রাগ হলে জিনিসপত্র ভেঙে ফেলার অভ্যেস রয়েছে ? মানে হাতের কাছে যা পান, তাই ছুড়ে ভেঙে ফেলার অভ্যাস রয়েছে আপনার ? তাহলে বেজিং-এর এই গোসা ঘর আপনার জন্য একেবারে আদর্শ। জিনিসপত্র ভেঙে রাগের বহিঃপ্রকাশের জন্য আস্ত একটি সংস্থাই রয়েছে চিনের বেজিং শহরে। স্কুলে বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মারামারি হোক বা প্রেমিক প্রেমিকার উপর রাগ বা হতে পারে বসের উপর তীব্র বিরক্তি। স্ট্রেস থেকে মুক্তি পেতে এখানে এসে যা খুশি ভাঙচুর করতে পারেন। টিভি, অডিও স্পিকার, প্রেসার কুকার, বোতল এবং এমনকী ভাঙতে পারেন ম্যানিকুইনও !

বেজিং-এর ‘অ্যাঙ্গার রুম’-এ বেশ কিছু টাকার বিনিময়ে যা খুশি ভেঙে রাগ ঝেড়ে ফেলার অনুমতি রয়েছে। জিনিসপত্র ভাঙার সময়ে কেবল পরে নিতে হবে প্রতিরক্ষামূলক পোশাক এবং হেলমেট। তারপর হাতুড়ি, ব্যাট, দিয়ে জিনিস ভেঙে ফেলতে পারেন অনায়াসেই। আপনার রাগ ও হতাশা প্রকাশের সময়ে মানানসই গানও চালিয়ে দেবেন ‘অ্যাঙ্গার রুম’-এর মালিকরা ।

বছর ১৬-র এক হাইস্কুল ছাত্রীর কথায় রাগের বহিঃপ্রকাশের জন্য তাঁর কাছে এই ‘স্ম্যাশ’ সংস্থা একেবারে আদর্শ । সে জানিয়েছে যখন সে নিজের হাতে কাচের বোতলগুলি ভেঙে ফেলে তখন খুব আরাম বোধ হয় । বছর ৩২-এর আর একজন গ্রাহক-এর কথায়, কারওর যদি টাকা থাকে তাহলে সে তাঁর ইচ্ছেমতো যা খুশি ভাঙচুর করতে পারেন । টেলিভিশন, কম্পিউটার, ওয়াইনের বোতল, আসবাবপত্র, এমনকী ম্যানিক্যুইনও ভাঙতে পারেন, তবে কোনও মানুষকে আহত করা যাবে না ।

সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে প্রতি মাসে প্রায় ৬০০ মানুষ এখানে আসেন তাঁদের রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে। একবার এক মহিলা সেখানে এসেছিলেন তাঁর বিয়ের সমস্ত ছবি নিয়ে। সব ছবি এখানে এনে তিনি ছিঁড়ে ফেলেন। বৈবাহিক জীবনে অশান্তির জেরেই এমনটা ঘটিয়েছেন বলে মনে করছে সংস্থা। সংস্থার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, বেজিং-এর ‘অ্যাঙ্গার রুম’-এ যাঁরা আসেন তাঁদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ৩৫-এর মধ্যে।

Banglalive-8

সেপ্টেম্বর মাসে এই উদ্যোগটি চালু হওয়ার পর, হিসেব করে দেখা গিয়েছে প্রতি মাসে গ্রাহকেরা প্রায় ১৫০০০ বোতল ভাঙেন । বছর ২৫-এর জিন মেং তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে মিলে এই ‘স্ম্যাশ’ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। জিন জানান, হিংসা প্রচারের উদ্দেশ্যে নয় তাঁদের লক্ষ্য হল বেজিংয়ের মতো বড় শহরগুলিতে বসবাসকারী মানুষের মানসিক চাপ মোকাবিলায় মানুষকে সাহায্য করা । ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগটি যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে । বেজিং-এর পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বেশকিছু দেশে এই উদ্যোগ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

Banglalive-9
আরও পড়ুন:  নারী দিবস না থাকলেও পুলিশের ঘোড়ার লাগামে রাশ টানতে রণরঙ্গিনীর অভাব হয়নি

NO COMMENTS