প্রথম ছবিতেই বাজিমাত | বাবার নাম গান্ধীজী প্রশংসা কুড়িয়েছিল বেশিরভাগ সমালোচকেরই | সামনেই রিলিজ হবে রসগোল্লা | সম্প্রতি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের প্রশংসিত ছবি সোনার পাহাড়-এর সাফল্যে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক | মনখোলা আড্ডায় টালিগঞ্জের নবীনতম সফল পরিচালক পাভেল | 

(সাক্ষাৎকার : তন্ময় দত্তগুপ্ত)

আপনার স্কুলিং কোথায়? 

পাভেল : আমি অনেক জায়গায় পড়াশোনা করেছি।আমার মূল স্কুল —কালীঘাট হাইস্কুল। নেতাজী নগর ডে কলেজে হিস্ট্রি অনার্স নিয়ে পড়েছি।ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করি।আমার যখন পনেরো ষোল বছর বয়স,তখন  ঠিক করি যে ফিল্ম ডিরেক্টর হব।আমার জীবনের অনেকগুলো পার্ট।আমার মনে হয় সিনেমা করতে গেলে অনেক কিছু করতে হয়।সেটা  দেওয়ালে পোস্টার মারা হোক,কিংবা প্রেসে প্রুফ দেখা হোক বা কলেজস্ট্রীটের স্টু বিক্রেতার সঙ্গে আড্ডা মারা হোক—এগুলো সবই সিনেমার পার্ট।ছোট থেকে আমি বলিউডের ছবি এবং বাংলা ছবি দেখে বড় হয়েছি। কলেজস্ট্রীট চত্বরের কাটানোর সময় থেকে বিভিন্ন ধরনের  ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল দেখা শুরু করি।সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়,নবারুণ স্যার(নবারুণ ভট্টাচার্য)-এর সান্নিধ্যে এসে আন্তর্জাতিক ছবি দেখার সুযোগ হয়। 

Banglalive-8

আর কীভাবে নিজেকে তৈরি করেন?

Banglalive-9

পাভেল : সীগ্যাল বুক স্টোর বলে ভবানীপুরে একটা জায়গা আছে। ৭০ টাকা দিলে সেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিনেমা দেখা যেত ।প্রতি সপ্তাহে দু একবার আমি সেখানে যেতাম।কী  কী সিনেমা দেখব- সেটা সঞ্জয় স‍্যারের কাছ থেকে লিখিয়ে নিয়ে যেতাম। এভাবেই ইউরোপিয়ান ,ইরানিয়ান ছবি দেখা।এরপর আমার এক বন্ধুর সাথে পরিচয় হয়।তার কম্পিউটার ছিল।সে টরেন্ট থেকে সিনেমা নামিয়ে দিত।এছাড়া আমি খিদিরপুর থেকে পাইরেটেড সিডি কিনে বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক সিনেমা দেখতাম।আমার সিনেমা দেখার চর্চা শুরু হয় তখন থেকেই।

ঠিক কোন সিনেমা দেখে ফিল্ম ডিরেকশনের প্রতি ইন্টারেস্ট এলো?

পাভেল : ‘রং দে বসন্তী’ দেখে আমার সিনেমা ডিরেক্ট করার ইচ্ছে হয়।আমি থিয়েটারও করেছি।এক থিয়েটার পরিচালকের সঙ্গে আমার অভিনয় নিয়ে একটু দ্বন্দ্ব হচ্ছিল।অভিনয় নিয়ে তিনি একরকম বলছিলেন।আমার সেটা পছন্দ হচ্ছিল না।স্টেজে অভিনয় করার সময় আমি অনেক সময় পরিচালকের নির্দেশের বাইরে বেরিয়ে অন্যরকম অভিনয় করেছি।সিনেমা বোঝার পরে আমি অনুভব করি যে ফিল্ম ডিরেক্টারের অসীম ক্ষমতা।সিনেমায় ডিরেক্টরের আড়ালে কিছুই করা যায় না।করলেই ডিরেক্টর বলবে —‘কাট’।আবার শটটাকে রিটেক করতে হবে।এই সব ভাবনা থেকেও আমার সিনেমা ডিরেক্ট করার ইচ্ছে জাগে।

আপনি দেবব্রত বিশ্বাসের ওপর ডকুমেন্টারি করেছিলেন।এই ডকুমেন্টারি উদ্বোধনের সময় আপনি বলেছিলেন —‘এর আগে দেবব্রত বিশ্বাস কে নিয়ে বাজারে কোনও কাজ হয়নি’।বাজার শব্দটা ব্যবহার করেছিলেন কেন?

পাভেল : ওই ডকুটার নাম ‘উন্মুক্ত ব্রাত্যজন’। ২০১১ সালে করেছিলাম।উৎপলেন্দু বাবু দেবব্রত বিশ্বাসের ওপর একটা কাজ করেছিলেন।এই কাজটা গভর্ণমেন্ট প্রোডিউস করলেও, বাইরে এই কাজ দেখার সুযোগ ছিল না।এই ডকুমেন্টারি করতে গিয়ে আমি একটা বিষয় জানতে পারি। নব্বইয়ের দশকের আগে শ্রোতার কাছে দুটো ভাগ ছিল।দেবব্রত বিশ্বাস এবং অন্য কোনও সঙ্গীত শিল্পী।নব্বইয়ের দশকের পরে শ্রোতার এই বিভাজন রুচি বদলাল।তখন হল দেবব্রত বিশ্বাস এবং কবীর সুমন।দেবব্রত বিশ্বাস কমিটি বলে একটা কমিটি আছে।সেখানে দেবব্রত বিশ্বাসের ডকুমেন্টারি নিয়ে  একটা প্ল্যান চলছিল।নবারুণ ভট্টাচার্য আমাকে রেকমেন্ড করে বলেছিলেন — ‘এই ছেলেটাকে দিয়ে কাজ করাও।এই ছেলেটা খুব ভালো কাজ করবে।এবং এই ছেলেটা চোর নয়’।সেই সূত্রে আমি কাজ পাই।দেবব্রত বিশ্বাসকে আমার কাছের মনে হওয়ার কারণ,উনিও ব্রাত্য ছিলেন,আর বেসিক্যালি আমি নিজেকে ব্রাত্য বলে মনে করি।ওনার সঙ্গে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল সেগুলো আমার মর্মান্তিক মনে হত।আবার ওনার লড়াকু মেজাজটা ভালো লাগত।এই ডকুটা করতে গিয়ে আমি দেবব্রত বিশ্বাসকে অনেক বেশি করে চিনেছি।শুধু তাই নয়,দেবব্রত বিশ্বাসের মাধ্যমে আমি রবীন্দ্রনাথকে অন্যভাবে চিনেছি।আর বাজার শব্দটা বলেছিলাম,কারণ আমি তো কালীঘাটের ছেলে,তাই খুব সোজা কথা সোজা ভাবে বলি।নকল বানানো কথা বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:  কেন কোনও অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে যান না আমির খান?(জন্মদিন স্পেশাল)

আপনার কোনও প্রতিবন্ধকতা ফেস করতে হয়েছে?

পাভেল : আমি নিম্নবিত্ত বাড়ির ছেলে।সেখান থেকে ফিল্ম ডিরেক্টর হওয়ার ঘটনাটা অনেকটা সিনেমার মতো।হয়ত এটা নিয়ে একটা সিনেমা হতে পারে।নিম্নবিত্ত বাড়ির রিপ্রেজেন্টেটিভ চিরকালই ভাবে ফিল্মি পোস্টারে কবে তার নাম আসবে।আমি একমাত্র পরিচালচক যার এত কম বয়সে নাম চলে এসেছে।প্রতিবন্ধকতা প্রচুর ছিল।কিন্তু প্রতিবন্ধকতাকে ফোকাস করলে হবে না।আমাকে গ্রেটফুলও হতে হবে।আমি দারুণ ট্যালেন্টেড বলে সব কিছু ঘটে গেছে এমন নয়।অনেকগুলো মানুষ চেয়েছিল এই ছেলেটার ভালো হোক।নবারুণ স্যারের আশীর্বাদ ছিল।প্রোডিউসার ব্রিজ মোহন জালান আমার একটা স্ক্রিপ্টের প্রেজেন্টেশন শুনে বলেছিলেন —‘ তুমি আগামী দিনে ডিরেক্টর হবে।আমি তোমায়  প্রোডিউস করব।করবে আমার সাথে কাজ’? চল্লিশ পঞ্চাশ বছর হয়ে যায়,অনেক মানুষের ভাগ্যে প্রোডিউসার জোটে না।আমার জুটেছে।আমি অনেক সাহায্য পেয়েছি।আমি নবারুণ ভট্টাচার্যের ভালোবাসা পেয়েছি।সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ পেয়েছি।শুটিংয়ের সময় পরম্ব্রত দা আমাকে যেভাবে হেল্প করত বা আমার পুরো টিম আমার পাশে যেভাবে দাঁড়িয়েছিল,সেটা না হলে এই সাকসেস আসত না।

আপনার প্রথম ছবি ‘বাবার নাম গান্ধীজী’।এই ছবি রিলিজের পরে আপনি পরিচিত মুখ হলেন।আগের পাভেল, যে গড়িয়ায় থাকত সে চলে গেল নাকতলায়।লাইফস্টাইল আপনার কতটা বদলেছে?

পাভেল : খুব একটা পাল্টায়নি।আবার একদম পাল্টায়নি,সেটা বলাটাও মিথ্যা।২০১৫ র ২রা অক্টোবরের আগের পাভেল আর তারপরের পাভেলের মধ্যে নিশ্চয়ই  ফারাক আছে।অনেক কিছু শিখলাম।ম্যাচিওরিটি বাড়ল প্রফেশনালিজিম বাড়ল।২ রা অক্টোবরের পরে আনন্দবাজারে আমার ছবির যে রিভিউ বের হয়েছিল,ওই বছরে অতো ভালো ছবির রিভিউ আর বেরোয়নি।এটাকে আমি প্রোগ্রেস হিসেবে দেখি না।একটা পার্ট হিসেবে দেখি।

নবীনচন্দ্রের রসগোল্লা নিয়ে যে কাজটা আপনি করছেন সেটা সিলেকশনের কারণ কী?

পাভেল : সিলেকশনের অনেকগুলো কারণ ছিল।আমি একদিন স্মরণজিত চক্রবর্তীর সঙ্গে ওনার বাড়িতে বসে আড্ডা মারছিলাম।ওই আড্ডা থেকে রসগোল্লার ভাবনা আসে। ‘রসগোল্লা’ কিন্তু আমার একার লেখা নয়।যৌথ ভাবে আমার আর স্মরণজিত চক্রবর্তীর লেখা।রসগোল্লা নিয়ে পড়াশোনা করে দেখলাম  নবীনচন্দ্র দাস ২৩ বছর বয়সে রসগোল্লা বানিয়েছে।আর আমি পঁচিশ বছর বয়সে ফিল্ম।এবং নবীনচন্দ্র দাসের বাবা নেই।আমারও বাবা নেই।কোথাও আমি নিজের কষ্টগুলো দেখতে পাচ্ছিলাম।নবীনচন্দ্র; বিদ্যাসাগর বা রামমোহনের মতো এতো বড় ব্যক্তিত্ব নয়।একজন সাধারণ বাঙালি।কিন্তু তারও বড় অবদান আছে।সাধারণ মানুষের ভিক্ট্রির গল্প বাংলা সিনেমায় আসে না।২০১৬-য় এই ছবি হওয়ার কথা ছিল।বিভিন্ন  সমস্যার কারণে এই ছবি পেছোতে থাকে।উইন্ডোসের শিবু দাকে আমি কথা দিয়েছিলাম যে ‘রসগোল্লা’-র আগে কোনও বাংলা ছবি করব না।তাই আমি অপেক্ষা করেছি।

আপনি যেমন সাহায্য পেয়েছেন তেমনি নিউ ফিল্মমেকারদেরও কি সাহায্য করবেন?

পাভেল : এটা বলাটা বাতুলতা হবে।সবে আমি কেরিয়ার শুরু করেছি।বাংলা বাজারে প্রচুর ছেলে মেয়ে এ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর হবে বলে আসে।আমি নাম বলছি না।আমি প্রচুর পরিচালককে চিনি যারা চোদ্দ দিন ঘুরিয়েও নতুন ছেলে মেয়েদের সঙ্গে দেখা করে  না।আমার কাছে আজ অবধি যতজন ছেলেমেয়ে এসেছে তারা কিছু না কিছু করে।আমার এক এ্যাসিসটেন্ট বর্ধমানের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে  এসেছে।এক জন দিল্লী থেকে এসেছে।আমি আজ অবধি কাউকে ফেরাইনি।এবং আমার এক এ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর আগামী দিনে পরিচালক হবে।ওর স্ক্রিপ্টটা আমি লিখে দিচ্ছি।এই ইন্ডাস্ট্রীতে আসতে গেলে কী কাঠ-খড় পোড়াতে হয় সেটা আমি জানি।আর সেই স্ট্রাগলার গরিব হলে তো কথাই নেই।

আরও পড়ুন:  তাহলে কি ভাইজানের আদেশেই কপিলের সঙ্গে ফের হাত মেলালেন সুনীল গ্রোভার?

‘রসগোল্লা’ ছবিতে কৌশিক গাঙ্গুলীর ছেলেকে মুখ্য চরিত্রে আপনি নিয়েছেন।আপনার প্রথম ছবিতে অনেক পরিচিত মুখ ছিল।যেমন কৌশিক সেন, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, আরো অনেকে।এখানে একজন নতুনকে কাস্ট করার কারণ কী?

পাভেল : আমি আমার একটা ফরম্যাট বোঝাই।মন দিয়ে শুনুন।পাভেলের পরিচয় হল —সে দুটো ছবিতে ডিরেকশন দিয়েছে।একটা ‘বাবার নাম গান্ধীজী’ অন্যটা ‘রসগোল্লা’।আর একটা ছবি প্রোডিওস করেছে।তার নাম ‘চেগু’।তিনটের কমন ব্যাপার আমি বোঝাই।’বাবার নাম  গান্ধীজী’র হিরো কিন্তু পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় নয়।হিরো হচ্ছে কেঁচো দাস মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধী।যে একদমই নতুন ছেলে।এবং নায়িকা  মিমি।সেও আগে কিছু করেনি।তাদের সাপোর্ট দিচ্ছে পরমদা।ছবিতে পরমদার ডায়লগ ছিল —‘এই ছবির হিরো আমি নই।এই গল্পটা কেঁচোর’। পাভেলের পরের ছবি ‘চেগু’।তাতে হিরো হচ্ছে ঈশান যে একটা বাচ্চা ছেলে।তার দিদি রোকেয়াও নতুন।তাদের সাপোর্ট দিয়েছে বিনয় পাঠক,সুদীপ্তা চক্রবর্তী,শান্তিলাল মুখার্জী,চন্দন সেন।পাভেলের তৃতীয় ছবি ‘রসগোল্লা’।’রসগোল্লা’-র নায়ক নায়িকাও নতুন।উজান এবং অবন্তিকা।’রসগোল্লা’-য় এদের সাপোর্ট দিচ্ছে কৌশিক সেন,শুভশ্রী গাঙ্গুলী,চিরঞ্জিত চক্রবর্তী,খরাজ মুখার্জী, রজতাভ দত্ত, অপরাজিতা আঢ্য এবং  লাবণী সরকার।এটা আমার ফরম্যাট।মূল প্রোটাগনিস্টদের আমি নিজের হাতে তৈরী করি।বাকীটা সাজাই খুব স্ট্রং অভিনেতা দিয়ে।আমি  নতুনদের নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি।

এখনকার বাংলা সিনেমার ভালো দিক খারাপ দিক কী বলে মনে হয়?

পাভেল : এটার এক লাইনে উত্তর হয় না।এই একটা প্রশ্নের উত্তরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে একটা গোটা ইন্টারভিউ হতে পারে।সস্তা উত্তর হল,প্রচুর কনটেন্ট ফিল্ম হচ্ছে।এটা ভালো দিক।খারাপ দিক হল, অডিয়েন্স তুলনামূলক এখন বাংলা ছবি দেখতে কম যায়।

শুনলাম জিত আর ঋতুপর্ণার জন্য আপনি নাকি স্ক্রিপ্ট লিখছেন? 

পাভেল : ‘বাবার নাম গান্ধীজী’-র পরেই আমার জিত দা আর ঋতুদির সঙ্গে ছবি করার কথা ছিল।কিন্তু পাকেচক্রে আমি তখন ‘রসগোল্লা’ ছবির জন্য সাইন করে ফেলি।ঋতুদি আমাকে চেক দিয়ে দিয়েছিল।’রসগোল্লা’ করব বলে আমি রিকোয়েস্ট করে ঋতুদিকে চেক ফেরত দেই।ঋতুদি আমাকে আশীর্বাদ করে বলে —‘ তুই অনেক বড় হবি।রসগোল্লা ছবির কাজ শেষ করে আয়।তারপর আমার সাথে কাজ করিস’।’রসগোল্লা’র পরে আমি ঋতুদির সাথে কাজ করব।জিতদার সাথেও তাই। 

আপনি গুপী বাঘা নিয়ে ছবি করবেন বলে ঠিক করেছিলেন।তার জন্য নাকি প্রসেনজিত চ্যাটার্জীর কাছে গিয়েছিলেন?

পাভেল : গুপী বাঘা শুধু বাচ্চাদের ছবি নয়।আমার ছবিও শুধু বাচ্চাদের জন্য হবে না।আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি; আমার গুপী গাইন এবং বাঘা বাইন আদ্যন্ত একটা রাজনৈতিক ছবি হবে।’বাবার নাম গান্ধীজী’র পরে আমাকে অনেকেই ডেকেছিল।তেমন বুম্বাদাও ডেকেছিল।বুম্বাদার সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হতে হতে গুপী বাঘা নিয়ে কথা হয়।আমি গল্প এবং স্ক্রিপ্ট শুনিয়েছিলাম।তারপরে আমি ‘রসগোল্লা’-র কাজে ব্যস্ত হয়ে যাই।বিষয়টা নিয়ে আর কথাবার্তা হয় না।পরে আমি দেখলাম বুম্বাদা কোনও একটা বইয়ের রাইট কিনে ওটা করছেন।সেটা উনি করতেই পারেন।উনি তো অন্য বইয়ের রাইট নিয়ে করছেন।উনি তো আর আমার স্ক্রিপ্ট নিয়ে করছেন না।সেটা উনি করতেই পারেন।সে তো অনিন্দ্যদাও করছে।

আপনি বাংলালাইভে পরম্ব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ইন্টারভিউটা পড়েছেন?

পাভেল : পড়েছি মানে একজন আমাকে বলেছিল —পরমদা বাংলালাইভে কীসব বলেছে!আমি সেই কথায় কোনও রিঅ্যাক্ট করিনি।উনি আমার প্রসঙ্গে কী বলেছেন?

উনি বলেছেন —পাভেলকে কোনও দিন আমার মা-র গল্প পড়তে দেইনি।শুধু গল্পের স্ট্রাকচার বলেছিলাম।তাই কী?

আরও পড়ুন:  'কঙ্গনার মত ঠোঁটকাটা নই'-আলিয়া ভট্ট

পাভেল : দেখুন এটার একটা মোক্ষম উত্তর হয়।ওনার একটা জিনিস আমার কাছে আছে।কিন্তু ওনার মাকে নিয়ে আলোচনা আমি করতে চাই না।ওনার মা পৃথিবীতে নেই।এবং ওনার মা সম্মানীয়া সাংবাদিক ছিলেন।আমি কোথাও ওনার মাকে ছোট করার জন্য কিছু বলিনি।সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বা ভিক্টর হুগোর কোনও নভেল পড়ে আমার মনে হতে পারে যে ওই  নভেলের মধ্যে চলচ্চিত্রের তেমন উপাদান নেই।তার মানে কখনই  এটা নয় যে ভিক্টর হুগো বা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় খারাপ লেখক।আমি ওনার মাকে আঘাত করার জন্য কিছু বলিনি।আমি ওরকম অপদার্থ  নই।এটা থেকে যদি কোনও অন্য মানে দাঁড়ায় তাহলে আমি দুঃখিত।

পরমব্রত আরো বলেছেন,পাভেল একশোবার প্রতিবাদ করতে পারত যদি ওর ক্রেডিট লিস্টে নাম না থাকত বা ও যদি টাকা না পেত।কিন্তু ওর জ্বল জ্বল করে ক্রেডিট লিস্টে নাম আছে। আর ও পুরো টাকাও পেয়েছে।তাহলে আপনার এই আচরণ কেন?

পাভেল : আমার কিছু প্রশ্ন আছে।আপনি তো জার্নালিস্ট।জানলে উত্তর দেবেন।আর তা না হলে পরের ইন্টারভিউতে ওনাকে জিজ্ঞেস  করবেন। আসলে এগুলো নিয়ে আলোচনা করতে ভালো লাগে না।রুচিতে বাধে।পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় আনন্দবাজারে ইন্টারভিউতে বলেছিলেন যে উনি দেড় বছর অন্ধকার ঘরে বসে সোনার পাহাড়ের স্ক্রিপ্ট লিখেছেন।তাহলে প্রশ্ন হল, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় অন্ধকার ঘরে বসে সোনার পাহাড়ের স্ক্রিপ্ট যদি লিখেই থাকেন,তাহলে পাভেল কী করেছে?আমি তো শূন্য অবস্থা থেকে সোনার পাহাড়ের স্ক্রিপ্ট লিখেছি।আমাকে পারিশ্রমিক দিয়ে কেউ ধন্য করেনি।স্ক্রিপ্ট রাইটার তো টিম মেম্বার।স্মরণজিত চক্রবর্তী রসগোল্লায় পাভেলের টিম মেম্বার।পাভেল প্রত্যেকটা ইন্টারভিউ বা প্রেস মিটে স্মরণজিত চক্রবর্তীর নাম করে।পাভেল তাকে শুটিংয়ে নিয়ে যায়।পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় আমাকে একটাও প্রেস মিটে ডাকেনি।এরকমও হয়েছে যারা সোনার পাহাড়ের  সঙ্গে জড়িত, তারা জানতেনও না যে সোনার পাহাড়ের স্ক্রিপ্ট আমি লিখেছি।নাম বা পারিশ্রমিক পেলে অনেকেই নিজেকে ধন্য মনে করতে পারেন। কিন্তু আমি মনে করি না।বাংলা ছবি স্ক্রিপ্টের জোরে চলছে।আনন্দবাজারে ওই ইন্টারভিউ বের হবার পরে পরমদা আগের তথ্য সংশোধন করার কথা বলতে পারত।তিনি সেটা কেন করেন নি?এটার জবাব আমি চাই।

আপনার পরমব্রত বাবুর সঙ্গে এই নিয়ে আর কথা হয়েছে?

পাভেল : না।আমায় ফোন করেনি।

আপনি ফোন করেছেন?

পাভেল : আমি কেন ফোন করতে যাবো? আমাকে ডাকেনি সিনেমার শুটিংয়ে।প্রেস মিটে ডাকেনি।কোথাও ডাকেনি।যে লোকটা আমাকে এ্যাভয়েড করেছে তাকে কেন ফোন করতে যাব?আমি তো ওনাকে দাদাই মনে করি।আমার কেরিয়ারে যাদের অবদান আছে তাদের মধ্যে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের কথাও বলেছি।আমি ওনার নাম বাদ দেইনি।আমি অতো ছোট মনের মানুষ নই। আমার সঙ্গে একটা ঝামেলা হওয়া মানে সব কিছু মিথ্য হয়ে যাওয়া নয়।সত্যি ‘বাবার নাম গান্ধীজী’-তে পরমদা যেভাবে আমার প্রশংসা করেছে,সেটা খুব কম লোকে করে।আমি কেন মিথ্যে বলব?কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করেছে বলেই তার সবটা আমাকে মেনে নিতে হবে,সেটা ঠিক না।

পরমব্রত বলেছেন অনেকে ঔদ্ধত্য আর আত্মবিশ্বাসের মধ্যে রেখা টানতে পারে না।এও বলেছেন এটা পাভেলের শৈশব না কাটার ফল।কী বলবেন?

পাভেল : আমার শৈশব কাটেনি।এটা ঠিক কথাই বলেছেন।আমার এখনও শিশু মন।তাই অনেকেই মাথায় হাত বুলিয়ে বোকা বানাতে পারে।পরমদার সাথে আমি এক মত।পাভেলের শৈশব কাটেনি।ঔদ্ধত্য নিয়ে উনি যেটা বলেছেন,সেটা সময় বলবে।এটা নিয়ে আমি কথা বলব না।আমি এটার উত্তর দিতে বসলে সেটা ঔদ্ধত্য হবে।পৃথিবী আছে,পরমদা আছে,এই ইন্ডাস্ট্রী আছে,আপনিও আছেন।আগামী পনেরো বছর পর মানুষই এর উত্তর দেবে।

NO COMMENTS