প্রেমে শরীর উঁকি দেয় না : বিশ্বনাথ বসু

গ্রামের ছেলে বিশ্বনাথ | আজ বাংলা বিনোদনের জগতে পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম | প্রাণখোলা আড্ডা দিলেন তন্ময় দত্ত গুপ্তর সঙ্গে |

আপনার স্ট্রাগল পিরিয়ডে আপনার মা নাকি আপনাকে বলেছিলেন — এক থালা ভাত হজম করতে পারিস,লোকের কথা হজম করতে পারিস না?

বিশ্বনাথ বসু : আমাদের কোনও অভাব ছিল না।আবার খুব সচ্ছলও ছিলাম না।বাবা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদে চাকরি করতেন।আমি গ্রামের ছেলে।অল্প পয়সায় গ্রাম্য জীবনযাপন মন্দ নয়।গ্রামে শহরের মতো রেস্টুরেন্ট নেই।শহুরে সুবিধার অনেক কিছু নেই।সুতরাং মানুষ খরচা করবে কোথায়?কিন্তু প্রশ্নটা অন্যখানে।

কোনখানে?

বিশ্বনাথ বসু : মানুষের কোনটা প্রয়োজন আর কোনটা প্রয়োজন অতিরিক্ত চাহিদা —সেটা ওই বয়সে বোঝার ক্ষমতা ছিল না।কিন্তু একটা জিনিস বুঝেছিলাম।সিনেমা একটা জনপ্রিয় মাধ্যম।এবং ওখানে গেলে আমি জনপ্রিয়তা পেতে পারি।আবার পয়সাও পেতে পারি।ছোটবেলা থেকেই আমার জনপ্রিয়তার ভয়ানক লোভ ছিল।এই জনপ্রিয়তা কিন্তু সদর্থক জনপ্রিয়তা।

আচ্ছা।তা এই সদর্থক জনপ্রিয়তার গণ্ডীটা ঠিক কী?

বিশ্বনাথ বসু : আমি বলতে চাইছি আবৃত্তি প্রতিযোগিতা,অভিনয়,বক্তৃতা প্রতিযোগিতা,তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে নিজেকে মেলে ধরা।

আপনার বাবার সিকিওরড চাকরিআর আপনার পেশা ইনসিকিওরড।শুরুর দিকে ভয় করেনি?

বিশ্বনাথ বসু : এই পেশাটা ইনসিকিওরড বলেই আমি গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে আসার আগে কোনওরকম বন্ধন তৈরি করিনি।ছোটবেলা থেকেই রামকৃষ্ণ মিশনে খুব যাতায়ত ছিল।জীবনে প্রেম এসেছিল।সেই প্রেম ছিল কিছুদিন।আবার চলেও গেলো।তারপরে কিন্তু আর প্রেমকে আহ্বান করিনি।

কেন?

বিশ্বনাথ বসু : করলেই তো কমিটমেন্ট চলে আসবে।বিয়েও একটা বন্ধন।সেই বন্ধনকে বাঁচিয়ে রাখার মতো অর্থনৈতিক অবস্থা আমার ছিল না।এরপরেও অনেক বান্ধবী আমার ওপর ইন্টারেস্ট দেখিয়েছে।কিন্তু আমি সরে এসেছি।আমি ভেবেছিলাম যে আগে আমার পেশা তৈরি করব,তারপর জীবন তৈরি করব।

বাবা খুব সহজেই কি আপনাকে এই পেশায় এ্যালাও করেছিলেন?

বিশ্বনাথ বসু : না।বাবা সেই মেজাজের মানুষই ছিলেন না।বাবা আর আমি দুজনেন যখন ব্যারাকপুরের বাড়িতে থাকতাম,তখন বাবা লক্ষ্য করেছিলেন যে এই পেশার ওপর আমার খুব টান।বাবা মুখে কিছু বলেননি।ওনার আমার ওপর পরে আস্থা এসেছিল।আমার বাড়িতে টেলিফোন ছিল না।পাশের বাড়িতে ফোন এলে আমার ডাক পড়ত।আমি সব সময়ে টেলিফোন ধরি দেখে অনেকের অনেক চিন্তা এসেছিল।শত হলেও আমার বয়স অল্প।বাবা বললেন – “না ও কোনও অন্যায় করছে না।আমি ফোন দিতে পারিনি বলে ও লোকের বাড়িতে গিয়ে টেলিফোন ধরে।এর বাইরে কিছু না”।

তার মানে বাবা মেনে নিয়েছিলেন?

বিশ্বনাথ বসু : আর একটা ঘটনার কথা বলব।আমার এই জগতে আসার তিন বছর পর এক মাসের ইউ.এস ট্যুর এসেছিল।আমি একটু চিন্তায় ছিলাম।কারণ আমি যদি এক মাস ওখানে কাজ করি,তাহলে এখানে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।আমাদের ইণ্ডাস্ট্রীতে ঘটনার তুলনায় রটনা অনেক বেশি হয়।লোকে একমাস পরে বলতে পারে বিশ্বনাথ আমেরিকায় আছে।ফলে একটা দোটানায় ছিলাম।আমি দুপুরবেলায় বাবার অফিসে ফোন করে সব বললাম।

বাবা কী বললেন?

বিশ্বনাথ বসু : আমার দৈনন্দিনের  নিঃশব্দ রক্তক্ষরণ এর আগে আমার পরিবারের কাউকে জানাই নি।বাবাকে আমি ফোনে বলি —“বাবা আমি একটা সমস্যায় আছি”।বাবা ব— “কী সমস্যা”?আমি পুরো ঘটনা বাবাকে জানাই।বাবা বলে — “ওখান থেকে ফিরে এসে তুমি কাজ জোগাড় করতে পারবে।কিন্তু সুযোগ জোগাড় করা যাবে কি?বাবার এই কথা শুনে আমি আর কিছু বলিনা।বাবা খুব সাহসী মানুষ ছিলেন।

আপনার মা-র ওই এক থালা ভাতের কথার সূত্র ধরেই বলছি।এখন আপনি বিশ্বনাথ বসু হয়ে গেছেন।এখন কি অন্য ফর্মে কোনও বক্রোক্তি শুনতে হয়?

বিশ্বনাথ বসু : আমার স্ট্রাগল পিরিয়ডে আমি অনেক ব্যথা পেয়েছি।আমি নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছি।সুযোগ পাইনি।অভিনেতা শুভাশিষ মুখার্জী না থাকলে আমি হয়ত এই ইণ্ডাস্ট্রীতে কাজ করতে পারতাম না।খরাজ মুখার্জীর মতো শিক্ষক না থাকলে আমি নিজেকে তৈরি করতে পারতাম না।কাঞ্চন মল্লিকের মতো বন্ধু না পেলে বা রুদ্রনীল ঘোষ, কুণাল মিত্রের মতো মানুষ না পেলে অনেক কিছুই হতো না।এ কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি,সময় পরিবর্তনের পরেও বহু মানুষের বহু কথা শুনতে হয়েছে।বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার গভীরতা বেড়েছে।এখন আমি মানুষকে বিচার করি বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে। আমি মনে করি আমাকে আরো সহিষ্ণু হতে হবে।

তাহলে কি প্রতিবাদ সহিষ্ণুতায় রূপান্তরিত হচ্ছে?         

বিশ্বনাথ বসু : একজন মানুষের ঘৃণার নানান দিক আছে।অনেকে বর্জ্য পদার্থে ঘৃণা পায়।কেউ আবার শামুকে ঘৃণা পায়।আমি পাই না।আমি কেচো হাত দিয়ে ধরতে পারি।প্রতিবাদের বিষয়গুলো নির্ভর করে ঘটনার গভীরতার ওপর।এখন কেউ যদি আমার স্ত্রীকে অপমান করে,তাহলে আমি প্রতিবাদ করবই।কেউ যদি আমার মাকে অপমান করে তাহলে আমি নিশ্চিতরূপে প্রতিবাদ করব।আমার অভিনয় কারোর ভালো না লাগলে,আমি বোঝার চেষ্টা করব কেন ওনার ভালো লাগল না।সেখানে আমি প্রতিবাদে যাব না।

তুলসী চক্রবর্তী,ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়,জহর রায় — প্রত্যেকে দিকপাল অভিনেতা।চিরকাল তারা কমেডি চরিত্রে অভিনয় করলেন।সিরিয়াস চরিত্রে তাদের কেউ ভাবল না।বাংলা ছবিতে টাইপ ক্যারেক্টার হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কি আছে?

বিশ্বনাথ বসু : প্রতিটা কোম্পানীর একটা মনোপলি বিজনেস থাকে।মানে বাজারে ভালো এ্যান্টিসেপটিক ক্রিম থাকলেও মানুষ বোরোলিনের দিকেই ঝুঁকবে।ওই মানুষগুলো কমেডিকে এমন পর্যায়ে পৌছে দিয়েছে যে ওটা একটা ব্র্যাণ্ডের মতো হয়ে গেছে।বাংলা সিনেমার পরিকাঠামো দেখলে একটা বিষয় বোঝা যাবে।

কী?

বিশ্বনাথ বসু : উত্তম কুমার নায়ক।সুচিত্রা সেন নায়িকা।বাবা মানেই ছবি বিশ্বাস বা কমল মিত্র বা পাহাড়ি সান্যাল।ভিলেন মানেই বিকাশ রায়।কমেডিয়ান মানেই ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়,জহর রায় বা তুলসী চক্রবর্তী।এই আর কি।আমাদের ভাগ্য ভালো আমরা অনেক রকমের চরিত্র পাচ্ছি।কমলেশ্বর মুখার্জীর প্রথম সিনেমা “উড়ো চিঠিতে” আমি একটা চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম।শিবপ্রসাদ মুখার্জীর “অলীক সুখে” আমি একটা সিরিয়াস রোল করেছি।অর্ক সিনহা বলে একজনের পরিচালিত ছবিতে আমি সিরিয়াস রোলে অভিনয় করেছি।সামনে আমার জীবনের অন্যতম একটি ছবি রিলিজ করবে।যার নাম “বিলের ডাইরি”।

বিবেকানন্দর জীবনের ওপর যে ছবিটা?

বিশ্বনাথ বসু : হ্যাঁ।

বেশ।আপনি গ্রাম থেকে শহরে আসেন।তারপর ধীরে ধীরে ছবির জগতে।শহুরে জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অসুবিধা হয়নি?

বিশ্বনাথ বসু : গ্রাম থেকে শহরে আসার সময় মনের মধ্যে অপরাজিতর অপু লুকিয়ে ছিল।কলেজ স্ট্রীট,কফি হাউস,শক্তি চট্টোপাধ্যায় — এসব আসতে আসতে বুঝতে শুরু করলাম।স্কটিশচার্চে যখন পড়তাম তখন শরতের আকাশ দেখতাম।কফি হাউসে বন্ধু-বান্ধবীর সঙ্গে বসতে বেশ ভালোই লাগত।“কফি হাউসের আড্ডাটা আজ আর নেই” —গানটার মানে আমি বুঝলাম।শক্তি চাট্টুজ্যের কবিতা আমার মনে আলো ফেলল।আমি আনন্দবাজারে দেখেছি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাটক আছে।আমি টিকিট কাটলেইসৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে চোখের সামনে দেখতে পাবো।একটা নতুনত্বের স্বাদ আমার চারপাশে সুগন্ধ ছড়াল।তবুও মাঝে মধ্যেই বাড়ি টানত।

আপনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের থিয়েটারের কথা বললেন।আপনার-তো থিয়েটারেরও ব্যাকগ্রাউণ্ড ছিল?

বিশ্বনাথ বসু : আমি কিছু বিষয় পেরিয়ে এসেছি।গ্রামে সাহিত্য পাঠের সময় মনে হয়েছে, বর্ণিত বিষয়গুলো আমার চোখে দেখা।সাহিত্যে থেকেই আমার চোখ তৈরি।একটা চরিত্রের বুনন ঠিক এভাবেই গড়ে ওঠে।ছোটবেলা থেকে আমার একটা প্র্যাক্টিস ছিল।

প্র্যাক্টিস ?

বিশ্বনাথ বসু : হ্যাঁ, প্র্যাক্টিস।বাঙালি অভিনেতার অভিনয় দেখা আমার দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল।বাবার কাছে কিছু ভালো অভিনেতার সন্ধান ছিল।বাবা বলরাজ সাহানীকে ভালো বলতেন।গ্রেগোরি পেকের কথাও শুনেছি।বাবা ম্যাকেনাস গোল্ড দেখিয়েছিলেন। ঋত্বিক ঘটকের কথাও শুনেছি বাবার কাছে।দেবব্রত বিশ্বাসের রবীন্দ্রসঙ্গীত জেনেছি।আমার ভেতরে একটা  চর্চা ছিল।আবার আমি বাংলা সিনেমার পোকা ছিলাম।বড় হয়ে গ্রুপ থিয়েটারের অনুশাসনে ছিলাম।কিন্তু সব অনুশাসন একটাই কথা বলত।

কী বলত?

বিশ্বনাথ বসু : বলত চরিত্র ফুটিয়ে তোল।অভিনয়ের তত্ত্ব নানাভাবে ব্যক্ত করা যায়।অনেকে সেটা করেছেন।একটা চরিত্রের মধ্যে মগ্ন থাকার  অনেকে পদ্ধতি রয়েছে।চরিত্রের গঠনের জন্য কেউ কুড়ি দিন ঘরের মধ্যে নিজিকে বদ্ধ রেখেছেন।মনোজ বাজপেয়ীর কাছে এই কথা শুনেছিলাম।খরাজ মুখার্জী আবার হাসতে হাসতে একটা কঠিন চরিত্র করে দেন।আমার ক্ষেত্রে বলব আমি সব সময় মেন্টাল প্র্যাক্টিসের মধ্যে থাকি।

খুব সমস্যার মধ্যেও কি এই মেন্টাল প্র্যাক্টিস থাকে?

বিশ্বনাথ বসু : আমার সব সময় মনে হয় আমার থেকে অন্য মানুষের সমস্যা বেশি।আমার কাছে ভালো থাকার কিছু সূত্র আছে।

সূত্রগুলি কী ?

বিশ্বনাথ বসু : সেটা প্রকৃতির কাছে ঘুরে বেড়ানো হতে পারে।আবার বই পড়া বা গান শোনাও হতে পারে।আড্ডা মারা হতে পারে।

আপনার লেখা পড়েছি।আপনার গদ্যের নিজস্ব একটা স্টাইল আছে।লেখক হওয়ারও কি কোনও সূত্র আছে বলে আপনার মনে হয়?

বিশ্বনাথ বসু : আমাদের  গ্রামের কাছে একটা লাইব্রেরী ছিল।ছোটবেলায় সেই লাইব্রেরীতে বই পড়তাম।মুখোরচক বইয়ের পাশাপাশি সিরিয়াস বইও পড়েছি।শুকতারা, চাঁদমামা পড়ে বড় হওয়া ছেলে আমি।শুকতারায় দেখতাম লেখা —“আমার মায়ের স্মৃতির ওপর লেখা দিন।প্রথম পুরোস্কার ১০১ টাকা”।সেখানে দেখতাম পশ্চিম দিনাজপুর থেকে কেউ লেখা দিয়েছেন।মনে হল উনি যখন অতো দূর থেকে লেখা দিয়েছেন,আমি কেন পারব না।জীবনে লেগে থাকলে সবই হয়।ইলেভেন-টুয়েলভে যখন বাংলা পড়লাম,তখন পড়তে বেশ লাগত।বাংলায় অনার্স নেওয়ার পরে তিনটে উপন্যাস পড়লাম।হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,পদ্মা নদীর মাঝি আর আরণ্যক।গদ্যের ওপর আমার খুব টান।

আপনার মুখে একটা কথা খুব শোনা যায়।সেটা হল — বিশ্বনাথ বসুর ইণ্ডাস্ট্রীতে অনেক বন্ধু আছে।কিন্তু পল্টুর কোনও বন্ধু নেই।এই দুজন কি একই অঙ্গে দুই রূপ?

বিশ্বনাথ বসু : পল্টুকে ছোঁয়া খুব মুশকিল।তার রাজার মতো মেজাজ।তার পকেটে পয়সা নেই অথচ আয়নায় সে চুল আঁচড়ায়।সে বন্ধুদের মেসেতে থাকে।সে সারাদিন স্টার মুভিজে সিনেমা দেখে।সে প্রেম অর্থে প্রেমকেই বোঝে।সেখানে শরীর উঁকি দেয় না।কিন্তু বিশ্বনাথকে অনেক কিছু মেনটেন করতে হয়।

বিশ্বনাথ বসু সেই পল্টুকে মিস করে নাকি সেই পল্টুকে নিয়ে চলছে?

বিশ্বনাথ বসু : বিশ্বনাথ পল্টুকে বাঁচিয়ে রেখেছে।ইদানীং বিশ্বনাথের পল্টুর সাথে খুব একটা দেখা হয় না।তবুও বিশ্ব্নাথ জামা কাপড় খুলে খালি গায়ে রাস্তায় শুয়ে পড়লে পল্টু বেরিয়ে আসে।

পরপর কমেডি চরিত্রে অভিনয় করার পরে যখন সিরিয়াস চরিত্র আসে,তখন ওই চরিত্রে অভিনয় করতে অসুবিধা হয়?

বিশ্বনাথ বসু : দৌড়াতে দৌড়াতে একটা গতি তৈরি হয়।সেই গতির মাঝখানে একটা বাঁক এলে থামতে হবেই।আলাদা মন তৈরি করতে হবে।

আপনি নাকি নায়কদের মতো ডায়েট মেনটেন করেন না?

বিশ্বনাথ বসু : আমি কোনওদিন নায়ক হতে চাইনি।আমি খেতে ভালোবাসি।আমার স্বপ্নে উত্তমকুমার সব সময় ছিল।আছে।থাকবে।কিন্তু আমার টার্গেট ছিল তরুণ কুমার।আমি তরুণ কুমারের মতো হতে চেয়েছি।মানে ওই মানের অভিনেতা হতে চেয়েছি।

আপনি ফাংশনে গানও গান।বিশেষ করে কুমার শানুর গানগানের প্রতি আগ্রহ কবে থেকে?

বিশ্বনাথ বসু : ৯০ সালে যখন  ক্লাস সেভেন ক্রস করছি তখন কুমার শানু মধ্য গগনে।হঠাৎ ভালো লেগে গেলো।ওনার মুম্বইতে গিয়ে স্ট্রাগল।গানের প্রতি ভালোবাসা – এই সব অটোবায়োগ্রাফি পড়েছি।আর মুগ্ধ হয়েছি।বন্ধুদের কাছেও কুমার শানুর গান শোনাতাম।ওরাও ওই গান শোনার জন্য ওয়েট করত।এভাবেই আস্তে আস্তে এটাও আমার একটা পেশা হল।

আপনি প্রসেনজিত,জিতের সঙ্গে কাজ করেছেন।কী মনে হয় দুজনের সঙ্গে কাজ করে?

বিশ্বনাথ বসু : বুম্বাদার মতো শৃঙ্খলাপরায়ণ মানুষ আমি খুব কম দেখেছি।বুম্বাদা ঘুমিয়ে পড়ার পরেও তার স্বপ্নে সিনেমা উঁকি মারে।আর জিতদা হচ্ছে অন্যরকম।ওর যত মাইনাস পয়েন্ট আছে,সবগুলোকে অ্যাচিভ করতে করতে ও যায়।ও খুব ডেডিকেটেড।

উত্তমকুমার এবং প্রসেনজিতের মধ্যে একটা কথা প্রচলিত।প্রসেনজিতও মহানায়ক।তা কী মনে হয় আজকের যুগে উত্তম কুমার না প্রসেনজিত — কার মতো ডিসিপ্লিন মেনটেন করলে একজন মানুষ সাকসেস পাবেন?

বিশ্বনাথ বসু : উত্তমবাবুও ডিসিপ্লিন মেনটেন করতেন।ডিসিপ্লিন অভিনেতাকে মেনটেন করতে হবেই।অভিনেতাকে মনের সংযোগ রাখতেই হবে।

ফিমেল ফ্যানদের নায়কদের প্রতি একটা রিঅ্যাকশান থাকে।কমেডিয়ানদের প্রতিও কি সেই প্রতিক্রিয়া থাকে?

বিশ্বনাথ বসু : আমাকে দেখে সবাই খুব অবাক হয়ে যায়।সবাই বলে — আপনি-তো বেশ নায়কের মতো দেখতে।

উত্তম কুমার,সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়,প্রসেনজিত,চিরঞ্জিতযদি একটাই শুটিং ডেট পান তাহলে কার সঙ্গে কাজ করতে চাইবেন?

বিশ্বনাথ বসু : এর সঙ্গে আপনি যোগ করে নিন আরো কিছু নাম।অমিতাভ বচ্চন,গ্রেগোরি পেক,এ্যন্টনি হফকিন্স।সবাইকে বলব — “দাদা ওই দিন আমি ডাক্তার দেখাতে যাবো”।এই কথা বলে ওই দিন আমি উত্তম কুমারের সঙ্গে অভিনয় করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here