সিনেমাটা একটা চোর ধরা পড়ার সিনেমা | কি অস্বস্তি হয়েছিল আমার সিনেমাটা দেখে, অস্বস্তিটা এখনও লেগে আছে আমার বুকের মধ্য়ে | তারপর আমার মা মারা যাওয়ার দুদিন পরে একটা সিনেমা দেখতে গেলাম নিউ এম্পায়ারে, সেটা একটা মায়ের মৃত্যু নিয়ে সিনেমা | তারপর একবার আমি আত্মহত্যা করার কথা ভাবলাম আর একটা সিনেমা দেখতে গেলা | সেটা একটা আত্মহত্যার সংক্রান্ত মনস্তাত্ত্বিক সিনেমা! এই জায়গা থেকে আমার সিনেমা নিয়ে পড়াগুলো করতে আসা গর্বী!’

রঘুবীর চৌধুরীকে বাড়ি পৌঁছে যখন ফ্ল্যাটে ঢুকছে গর্বী তখন ফোন এল যশমাল্যর | ‘তুই চলে গেলি?’

‘হ্যাঁ |’ বলেছিল সে |

‘ মুড সুইং?’

‘ওই আর কি!’

‘একা একা গেলি এত রাতে, বলতে পারতিস, রবি ছেড়ে আসত!’

‘তুমি ব্যস্ত ছিলে!’

‘রানীর সঙ্গে অনেকক্ষণ কিছু নিয়ে খুব ইনটেনস আলোচনা চলছিল তোর, রানী কিছু বলেছে?’

যশকে সে পরিষ্কার বলল, ‘বলেছে | তোমাকে বলতে বারণ করেছে |’

এরপর তার সঙ্গে যশমাল্যর পাঁচ সাতবারের বেশিই দেখ হয়েছে একান্তে | একবারও যশ রানীর সঙ্গে কি কথা হল সে প্রসঙ্গ উত্থাপন করেনি | আর যতই স্বাভাবিক ব্যবহার করুক ভুলেও একবারও তাকে স্পর্শ করেনি যশ | পাশে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকা স্বত্তেও তাকে একবারের জন্য হাত বাড়িয়ে না ধরাটা, যেটা কারণে-অকারণে করে থাকেই যশ, প্রমাণ করে রানীর সঙ্গে তার কি কথা হয়ে থাকতে পারে যশ তা নির্ভুলভাবে জানে এবং রানীর কথামতোই আসলে জোর করে তাকে ধরতে, তার দখল নিতে চায় না যশমাল্য! এই কারণে তাকে সে যশের প্রতি কৃতঞ্জ বোধ করছে না | সে নিশ্চিন্ত বোধ করছে এটা জেনে যে যশমাল্য চ্যাটার্জি মানুষটা এরকম! এই সব ভাবতে ভাবতে গর্বী প্রেসির চত্বরে খুঁজে নিল বন্ধুদের এবং রং খেলার ভিড়ে মিশে গেল |

বাড়ি ফিরে সে অবাক হলো সাহানাকে নিজের রুমে বালিশে মুখ গুঁজে শুয়ে থাকতে দেখে হ্ | সে তখন প্রায় কথা বলার অবস্তায় নেই! সারা গায়ে আবীর, এতক্ষণ ধরে সবার সঙ্গে বুজ করেছে, তারপর খাবার খেয়ী – বমি বমি পা
একবার দেখে এসে গলায় আঙুল দিয়ে বমি করল গর্বী | শ্যাম্পু করে স্নান করল ঠাণ্ডা জলে | গরম পরে গেছে বেশ | একটু সুস্থির বোধ করার পর সে সাহানার ঘরে ঢুকে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ল ওর পাশে, নাক টানতে টানতে সাহানা সরে গেল তাকে আর একটু জায়গা ছেড়ে দিয়ে! বলল, ‘আলোটা নিবিয়ে দে না!’

কাল বাড়ি ফিরেছে সাহানা তিন দিন উড়ে এসে | এসেই চলে গেল চিত্রকের সঙ্গে থাকবে বলে | দিন পাঁচেকের ছুটি আছে ওর এখন হাতে | গর্বী জানতো দোলের দিনটা সাহানা থাকবেই না! চিত্রকের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে নিশ্চয়ই, তাই-ই অন্ধকার টন্ধকার
ভালো লাগছে এখন!
সে বলল, ‘কি রে কাঁদছিস?’
কোনও উত্তর দিল না সাহানা, ফোঁস ফাঁস করল শুধু | এখন তাকে কথা বলেই যেতে হবে | রাগ হলে দুঃখ হলে সাহানা গুম মেরে যায় | কিন্তু গর্বী জানে কথা বলতে পারলে, চিৎকার চেঁচামিচি করতে পারলে কেটে যায় ওর ভেতরের গুমোট! তাদের দুজনের সম্পর্কটা অদ্ভূত | এত বছর একসঙ্গে আছে তারা | সাহানা আর সে খুব ভালো করে জানে দুজনে দুজনের তারা কেউ কারও নয় | দুজনে দুজনের ওপর কোনওদিনও খুব বেশি নির্ভরশীলতা দেখায়নি | সমস্যায় পড়লে তার নিজের যেমন সে জানে সাহানার-ও সঙ্গে সঙ্গে তার কথা মনে পড়ে না! কেউ কারও সমস্যার সমাধানে খুব একটা বড় ভূমিকাও কোনদিনও নিতে পারেনি | সেই বহু বহু বছর আগে সে যখন স্কুল হস্টেলে দু-তিন বছরের পুরোনো বাসিন্দা একদিন সাহানা রুম-মেট হয়ে এল তার | পাশের বেডে | তাদের রুম সংলগ্ন একটা স্টোর-রুম বন্ধই পড়ে
থাকত সবসময় | প্রায়ই রাত বিরেতে বিদঘুটে সব শব্দ বের হত ঘরটা থেকে | সবাই গোস্ট রুম নাম দিয়েছিল ঘরটার | গোস্ট রুম সম্পর্কে অচিরেই অবহিত হল সাহানা, দীক্ষিত হল ভয়ে | এক রাতে এরকম দুমদাম শব্দ শুরু হওয়ার পর সাহানা নিজের বিছানা ছেড়ে নে এসে তাকে ডাকল, ‘গর্বী, তোর পাশে শোব?’ তারপর থেকে অধিকাংশ রাত সাহানা আর গর্বী ওই সরু খাটে একসঙ্গে শুয়েছে | পুরো হস্টেল লাইফ | স্কুল পাশ করে বেরিয়ে বিনা আলোচনাতেই ভবানীপুরে একই ঘরে পেয়িং গেস্ট থাকতে শুরু করল তারা | তখন বিমান সেবিকা হওয়ার ট্রেনিং নিচ্চে সাহানা আর সে ইউনিভার্সিটিতে ঢুকেছে ইংলিশ অনার্স পড়তে | কিছুদিনের মধ্যে এলাকা পরিবর্তন করে যোধপুর পার্কের একটা পুরোনো বাড়ির মেজেনাইন ফ্লোরের রুম ভাড়া নিল একসঙ্গে | সেটাও একটা বারো বাই বারোর বদ্ধ ঘর | জানলা খুললে বন্ধ হয় না, বন্ধ হলে খোলে না, দেয়াল থেকে চুন খসে পড়ছে, বাথরুমের দিকের দেয়ালটার ড্যাম্প তৈরি করেছে মোনালিসাকে | বর্ষায় মোনালিসার হাসিটা বেড়ে যায় বা কান্না হয়ে যায় | বাথরুমের দরজার তলাটা ভাঙা, হুড়মুড় করে গায়ে জল ঢাললে ফাঁক দিয়ে জল চলে আসে ঘরে | ঘরেরই এক কোণে টেবিল পেতে তার ওপর ছোট গ্যাস-ওভেন রেখে রান্না করে খেতে হত! এই নামী প্রাইভেট এয়ারলাইনস সংস্থার চাকরিটা পাওয়ার পর যখন কম্পানি ফ্ল্যাটটা দিল সাহানাকে থাকতে তখনও বিনা আলোচনাতেই একদিন বাজে, পুরোনো জিনিসপত্র ফেলে দিয়ে দুজনে থাকতে চলে এল এখানে | এ এমন এক সম্পর্ক যেখানে পরস্পরের মন পড়ার-ও দরকার পড়ে না | শুধু একজন যদি নিজের থেকে চায় তখনই চেষ্টা করে অন্যের সমস্যার ভেতর ঢুকে পড়তে, যাদি ফিল করে অন্যের ক্ষোভ, কাতরতা তাহলে প্রায় নিষ্প্রয়োজন বোধেই ইন্টারভেন করে | আগলাতে চাইলে আগলায়, অন্যের দরকার আছে বলে নয়! এই সম্পর্কে কোনও আশা, প্রত্যাশা নেই পরস্পরের প্রতি কিন্তু দুজনে দুজনকে নিঃসংশয়ে বোঝে, হাতের পাতার মত চেনে! মানুষের ক্ষেত্রে এরকম একটা সম্পর্ক সারাজীবনে একটাও হয় কিনা সন্দেহ!
শুয়ে শুয়ে একটা গান মনে এল গর্বীর, মাঝখান থেকে, ‘পুঞ্জ পুঞ্জ ভারে ভারে, নিবিড় নীল অন্ধকারে, জড়ালো রে অঙ্গ আমার, ছড়ালো প্রাণে, জড়ালো, চিত্ত আমার হারালো, হারালো আজ মেঘের মাঝখানে |’

খোলা জানলা দিয়ে কন্দর্পকান্তি চাঁদ দেখা যাচ্ছে, তার বীর্যের মত সাদা জ্যোৎস্না ঝরছে আকাশ থেকে, মেঘের চিহ্ন মাত্র নেই – তবু এই গান মনে এল তার, দূর থেকে ভেসে ভেসে এল এমন নয়, একদম কাছেই পড়ে ছিল যেন, চেলে এল এভাবে! সাহানা একটু গাইবার সুযোগ দিল তাকে, তারপর উঠে বসে বলল, ‘নিজের ঘরে যা গর্বী |’
এবং তখনই চমকে উঠল সে সাহানার মুখের দিকে তাকিয়ে, চোয়ালে বিপজ্জনক কালশিটে, ঠোঁটের কোণাটা ফেটে গেছে, ফুলে গেছে ঠোঁটটা, দেখা মাত্র ভেতরটা শক্ত হয়ে গেল তার, সে বলল, ‘কী করে হল?’
বিছানা থেকে নেমে চলে গেল সাহানা, টয়লেট থেকে ঘুরে এসে দাঁড়াল আয়নার সামনে, খুঁটিয়ে দেখল নিজেকে,
‘ছর পাঁচ দিনে ঠিক হবে না বল?’
‘কখনোই না!’
‘তাহলে কম্পানি উড়তে দেবে না আমাকে | এই মুখ নিয়ে উড়তে দেবে না | বসিয়ে রাখবে!’
‘তোকে মারল চিত্রক?’ কেটে কেটে উচ্চারণ করল কথাটা গর্বী |
‘হ্যাঁ, মারল |’
‘কেন?’
‘আমি বেরিয়ে আসছিলাম, ও আটকাতে চেষ্টা করছিল, তখনই মারল হঠাৎ!’
‘ঝগড়া হচ্ছিল?’
‘হুঁ!’
‘কি নিয়ে ঝগড়া হচ্ছিল?’
‘একটার পর একটা প্রশ্ন করিস না | আমি উত্তর দিতে পারব না!’

কতই বা বয়েস এখন সাহানার? চব্বিশ পূরণ হয়নি – কিন্তু মাথার ভেতর এত কিছু ঢুকে গেছে, এত বেশি জিনিস ঢুকে বসে আছে যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগের ঘটনাকেও মনে হয় নিরেট হয়ে ডুবে গেছে ঢের কোন অতীতের জলায় | মনে করার চেষ্টা করলে ভাসিয়ে তুলতে অসুবিধা হয় কেমন! একে কি স্মৃতি শক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া বলে? নাহ, তা যে নয় সাহানা সেটা গর্বীর মতো যুক্তিবাদী না হয়েও বুঝতে পারে! তবু সে জানে তার মাথার ভেতরটা এখন আর তরতাজা নেই অতটা এবং সে ক্লান্ত, মানসিকভাবে অসম্ভব ক্লান্ত! মাত্র দেড় বছর ওড়ার অভিজ্ঞতা তার, এখনই নিজের সমস্ত সুক্ষতা হারিয়ে ফেলেছে সে | অল্প বয়েস এবং রূপের কারণে সাহানা সব সময় বিজনেস ক্লাসকে সার্ভ করার সুযোগ পায়, অথচ খুব ইম্পর্ট্যান্ট গেস্টের সামনেও হাতের আঙুল, মুখের পেশি কেমন স্টিফ হয়ে থাকে আজকাল | প্রত্যেকবার ওড়ার আগে কী ভীষণ বিরক্ত লাগে রিমুভার দিয়ে নেলপলিস তুলে নতুন করে রং লাগাতে | মাঝে মাঝে তার তীব্র সন্দেহ হয় এই পেশা বেছে নেওয়াটা ঠিক হয়নি তার পক্ষে | চিত্রক-ও এই একই কথা বলে তাকে সবসময় | আজ অবশ্য চিত্রকের সঙ্গে তার এই নিয়ে ঝগড়া হয়নি |

কাল যখন সাহানা চিত্রকের সঙ্গে থাকতে গেল ওর পার্কসার্কাসের ফ্ল্যাটে তখন মুড ভালই ছিল চিত্রকের | খুব আদর করল তাকে চিত্রক | স্নান করে নিল ভাল ছেলের মত, বেশি মদ্যপানও করেনি, হেল্প করল তাকে কিচেনে | খেয়ে উঠে লম্বা ঘুমোলো দুজন দুজনকে জড়িয়ে, বিকেলে গেল ফোরামে মুভি দেখতে | ডিনার খেয়ে ফিরল | ঠিক যখন সাহানা ভাবছে আসলে দীর্ঘদিন একটানা তাকে না পেলেই ঝগড়া অশান্তি বাড়িয়ে দেয় চিত্রক, কেমন হিংসুটে আচরণ করে, সন্দেহ করে – বাধাহীন, নিরঙ্কুশ প্রাপ্তিতেই ধীরে ধীরে আবার শান্ত হয়ে আসেও, তখন ওর চোখের দিকে তাকালেই সাহানা স্পষ্ট দেখতে পায় উদ্দীপ্ত প্রেম, উদ্বেলিত আসক্তি এবং তার মনে হয় যে হ্যাঁ সত্যিই সে ভাবতে পারে চিত্রকের সঙ্গে একটা গোটা জীবন কাটানোর কথা | হ্যাঁ সে নির্ভর করতে পারে চিত্রকের ওপর – ঠিক সেই সময় তার শরীরের ওপরে, তার শরীরের ভেতরে থাকা অবস্থায়, পা দিয়ে জড়িয়ে রেখে ওই প্রশ্নটা করে তাকে পিন ডাউন করে দিল চিত্রক | ঠাণ্ডা মাথায়, ঠোঁটের কাণায় কাণায় হাসি ধরে রেখে তার কাছে জানতে চাইল, ‘এই সময় তোর কখনো পঞ্চমের কথা মনে পড়ে না? আমার মুখের জায়গায় পঞ্চমের মুখ চলে আসে না? সত্যি বল? আমি রাগ করব না!’ সাহানা তখন নিজের তলপেটের কোমলতম জমিতে অনুভব করছে তার ওপর চিত্রকের অব্যর্থ অধিকার, আশ্চর্য এক আরামের বশে তলিয়ে যাচ্ছে কোথা থেকে কোথায়, প্রশ্নটা মাথা ছুঁয়েই তার কোষে কোষে ছড়িয়ে দেয় একটা মাত্র প্রতিক্রিয়া – হল্ট! সমস্ত ঘরটা, সমস্ত পরিবেশটা কালো রং দিয়ে লেপে দেয় যেন কেউ | তার ভারি লাগে চিত্রককে সেই মুহূর্তে, সে কোনক্রমে ওকে সরিয়ে দিয়ে উঠে বসতে চায় এবং হাসিটা বদলে যায় চিত্রকের, ‘বলবি না?’
‘চিত্রক তুই কি প্রচণ্ড ক্রুয়েল তোর কোনও ধারণা নেই! তুই সব সময়ই আমাকে ডি-মিন করিস নানাভাবে, বাট নাউ ইউ আর ক্রসিং ইওর লিমিট!’

চিত্রক সরে যায় ঠিকই কিন্তু শক্ত করে ধরে তার বাহুমূলের কাছটা | ‘এত রি-অ্যাক্ট করার কি আছে সাহানা? পঞ্চমের সঙ্গে তো তোর এই রিলেশনশিপ ছিলই | দুটো অভিজ্ঞতা হঠাৎ মুখোমুখি হয়ে যেতে পারে না?’

‘পঞ্চমের সঙ্গে আমার তিন বছর আগে ব্রেক-আপ হয়ে গেছে | তুই আমার জীবনে আসার অনেক আগে থেকে আমি চেষ্টা করেছি পঞ্চমকে সম্পূর্ণ ভুলে যেতে | যে সম্পর্কটা ওয়ার্ক আউট করেনি, এতদিন পর এমন কি সেটা নিয়ে আমার কোনও আফশোস পর্যন্ত নেই | আই অ্যাম ট্রায়িং টু বি হ্যাপি উইথ ইউ সেখানে কী ভাবে এই অবস্থায় পঞ্চমের মুখটা মনে পড়তে পারে বলে তোর বিশ্বাস?’

‘ইউ আর ট্রায়িং টু বি..? তাই না?’

‘হ্যাঁ, একদম, আই অ্যাম ট্রায়িং হার্ড! যখনই আমি চেষ্টা করি আমাদের সম্পর্কটাকে একটা স্টেবল জায়গায় নিয়ে যেতে, একটু নিঃশ্বাস ফেলে বাঁচতে ঠিক তখনই তুই সমস্ত কিছু তছনছ করে দিস | ভেঙে দিস, ভাবিস না যে আমার কত কষ্ট হয় এতে | ভুল বোঝাবুঝি চলতেই থাকে চলতেই থাকে তোর সঙ্গে | প্রতি পদক্ষেপে তুই আমাকে সন্দেহ করিস, প্রশ্ন করিস, আমার অন্তরাত্মাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মেরে ফেলিস তুই | তারপর যখন হাতের সামনে কোনও অশান্তি তৈরি করার মতো উপাদেয় কিছু থাকে না তখন আমার অতীত থেকে একটা আলতু-ফালতু রেফারেন্স টেনে আমাকে প্রিক করিস | আমাকে প্রভোক করিস, আমাকে বাধ্য করিস ভাবতে যে আমি একটা ভুল মেয়ে | আমার আচার, আচরণ ভুল, আমার বিশ্বাসগুলো ভুল | এত বছর একা একা পথ হাঁটার যে লড়াই আমার সেটাও ভুল! এবং আমি তোর প্রতি লয়াল নই! এনোনিমাস একজন কেউ আমাকে ফুল পাঠালে, গিফট পাঠালে সেটাও আমার দোষ! আমাকে ফুল পাঠিয়েছে, গিফট পাঠিয়েছে তার মানে আমি তাকে কোনও বিশেষ পরিষেবা দিয়েছি, এক্সট্রা কেয়ার নিয়েছি, ঝুঁকে ঝুঁকে পড়ে ড্রিংক অফার করেছি তাকে, নইলে সে কেন লিখবে, ‘ইট ওয়াজ এন অসাম এক্সপিরিয়ন্স ফ্লায়িং উইথ ইউ!’ সে হাঁপাতে থাকে |

‘শাট-আপ! তুই আমার ফোন চেক করিস না? তুই আমাকে সন্দেহ করিস না?’

‘করতাম না আগে | তুই শিখিয়েছিস!’

‘আমি শিখিয়েছি? হা, হা, হা!’

‘হাসিটা প্র্যাকটিস করেছিস না আয়নার সামনে?’

‘শোন সাহানা, কখনও কখনও তোকে করার সময় আমার মনে হয় যে তুই ঠিক আমার সঙ্গে নেই, তোর চোখটা ঠিক আমাকে দেখছে না, তুই আমার সঙ্গে রিলেট করছিস না, অন্য কেউ হানা দিচ্ছে তোর মনে, অন্য ফিলিং, অন্য অভিজ্ঞতা এসে পড়ছে!’

সে ভেঙে পড়তে চায় কান্নায়, কিন্তু কান্না আসে না, শুধু হুতাশনে জ্বলে পুড়ে যায় হৃদয়, ‘তোকে সব দিলাম, আর তুই এই কথা বলছিস, এতদিন পরে?’

‘কিছুই দিসনি আমাকে তুই সাহানা! আমার জন্য আলাদা করে কিছুই রাখা নেই তোর কাছে |’

‘কি বলছিস তুই চিত্রক?’

‘তোর প্রথম প্রেমটা ছিল পঞ্চমের সঙ্গে, প্রথম সেক্স তুই ওর সঙ্গে করেছিস!’ চিত্রক নিজের বাঁ হাত দিয়ে তার বাম স্তন একবার, যোনিমুখ একবার করে ছুঁয়ে দেয়, ‘ভার্জিনিটি দিয়েছিস যাকে তাকে কি তুই ভুলে গেছিস? হতে পারে না |’

‘হতে পারে না জানিস তুই? এটা জেনেই দুবছর তুই আমার সঙ্গে মিশছিস? এই সব মাথায় নিয়ে?’

‘আমি মাথায় রাখতে চাই না এগুলো, আমি এগুলো ভুলে থাকতে চাই | কিন্তু আমার জানতে ইচ্ছে করে আমার জায়গাটা কোথায়, আমি কোথায় স্পেশাল?’

দুটো ছেলেমেয়ে একজন চব্বিশ আর অন্যজন সাতাশ রাত দুটোর সময় উলঙ্গ অবস্থায় নরম গদির বিছানায় বসে তর্ক-যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে | নিজেদের মূল্য বোঝার চেষ্টা করে যেতে থাকে | এই সময় সাহানা ছুটি পেয়েছে | চিত্রক ছুটি নিয়েছে, এই ফ্ল্যাটের বাইরের পৃথিবী থেকে কেউ কোনও প্রয়োজনে তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার চেষ্টা করছে না | কোথাও কোনও চোখ রাঙানি নেই, কোথা থেকেও কোনও বাধা নেই, আজ বললে আজ, এখন বললে এখনই দুজনে বিয়ে করে নিতে পারে, শপথ নিতে পারে একসঙ্গে সমগ্র জীবন অতিবাহিত করার | দুজন দুজনকে ভালবাসে নিশ্চই, সাহানার কাছে চিত্রক অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক পুরুষ, যখন ভীষাণ ঝগড়া বাধে তখন সাহানা মনে মনে প্রার্থনা করে চিত্রক একবার তাকে কাছে সরে এসে ধরুক | তাহলেই সমস্ত অভিযোগ, অভিমান ভাসিয়ে সে চিত্রককে বুকে টেনে নেবে, বলবে, ‘বুঝিস না, এত ভালবাসি, দেখতে পাস না? এত খোঁচাখুঁচি করে জানতে চাস সহজ জিনিসটা? কিন্তু এরকম অবলীলায় মিটে যায় না কোনও প্রশ্নই, এত সহজ সমাধান কোনওদিনও হয় না, জটিল থেকে জটিলতর হয়ে ওঠে পরিস্থিতি, সাহানা অনুনয় করে জানতে চায়, ‘তাহলে তুই আমাকে বল আমি কোথায় স্পেশাল? তোর জীবনেও তো একটা মেয়ে ছিল — ইনফ্যাক্ট একাধিক মেয়ে ছিল, তোর ক্লাস-মেট রুচিরা, যাদবপুরের কর্ণির সঙ্গে ইউ ওয়েন্ট টু বেড উইথ হার! তোর বুঝি ভার্জিনিটি বলে কিছু নেই?’

‘এদের কারও সঙ্গে আমার প্রেম হয়নি, এই জায়গায় বসাইনি কাউকে |’ চিত্রকের নিজের নগ্ন বক্ষস্থলে হাত চাপড়ায়, ‘কর্ণির সঙ্গে আমি শুতে চাইনি, শি ইনসিস্টেড!’

‘মিথ্যে কথা বলিস না, একটা ছেলেকে জোর করা যায়?’

‘ছেলেদের ব্যাপারটা তুই বুঝবি না, মুখ-টুখ দিলে দাঁড়িয়ে যায় কর্ণি!’

‘কর্ণি? তুই আমাকে কর্ণি বললি?’

‘উফঃ, ও গড!’

‘তোর মনের মধ্যে কর্ণি রয়েছে চিত্রক | কর্ণির কথা উঠতেই তোর মাথা জুড়ে কর্ণি ছাড়া কেউ নেই এখন | তুই আমার নাম ভুলে গেলি?’

‘মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেছে সাহানা | তুই আমাকে গিল্টি দাঁড় করিয়ে নিজেকে প্রটেক্ট করতে চাইছিস!’

সে বলতে থাকে, চিত্রক বলতে থাকে | চিত্রক তাকে ধরতে গেলে সে হাত সরিয়ে দেয় ঝটকা মেরে, সে চিত্রককে ধরতে গেলে চিত্রক চেঁচিয়ে ওঠে, ‘নো, নো, নো, ডোন্ট টাচ মি!’ চিত্রক বলে, ‘তোরটা মুখ ফস্কানোর মত ব্যাপার নয়, তোরটা অনেক ডিপ রুটেড, গোপনে, ভেরি স্লাইলি পঞ্চমকে নিজের ভেতর লুকিয়ে রাখিস তুই | কই, কর্ণির সঙ্গে যখন তাজের লবিতে আমাদের দেখা হল যখন আমি তোর সঙ্গে ওর আলাপ করাতে হেসিটেড করেছিলাম? কিন্তু সামপ্লেস এলস-এ পঞ্চমকে দেখে তুই প্রাণভয়ে পালিয়ে যাসনি? কিসের ভয় তোর ওকে?’

‘তুই তো সব জানিস | তুই বল কিসের ভয়?’

‘তুই পঞ্চমকে জানাতে চাস না দ্যাট ইউ আর ইনটু আ রিলেশনশিপ, তাহলে তো তোদের রোম্যান্টিক লিংকটা চিরদিনের মত চটকে যাবে | চোরের মত দাঁড়িয়ে ছিলিস সেদিন পার্ক স্ট্রিটে | আমার নিজেকে লজ্জা লাগছিল সাহানা |’ লম্বা ছাই শুদ্ধ সিগারেট ধরা আঙুল তার মুখের সামনে নাড়তে লাগল চিত্রক, ‘দ্যাট ভেরি ডে আই ফেল্ট, পঞ্চম স্ট্রংলি আছে তোর মধ্যে, কারণ ওটা তোর প্রেম ছিল, প্রেম!’

‘ওটা প্রেম ছিল, আই অ্যাডমিট, কিন্তু সম্পর্কটা শেষ হয়ে গেছে!’

‘প্রেম থাকলে প্রেম থাকে, হলে হয় | একজনের সঙ্গেই হয়, বারবার হয় না | তোর আর প্রেম হবে না সাহানা, শুধু সম্পর্ক হতে পারে, যেটা হয়েছে এখন!’

সে এবার সত্যি সত্যি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে, এবং চিত্রক এত জোর দিয়ে পঞ্চমের কথা বলায় এবং চিত্রকের সঙ্গে কিছুতেই একটা ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কে না পৌঁছোতে পারায় সেই মুহূর্তে বাস্তবিক পঞ্চমকে মনে পড়ে যায় তার এবং কেমন হাহাকার ওঠে হৃদয় জুড়ে, পঞ্চম তার প্রথম প্রেম, প্রথম পুরুষ | কী ভীষণ স্ট্রাগলিং লাইফ ছিল তখন তার আর গর্বীর | মাঝে মাঝে বিশেষত মাসের শেষের দিকে পঞ্চম তাদের জন্য প্যাক করে খাবার নিয়ে চলে আসত! সত্যি সত্যি কি কতগুলো ব্লারি ইমেজ, ঘষে ঘষে যাওয়া, ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাওয়া ছবি হঠাৎ হঠাৎ ফুটে ওঠে না তার মাথায়, হঠাৎ মনে হয় না পঞ্চম এরকম বলত, পঞ্চম এরকম করত, প্রথমবার চিত্রকের পুরুষাঙ্গ দেখে কি সে চোখ বুজে ফেলেছিল শুধু এই কারণে যে সে লজ্জা পেয়েছিল? তার কি এক ঝলক এ কথাও মনে হয়নি আগেরটার থেকে এটা কত আলাদা? দুটো প্রেম আলাদা, দুটো যৌনতা আলাদা আর সে চাক বা না চাক একটার ওপর আর একটা এসে পড়েই, যখন তখন এসে পড়ে আর সেই জন্যই সাহানা টের পায় যে তার স্মৃতি নষ্ট হয়নি, অতীত বলে বলেও কিছু হয় না – এই বর্তমানটা আসলে এক একটা নিমেষের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অতিকায়, বিশাল, ভারি অতীত, ঠিক সালভাদর দালির মশার পা হাতির মতো দেখতে একটা সময়ের স্ট্রাকচার!

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.