ঠাকুমার আয়না

5320

কাল থেকে গরমের ছুটি পড়ে যাবে | স্কুলের গেট দিয়ে বেরোতে বেরোতে মনটা ভারি খারাপ লাগছিল মুন্নির | একমাস ছুটি | একে তো গোটা একটা মাস বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে না ‚ সেজন্য মন খারাপের একটা ব্যাপার আছেই | সব থেকে বাজে হল গোটা মাসটা সারাদিন বাড়িতে থাকতে হবে | গরমের ছুটিতে বন্ধুদের অনেকেই মামারবাড়ি ‚ মাসিরবাড়ি বেড়াতে যাবে | মুন্নিরাও যে যায় না তাও নয় | ক’দিন আগেই মা বাবাকে বলছিল ‚

চল এবার গরমের ছুটিতে ছোট ঠাকুরপোর ওখান থেকে ঘুরে আসি |

ছোট ঠাকুরপো মানে মুন্নির ছোট কাকা | ব্যাঙ্গালোরে থাকে | মুন্নি জানে সেই জায়গাটাকে বলে এয়ারকন্ডিসন সিটি | সারা বছরই সেখানে হালকা ঠান্ডা | রাতের বেলা কম্বল নিয়ে ঘুমোতে হয় | চমৎকার নাকি সাজানো -গোছানো শহর | ব্যাঙ্গালোর থেকে কাছাকাছি আরও দু-একটি জায়গায় ঘুরেও আসা যায় | ছোটকাকা বছর চারেক হল ট্রান্সফার নিয়ে ব্যাঙ্গালোর চলে গেছে | কাকিমা মুন্নিকে বেশ ভালোবাসে | ওদের পাঁচ বছরের ছেলে টুবাইতো দিদিভাইয়ের খুবই ভক্ত | কলকাতায় এলে একেবারে মুন্নির গায়ের সঙ্গে লেপ্টে থাকে | কিন্তু তবু মা যখন ব্যাঙ্গালোর যাওয়ার কথা বলছিল ‚তখন মুন্নি চুপ করে ছিল | কোনও উৎসাহ দেখায়নি | আসলে কোনও আত্নীয়স্বজনের বাড়ি যেতেই মুন্নির একেবারে ভাল লাগে না | একদম অচেনা জায়গায় ‚ অচেনা মানুষজনের মধ্যে বেড়াতে যাওয়া একরকম | তাও যে কখনও-সখনও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি হয় না তা নয় | তবু সেটা কোনোওরকমে মানিয়ে নেওয়া যায় | কিন্তু চেনাশোনা কারুর বাড়িতে গেলেই মুন্নি জানে প্রসঙ্গটা উঠবেই | আর তাহলেই মুন্নির মনে হবে তার চারপাশে দিনের আলো যেন মরে গেল | মুখের ভিতরটা যেন বিস্বাদ | হাসি-আনন্দ এসবের কোনও চিহ্নই আর তার চারপাশে নই |

মুশকিল হচ্ছে নিজের মনের এই অবস্থাটা সে কাউকে বলতেও পারে না| মা-বাবাকে তো নয়ই | বলবে কী করে ‚ তার এই অবস্থাটা তো তৈরি হয় মায়ের জন্যই | গরমের ছুটিতে গোটা একটা মাস মায়ের সঙ্গে বাড়িতে থাকতে হবে ভাবলেই বিরক্ত লাগে মুন্নির | চোখের ভিতরটা কীরকম জ্বালা জ্বালা করে ‚ মেজাজ খিঁচড়ে থাকে |

তাহলে কি মুন্নির মা তার নিজের মা নয় ? নাকি মুন্নিকে কি তার মা মোটেই ভালোবাসে না ? ব্যাপারটা কিন্তু মোটেই সেরকম নয় | আসলে মুন্নির মা অপরুপ সুন্দরী | মুন্নিদের ‚মানে তার মায়ের শ্বশুরবাড়ি ‚ বাপেরবাড়ি কোনওদিকেই তার মত সুন্দরী কোনও মেয়ে-বউ কেউ নেই | ছিপছিপে দিঘল চেহারা | একমাথা সিল্কের মত নরম ‚হালকা ঢেউ খেলানো চুল | নিখুঁত নাক -চোখের গড়ন | মুক্তোর মত দাঁত | ঝলমলে হাসি আর চাঁপা ফুলের মত গায়ের রঙ | এককথায় মুন্নির দিকে তাকালে চোখে ফেরানো কঠিন |বিয়ের দিন যখন তাঁকে সাজিয়ে-গুজিয়ে বসানো হয়েছিল তখন দেখে মনে হচ্ছিল যেন স্বর্গ থেকে অপ্সরী নেমে এসেছে | অতিথিরা কনের ঘর ছেড়ে নড়তেই চাইছিল না | পিসিদের মুখে এসব গল্প মুন্নি অনেকবার শুনেছে |

এহেন মায়ের মেয়ে মুন্নি কিন্তু একেবারেই মায়ের মত দেখতে নয় | সে সুন্দরী না কুচ্ছিত বলা কঠিন | তবে মায়ের সঙ্গে তুলনা করলে তাকে কুচ্ছিতই মনে হবে | মুন্নির নিজেরও তাই মনে হয় | আর তার ধারণা মায়ের পাশে তাকে দেখলে অন্যদেরও তাই মনে হয় | এরকম ধারণা হওয়ার পিছনে অবশ্য যথেষ্ট কারণ আছে | কারণ ছোটবেলা থেকে মায়ের সঙ্গে এই তুলনাটা সে শুনে আসছে | কাকা-পিসি হোক কিংবা মামা-মাসি | বন্ধু-বান্ধব হোক কিংবা পাড়া-প্রতিবেশী | মুন্নি যে তার মায়ের মত সুন্দরী হয়নি এ দুঃখ প্রকাশ করতে কেউ দ্বিধা করেন না | অমন ফর্সা মায়ের মেয়ের গায়ের রঙ কী করে এমন ময়লা হল ভেবে আপশোষ করে থাকেন অনেকেই |

মুন্নির বয়স এখন চোদ্দ | জ্ঞান হওয়ার পর থেকে এই কথাগুলো শুনে শুনে তার মনে বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গেছে ‚ তাকে দেখতে ভারি খারাপ | কিন্তু যদি খারাপ হয়ও‚ তাহলেও তো সেটা অন্যের মুখে বারবার শুনতে কারুর ভাল লাগে না | মুন্নি তাই আত্নীয়-স্বজনদের এড়িয়ে চলতে চায় | বন্ধু-বান্ধবদের বাড়ি যেতে চায় না | সত্যি বলতে কী মায়ের সঙ্গে কোথাও যাওয়াই তার ভারি অপছন্দ | সারাক্ষন তার মনে হয় ‚ রাস্তার সব লোকই যেন পাশাপাশি তাদের দুজনকে দেখছে আর ভাবছে এমন সুন্দরী মায়ের এমন একটা মেয়ে কী করে হল!

মুন্নির বাবা একটু উদাসীন ধরনের মানুষ | কলেজে পড়ান | নিজের পড়াশোনা লেখালিখি নিয়েই থাকেন | জাগতিক বিষয়ে তাঁর হুঁশ একটু কম | মুন্নির মা সুন্দর কিংবা মুন্নি সুন্দর নয় ‚ দুটোর কোনওটাই তাঁকে বিশেষ ভাবায় না | কিন্তু মুন্নির মাকে ভাবায় | একটু বেশি মাত্রাতেই ভাবায় | মেয়ে তাঁর মত সুন্দরী হয়নি বলে তাঁর ভারি দুঃখ | মুন্নি শুনেছে ‚ তার জন্মের পর কোনও এক পিসি নাকি সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে বাচ্ছার গায়ের রঙ মনে হচ্ছে মায়ের মত অমন গোলাপফুলের বন্ন হবে না | তাই শুনে মুন্নির মা সুতনুকা সেই ননদের সঙ্গে সারাজীবন কথা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন | কিন্তু কালে কালে তো বোঝা গেল সত্যিই মুন্নির গায়ের রঙ ময়লা | মায়ের মত অমন ডানাকাটা পরি সে মোটেই নয় |কিন্তু মা সেটা মেনে নিতে পারলেন না কিছুতেই |মুন্নির ভগবানের দেওয়া রূপকে নিজের মনের মত করে বদলে দেওয়ার ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা তিনি করে ফেলেছেন | অতএব মুন্নির কোনও রেহাই নেই | সারা বছর তার মুখে-গায়ে-হাতে পায়ে নানা ধরেনর রূপটান মাখার কোনও বিরাম নেই | কখনও কাঁচা হলুদের সঙ্গে কমলালেবুর খোসা বাটা |কখনও দুধের সঙ্গে মুলতানি মাটি | কখনও আবার শসার রসের সঙ্গে গোলাপজল |এর পাশাপাশি চলে নানারকম ফুল পাতার রস আর তেল দিয়ে চুলের পরিচর্যা |

স্কুল খোলা থাকলে মা তেমনভাবে মুন্নিকে হাতে পান না | কারণ সকাল আটটার মধ্যেই নাকে-মুখে দুটো গুঁজে না নিলে স্কুলের বাস এসে গেটের সামনে হর্ন দেয় | ফিরতে ফিরতে বিকেল চারটে | এছাড়া তো ক্লাস টেস্ট, টিউশন এসব আছেই | ছুটির দিনগুলো বিশেষত পুজো আর গরমের লম্বা ছুটিতে তাই মা মেয়ের ওপর রূপচর্চার যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সেরে নেন | এত রূপচর্চার যা ফল তা অবশ্য স্বাভাবিকভাবেই হয়েছে | মুন্নির গায়ের রঙ যত্ন করে মাজা পিতলের ঘটির মত মসৃণ উজ্জল | চুলও ঝকঝকে সুন্দর | স্কুলের বন্ধুরা দেখে মুগ্ধ হয়ে যায় | কিন্তু মুন্নির মায়ের মতে এগুলো কোনও সৌন্দর্যের মাপকাঠিই নয় | অতএব মুন্নির কোনও ছাড় নেই | আর সেজন্যই স্কুল যেতে হবে না ভাবলেই মুন্নির মেজাজ গরম হয়ে যায় |

তবে স্কুলে যেতে ভালবাসে বলেই যে মুন্নি পড়াশোনায় খুব ভাল তা কিন্তু নয় | আসলে তাকে যে লেখাপড়ায় ভাল না খারাপ কী বলা যায় ‚ সেটা নিশ্চিত করে স্কুলের দিদিমণিরাও বলতে পারেন না | মাঝে মাঝে কঠিন অঙ্ক ‚ ক্লাসের ফার্স্ট গার্লও যেটা নিয়ে মাথা চুলকে অস্থির ‚ সেটা সে দিব্যি করে দেয় | আবার পরীক্ষার সময় এমন সহজ অঙ্ক ভুল করে আসে যে রেজাল্টে কোনওরকমে টায়টোয়ে পাস | ইংরাজি ‚ বাংলা সব কিছুতেই প্রায় একইরকম ঘটনা ঘটে | স্কুলের টিচাররা অনেকেই মনে করেন মুন্নি একটু চেষ্টা করলেই অনেক ভাল রেজাল্ট করতে পারে | কিন্তু সেই চেষ্টাটাই তার নেই আর মুন্নির যেন রেজাল্ট ভাল-খারাপ কোনও কিছুতেই বিশেষ কিছু আসে যায় না |সারক্ষণই সে ভারি অন্যমনস্ক | কেমন যেন একটা বিষণ্ণ ‚মনমরা ভাব |

গরমের ছুটি শুরু হয়ে গেল নিয়ম মনেই | দিনগুলো এমনিতেই বেশ একঘেয়ে | প্রচন্ড রোদে এমনিতেই বাইরে বেরোনর উপায় নেই | তাছাড়া মায়েরও বেরোতে দিতে ভীষণ আপত্তি | রোদে গায়ের রঙ পুড়ে কালো হয়ে যাবে | মুন্নি তাই সারাদিন বাড়িতেই আছে | তবে একটা সুবিধা অবশ্য হয়েছে | তার এবার ক্লাস এইট | পড়াশোনার চাপ বেড়েছে | পড়াশোনা করতে মুন্নির যে বিশেষ ভাল লাগে তা নয় | তবে নিজের ঘরে বই হাতে নিয়ে বসে অনেকটা সময় কাটিয়ে দেওয়া যায় | আর মেয়ে পড়াশোনা করছে দেখলে বাবা তাকে ডিস্টার্ব করাটা পছন্দ করেন না | তাই মাও সেই সময়টা মুন্নির ঘরে বিশেষ আসেন না |

মুন্নিদের বাড়িটা পুরোনো আমলের | বড়সড় ‚ খোলামেলা | মুন্নির একটা দক্ষিণের জানলা দেওয়া নিজস্ব ঘর আছে | তার খাট, আলমারি, পড়ার টেবিল চেয়ার, বইয়ের র্যা ক এইসব দিয়ে সাজানো | কিন্তু ঘরে কোনও আয়না নেই | মুন্নি নিজেই রাখতে দেয়নি | আয়না মুন্নির পছন্দ নয় | আয়নার সামনে দাঁড়ানো মানেই নিজের খুঁতগুলো স্পষ্ট করে দেখতে পাওয়া | মায়ের ঘরের মস্ত ড্রেসিং টেবিলটাকে মুন্নি তাই মোটামুটি এড়িয়েই চলে | তার বাথরুমে একটা ঝাপসা হয়ে যাওয়া পুরোনো আয়না আছে ‚চুল বাঁধার কাজ তাতেই হয়ে যায় |

কিন্তু সেদিন একটা মজার ব্যাপার হল | মুন্নির বাবা ঠিক করেছেন বাড়িটা পুরোনো হয়ে গেছে | তাই বাইরেটা একবার রঙ করে নেওয়া দরকার | সেইজন্য ঝাড়াঝুড়ির কাজ চলছে | মিস্ত্রিরা নানারকম পুরোনো জিনিসপত্র টেনে বার করছে | কিছু ফেলে দেওয়া হচ্ছে | কিচ্ছু আবার মা রেখে দিচ্ছেন | রবিবার | বাবা বাড়িতেই আছেন | মিস্ত্রিদের কাজের তদারকি করছেন | হঠাৎ ছাদের সিঁড়ি থেকে তাঁর ডাক শুনে মুন্নি পড়া ছেড়ে উপরে উঠে দেখে চিলেকোঠার ঘরের সামনে বাবা দাঁড়িয়ে আছেন |মুন্নিকে দেখেই বললেন‚

এটা নিয়ে যা | তোর ঘরে নিয়ে গিয়ে রাখ |

এটা কী?

এটা তোর ঠাকুমার ড্রেসিং টেবিল | আসল সেগুন কাঠের তৈরি | বেলজিয়ান গ্লাস | চমৎকার জিনিস |পুরোদস্তুর আন্টিক | এসব আজকাল আর পাওয়া যায় না |

মুন্নি অবাক হয়ে দেখল জিনিসটা মোটেই ড্রেসিং টেবিলের মত দেখতে নয় | গোল ফ্রেমের মধ্যে একটা কাচ লাগানো | কাঠের ফ্রেমটা দুপাশে দুটো স্ট্যান্ডের সঙ্গে আটকানো | এমনভাবে আটকানো যে আয়নাটা দোল খায় |

এটাকে মোটেই ড্রেসিং টেবিল বলা যাবে না বরং দোলনা আয়না বলা যায় |

ঠাকুমাকে মুন্নির মনে নেই | তার যখন মাত্র এক বছর বয়স তখনই তিনি মারা যান | ছোট্ট মুন্নিকে কোলে নিয়ে তাঁর একটা ছবি বাড়িতে আছে | তবে বাবার কাছে ঠাকুমার অনেক গল্প শুনেছে মুন্নি | ঠাকুমা নাকি ভারি বুদ্ধিমতী মহিলা ছিলেন | অল্পবয়সে বিয়ে হয়েছিল | কিন্তু তারপর নিজের চেষ্টায় এমএ পাস করে স্কুলের হেড মিসট্রেস হয়েছিলেন | বাবা গল্প করে, ঠাকুমা নাকি মুন্নিকে ভারি ভালবাসতেন | মেয়ের গায়ের রঙ ময়লা বলে মা দুঃখ করলে তিনি মাকে ধমক দিয়ে বলতেন,

সেকি বউমা ভুলে গেলে‚ কালো যে জগতের আলো | তোমার এই মেয়ে দেখবে একদিন জগৎ আলো করবে |

ঠাকুমাই মুন্নির নাম রেখেছিলেন কৃষ্ণকলি | এসব কথা ভাবতে ভাবতে আয়নাটা হাতে নিতে কাচের দিকে চোখ পড়ে মুন্নির | অমনি ভারি চমকে ওঠে সে | আয়নার ভিতর তাকে যেন ভারি ভাল দেখাচ্ছে! কপালের ঠিক ওপরটাতে কোথা থেকে একটা আলো এসে পড়েছে আর তাতে গোটা মুখটা যেন উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে | নিজেকে সামলে নিতে তাড়াতাড়ি আয়না থেকে চোখ সরিয়ে নেয় মুন্নি | তারপর আয়নাটাকে হাতে ঝুলিয়ে নিজের ঘরে এনে এক কোণে রেখে দেয় |

একটু পরেই স্নানের জন্য মা এসে তাগাদা দেন | যথানিয়মে সর-ময়দা মেখে স্নান করতে হয় মুন্নিকে | স্নানের পর অভ্যাসমত বাথরুমের ঝাপসা আয়নাটায় চুল আঁচড়াতে গিয়ে কী যে মনে হয় মুন্নির! কোণা থেকে ঠাকুমার আয়নাটা তুলে নিয়ে টেবিলে রেখে তার সামনে চিরুণি হাতে দাঁড়ায় | অমনি আবারও চমকে ওঠে দারুণভাবে | আয়নার ভিতর তারই রোজকার চেনা মুখ | কিন্তু কী যেন এক অপূর্ব সৌন্দর্য ফুটে আছে সেখানে | কোন এক জায়গা থেকে তার ভিজে চুলের ওপর আলো এসে পড়েছে | ঝিকমিক করছে চুল | নাক মুখ চোখ সবই যেন সেই অদ্ভূত আলোয় লাবণ্যে মাখামাখি | ভীষণ আশ্চর্য হয়ে তাড়াতাড়ি আয়নাটা সরিয়ে রাখে মুন্নি |কিন্তু তার মনটা হঠাৎ ভারি হালকা হয়ে যায় | কেমন যেন একটা আনন্দের ঢেউ মনের ভিতর দিয়ে বয়ে যায় |

খুশি খুশি মনে দুপুরের খাওয়া সেরে নিজের ঘরে ফিরে আসে মুন্নি | গরমের দুপুর | বাইরে ঝাঁ ঝাঁ করছে রোদ | কিন্তু তাদের পুরোনো বাড়ির দেওয়াল মোটা আর ঘরের দরজা জানলা সব বন্ধ বলে ঘরের ভিতরটা ভারি ঠান্ডা‚ আরামদায়ক | বিশেষ কিছু করার নেই বলেই মুন্নি আবারও অঙ্কবইটা খুলে টেবিলে বসে | বাড়িতে তাকে একজন মাস্টারমশাই অঙ্ক করাতে আসেন | অধিকাংশ দিনই মুন্নির বেশিরভাগ অঙ্ক ভুল হয় |হোমওয়ার্কও শেষ করে রাখে না | আজও পড়াতে আসবেন বরেন স্যার | প্রফিট আন্ড লস-এর অঙ্ক করাচ্ছেন | অন্যমনস্কভাবে সেই চ্যাপ্টারটাই খোলে মুন্নি | পর পর করে যায় অঙ্কগুলো | সেদিন সন্ধেবেলা মুন্নিকে পড়াতে এসে রীতিমত আশ্চর্য হয়ে যান বরেন স্যার |মুন্নি শুধু হোমওযার্ক নয় পুরো চ্যাপ্টারের সব অঙ্ক করে রেখেছে এবং বেশিরভাগই ঠিক করেছে |কয়েকদিনের মধ্যেই মুন্নি বুঝতে পারে তার মধ্যে কিছু একটা বদল হয়েছে | পড়াশোনা করতে তার বেশ ভাল লাগছে | কঠিন কঠিন অঙ্ক অনায়াসে করতে পারছে | বিজ্ঞানের বিষয়গুলো পড়তে, নতুন নতুন জিনিস জানতে কেমন যেন একটা আবিস্কারের আনন্দ হচ্ছে | এমনকী ইতিহাস ‚ ভূগোলের মত বিচ্ছিরি-বিরক্তিকর বিষয়গুলোও দিব্যি গল্পের মত ঝরঝর করে পড়া হয়ে যাচ্ছে | আর সবথেকে ভাল ব্যাপার হল তার ওই সারাক্ষণ মন খারাপ হয়ে থাকার ব্যাপারটা কেমন যেন অনেকটাই কমে গেছে |এখন তার মনে সবসময়ই একটা বেশ খুশি খুশি ভাব |

কেন যে এটা হচ্ছে সেটা প্রথমটায় বুঝতে পারছিল মুন্নি |কিন্তু একটা ঘটনায় ব্যাপারটা অনেকটা তার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল | গড়িয়াহাটে বাজার করতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে হঠাৎ তার এক স্কুলের বন্ধুর দেখা হয়ে গেছিল | বহুকাল পরে দেখা | তাই প্রথমটায় সেখানেই অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে গল্প | তারপর ঠিকানা আর ফোন নম্বরের আদান-প্রদান | তা মায়ের সেই বন্ধু আরতিমাসি একদিন এলেন মুন্নিদের বাড়িতে | মা তো ভয়ানক খুশি | ঘরদোর সব সাজিয়ে-গুছিয়ে রেখেছেন | নানা রকম খারাব-দাবারও বানানো হয়েছে | দুই বন্ধুতে বসে বেশ খানিকক্ষণ গল্প করার পর মা মুন্নিকে ডেকে পাঠালেন | মুন্নি ঘরে ঢোকামাত্র মাসি বলে উঠলেন ‚

একী রে সুতনুকা তোর মেয়ে তো একেবারে তোর মত দেখতে হয়নি | এই বয়সে তোর দিকে তাকালে তো চোখ ফেরানো যেত না | কী রঙ ছিল ‚ হলুদ গোলাপ ফুলের মত | ছুটির সময় স্কুলের বাইরে ছেলেদের লাইন পড়ে যেতো | না ‚ রে ‚মেয়ে তো তোর কিছুই পায়নি |

কান্না পেয়ে গেছিল মুন্নির | ইচ্ছে হয়েছিল তখনই সেখানে থেকে উঠে চলে আসতে | মাও একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলেছিলেন ‚

সে তো জানাই| কী আর করব বল | তবে ছোটবেলায় যা ছিল তার থেকে এখন রঙটা অনেক পরিষ্কার হয়েছে | রোজ কাঁচা হলুদবাটা মাখাই তো…..তোর মনে আছে আরতি আমাদের স্কুলের সেই মণিকা দিদিমণিকে….

মায়েদের গল্প অন্যদিকে ঘুরে যেতেই জল খাওয়ার অজুহাতে উঠে চলে এসেছিল মুন্নি | তারপর নিজের ঘরে এসে চুপচাপ শুয়ে ছিল |পরের দিন স্কুলে অঙ্ক পরীক্ষা | এর আগের পরীক্ষায় পুরো ক্লাসের মধ্যে সবথেকে বেশি নম্বর পেয়েছে সে | দিদিমণি অনেক আদর করেছিলেন | এবারও মুন্নি মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিল এমনভাবে অঙ্ক প্র্যাকটিস করবে যাতে একটাও ভুল না হয় | কিন্তু আরতিমাসির কথা শুনে মনটা এমন বিগড়ে গেল যে অঙ্ক করতেই ইচ্ছে করছে না | মুখের ভিতরটা কেমন যেন তেতো লাগছে | খানিকক্ষণ এপাশ-ওপাশ করে উঠে পড়ে মুন্নি | ভাবে ছাদে একটু ঘুরে আসবে | তাতে যদি মাথাটা ঠান্ডা হয় | ঘরে পরার চটিটার খোঁজে এদিক ওদিক তাকাতে গিয়ে হঠাৎ চোখ পড়ে খাট আর পড়ার টেবিলের মাঝের খাঁজে ঢুকিয়ে রাখা ঠাকুমার আয়নাটার দিকে | মুন্নির মুখের ছায়া পড়েছে আয়নাতে | নিচু হয়ে চটি খুঁজছিল মুন্নি | আয়নায় তাই লো আঙ্গেলে ধরা তার মুখ | ভুরু দুটো মনে হচ্ছে তুলি দিয়ে আঁকা | শ্রাবণ মাসের বিকেলে মেঘ কেটে আকাশ ভরে গেছে কমলা রঙের আলোয় | কোন চোরাপথে সেই আলো এসে পড়েছে আয়নার কাচে | সেই গোধূলি আলোয় তার মুখের রঙ যেন হলুদ গোলাপের মত | মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে মুন্নি | একটু পরে মায়ের ডাকে ঘোর ভাঙে | আরতিমাসি চলে যাবেন ‚ তাই মা তাকে ডাকছেন | নিচে নেমে দিব্যি মাসির সঙ্গে কথা বলে ‚ হাত নেড়ে চলে আসে মুন্নি | ফুরফুরে মেজাজে পড়ার টেবিলে অঙ্ক করতে বসে | ওই বিচ্ছিরি মন খারাপ করা ব্যাপারটা থেকে বেরোনর রাস্তাটা তার ততক্ষণে জানা হয়ে গেছে |

মাধ্যমিকের রেজাল্ট বেরিয়েছে | অঙ্ক আর বিজ্ঞানের সবকটা বিভাগ সব থেকে বেশি নম্বর পেয়েছে কৃষ্ণকলি |মুন্নির রেজাল্ট দেখে স্কুলের দিদিমণিরা তো বেজায় খুশি |বাড়িতেও আনন্দের হাওয়া | মা সবাইকে টেলিফোন করে করে রেজাল্ট শোনাচ্ছেন | বাবা মুখে বিশেষ কিছু না বললেও খুবই যে খুশি হয়েছেন সেটা মুখ দেখেই দিব্যি বোঝা যাচ্ছে | ইন্টারনেটেই রেজাল্ট জানা হয়ে গেছিল | দুপুরের পর স্কুল থেকে মার্কশিট নিয়ে ফিরল মুন্নি | তারপর বিকেলে চা খেতে বসে আলোচনা শুরু হল মুন্নি কী পড়বে ‚ কী কম্পিনেশন নেবে এইসব নিয়ে | বেশ খানিকক্ষণ আলোচনার পর বাবা বললেন ‚

সবই তো হল ‚ এখন মেয়েটা যে এত ভাল রেজাল্ট করল ‚ তার তো একটা গিফট পাওনা হয় | কী নিবি বল মুন্নি ?

একটা ভাল হার গড়িয়ে দাও না| মেয়ে বড় হয়েছে | সেজেগুজে কোথায় গেলে পরে যেতে পারবে |
কীরে মুন্নি গয়না নিবি ?মেয়ের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেন বাবা | মাথা নাড়ে মুন্নি |

তাহলে কী নিবি বল ?

আমার কোনও গিফট এখন চাই না | কিন্তু আমার অন্য একটা জিনিস চাওয়ার আছে|

কী শুনি ?

মুন্নি একটু চুপ করে থেকে বলে‚

উচ্চমাধ্যমিকে আমার রেজাল্ট যেমনই হোক না কেন ‚ আমাকে হোস্টেলে থেকে পড়তে দিতে হবে |

তার মানে ? বাবা তো অবাক ‚

উচ্চমাধ্যমিকে তোর ভাল রেজাল্ট হবে না তুই ধরে নিচ্ছিস কেন ?

না না ‚ তা বলছিল না | আমি প্রাণপণে চেষ্টা করব যাতে রেজাল্ট ভাল হয় | হবেও নিশ্চয় | কিন্তু যদি ধর কোনও কারণে খারাপ রেজাল্ট হয়ে যায় ‚ তখন্………| আমি যে সাবজেক্ট নিয়েই পড়ি না কেন ‚ যাই-ই পড়ি না কেন ‚তুমি শুধু কথা দাও আমাকে হোস্টেলে পাঠিয়ে দেবে |

এ আবার কি অলুক্ষুণে কথা মুন্নি! তোর কি বাড়িতে থাকতে ভাল লাগে না?

মায়ের প্রশ্নের কোনও উত্তর দেয় না মুন্নি | শক্ত মুখে চুপ করে | মা কিন্তু থামেন না ‚

এত আদরযত্ন ‚সারক্ষণ তোমার পিছনেই লেগে আছি ‚ কী করে আরও একটু ভাল হয়্….|

মায়ের কথার মাঝখানেই বাধা দিয়ে মুন্নি বলে ওঠে ‚

ওইজন্যই তো ভাল লাগে না | অত আদরযত্নের আমার দরকার নেই |

তা তো বলবেই | রূপ যেটুকু সে তো আমার জন্যই | নাহলে তো…|
মায়ের গজগজানি চলতে থাকে | মুন্নি আর কোনও কথা বলে না | বাবাও বেশ খানিকক্ষণ চুপ করে কী যেন বোঝার চেষ্টা করেন ‚ তারপর বলেন,

ঠিক আছে | তাই হবে | তবে আমি আশা করব ‚ তুমি ভাল কোনও কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্যই চেষ্টা করবে |

উচ্চমাধ্যমিকের দুটো বছর কেমন যেন ঘোরের মধ্যে কাটে মুন্নির | পড়ার চাপ যথেষ্ট | কিন্তু সেটাই সব নয় | সে যেন কেমন একটা পড়াশোনার মধ্যে ডুবে গেছে | ঘন্টার পর ঘন্টা অঙ্ক করে যায় | ফিজিক্সের কঠিন কঠিন প্রবলেম অনায়াসে সলভ করে | কেমিস্ট্রির লম্বা লম্বা রিআকশন দিব্যি মনে রাখে | বন্ধুদের সঙ্গে গল্পগুজব ‚ টুকটাক সিনেমা দেখা ‚ গান শোনা এসব আছে ঠিকই | কিন্তু তার মাঝেও পড়াশোনাটাই যেন তার ধ্যানজ্ঞান | আর একটা জিনিস অবশ্য একদম বন্ধ হয়ে গেছে ‚ সেটা হল রূপচর্চা |
উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার পর সুতনুকা হাজার চেষ্টা করেও আর মেয়েকে একদিনের জন্য কোনওরকম রূপটান মাখাতে পারেননি |ফলে সারাক্ষণই তাঁর মনে হয় মুন্নির মুখটা খসখসে হয়ে যাচ্ছে ‚ চুল ম্যাড়মেড়ে হয়ে যাচ্ছে ‚ চেহারায় যেন কোনও জৌলুস নেই | কিন্তু মেয়ের তাতে কিছু তাতে কিছু আসে যায় না | মায়ের হাজার রকম সাবধাবাণীতে সে কান পর্যন্ত দেয় না |

এন্ট্রান্স পরীক্ষাগুলোর ফল বেরোতে শুরু করল | আইআইটি-র লিস্ট বেরোতে দেখা গেল ‚নাম রয়েছে মুন্নির | র্যা ঙ্কও বেশ ভালই | দিল্লিতে পাবে | আবার পছন্দসই সাবজেক্ট নিয়ে খড়গপুরে ভর্তি হতেও অসুবিধা নেই |

খড়গপুরেই ভর্তি হবি তো ? বাড়ির কাছে | আসা-যাওয়া করতে অসুবিধা নেই |

বাবার প্রশ্নের উত্তরে মুন্নি শান্তভাবে জানিয়ে দেয় ‚

যদি সেকেন্ড চয়েসও পাই ‚ তাহলেও দিল্লিতেই পড়ব |

আর যদি যাদবপুর পাস ? বাবার গলা কেমন একটু করুণ শোনায় |

ওটা নিয়ে আমি ভাবছিই না | তুমি তো আমাকে কথা দিয়েছিলে….

হাঁ নিশ্চয় | তুই যেখানে চাইবি সেখানেই ভর্তি করব |

বেঙ্গল জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোল সকালবেলা | নিজের কোনও আগ্রহ ছিল না বলে টেলিভিশনটা খোলেনি মুন্নি | কিন্তু একটু পরেই মুহুর্মুহু ফোন বাজতে লাগল বাড়িতে | আত্নীয়-স্বজন ‚ বন্ধুবান্ধব সবাই ফোন করছে | করবেই তো | ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবার প্রথম হয়েছে কলকাতার কৃষ্ণকলি মিত্র | খবরটা শুনে মুন্নি বেশ একটু থতমত | ভাল রেজাল্ট হবে ভেবেছিল | কিন্তু একেবারে ফার্স্ট তো ভাবেনি |

একটু পরেই ঘর ভরে গেল ক্যামেরা ঘাড়ে নেওয়া সাংবাদিকদের দলে | নানা রকম প্রশ্ন | উত্তরও নানা রকম | শুধু একটা উত্তর সব ক্ষেত্রেই এক ‚ ফার্স্ট হলেও কলকাতায় পড়বে না মুন্নি | ভর্তি হবে আইআইটি দিল্লিতে |

সাংবাদিকের দল ঘিরে ধরেছে মুন্নিকে | ঘন ঘন ক্যামেরার শাটার টেপার শব্দ | আলো ঠিকঠাক পাওয়া যাবে বলে বারান্দায় চলে গেছে সবাই | ঘরে বসে দেখতে মায়ের মনে হল্‚
ইস ‚ এত গুণের মেয়েটা | এত ভাল রেজাল্ট করল | এত ছবি উঠছে | কাল নিশ্চয় সব কাগজের ছবি ছাপা হবে ….| শুধু যদি দেখতে একটু ভাল হতো..

ভাবতে ভাবতে বারন্দার দিকে চোখ চলে যায় মায়ের | একটা বেতের চেয়ারে বসে আছে মুন্নি | বাইরের শিরীষগাছের পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো আলতোভাবে এসে পড়েছে | চমকে উঠে সুতনুকা দেখেন, আরে! মেয়ে তো তাঁর দারুণ সুন্দরী | ঝকঝক করছে বুদ্ধিদীপ্ত দুই চোখ | হেসে হেসে কথা বলছে | ঠোঁটের ভাঁজে, গালের টোলে ঝিকিয়ে উঠছে লাবণ্য | কপালের ওপর নেমে আসা অল্প একটু ঝুরো চুলে মুখখানা অপরূপ মায়াময় | কবে থেকে এত সুন্দর দেখতে হল মুন্নিকে ? অবাক হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ভাবেন সুতনুকা | মনের ভিতর তাঁর উথাল-পাথাল হতে থাকে |

ইন্টারভিউ হয়ে গেছে | বেশিরভাগ সাংবাদিকই চলে গেছে | একটা দল অবশ্য এখনও বসে আছে | তারা মুন্নিকে স্টুডিওতে নিয়ে যাবে | সেখানে একটা লাইভ ইন্টারভিউ নেওয়া হবে | তাদের সঙ্গে যাওয়ার জন্য পোশাক বদলে মুন্নি ঘরে ঢুকতে সাংবাদিক মেয়েটি বলে‚

একটু সাজগোজ করে নাও | প্রথমবার টেলিভিশনে বসবে তো …|

দরকার নেই |

মুন্নি কিছু বলার আগেই দৃঢ় গলায় বলে ওঠেন সুতনুকা | একটু হেসে আবার বলেন ‚

দরকার নেই | আমার মেয়ে এমনিতেই ভারি সুন্দরী | ওর সাজতে লাগে না |

অবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকায় মুন্নি | মেয়েকে জড়িয়ে ধরে মা কানে কানে বলেন ‚
কাঁচা হলুদ ‚বেসন আর ওইসব হাবিজাবি কৌটোগুলো আমি আজই ডাস্টবিনে ফেলে দেব বুঝলি | যাদবপুরেই ভর্তি হয়েছে মুন্নি | মাকে ছেড়ে থাকতে বড্ড মন খারপ করবে বুঝে শেষপর্যন্ত মত বদলাতে হয়েছে | মেয়ের কথা শুনে বাবা অবশ্য একটু মুচকি হেসেছেন | প্রথমদিন কলেজ যাওয়ার আগে অভ্যাসমত বাথরুমের ঝাপসা আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়েই চুল বাঁধছিল মুন্নি | হঠাৎ কী মনে হতে ঘরে এসে ঠাকুমার দোলনা আয়নাটা বার করে টেবিলের ওপর রাখে | তারপর তার সামনে দাঁড়িয়ে পরিপাটি করে চুলটা বাঁধে | আজ আর কোনও অজানা উৎস থেকে আলো এসে পড়ছে না আয়নায় | মুন্নিকে যেমন দেখতে ঠিক তেমনটিই দেখাচ্ছে | চুল বাঁধা শেষ করে জামাকাপড় পরে নেয় |তারপর ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বেরোনর আগে আবার আয়নাটার সামনে এসে দাঁড়ায় মুন্নি | তারপর ভারি মিষ্টি করে হেসে বলে‚ থ্যাঙ্কিউ ঠাকুমা |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.