ডুগডুগি (পর্ব ২)

ডুগডুগি (পর্ব ২)

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

এখন সকাল সাতটা | কালীপুজো হয়ে গেছে ক’দিন আগে | রাতের দিকে ক’দিন বেশ ঠান্ডা পড়ছে, সকালে ঘাসের মাথায় ছোট ছোট পুঁতির মতো শিশির ছড়িয়ে আছে | কাল অনেক রাত পর্যন্ত ঘুম আসেনি | মাথার মধ্যে নানারকম চিন্তার বুদবুদ | কোথায় যেতে পারে কুমকুম? কোথাও চলে গেল কারও সঙ্গে? কিছুদিন ওর একটু আনমনা ভাব লক্ষ্য করছিলাম | রাধার কী হইল অন্তরে ব্যথা-র মতো মূর্তি – কী যেন ভাবছে, চমকে উঠছে মাঝে মাঝে | একটা মোবাইলের জন্য বায়না জুড়েছিল | দিচ্ছি-দেব করে ঠেকিয়ে রেখেছিলাম | দু’একবার মনেও হয়েছিল, কেষ্ট-বিষ্টু কেউ একটা জুটেছে | কোথাও যেন শুনেছিলাম, বউ পরপুরুষের প্রেমে পড়েছে বুঝতে পারলেও না জানার ভান করে থাকবে, তাতে গৃহশান্তিটুকু বজায় থাকবে অন্তত | কিন্তু যখনই বউ জানবে তুমি জেনে গেছ, তখনই খুল্লমখুল্লা হয়ে যাবে সে | স্বামী আর প্রেমিকের মধ্যে একটা রাস্তা বেছে নিতে হলে ফিফটি পারসেন্ট বউ কিন্তু গৃহত্যাগের জন্য প্রস্তুত | কথাটা বিশ্বাস করতাম বেশ, আর আমি নিজে কোন ফিফটির মধ্যে পড়ব তা নিয়ে প্রবল দ্বন্দ্ব ছিল মনে, তাই কুমকুমকে খুব একটা ঘাঁটাইনি | শুধু একটু চোখ কান খোলা রাখতাম – বাড়াবাড়ি কিছু যেন না হয় | কখনও আমার মাসতুতো ভাই কৌষিক, কখনও ওর পিসতুতো দাদা চাঁদু, কখনও পাড়ার স্টেশনারি দোকানের ছোকরাটা, কখনও সবজান্তামার্কা টিভি মিস্তিরিটা – এই সব নানা জনের মুখ নানা সময়ে ভেসে উঠত | মাঝে মাঝে মনে হতো সবার সঙ্গেই আছে, মাঝে মাঝে মনে হতো কারও সঙ্গেই নেই | এর মধ্যে একদিন শুধু একটু গারূও= সন্দেহ হয়েছিল, আর তা নিয়ে সামান্য কথা কাটাকাটি | উঠোনে হঠাৎ একটা পোড়া সিগারেটের টুকরো পাই | বেশ দামি ব্র্যান্ডের বিদেশী সিগারেট | ত্রিপর্ণা বলল, পাড়ার ছেলেরা কালীপুজোর চাঁদা নিতে এসেছিল, তাদেরই কেউ ফেলেছে | পাড়ার বেকার ছেলেদের কেউ এত দামি ব্র্যান্ডের সিগারেট খায়, ভাবা কঠিন | কিন্তু ওর যুক্তি, ওই জন্যই তো ওরা এইসব পুজো-টুজো করে | পরে ভেবে দেখেছি, এ কথাটা ফেলে দেবার মতো নয় | আমরাও তো বেকার বয়েসে পুজো-আচ্চা করতাম, ক’দিন একটু ভালমন্দ খাব, নবাবী করব বলে |

যাই হোক, আনমনা ভাবগতিক, মোবাইলের আবদার, বিদেশী সিগারেট – সবকিছু মিলিয়ে হয়তো একটা রহস্যময় ঝুলি চোখে পড়ে, কিন্তু তাহলে তো চিঠি-চিরকুট জাতীয় কিছু একটা রেখে যাওয়া উচিত ছিল | ‘আমি চলে যাচ্ছি | আমাকে খোঁজার চেষ্টা কোর না  | ভাল থেক |’ – ইত্যাদি | তেমনই তো প্রথা | অবশ্য মোবাইলের জমানায়, চিঠি তো প্রায় উঠেই গেছে | তবে এসব সিচুয়েশনে চিঠিই নিরাপদ এবং রুচিসম্ম্মত | স্বামীকে ফোন করে স্ত্রী জানাচ্ছে, ‘আমি অমুকের সঙ্গে পালাচ্ছি, আমাকে খোঁজার চেষ্টা কোর না ; ফ্লাস্কে চা আছে, খেয়ে নিও’ – এই একবিংশ শতাব্দীতেও নিতান্তই কষ্টকল্পনা | তবুও মোবাইলটা ভাল করে চেক করলাম, যদি কোনও মিসড-কল এসে থাকে | না, তেমন কিছু নেই |

এর পর খুব সঙ্গতভাবেই খারাপ চিন্তা মনে চলে এল | কেউ কি অপহরণ-টপহরণ করলো কুমকুমকে? আজকাল এসব খুব হচ্ছে | আমার মতো ছাপোষা মানুষের কাছ থেকে মুক্তিপনের আশা নিশ্চয়ই কেউ করবে না | কিন্তু এছাড়াও নানা মতলব থাকতে পারে | মানুষ আজকাল হাতির মতো হয়ে উঠেছে – মরলে লাখ টাকা | কিডনি বা ওই জাতীয় কিছু অর্গ্যানের নাকি আকাশছোঁয়া দাম বাজারে | আবার এমনও হতে পারে, জ্যান্ত কুমকুমকে কোনও খারাপ জায়গায় বিক্রি করে দিল |

এইসব সাতপাঁচ চিন্তায় মাথা ক্রমশ ঘুলিয়ে উঠছে | সকালবেলা বড় কাপের এক কাপ চা খাই | তারপর একটা সিগারেট | আজ চা করার কেউ নেই | চা না খেলে সিগারেট ঠিক মতো জমবে না; আর সিগারেট না খেলে মাথার জটও ছাড়বে না |

মোড়ের মাথায় গঙ্গারামের চায়ের দোকান সকালেই বেশ জমজমে | এরমধ্যেই খবরের কাগজ এসে গেছে | টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে কাগজটা | গঙ্গারামের ভাঁড়ের যা সাইজ অন্তত চার ভাঁড় না খেলে চা খেয়েছি বলে মনেই হবে না | কিন্তু একসঙ্গে চার ভাঁড় চা নেওয়া বোকামি | আমি তাই এক নম্বর ভাঁড় নিয়ে চুমুক দিই | গঙ্গারামের চা আগে দু’একবার খেয়েছি ; অত্যন্ত বাজে | দেখলাম, এতদিন চায়ের দোকান চালিয়েও চা বানতে শিখল না গঙ্গারাম | কোয়ালিটি আরও অধঃপাতে গেছে |

ফ্রন্টপেজ হাতে নিয়ে বসে ছিলেন বিশুবাবু | বিশ্বসংসার সম্পর্কে ভদ্রলোকের অপার কৌতূহল | আমার দিকে দুবার আড়চোখে তাকালেন ; তারপর বললেন, অবনীশ যে!
আমি ভদ্রতার হাসি হাসলাম একটা |
কী ব্যাপার দোকানে চা খাচ্ছ! গিন্নি নেই না কি?
কেন থাকবে না! একটু ভেবেই বলে ফেললাম আমি |

এই মামুলি প্রশ্নটার এমন ঝাঁঝালো উত্তর পেয়ে বেশ একটু অবাক হয়ে গেলেন বিশুবাবু | তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন, না মানে, তোমাকে তো বিশেষ দেখি না এখানে!

বুঝলাম, একটু বেহিসেবীর মতো জোরে বলা হয়ে গেছে | ম্যানেজ করার চেষ্টায় বললাম, চা-পাতা ফুরিয়ে গেছে হঠাৎ ; তাই ভাবলাম, গঙ্গাদার দোকানে খেয়ে নিই |

কাল রাতে কোথাও গিয়েছিলে না কি?
বুকের মধ্যে কোথাও যেন কিছু একটা ঢিপ করে পড়ল | তবু খুব স্বাভাবিক গলায় বললাম, না তো, যাইনি তো কোথাও!
না, অনেক রাতেও দেখলাম বাড়ি অন্ধকার ; আলো-টালো জ্বলছে না |
কত রাতে?
তা হবে, তখন আটটা হবে |
আমি কাল ন’টার সময় ফিরেছি |
বিশুবাবু নাছোড়বান্দা | বললেন, গিন্নিও বোধহয় বাড়ি ছিল না?

তিন চুমুকে প্রথম ভাঁড় শেষ | গঙ্গারামকে হেঁকে আর এক ভাঁড় দিতে বলে বললাম, শরীর-টরীর খারাপ ছিল বোধহয় |

বিশুবাবু কিছু বললেন না | কিন্তু আমার কথাটা বিশ্বাস করেছেন কি না বোঝা যাচ্ছে না | ফ্রন্টপেজটার দিকে একটু ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে আছেন | প্রসঙ্গ ঘোরাবার জন্য বললাম, কী বলছে কাগজ?

বিশুবাবু বললেন, খবর তো সেই একই – কংগ্রেস-সিপিএম –বিজেপি – লকআউট – রেল রোকো –মন্ত্রীর গুপ্ত একাউন্ট –প্রশ্ন ফাঁস –খরা-বন্যা – খুনখারাপি –ক্রিকেটে হার, ঘাটতির বাজেট…সবই এক…এর মধ্যে একটাই ভাল খবর, বাঁদরগুলোকে পাওয়া গেছে |

কী বাঁদর?
আরে, চিড়িয়াখানা থেকে চুরি গেছিল যেগুলো!
বাঁদর নিয়ে ক’দিন খুব হইচই হচ্ছে কাগজে-টিভিতে, খুব দুর্লভ প্রজাতির বাঁদর | আমি বলি, যাক ভালই হলো |

বিশুবাবু বললেন, পুলিশ মনে করলে সবই পারে ; কিন্তু করবে না…| ব্যাটারা গেঁতো!
কী ভাবে উদ্ধার করল? আমি জানতে চাই |
আরে সেটাই তো জানতে পারছি না ; ওটা পাঁচ পাতায় আছে! কখন থেকে আটকে রেখেছে দেখ না…|

দোকানের সামনে তিন চারটে ইয়াং ছেলে একটা পৃষ্ঠায় হুমড়ি খেয়ে পড়েছে ; খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ছে কিছু | চুমুক দিয়ে বললাম, সবাই আজ বাঁদর নিয়ে পড়েছে দেখছি |
গলা একটু নামিয়ে বিশুবাবু বললেন, বাঁদর না ছাই!

আমি অবাক হয়ে তাকালাম বিশুবাবুর দিকে |

তেমনই চাপা স্বরে বিশুবাবু বললেন, ওরা রসের খবর পড়ছে, বুঝলেন | রেপ!
রেপ ! বেশ অবাক হয়ে বলি, কোথায়?
পাঁচ পাতায় |
আরে দূর ; সে তো বুঝলাম! একটু বিরক্তি নিয়ে বলি, কোথায় হয়েছে রেপটা?
বাইপাসের কাছে | একেবারে গণধর্ষণ |
ও | বলে প্রসঙ্গটা এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করি |
বিশুবাবু বললেন, শালারা খবরটা যেন মুখস্থ করছে পরীক্ষার মতো |
আমি বললাম, আপনি পেজটা চেয়ে নিন না |
বিশুবাবু বললেন, চাইতেই পারি, কিন্তু শালারা ঠিক ভাববে আমি রেপটার জন্যে চাইছি |

এতক্ষণে বিশুবাবুর সমস্যাটা অনুধাবন করতে পারি | বলি, একটু ওয়েট করুন তাহলে…|

ছোট খবর একটা, পাঁচ মিনিটও লাগে না; শালারা পনেরো মিনিট আটকে রেখেছে | বিশুবাবু বেশ ক্ষোভের গলায় বললেন, দেশটার বারোটা বেজে গেল, বুঝলেন…রেপ করলি ঠিক আছে; প্রাণে মারলি কেন?

মেরে ফেলেছে নাকি?
হ্যাঁ, তাই তো লিখেছে দেখলাম |
কেউ ধরা-টরা পড়েছে নাকি?
তেমন তো কিছু দেখলাম না | তবে পরিচিত লোকের কাজ |

আমি একটু বিস্মিত হই | বলি, কী করে বুঝলেন?

না বোঝার কী আছে! তিরিশ-পঁয়তিরিশ বছরের বিয়ে হওয়া মহিলা ; শুধু শুধু ওই নির্জন জায়গায় যাবে কেন! নিশ্চয়ই পরিচিত কেউ বাড়ি থেকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে গেছে, তারপর রেপ করে মেরে দিয়েছে – এ তো সোজা ব্যাপার |

‘বাড়ি থেকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে গেছে’ – শব্দগুলো আমার মাথার ভেতরে কোথাও ধাক্কা দেয় | তাড়াহুড়ো করে বলি, বয়েস কত বললেন?

তিরিশ-পঁয়তিরিশ তো লিখেছে…| আনুমানিক আর কী!
নাম কিছু দিয়েছে?
কই, সে সব তো কিছু দেখলাম না |
কোথাকার মেয়ে সে সব কিছু দিয়েছে?

আমার কৌতূহল বোধহয় কিছুটা বাড়াবাড়ি রকমের হয়ে উঠেছিল | বিশুবাবু অবাক হয়ে গেছেন | বললেন, না না, ওসব কিছু দেয়নি; কেন বলুন তো?

আমি সামলে নিই নিজেকে | বলি, না, জাস্ট কৌতূহল |
বিশুবাবু বলেন, তবে এসব মেয়েরাও লুজ ক্যারেক্টার হয় জানবেন |

কী করে বুঝলেন? একটু বিরক্তি নিয়ে বলি আমি |

যারা রেপড হয় তাদের ক্যারেক্টারের ঠিক ঠিকানা থাকে না…….আপনি ভাবুন না, আমার আপনার ঘরের বউ যাবে ওই রকম নির্জন জায়গায় – সে যতই পরিচিত লোক হোক না কেন | বেশ জোরের সঙ্গে বলেন বিশুবাবু |

আমি বলি, অত সহজে কিছু বলা যায় না | বিশুবাবু কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন | সামনের ছেলেদের মধ্যে একজন বিশুবাবুর দিকে তাকিয়ে বলল, ফ্রন্টপেজটা হয়েছে আপনার?

বিশুবাবু ফ্রন্টপেজটা এগিয়ে দিয়ে ছেলেটির হাত থেকে একরকম ছিনিয়ে নিল কাগজটা |

কাগজটা মেলে ধরতেই আমি ঝুঁকে পড়লাম পঞ্চম পাতাটার ওপর | বাঁদর চুরির শেষাংশের পাশের সরু এক কলামের রেপ |

তিনটে কাগজ তছনছ করে বাইপাসের রেপ খুঁজলাম | দুটোতে কিচ্ছুটি নেই; আর একটাতে গুটিকতক লাইন, চায়ের দোকানের কাগজের চাইতেও কম | তাতে না আছে ধর্ষিতার নাম, না ঠিকানা | একটা ইংরিজি কাগজও কিনেছি | সবশেষে সেটা ধরলাম | এটাতে আবার গুচ্ছ গুচ্ছ পাতা, ওই গন্ধমাদনে বিশল্যকরণী খুঁজতে গিয়ে আমার গলদঘর্ম দশা | ইংরিজিতে আমার চিরকাল আতঙ্ক  – পরীক্ষায় চল্লিশের চৌকাঠ টপকাতে পারিনি কোনওদিন | একবারই, সেটা আবার মাধ্যমিকে, ঊনপঞ্চাশ পেয়েছিলাম হলে গার্ড খুব লুজ ছিল বলে | তবু এ.টি.দেবের ডিকশনারি নিয়ে বসলাম | দেশ-বিদেশ স্বর্গ-মর্ত-পাতাল চাঁদ-মঙ্গলগ্রহ – শুধু খবর আর খবর | ইংরিজি কাগজ না পড়লে বোঝাই যায় না চারপাশে কত কিছু ঘটছে | আশ্চর্যের ব্যাপার, এত ঘটনার ঘনঘটায় কোথাও বাইপাস নেই | দুটো রেপের খবর আছে; কিন্তু তার একটাও বাইপাসে নয় | ডিকশনারি দেখে খামচা-খামচা যেটুকু বুঝলাম, একটাতে মাসতুতো দাদা বোনকে আর একটাতে গৃহকর্তা যুবতী পরিচারিকাকে কব্জায় পেয়ে অপকর্মটি করেছে |

সকাল থেকে চারটে কাগজ হাঁটকে লড়ে কোনও কাজ হলো না; শুধু পাঁচ-সাতটা নতুন ইংরিজি শব্দ শিখলাম | হঠাৎ মনে পড়ল কানাইদার কথা; আমাদের সেকশানে কাজ করে | ওরও বউ পালিয়েছে বছরখানেক আগে | কানাইদাকে ফোন করা যেতে পারে; নিশ্চয়ই আমার সমস্যাটা বুঝবে | ফোন করলাম কানাইদাকে | পাঁচ-সাতটা রিং হবার পর একজন মহিলা ধরল | একটু ঘাবড়ে গেলাম | যতদূর জানি, কানাইদা এখন একলা থাকে | একটাই ছেলে, সে থাকে কানাইদার দাদা-বৌদির  কাছে | তাহলে কি বউ ফিরে এসেছে কানাইদার? শুনিনি তো তেমন কিছু!

একটু দ্বিধার সঙ্গে বললাম, হ্যালো, এটা কি কানাই চোংদারের নাম্বার |

মহিলা কন্ঠ বলল, হ্যাঁ, উনি তো চান করছেন | ঠিক আছে, পরে করব – বলে রেখে দিতে যাচ্ছি হঠাৎ শুনলাম মহিলা বলছে, ওই তো এসে গেছে দিচ্ছি |

গলায় বেশ কেতা লাগিয়ে কানাইদা বলল, হ্যালো |

বললাম, কে ফোন ধরেছিল গো?

একটু চুপ করে থেকে কানাইদা বলল, পরে বলব |

কানাইদাকে বললাম বিপদের কথা | শুনে-টুনে কানাইদা গম্ভীর গলায় বলল, হুঁ ! কোনও আত্মীয়-টাত্মীয়ের বাড়ি যায়নি তো?

আমি বললাম, এভাবে ঘরদোর খোলা রেখে কেউ যায়!

হুঁ | কানাইদা বলল, তা অবশ্য ঠিক | তাহলে তো বোঝাই যাচ্ছে, তোর বউ পালিয়েছে |

পালিয়েছে; বল কী! আমি একটু আঁতকে উঠি |

ওই রকমই বলি |

কিন্তু পালাবে কেন?

ওই তো নয়…! কানাইদা বেশ ব্যঙ্গের সঙ্গে বলে, মাগিরা পালায় কেন, তা কি কেউ জানে | সংস্কৃত একটা শ্লোক আছে, যাতে বলছে যে, মাগিদের চরিত্র তুমি আমি কোন ছার, স্বয়ং ভগবানও জানতে পারে না |

কানাইদা এত জোর দিয়ে বলল কথাগুলো, যে আমার ভাল লাগছে না | বললাম কিন্তু ধর, কেউ কিডন্যাপ তো করতে পারে | এখন তো এসব খুব হচ্ছে |

কিডন্যাপ কেসগুলোর বেশিরভাগ জানবি গণ্ডগোলে ব্যাপার  – প্রথমে প্রেম-পিরিতি হলো, মেয়েটাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে গিয়ে ভোগ করল, তারপর মার্কেটে ঝেড়ে দিল….|একটা জলজ্যান্ত মেয়েকে সম্মতি ছাড়া তুলে নিয়ে যাওয়া সহজ নয় | তুই একটা কুকুর বাচ্চাকেও খুব সহজে তুলে নিয়ে আসতে পারবি না – আর এ তো একটা গোটা মানুষ….|

ও | আমি একটু অসহায়ভাবে বললাম, তাহলে বলছ পালিয়েছে?

আমি হান্ড্রেড পারসেন্ট শিওর | ভেবে দ্যাখ ঝগড়াঝাঁটি কিছু হয়েছিল?

না | আমি বেশ জোর দিয়ে বললাম, আমাকে অফিসের ভাত বেড়ে দিল, এমনকী ফেরবার সময় হত্তুকি আনতে বলল |

আশ্চর্য! একটু জোর দিয়ে বলে উঠল কানাইদা |

কী আশ্চর্য?

তোর বৌদি, মানে আমার বউও পালিয়ে যাবার দিন আমাকে হত্তুকি আনতে বলেছিল |

ও বাবা, তাই!

 

চলবে….

 

গত পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-dugdugi-by-ullas-mullick/

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Social isolation to prevent coronavirus

অসামাজিকতাই একমাত্র রক্ষাকবচ

আপনি বাঁচলে বাপের নাম— এখন আর নয়। এখন সবাই বাঁচলে নিজের বাঁচার একটা সম্ভবনা আছে। সুতরাং বাধ্য হয়ে সবার কথা ভাবতে হবে। কেবল নিজের হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা পাকা করলেই হবে না। অন্যের জন্য হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক ডজন স্যানিটাইজ়ার কিনে ঘরে মজুত রাখলে বাঁচা যাবে না। অন্যের জন্য দোকানে স্যানিটাইজার ছাড়তে হবে। আবেগে ভেসে গিয়ে থালা বাজিয়ে মিছিল করলে হবে না। মনে রাখতে হবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জানলায় বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে থালা বাজাতে। যে ভাবে অন্যান্য দেশ নিজের মতো করে স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করছে। রাস্তায় বেরিয়ে নয়। ঘরে থেকে।