ডুগডুগি (পর্ব ১০)

আমি বলি, সে তো হতেই পারে, এদের তো এটাই প্রফেশান।

কানাইদা বলে, কিন্তু আমার সঙ্গে সেরকমই কন্ট্রাক্ট আছে – অন্য কাস্টমার করবে না, তার বদলে আমি পুষিয়ে দেব ওকে। কিন্তু মাগি সুযোগ পেলেই খেপ মারবে। অবশ্য ওকে দোষ দিয়ে লাভ নেই – এ লাইনের এটাই নিয়ম, চোখে চোখে রাখতে হয়।

আমি বলি, যাঃ ব্বাবা, এ আবার কী – তুমি যে বললে একদম বউয়ের মতো হয়ে গেছে !

সে তো গেছেই। কিন্তু এ তো হল গিয়ে ‘বউয়ের মতো’, তোর-আমার অগ্নিসাক্ষীর বউ যে লুকিয়ে খেপ মারত না, তার কী প্রমান?

কানাইদার যুক্তি মেনে নিতে কষ্ট হয় আমার। বলি, কিন্তু আমরা তো ওদের অভাব কিছু রাখিনি … ।

কানাইদা সিগারেটে টান দিয়ে একটু উদাসভাবে বলে, মানুষের কত রকমের খাঁকতি তা কি সহজে বোঝা যায় !

আমি অবাক হয়ে কানাইদাকে দেখছিলাম। এত অবাক আর অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিলাম যে পকেটে ফোন বাজছে খেয়াল করিনি। কানাইদা-ই মনে করিয়ে দেয় – তোর ফোন রে।

তাড়াহুড়ো করে ফোন ধরি।

ছোটবাবুর ফোন। বুকটা ঢিপ ঢিপ করতে থাকে।

ছোটবাবু বলেন, এক্ষুনি থানায় চলে আসুন।

আমি বলি, কেন স্যার?

আপনার সঙ্গে আগডুম বাগডুম খেলব।

আমি বলি, আসলে স্যার, আমি তো এখন অনেক দুরে … ।

ছবি হয়ে গেছেন না কি? ছোটবাবু সেই টিপিকাল ব্যঙ্গের গলায় বলেন, কী করে হলেন, গলায় দড়ি না রোড অ্যাকসিডেন্ট?

বুঝতে না পেরে বলি, অ্যাঁ, স্যার।

ছোটবাবু ধমকে ওঠেন, কোন চুলোয় আপনি?

চণ্ডীতলায় স্যার ।

বিয়ে করতে যাচ্ছেন নাকি?

বুঝতে পারি ছোটবাবু রসিকতা করছেন। একটু হেসে বলি, না, স্যার, শঙ্কর ঠাকুরের কাছে ।

সেটা আবার কে ? বিয়ের পুরোহিত ?

তাড়াতাড়ি বলি আমি, না স্যার, গণৎকার , যা বলে একদম টো টো মিলে যায়।

আপনি কী মেলাতে গেছেন ?

ওই যে স্যার কুমকুমের … ।

ছোটবাবু গম্ভীর গলায় বলেন, তা আপনার গণৎকার কী বলল?

এখনও বলেনি স্যার, এই যাচ্ছি সবে … ।

ঠিক আছে, যেতে হবে না ; আপনি সোজা থানায় চলে আসুন ।

কেন স্যার; কিছু খবর আছে? বেশ জোরে বলে উঠি আমি।

এলেই দেখতে পাবেন ।

বলুন না স্যার, প্লিজ, আমার বুকের মধ্যে কেমন যেন করছে … বাড়িতে স্যার টিকতে পারছি না, খালি টিটকিরি … ।

ছোটবাবু আগের চেয়েও গম্ভীরভাবে বললেন, হ্যাঁ, পাওয়া গেছে, বাজে না বকে চলে আসুন।

কানাইদা অবাক হয়ে তাকিয়েছিল আমার দিকে। বলল, কার ফোন রে?

ছোটবাবুর, পাওয়া গেছে কুমকুমকে।

কোথায় পেল?

অত জিজ্ঞেস করিনি। এক্ষুনি থানায় যেতে বলল।

চল তাহলে। কীভাবে পাওয়া গেছে বলল কিছু – জীবিত না মৃত … ।

কয়েক পা এগিয়ে গিয়েছিলাম আমি। কানাইদার প্রশ্ন শুনে থমকে দাঁড়ালাম।

কানাইদার মুখে ধোঁয়া ছিল কিছুটা। সেটা বের করে বলল, যারা হারিয়ে যায় তাদের সবসময় জ্যান্ত পাওয়া যাবে এমন কথা নেই।

                              ( নয় )

শুনেছি অলিম্পিকে হেপ্টাথলন বলে একটা প্রতিযোগিতা হয়। সেখানে প্রতিযোগীকে দৌড়, লং জাম্প, হাই-জাম্প, লোহার বল ছোঁড়া – এইরকম অনেকগুলো বিষয়ে নিজের উৎকর্ষ প্রমান করতে হয়। চণ্ডীতলা থেকে থানা পর্যন্ত পথ আমি তেমনই মুন্সিয়ানার সঙ্গে টপকে গেলাম। চণ্ডীতলা থেকে ভট্টনগর থানার যোগাযোগ ব্যবস্থা অতি ভজকট। কিন্তু আমিও বেপরোয়া। গরুর গাড়ি আর এরোপ্লেন ছাড়া যতরকম যানবাহন আছে, সবগুলোর সওয়ারি হলাম। কানাইদাকে বলেছিলাম সঙ্গে আসতে, কিন্তু কানাইদা শিখার কাছে ছুটল। যাবার সময় অবশ্য আমার থেকে দুশো টাকা নিল। ট্যাক্সি ভাড়া। বলল, তুই ট্যাক্সি করে আনবি বলেছিলি, সেটা যখন দরকার হল না, এখন শিখার কাছে যাবার ব্যবস্থা করে দে। অগত্যা একাই আসতে হল আমায়। প্রথমে বাসে করে কিছুদূর, তারপর অটো; একটা রিক্সা করেছিলাম ; কিন্তু কিছুদুর আসার পর টায়ার পাংচার হয়ে গেল। রিক্সাওলা দায়ী করল আমায় – আমি নাকি বারবার জোরে চালাতে বলায় টায়ার ফেটেছে। ফলে অর্ধেক রাস্তায় এসেও পুরো ভাড়া দিতে হল তাকে। একটা সাইকেল আরোহীকে ধরলাম লিফট দেবার জন্য। সে আবার ডবল-ক্যারি করতে পারে না। কিন্তু আমি মরিয়া, তাকে রডে বসিয়ে নিজেই চালালাম। ব্রেক ভাল ছিল না সাইকেলে, একটা ষাঁড়কে মৃদু ধাক্কা দিলাম। কিন্তু ষাঁড়ের প্রতিশোধস্পৃহা মারাত্মক; প্রবল গুঁতো দিয়ে সে আমাদের ফেলল পগারে। সর্বাঙ্গে পচা কাদা-জল মেখে উঠলাম। তখনও প্রায় এক মাইল পথ বাকি। কিন্তু আমার যেমন ভুতের মতো চেহারা, আর গায়ে এত দুর্গন্ধ কেউ লিফট দিতে রাজি নয়; অটোওলাও তুলল না অটোয়। অগত্যা বাকি পথটা দৌড়। একটা চ্যাংড়া ছেলে চিৎকার করে বলল, দাদা কি প্যাঁকাল মাছ ধরছিলেন?

থানায় যখন পৌঁছালাম তখন মনে হচ্ছিল হার্ট-লাঙ সব ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ডাঙায় তোলা কাতলা মাছের মতো পেল্লায় সাইজের খাবি খাচ্ছি। ছোটবাবুর ঘরে ঢুকতে ভুরু কুঁচকে তাকালেন আমার দিকে। বললেন, কাকে চাই।

অতি কষ্টে বড় একটা হাঁপ টেনে বললাম, স্যার, আমি।

নাকে রুমাল চাপা দিয়ে ছোটবাবু বললেন, আরে মশাই, আমিটা কে?

আমি স্যার অবনীশ হালদার, যার বউ হারিয়ে গেছে স্যার – আপনি একটু আগে ফোন করেছিলেন আমাকে … ।

ছোটবাবু চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন তড়াক করে। নাকে রুমাল চেপেই বললেন, সর্বনাশ, আপনার এমন দশা হল কী করে?

ষাঁড়ে স্যার ; ষাঁড়ে গুঁতিয়ে দিয়েছে।

আপনি কি বুল-ফাইটে নেমেছিলেন নাকি?

বড় একটা দম ছেড়ে বলি, না স্যার, শুধু মুদু গুঁতিয়ে দিল ; ব্রেকটা ভাল ছিল না সাইকেলের, গায়ে ঠেকেছে কি ঠেকেনি, অমনি তাড়া করল।

ছোটবাবু বললেন, আপনি আগে পরিস্কার হোন – গন্ধে তো টেকা যাচ্ছে না।

আমি বললাম, কুমকুম ভালো আছে স্যার ?

ছোটবাবু বললেন, আছে।

বলার আগে একটু যেন থমকালেন ছোটবাবু। আমার দৃষ্টি এড়াল না সেটা। খুব ব্যাকুল গলায় জিজ্ঞেস করলাম, ঠিক বলছেন তো স্যার ?

বেঠিক বলে লাভ কী বলুন। ফের গাম্ভীর্যে ঢুকে গেলেন ছোটবাবু।

কোথায় আছে স্যার ; একবার দেখাবেন ?

দেখাব বলেই তো ডেকেছি।

কোথায় স্যার, দেখান না … ।

ছোটবাবু একটু বিরক্তির সঙ্গে বললেন, কী মুশকিল, এই অবস্থায় কী করে দেখবেন । এখন আপনার যা দশা, আপনি চিনলেও ও আপনাকে চিনতে পারবে না।

ছোটবাবুর নির্দেশে চান করতে হল আমায়। সন্ধে হয়ে গেছে; শীতও পড়েছে বেশ, কলের জলে চান করে হি-হি করে কাঁপতে থাকি। ছোটবাবু দয়া পরবশ হয়ে একটা লুঙ্গি আর সুতির জামা দিলেন, সেটাই পরে নিয়ে চললাম কুমকুমকে দেখতে।

/////////

ছোট্ট ঘরটায় একটা হলুদ ল্যাম্প জ্বলছে। পলেস্তারা খসা দেওয়াল আলোর অনেকটাই শুষে নিয়েছে। সেই ফ্যাকফেকে আলোয় কাঠের চেয়ারে জড়োসড়ো হয়ে বসে কুমকুম; মুখ নিচু করে নখ খুঁটছে।

আমরা দরজার সামনে দাঁড়ালাম। আমাদের খেয়াল করেনি কুমকুম। খুব মন দিয়ে নখ খুঁটছে।

ছোটবাবু ফিসফিস করে বললেন, এটাই তো ?

হ্যাঁ।

নাম ধরে ডাকুন একবার।

আমি বললাম, কুমকুম।

কুমকুম মুখ তুলে তাকাল।

আবছা আলোতেও দেখতে পেলাম চোখে প্রচণ্ড ক্লান্তি, মুখে ভয়ানক ধকলের ছাপ। আমার দিকে তাকিয়েই রইল।

ছোটবাবু কনুইয়ের খোঁচা দিয়ে আমাকে ফের বললেন, কুমকুম-ই তো এটা?

আমি ঘাড় নেড়ে বললাম, হ্যাঁ।

দেখুন ভাল করে।

আমি আর একটু এগিয়ে যাই কুমকুমের দিকে। একটু ধাক্কা খাই মনে মনে – কুমকুম আমার দিকে তাকিয়ে, কিন্তু পরিষ্কার বুঝতে পারছি, আমাকে দেখছে না।

ছোটবাবু বলেন, ঠিক আছে তো ; চলুন ওঘরে, কিছু কথা আছে।

আরও কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকি কুমকুমের দিকে। কুমকুমই তো ? নাকি অন্য কেউ ?

আসলে এত ক্লান্ত বিধ্বস্ত কুমকুমকে কোনওদিন দেখিনি আমি।

আমি বললাম, কুমকুম কোথায় ছিলে তুমি?

এবার যেন মনে হল কুমকুম দেখল আমাকে। কিন্তু সে মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্যে; তারপরেই চোখে নেমে এল সেই ভোঁতা ক্লান্তি; ওর দৃষ্টি থেকে ফের হারিয়ে গেলাম আমি।

একটু জোরে বললাম, কুমকুম চিনতে পারছ তো আমাকে? কথা বলছ না কেন?

ছোটবাবু আমার কানের কাছে মুখ এনে বললেন, একটু প্রবলেম আছে।

আমি অবাক হয়ে তাকাই ছোটবাবুর দিকে।

ও কথা বলতে পারছে না।

সে কী ! আমি একটু জোরে বলে উঠি, কেন, কথা বলতে পারছে না কেন !

ছোটবাবু একটু চিন্তিত মুখে বললেন, মনে হয় প্রচণ্ড ধকল গেছে, তাই … ।

কোথায় পেলেন ওকে ?

রেলব্রিজের পাশে – সেন্সলেস হয়ে পড়ে ছিল।

কিছু কথা আসে না আমার মুখে। অবাক চোখে একবার কুমকুমের দিকে আর একবার ছোটবাবুর দিকে তাকাই।

ছোটবাবু বলেন, এরকম হয়। ওকে বাড়ি নিয়ে যান, ডাক্তার টাক্তার দেখান, কিছুদিন রেস্টে থাকলে ঠিক হয়ে যাবে; প্রচণ্ড ট্রমা থেকে অনেকে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে; তবে সেটা সাময়িক, ট্রিটমেন্ট করান, ঠিক হয়ে যাবে … ।

কেন কে জানে, আমার চোখে ভেসে ওঠে একটা ধর্ষণ দৃশ্য। একদল মানুষ একের পর এক ধর্ষণ করছে কুমকুমকে। ব্যস্ত রাজপথের পাশে কিছু বুনো ঝোপ, তার পাশে পড়ে আছে কুমকুম। একদম নগ্ন। হাত-পা ছুঁড়ে, চিৎকার করে বাধা দেবার চেষ্টা করছে; কিন্তু পেরে উঠছে না বলশালী লোকগুলোর সঙ্গে। শাঁ শাঁ করে পাশ দিয়ে ছুটে যাচ্ছে গাড়ির পর গাড়ি। একটা গাড়িও থামল না ওর চিৎকার শুনে। তীব্র চিৎকার ক্রমশ ক্ষীণ হতে হতে মিলিয়ে যায়; অচেতন হয়ে ঝোপের পাশে পড়ে থাকে কুমকুম। গাড়িগুলোর হেডলাইট ঝোপ-জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ছেঁড়া ছেঁড়া হয়ে পড়ে নগ্ন কুমকুমের ওপর।

আমি জোর করে চোখের সামনে থেকে হটিয়ে দিই দৃশ্যটা। ছোটবাবুর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করি, ঠিক কী ধরনের ট্রমা গেছে বলুন তো?

বলা মুশকিল। ছোটবাবু ছোট্ট করে বলে সিগারেট ধরাবার তোড়জোড় শুরু করলেন।

ছোটবাবুর এই গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া ব্যাপারটা পছন্দ হল না আমার। বললাম, ঠিক কী অবস্থায় ওকে পান?

ছোটবাবু ঠোঁটে সিগারেট গুঁজে লাইটার জ্বেলেছিলেন। আমার কথা শুনে লাইটার নিবিয়ে সিগারেটটা টেনে নিলেন ঠোঁট থেকে। ভুরু একটু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, কী অবস্থায় মানে?

এবার আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি। ভেবেছিলাম, ছোটবাবু পুলিশি বুদ্ধিবলে বুঝে যাবেন, আমি ঠিক কী বলতে চাইছি। কিন্তু ছোটবাবুর সরলতা ভয়ানক বিড়ম্বনায় ফেলে আমায়। কিছু তুতলে-মুতলে বলি, না মানে, সব ঠিকঠাক ছিল তো …?

এবার স্পষ্টতই বিরক্তির সঙ্গে ছোটবাবু বলেন, সব ঠিকঠাক আছে কিনা দেখার জন্যেই তো আপনাকে ডেকেছি; আপনি দেখে নিন।

ছোটবাবুর বিরক্তি টের পেয়ে একটু দমে যাই ভেতর ভেতর। তাড়াতাড়ি বলে উঠি, না, মানে, এঘরে আলোটা বড্ড কম তো।

ছোটবাবু বলেন, ষাট পাওয়ারের ল্যাম্প কম হল। আপনি কেমন হাজব্যান্ড বলুন তো; নিজের বউকে তো অন্ধকারেও চিনতে পারা উচিত।

ফের বোকার মতো বলে ফেলি, আসলে অনেকদিন দেখিনি তো … ।

অনেকদিন কোথায়, মাত্র তো দুদিন … । ছোটবাবু বলেন, দেখুন মশাই, আপনারই বউ তো, নাকি … ?

আমি সজোরে ঘাড় নেড়ে বলি, হ্যাঁ, হ্যাঁ, অবশ্যই।

ছোটবাবু কুমকুমের দিকে তাকিয়ে বলেন, আপনার ডেসক্রিপশানের সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে – হাইট, গায়ের রঙ; ফটোর সঙ্গে খুব খুঁটিয়ে মিলিয়েছি আমি, চোখ নাক মুখ একদম সেম; ভায়োলেট কালারের প্রিন্টেড শাড়ির কথা আপনি বলেছিলেন, দেখুন, শাড়িটাও মিলে যাচ্ছে … ।

আমি কুমকুমের শাড়িটা খুব মন দিয়ে দেখি। এইরকম একটা শাড়ি সকালে কুমকুম পড়েছিল বটে, কিন্তু কালার মিললেও প্রিন্টটা ঠিক মনে করতে পারি না।

শাড়িটা দেখতে দেখতে হঠাৎ একটা বুদ্ধি খেলে যায় মাথায়। ছোটবাবুকে জিজ্ঞেস করি, আপনারা যখন একে খুঁজে পান এই শাড়িটাই কি পড়েছিল তখন?

ছোটবাবু বলেন, হ্যাঁ, এটাই পড়েছিল … আপনি তো এইরকম শাড়ির কথা বলেছিলেন।

আর একটু নিশ্চিত হবার জন্যে বলি, ব্লাউজ – ব্লাউজও কি এটাই পরেছিলো?

ছোটবাবু বলেন, ব্লাউজ নিয়ে অবশ্য একটু কনফিউশান রয়েছে … ।

আমি খুব ব্যাগ্রভাবে জিজ্ঞেস করি, কী কনফিউশান?

আপনি বলেছিলেন নীল ব্লাউজ; কিন্তু এর তো দেখছি আকাশি ব্লাউজ। আপনি কি আকাশিকে নীল বলেছিলেন?

আমি বলি, তা বলব কেন?

ছোটবাবু একটু হেসে বলেন, না, আসলে অনেকে তো কালার ব্লাইন্ড থাকে; অনেকে আবার আকাশি, ডিপ ব্লু, নেভি-ব্লু সবগুলোকেই এককথায় নীল বলে; এমনকি অনেকে সবুজকেও নীল বলে … ।

না, না, আমি সেরকম বলি না।

ছোটবাবু বলেন, আর একটা ব্যাপার হতে পারে; আপনি সকালে দেখেছিলেন নীল ব্লাউজ, কিন্তু তারপর তো ব্লাউজটা চেঞ্জও করতে পারে।

আমি বলি, তা অবশ্য ঠিক।

আপনার ওয়াইফের কি আকাশি ব্লাউজ ছিল।

একটু চিন্তা করে বলি, এটা বলা মুশকিল।

ছোটবাবু বুঝদারের মতো আমার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়েন। তারপর বলেন, তা হলে তো মিলেই গেল।

আমিও সম্মতিসূচক ঘাড় নেড়ে বলি, হ্যাঁ, একরকম মিলেই গেল বলা যায়।

ব্যস।

একটু মাথা চুলকে, দুবার গলা ঝেড়ে আমি বলি, নীলই হোক বা আকাশিই হোক; গায়ে ব্লাউজটা ছিল তো?

চলবে

গত পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick-part-9/

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.