‘বসু পরিবার’ ছবির আদল কি আসলে সত্যজিৎ রায়ের সেই ছবিটার মতো?

Basu Paribar Review

‘বসু পরিবার’ ছবিটা নিয়ে খবরের কাগজে যে সমস্ত প্রমোশনাল রাইট-আপ ছেপে বেরিয়েছে, ছবি দেখতে যাওয়ার আগে পাতা উলটোচ্ছিলাম তার। দেখলাম, কোথাও কোথাও এই ছবিটার তুলনা টানা হচ্ছে ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘উৎসব’ (২০০০) ছবির সঙ্গে। কারণ? ‘উৎসব’ও ছিল বিশেষ একটা উৎসবের দিনে পরিবারের ছড়িয়ে-থাকা মানুষগুলোর এক ছাদের তলায় আসার স্টোরি, আর দেখতে গেলে, এক হিসেবে ‘বসু পরিবার’ও কিছুটা প্রায় তাই।

এদিকে পরিচালক সুমন ঘোষ আবার মূল ভাবনার পুরো ক্রেডিট দিয়ে রেখেছেন লেখক জেমস জয়েসকে। তাঁর ‘ডাবলিনার্স’ (১৯১৪) বইতে একটা নভেলা ছিল ‘দ্য ডেড’ নামে। সিনেমার এন্ড ক্রেডিটের একেবারে শুরুতেই দেখলাম আসছে জয়েসের সেই নভেলার নাম।

এখানে এটা বলে রাখি যে, ছবির গল্পের বেসিক ছাঁচ কিছুটা ‘দ্য ডেড’ গল্পের মত ঠিকই। কিন্তু ছবিটা দেখতে গিয়ে একবারও আমার মনে হয় নি এর সঙ্গে ‘উৎসব’ ছবির মিল আছে খুব কিছু।

বরং শুরুর থেকে শেষ পর্যন্ত গল্প বলার প্যাটার্ন আর ক্যারেকটারদের রকম দেখে মনে পড়ে যাচ্ছিল সত্যজিৎ রায়ের তৈরি করা একটা ছবির কথা!

মনে হচ্ছিল, সুমন যেটা বানিয়েছেন, সেটা ‘বসু পরিবার’-এর স্টোরি। আর কিছুটা এই আদলেই সত্যজিৎ বলে গেছিলেন মজুমদার পরিবারের স্টোরি!

সুমনের গল্পে দেখতে পাচ্ছি, বাড়ির কর্তার পঞ্চাশ বছরের ম্যারেজ অ্যানিভার্সারিতে পৈতৃক ভিটেয় এসে পৌঁছচ্ছে ছেলেপুলেদের দল। আর সত্যজিতের ছবিতে ছিল, বাড়ির কর্তার সত্তর বছরের জন্মদিনের কথা। হ্যাঁ, নিজেদের কর্মব্যস্ত জীবন ছেড়ে সেই দিনটায় ছেলেপুলে কেউ তাঁর কাছে আসতে পারে নি ঠিকই, কিন্তু ঠিক সেদিনই বেলার দিকে কর্তার যখন হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়, তখন কলকাতা থেকে লং ড্রাইভ দিয়ে তো এসে পড়ল সবাই।

এতক্ষণে বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়, সত্যজিতের কোন ছবির কথা বলতে চাইছি আমি। তাঁর শেষ জীবনে তৈরি ছবি, ‘শাখা প্রশাখা’ (১৯৯০) নাম।

প্লিজ এটুকু পড়ে এটা কেউ ভেবে নেবেন না যে, ঘুরিয়ে এটা বলতে চাইছি ‘শাখা প্রশাখা’ থেকে নিজের ছবিটা কপি করেছেন সুমন। পাশাপাশি দুটো ছবি চালিয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন, ছবি হিসেবে একেবারেই আলাদা গল্প দুটো। তবু ‘শাখা প্রশাখা’র কথা এতটা মনে পড়ছে, সেটা হয়তো এই কারণে যে, দুটো ছবির গল্প বলার আদল কিছুটা এক।

আপনি নিজেও এক এক করে মিলিয়ে দেখতে পারেন! দেখুন না, ‘শাখা প্রশাখা’র প্রবীণ পুরুষ আনন্দমোহন যে ঠুনকো গর্ব নিয়ে বেঁচে থাকছিলেন, তাঁর সেই সব গর্ব ভেঙে চুরমার হয়ে গেল ছবির শেষ সিনটায় এসে। আর এই ধাক্কাটা এল ছেলেদের দিক থেকে। এবার ‘বসু পরিবার’ দেখুন। বাড়ির প্রবীণ কর্তা প্রণব (সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়) আর মঞ্জরীর (অপর্ণা সেন) সব গর্ব আর আনন্দের মুখেও যেন কালি পড়ে যায় ছবির শেষ সীমানায় এসে। আর এই ধাক্কাও এসে পৌঁছয় কার্যত ওঁদের নেক্সট জেনারেশন থেকে।

এই ঘটনাগুলো এর চেয়ে বেশি ডিটেলে আর লিখছি না কারণ, না হলে গল্পের লুকনো সব চমকগুলো ফাঁস হয়ে যেতে পারে।

‘শাখা প্রশাখা’ দেখলে আপনি দেখতে পাবেন, সিনেমা যত এগিয়েছে, সংলাপের মধ্যে দিয়ে আস্তে আস্তে আসল চেহারা বেরিয়ে এসেছে আনন্দমোহনের ‘সফল’ দুই ছেলের। প্যাটার্নটা ‘বসু পরিবার’এও তাই। গল্প যত এগোবে, আপনি দেখতে পাবেন এক-এক করে বেরিয়ে আসছে প্রণববাবুর নেক্সট জেনারেশনের লুকিয়ে রাখা গোপন কথাগুলো।

প্রায় তিরিশ বছরের ফারাকে তৈরি দুটো ছবিই চেম্বার ড্রামার ছাঁচে ফেলে বানানো। দুটো ক্ষেত্রেই গল্পের পটভূমি হল, কলকাতা থেকে কিছু দূরে বিশাল এক প্রাসাদোপম বাড়ি। যেটা একসময় সরগরম থাকত খুব, কিন্তু এখন বয়স্ক মানুষ ছাড়া বিশেষ কেউ নেই। সেখানে পরের প্রজন্ম গিয়ে পৌঁছলে ম্যান টু ম্যান ইন্টারঅ্যাকশনে ধীর লয়ে নাটক জমতে থাকে।  

‘শাখা প্রশাখা’র স্ক্রিপ্টটা দেখুন। দেখবেন, আনন্দমোহনের চার ছেলের মধ্যে দুজনের নৈতিকতা ভোগে চলে গেছে পুরো। তৃতীয় জন কোনমতে মাঝরাস্তায় আছে। আর এই এদের সঙ্গে স্ট্রাইকিং কনট্রাস্টে আছে এদেরই চতুর্থ ভাই প্রশান্ত। একটা অ্যাক্সিডেন্টের পর থেকে সে অন্য মানুষ পুরো। কথায় কথায় মনে করিয়ে দেয় জীবনের বড় বড় সব ঠিক আর ভুলের কথা! এবার ‘বসু পরিবার’-এ আসুন। এখানেও দেখতে পাবেন, সো-কল্‌ড সাকসেসফুল ভাই-বোনদের পাশে গল্পে কেমন প্লেস করা আছে ডায়াগনালি অপোজিট কাজিন টুবলুকে (শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়)। সবাই যখন ‘সুখে’র আসরে মত্ত, তখন সেই সুখের মুখে গোঁয়ারের মত সত্যি কথার বিছুটি ঘষছে সে!

আর কাণ্ড দেখুন, ‘শাখা প্রশাখা’র সেই প্রশান্ত আর ‘বসু পরিবার’-এর এই টুবলু, দুজনেরই অবসরের নেশা হল গিয়ে এক! দুজনেরই গানবাজনার শখ! প্রশান্ত আশ্রয় খোঁজে বাখের সুরে, নিজেও গুনগুন করে গায়। আর টুবলু? ছোটবেলায় সজলদার থেকে দোতারা শেখার কথা ভুলতে পারে না আজও, আর ছবির শেষদিকে ওর গলায় যখন ‘ভ্রমর কইও গিয়া’ গানটা শুনতে পাবেন, এমন ইমপ্যাক্ট হবে যে, গায়ে কাঁটাও দেবে হয়তো!

আর কাকতালীয় ব্যাপার কিনা জানি না যে, দুটো ছবিতেই সবচেয়ে টেনশনের মুহূর্তটা তৈরি হয় সবাই মিলে একসঙ্গে খেতে বসার সিনে! ওই সিনেই বেশির ভাগ সত্যি এবং মিথ্যে কথার পরত খুলতে থাকে!

‘বসু পরিবার’ দেখতে দেখতে একেকবার মনে হচ্ছিল, দুটো ছবির গঠনে এই মিলগুলো কি কনশাসলি রাখা? নাকি ‘শাখা প্রশাখা’ এমনভাবে অবচেতনে গেঁথে আছে যে, ‘বসু পরিবার’ লেখার সময় অজান্তেই সেই ছবি এসে সুমনের পেনে ছায়া ফেলে রেখে গেছে?

তবে একটা ব্যাপার সত্যি যে, ‘বসু পরিবার’ এমন একটা স্টার স্টাডেড সিনেমা, যে আর কিছু যদি নাও হয়, শুধু ফিল্ম স্টারদের দেখার জন্যেই হাঁ হয়ে থাকতে হবে বেশ কিছুক্ষণ ধরে। ছবির ফার্স্ট হাফে তো সেরকম বলার মতো ঘটনা কিছু ঘটেই না প্রায়। প্রণব-মঞ্জরীর পঞ্চাশ বছরের বিবাহবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি জারি, আর একে একে সবাই এসে পৌঁছে যাচ্ছে, বেসিক ঘটনা বলতে এটাই। তবু দেখবেন, এর মধ্যে যে সিনগুলোয় অপর্ণা আছেন, এত বছর পরেও তাঁর গ্ল্যামার দেখতে আপনার চোখ আটকে থাকছে স্ক্রিনে!

শুধু সৌমিত্র আর অপর্ণা সেনই বা কেন? চোখ তো জাস্ট আটকে যাচ্ছে যীশু, শ্রীনন্দা বা ঋতুপর্ণার স্ক্রিন প্রেজেন্সটা দেখেও! মহিষাদল রাজবাড়িতে প্রায় হপ্তা দুয়েক এই ছবিটা শুট করেছেন সুমন। বাড়ির মত বাড়ি বটে একটা, সেটা দেখেও জুড়িয়ে যাচ্ছে চোখ। বিশেষ করে একটা সিন তো সারা জীবন মনে রাখার মত। সিনটা হল, রাজা (যীশু) আর রোশনি (শ্রীনন্দা) ওই বাড়িতে এসে ওদের জন্যে অ্যালটেড ঘরে ঢুকছে, আর ঢুকেই থমকে যাচ্ছে পুরো! কেন জানেন? থমকে যাচ্ছে, সেই ঘরের এলাহি পালঙ্কখানা দেখে! সেটা এত উঁচু, যে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হয় সেটায়!

জমিদারবাড়ি নিয়ে এর আগেও বাংলা ছবি হয়ে গিয়েছে ঢের, কিন্তু লুক আর ফিলে এই চমকটা এর আগে কেউ দিয়েছিল কিনা, মনে পড়ছে না কিছু।

এই চোখ ধাঁধানো সিনগুলো মনের মধ্যে একটা আবেশ আনে ঠিকই। ছবিটা শেষ অবধি দ্যাখার পর অদ্ভুত সম্মোহিতও লাগে। কিন্তু এই সম্মোহনটা কেটে বেরিয়ে যদি বেরিয়ে আসেন, যদি যুক্তি দিয়ে ভাবতে পারেন, দেখবেন বেশ কয়েকটা খটকা আসছে মনে।

যেমন ধরুন, রাজা আর রোশনি বিয়ের পরে দীর্ঘ দিন এমন একটা এলাহি বাড়িতে একবারও আসে নি কেন, সেই ব্যাখ্যাটা এই ছবিতে একবারও তো নেই! রাজা তো এই বাড়িরই ছেলে! বিয়ের পর দীর্ঘ বছর আমেরিকায় কাটিয়ে দিল জাস্ট? বরের মা-বাবা যে বাড়িতে থাকে, সেই বাড়িটা দেখবে বলে একটা দিনও শ্বশুরঘরে এল না ওর বৌ? এবং এতদিন যদি নাই এসে থাকে, তাহলে হঠাৎ এই ম্যারেজ অ্যানিভার্সারিতেই বা ওদের আসতে হল কেন? শুধু বাবা আবেগ ঢেলে একটা চিঠি লিখলেন বলে?

লজিক আছে কিছু?

তারপর ধরুন আরেকটা কথা বলি। ওই সিনটা ভাবুন, যেখানে স্টাফ্‌ড করে রাখা শিকার-করা পশুর ঘরে তনু (কৌশিক সেন), ওর বৌ পম্পি (সুদীপ্তা চক্রবর্তী), আর এই বাড়ির মেয়ে প্রিয়া (ঋতুপর্ণা) গিয়ে ঢোকে। তনু আর প্রিয়া কাজিন ভাই-বোন। ওদের সংলাপ থেকে শুনতে পাবেন, চৌদ্দ-পনের বছর বয়সে এই ঘরটাতেই খেলতে আসত দুজন ওরা। আর তারপর নাকি এই ঘরে বেশ খানিকক্ষণ দরজা বন্ধ করে প্রিয়াকে আটকে রাখে তনু। এই অবধি শোনার পর যে সাসপেন্সটা তৈরি হবে, সেটা একেবারে ছানা কেটে যাবে ঘটনার কারণ শোনার পরে।

ডিটেল এখানে লিখছি না কারণ তাহলে একটা বিশেষ ক্যারেক্টারের বিশেষ একটা গোপন কথা ফাঁস করে দেওয়া হবে। কিন্তু ডিরেক্টরের কাছে এটা জানতে ইচ্ছে করে যে, এই সিনটা লেখার সময় রিয়্যালিটি নিয়ে একটুও ভেবেছিলেন কি, সুমন? ঘরে আটকে রাখার যে কারণটা দেখান হল, ওদের আট-নয় বছর বয়স হলে ঠিকঠাক হত তাও! চৌদ্দ-পনের বছরে ওরকম একটা ব্যাপার কিছুটা আজব শোনাল না?

এ ছবির বেসিক গোলমাল বলতে গেলে এটাই। ছবিটা প্রতি মোমেন্টে বলতে চাইছে, এই যে এত ঝকমকানি, এর মধ্যে রহস্যে ঘেরা ঘোর আবছায়া আছে। কিন্তু মুশকিল হল, শেষে গিয়ে সেই রহস্য যখন খোলসা হচ্ছে, তখন মনে হচ্ছে, ও হরি, এটা রহস্য নাকি ক্লিশে টাইপের কচু!

ছবির মেন ফোকাস যেখানে, সেটার কথাই ধরুন। শুরুর একটু পর থেকেই শুনতে পাবেন, এলাহি এই রাজবাড়ির পেছনে আছে পুরনো একটা ভাঙা রাজবাড়ি। আর সেখানে নাকি সবার যাওয়া মানা। এদিকে আবার পুরনো সেই বাড়ির দিকে যাওয়ার জন্যেই রোশনি বা টুবলুর যত টান! সেখানে গিয়ে রোশনি দেখতে পায় উলো-ঝুলো পাগলপনা একটা লোক বিড়ি ফুঁকছে বসে। টুবলুর কথা থেকে জানা যায়, তিনি প্রহ্লাদ কাকা (অরুণ মুখোপাধ্যায়)। মাসের শুরুতে প্রণবের থেকে পাঁচশো টাকা মাসোহারা পান তিনি। এবং এভাবেই তিনি প্রায় পোড়ো বাড়িতে বছরের পর বছর ধরে আছেন। বাইরের কারুরও যেমন ওখানে যাওয়া মানা, প্রহ্লাদ কাকারও তেমন বাইরে আসা মানা!

এটা শুনে মনের মধ্যে দেখবেন ঘোড়ার দৌড় শুরু হয়ে গেছে প্রায়! যে, না জানি এর মধ্যে কী রহস্য আছে! রহস্য যে কী আছে সেটা লিখছি না, কিন্তু লাস্ট সিনে যখন পুরোটা গিয়ে খোলসা হল, আমার তখন মাথায় হাত প্রায়! ইংরেজিতে একেই কি জল-ঢেলে-দেওয়া ‘অ্যান্টি ক্লাইম্যাক্স’ বলে!

ছবি দেখুন, দেখে আপনি নিজেও ভাবুন, প্রহ্লাদকাকার এখনও ওভাবে ‘একঘরে’ হয়ে থাকার কারণ যেটা দ্যাখান হল, সেটা একটুও বাস্তবোচিত কিনা।

ছবির এই জায়গায় পৌঁছে মনে হচ্ছিল, জোর করে আজকের এই বাঙালি জীবনে একশো বছর আগে লেখা ডাবলিনের সেই গল্প এনে ফিট-ইন করতে গিয়েই যত গোলমাল হয়ে গেছে!

আরেকটা কথা বলুন আমায় সুমন। বছরের পর বছর ধরে সংসার জীবন যাপন করেও নিজের বরের যৌন-রুচির খবর রাখেন না স্ত্রী? আর এত বছর তিনি যেটা জানতে পারেন নি, হঠাৎ একদিন নেমন্তন্ন বাড়িতে এসে আড়ি পেতে বরের কথা শুনে তার পুরোটা জানতে পেরে গেলেন? এটাও বা আদৌ কতটা রিয়্যাল শুনতে লাগে?

বা, খাবার টেবিলে ওই যে হঠাৎ বাড়ির কর্তার ওপর তুমুল দাপটে চেঁচাতে থাকে টুবলু, দেখে তো তখন মনে হচ্ছিল, ও বাবা, বর্ষীয়ান প্রণববাবুই বোধহয় এই দুনিয়ার যত নষ্টের গোড়া! কিন্তু ছবিটা শেষ অবধি দ্যাখার পর তো বোঝা গেল, রহস্যময় ঘটনা যেটা ঘটে গেছিল, সেটায় আর যাই হোক, প্রণববাবুর হাত ছিল না কিছু! এখন তাহলে এটা মনে হবে না যে, টুবলুর অত চেঁচামেচি আর বিপ্লবের মানে কী দাঁড়াল, স্যর?

এবং এত বাঙালি বাঙালি গন্ধ মাখা ছবি, সেটার শুরুর ক্রেডিটে বাংলা বানানে এরকম সব অসতর্ক ভুল? ’নির্মাণ’ শব্দটা লেখা হচ্ছে ‘নির্মান’! ‘অনির্বাণ’ শব্দটা লেখা হচ্ছে ‘অর্ণিবান’! ইংরেজিতেও অবশ্য প্রায় তথৈবচ হাল। যাঁর বাংলা নামের বানান ‘সাবর্ণী’, একই ফ্রেমে ইংরেজিতে তাঁর নাম লেখা হয়ে গেল ‘শ্রাবণী’ বলে!  

এর আগে সুমন ঘোষ বেশ কয়েকটা ছবি করেছেন। ওঁর তৈরি ‘পদক্ষেপ’ (২০০৬) বা ‘দ্বন্দ্ব’র (২০০৯) মতো ছবি দেখে নেহাত মন্দ লাগেনি আমার। আর রীতিমত মুগ্ধ হয়ে গেছিলাম ‘নোবেল চোর’ (২০১২) বা ‘পিস হাভেন’ (২০১৬) দেখে উঠে।

কিন্তু বাজারে সুমন ঘোষের যে ছবিটা নাম করেছিল সবচেয়ে বেশি, সেই ‘কাদম্বরী’ (২০১৫) দেখে ঠিক হজম হয়নি আমার। মনে হচ্ছিল, এত ঝলমলানো সিন, এত উপচে পড়া গ্ল্যামার, এত নামী-দামি সব স্টার, কিন্তু এর মধ্যে আসল সেই ঠাকুরবাড়িটা কোথায়?

‘বসু পরিবার’ দেখেও প্রায় সে রকম মনে হল।

একুশ শতকের ফার্স্ট কোয়ার্টার কাটতে চলল প্রায়। আপনি বলুন এই বাজারে একতরফা গোপন প্রেম আর পাশাপাশি হাঁটতে গিয়ে বিকেলবেলার গলা সাধাকে কি পাপ বলে মনে হবে? উলটে বরং মনে হতে পারে এ যেন সেই Much Ado About Nothing মার্কা কেস!

সীমিত অভিজ্ঞতায় এটুকু জানি যে, বাঙালি বাড়ির আলমারিতে লুকিয়ে রাখা থরে থরে পাপ আছে। সুমন ঘোষ কি জানাতে পারেন, সত্যিকারের সেই পাপগুলো সিনেমায় কেন নেই?

2 COMMENTS

  1. সব সময় কি আপনি আপনার জ্ঞানেের পরিধি জানাতে ব্যস্ত। সহজ সরল ভাবে একটা ছবির সমালোচনা করতে পারেন না? পরিচালকের mind read করার প্রবনতা একটু ত্যাগ করুন এবার।

  2. ঠিক কথা । প্রচণ্ড ভাট বকেন । এই পারিবারিক ছবিটা দেখে মনে হলো অঞ্জন চৌধুরী তো এর থেকে ভালো ছবি বানাতেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.