সুপ্রিয় চৌধুরী
জন্ম ও বেড়ে ওঠা উত্তর কলকাতার পুরোনো পাড়ায়। বহু অকাজের কাজী কিন্তু কলম ধরতে পারেন এটা নিজেরই জানা ছিল না বহুদিন। ফলে লেখালেখি শুরু করার আগেই ছাপ্পান্নটি বসন্ত পেরিয়ে গেছে। ১৪২১ সালে জীবনে প্রথম লেখা উপন্যাস 'দ্রোহজ' প্রকাশিত হয় শারদীয় 'দেশ' পত্রিকায় এবং পাঠকমহলে বিপুল সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে আরও দুটি উপন্যাস 'জলভৈরব' (১৪২২) এবং 'বৃশ্চিককাল' (১৪২৩) প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে পুজোসংখ্যা আনন্দবাজার এবং পত্রিকায়। এছাড়া বেশ কিছু প্রবন্ধ এবং দু চারটি ছোটগল্প লিখেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা আর লিটিল ম্যাগাজিনে। তার আংশিক একটি সংকলন বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে 'ব্যবসা যখন নারীপাচার' শিরোনামে। ২০১৭ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার।

আগুনের তেজ বেড়েছে। সামনে রাখা একটা মাঝারি সাইজের অ্যালুমিনিয়ামের ডেকচিপাশে বেছানো কয়েকটা লম্বা লম্বা প্লাস্টিক শিট। তার একটার ওপর বসে মেঠো আলুর খোসা ছাড়াচ্ছে কান্দু। ধারে একটা বাটিতে রাখা চাল আর পাঁচমিশেলি ডাল। দেখলেই বোঝা যায় অত্যন্ত নিম্নমানের। শিটের ওপর ছড়িয়ে রাখা পেঁয়াজ, রশুন, মশলাপাতি। কমদামী নুন আর হলুদের প্যাকেট। ব্র্যান্ডনেম নেই। কোশি যেন অপেক্ষা করে ছিলো জলটুকুর জন্য। লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে উঠে জেরিক্যানটা নিয়ে নিলো যতীনের হাত থেকে। তারপর চালডাল ধুয়ে ডেকচিতে চড়িয়ে কান্দুর কুটে রাখা মশলাপাতি দ্রুত হাতে ফেলে দিলো ডেির মধ্যে। সঙ্গে ডিম চারটে। আলাদা করে ভাজা বা ফোড়ন দেয়ার কোন ব্যাপারই নেই। এতক্ষণ খেয়াল করেনি। এবার চোখ গেল পাশে আরেকটা ছোটখাটো আগুনের কুণ্ডলী বানিয়ে ফেলা হয়েছে ইতিমধ্যেই। জেরিক্যানের বাকি জলটা আরেকটা ডেকচিতে ঢেলে চাপিয়ে দেয়া হলো সেই আগুনে।

Banglalive

‘‘জঙ্গল মে দো সবসে খতরনাক বিমারি। পেটের অসুখ আর জাঙ্গল ম্যালেরিয়া। প্রতিবছর হাজারে হাজারে মানুষ মারা যায় এই বিশাল পালামৌ – সিংভূম – দণ্ডকারণ্য – বস্তার অঞ্চল জুড়ে। হমারে পার্টি যব সে ইঁহা আয়ে, ধীরে ধীরে আদিবাসিয়োঁকা দিল জিতা প্রথমেই যে কাজটা আমরা শুরু করেছিলাম, আদিবাসীদের বোঝাতে চেষ্টা করেছিলাম যে বাঁচতে গেলে লড়তে হবে আর লড়তে গেলে সুস্থ শরীরে টিকে থাকাটাও জরুরী তাই সবাই জল ফুটিয়ে খাও। তাহলে দুশমনের গুলিতে কেউ কেউ শহীদ হলেও হতে পারো কিন্তু পেটের রোগে হাজারে হাজারে মরবে না।”

সেই বোঝানোয় কতটা কাজ হয়েছে? সবাই বুঝেছে কি?’’ যতীনের কথার মাঝখানে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিল অভিরূপ।

সবটা পেরেছি একথা কখনোই বলবো না। তবে অনেকটাই কাজ হয়েছে এ কথা বলাই যায় জোর দিয়ে। এই গোটা অঞ্চলে অন্তত পঞ্চাশভাগ মানুষ আজ আর জল না ফুটিয়ে খায় না। আমাদের মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলোয় পেটের রোগ নিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে এখন। তবে এটাও একটা টানা লড়াই। বোঝানোর ব্যাপারটা চালিয়েই যেতে হবে। তব যাকে কামিয়াবি হাসিল কর সকতে হায় হামলোগ, একদিন অ্যায়সি আয়গি কি জঙ্গল মে এক ভি ইনসান পেট কি বিমারি মে নেহি মরেগা হামে বিশোয়াস হায় ইয়ে।” কথাগুলো বলার সময় অদ্ভুত এক প্রত্যয় খেলে যাচ্ছিল যতীনের চোখেমুখে।

অওর ম্যালেরিয়া কা বারে মে ক্যা শোচা আপলোগোঁনে। বছর তিনেক আগে এক বার ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া হয়েছিল আমার। দিন চারেক নার্সিংহোমে কাটাতে হয়েছিল। তাই এই অসুখের বিপদটা আমি জানি।”

কমরেড …” অভিরূপের কথায় হেসে ফেললো যতীন। “আপকা ওহ শহরওয়ালে কালা ম্যালেরিয়া বিলকুল দুধ পিতা হুয়া বাচ্চা হায় ইস জাঙ্গল ম্যালেরিয়া কে সামনে চওবিশ সে তিশ ঘণ্টা বহোত জোর। ইসকে অন্দর আগর ইলাজ না শুরু কিয়া গিয়া তো বিমারি সিধা পহুঁছেগি ব্রেইন মে অওর আপ গয়ে কাম সে। একদম পাক্কা। পেটের অসুখের পরই যে রোগ এখানকার মানুষ সবচেয়ে বেশি মারা যায় সেটা হলো এই জাঙ্গল ম্যালেরিয়া। ইসকে ইলাবা সাপ নে কাটা, বিচ্ছু নে ডাঁসা, ভালু ইয়া চিতা নে হামলা কিয়া ছোটিমোটি বুখার, জুখাম, বিমারি – সবকা ইলাজ করতেঁ হায় হামারে কমরেড ডক্টরস্‌ নে। নিয়মিত রূপসে মেডিক্যাল ক্যাম্প চলতা হায় হামলোগোঁকা ইস পুরে ইলাকে মে।”

তার মানে ডাক্তাররা রয়েছেন এখানে? তারা কি এখানেই থাকেন?” তীব্র কৌতূহল মিশে রয়েছে অভিরূপের প্রশ্নে।

জ্যায়দা তর ডক্টরস কুছদিন রহে কর চলে যাতে হায়। ফির লওটকে আতে। দো-চার হায় ফুলটাইম পুরি জিন্দেগী বিতা দি ইঁহা, আদিবাসী অওর গরিবোঁ কে লিয়ে। ওদের কাছে গেরিলারাও ফার্স্ট এইডের ব্যাপারটা শিখে নিয়েছে অনেকটাইহর স্কোয়াডকে পাস মেডিক্যাল কিট রহতা হায়। উসমে কুইনাইন, প্যারাসিটামল, পেইনকিলার, পেট কা দাবা, ব্যান্ডেজ অওর ইঞ্জেকশন হরওয়াক্ত মজুত রহেতা, গাঁও গাঁও মে ইলাজকে লিয়ে।”

কথার মাঝখানে এসে দাঁড়ালো কোশি। আগুনের তাপে কালো মুখটা লালচে। নীচু গলায় কিছু একটা বললো যতীনকে। “চলিয়ে কমরেড, খানা তৈয়ার। আপকে সম্মান মে আজ স্পেশাল ডিনার। সবকে লিয়ে এক এক আণ্ডা খিচড়া মে ।” বলতে বলতে উঠে দাঁড়ালো যতীন।

আগুনকে ঘিরে গোল হয়ে খেতে বসেছে সবাই। জাউয়ের মতো খিচুড়ি। আঠালো থকথকে। মাঝেমাঝে ভুট্টার দানা। মেঠো আলু আর একটা করে সেদ্ধ ডিম তার মধ্যে। সঙ্গে উপরি হিসেবে প্রচুর কাঁকড়। মাঝেমাঝেই ‘কটাং’ করে লাগছে দাঁতে।

একবার আড়চোখে পাশে তাকালো অভিরূপ। কারো কোন বিকার নেই। চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে। পরম তৃপ্তির ছাপ সবার চোখেমুখে। কিছুক্ষন খাওয়ার পর বাটিতে রাখা ফোটানো জল গ্লাসে ঢেলে চুমুক দিলো সবাই। সেই লম্বা ক্লান্তিকর পথ চলার পর এই প্রথম জল খাচ্ছে ওরা তিনজন। মনে মনে ভীষণ লজ্জিত হলো অভিরূপ। যতীন থামতে বলা মাত্র অগ্রপশ্চাৎ চিন্তা না করে বোতল খুলে জল ঢেলে দিয়েছিলো গলায়। ভেবে দেখেনি যে সঙ্গে থাকা বাকি তিনজন তখনো একফোঁটা জলও ঠেকায়নি জিভে। পাশে রাখা নামী কোম্পানীর মিনারেল ওয়াটারের বোতলটা। কিছুটা জল তখনও অবশিষ্ট রয়েছে। এক মুহূর্তের চিন্তা। বোতলের ঢাকনা খুলে বাকি জলটা ঢেলে দিলো মাটিতে। তারপর সামনে রাখা গ্লাসটা বাড়িয়ে ধরলো। সঙ্গে সঙ্গে চাপা খুশির একটা ঝিলিক বিদ্যুতের মতো খেলে গেল বাকি তিনজনের চোখে। আগুনের আলোয় সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারলো অভিরূপ।

জঙ্গল জুড়ে ঝিঁঝিঁর ডাক। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সেটা। একটা বড় প্লাস্টিক শিটে পাশাপাশি শোয়া যতীন আর অভিরূপ। “ইয়ে প্লাস্টিক শিট, এহি হামারা ঘরগিরস্থি, বিস্তর, শর কা উপ্পর ছাদ সবকুছ। ব্যাগ মে জাগা বহোত কম লাগতা হায়। গরমি মে বিছাকে শো যাও। ঠাণ্ডা জিয়াদা লাগা তো উসিকো বদন মে লপেটকে কম্বল বনা লো। আর একটা করে বড় শিট থাকে প্রত্যেক স্কোয়াডের কাছে। বর্ষার সময় টাঙিয়ে নিলেই মাথার ওপর ছাদ। গেরিলায়োঁকো চলতা ফিরতা সনসার হাঃ হাঃ” বলতে বলতে হেসে উঠলো যতীন। একটু দুরে কারবাইনটা কোলের ওপর রেখে একটা গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে বসে আছে কোশি। গার্ড দিচ্ছে। সেদিকে একবার তাকালো যতীন। “আমরা তিনজন পালা করে পাহারা দেবো। প্রথমে কোশি। বাকি রাতটা ভাগাভাগি করে আমি আর কান্দু।”

এই অ্যাতোটা পথ হাঁটা, তারপর অ্যাতো সামান্য ঘুম অসুবিধা হয় না?” অভিরূপের প্রশ্নে ফের হাসলো যতীন – “আপনি ভাবছেন আজই আমরা প্রথম এতটা পথ হাঁটলাম? প্রত্যেকটা গেরিলা স্কোয়াড, সেই জঙ্গলমহল থেকে গড়চিরৌলি, প্রতিদিন কমসে কম পনেরো থেকে কুড়ি কিলোমিটার হাঁটে। খুব প্রয়োজন ছাড়া কোথাও দুরাতের বেশি কাটায় না। অন্তত কুড়ি জনের স্কোয়াড হলে তবেই একেকজন পুরো রাত ঘুমোতে পারে। লেকিন হাম গেরিলালোগ সমঝতে হায় কি চার ঘণ্টা নিদ কাফি হায় এক ইনসানকে লিয়ে। কভি কভি ওহ ভি নসিব নেহি হোতা খ্যায়ের কোই বাত নেহি, কোই ভি সিচুয়েশনকে লিয়ে প্রস্তুত রহতে হায় হাম, হরওয়াক্ত। তো কমরেড, আজ রাতকে লিয়ে ইতনাহি। ফির কাল সুবহ বাত করেঙ্গে হামলোগ। আপভি শো যাইয়ে।” বলতে বলতে প্লাস্টিকের একপ্রান্ত ধরে গড়িয়ে নিয়ে নিজেকে মুড়ে ফেললো যতীন। বোঝাই যাচ্ছে ঘুমের সামান্য সুযোগটুকুও নষ্ট করতে চায় না ওদুবারের চেষ্টায় নিজেকেও একইভাবে মুড়ে শুয়ে পড়লো অভিরূপ। এরকম একটা গাছমছমে অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতাময় পরিবেশে ঘুম কি আর আসে? দিব্যেন্দুদার কথাগুলো মনে পড়ে যাচ্ছিল। পার্টির সর্বোচ্চ স্তরের কেউ একজন কথা বলতে আসবে ওর সঙ্গে। কে সে? পার রহস্যময় প্রশ্নটা ঘুরপাক মেরেই চলেছে মাথায়। ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল জানা নেই।

ছেঁড়া ছেঁড়া আধো ঘুম ভেঙে গিয়েছিল মাঝরাতে। যুবতী কণ্ঠের ফিসফিসে ডাক – “কমরেড যতীন।” পলিথিনের মোড়কের ভিতর থেকে চোখ খুলেছিলো অভিরূপ। চাপা গলায় যতীনকে ডাকছে কোশি। মুহূর্তে ছিলে ছেঁড়া ধনুকের মতো উঠে বসলো যতীন। মাথার নীচ থেকে ঝটিতি বেরিয়ে এলো একটা নাইন এম এম পিস্তল। তার মানে অস্ত্রটা ওর কাছেই ছিলো। সেই প্রথম দেখা হওয়ার সময় থেকেই। মৃদু আওয়াজ। ‘ক্রিক’ পরীক্ষা করে দেখে নিলো বোধহয়। তারপর বিনা বাক্যব্যয়ে অস্ত্রটা কোমরে গুঁজে মিলিয়ে গেল সামনে অন্ধকারে। ওর ছেড়ে যাওয়া শয্যায় একই কায়দায় নিজেকে মুড়ে শুয়ে পড়লো কোশিফের চোখ বুজে ফেললো অভিরূপও।

অজস্র পাখির ডাক। মৃদু গরম কিছুর স্পর্শ বন্ধ চোখের পাতায়। ধীরে ধীরে চোখদুটো খুললো। সরু সরু আলোর লাঠি চারপাশ ঘিরেমস্তিষ্কের মধ্যে বোধের তন্ত্রীগুলো সময় নিলো বেশ কিছুক্ষণ কী ঘটছে চারদিকে সেটা বুঝতে। অজস্র অগুনতি সরু সরু আলোর রেখা। বিশাল বিশাল সব আদিবৃক্ষের ফাঁকফোকর দিয়ে গলে এসে যেন আলগোছে আদর করে যাচ্ছে ঝড়াপাতা ঢাকা অরন্যভূমিকে। অনেকটা যেন লেজার বিমের মতো, কিন্তু সেই যান্ত্রিক তীক্ষ্ণতাটা নেই। কুয়াশাও কাটেনি পুরোপুরি। নরম, কোমল আলোআবছায়া গায়ে মেখে এক জাদুবাস্তব দৃশ্যপটের অবতারনা যদ্দুর চোখ যায়।

সুপ্রভাত কমরেড, রাত কো নিদ ঠিকঠাক হুয়া?” সামনে দাঁড়ানো যতীন। পাশে কোশি। মুখে সেই তাজা চকচকে হাসি। টানটান। দেখে কে বলবে ঘুমের সামান্য সুযোগটুকুর একটা বড়ো অংশ জেগে কাটিয়েছে ওরা। একটু দুরে কান্দু। সারারাত ধরে জ্বলা প্রায় নিভন্ত আগুনে চা বসিয়েছে। “জলদি যাকে ময়দান হোকে আইয়ে। নাস্তা কা বাদ মার্চিং চালু ফির সে।”

ময়দান?” যতীনের কথায় খটকালাগা বিভ্রান্ত চোখে ঘুরে তাকাল অভিরূপ।

ময়দান মতলব ল্যাট্রিন” হাসলো যতীন।

কোথায়?” বিস্ময়ে হতবাক অভিরূপ। প্রবল বিস্ময় প্রশ্ন হয়ে ঝরে পড়লো গলায়।

সামনে, পিছনে, এদিকে ওদিকে যেখানে ইচ্ছে বসে যান। সবাই এখানে এভাবেই যায়। আপনার বোতলটা ব্যবহার করতে পারেন। উধার পানি রাক্‌খা হুয়া হায়” আঙুল দিয়ে গাছের গায়ে রাখা জেরিক্যানটা দেখিয়ে দিলো যতীনসামান্য দুরে একটা বুনোঝোপমত। বোতলে জল ভরে ঝোপের আড়ালে যেতে যেতে শুনতে পেল যতীনরা হাসাহাসি করছে নিজেদের মধ্যে। বোধহয় ওর এই ময়দান প্রসঙ্গটা নিয়ে।

শুকনো খোলাভাজা চিঁড়ে। তার মধ্যে আধসেঁকা বুনো বাদাম জাতীয় কিছু। সামান্য দুধ আর প্রচুর চিনি মেশানো কালচে রঙের চা। খেতে খেতে কথা হচ্ছিল যতীনের সাথে। সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কে কথা বলবেন, এই প্রশ্নের জবাবে সোজাসাপটা যতীন। হামে মালুম নেহি হায় কমরেড। আসলে অন্ধ্রে কমরেড চেরিয়ান আর জঙ্গলমহলে কমরেড রাও শহীদ হয়ে যাবার পর থেকে অনেক সতর্ক হয়ে গেছে পার্টি। মিটিং শুরুর দশ মিনিট আগেও জানা যায়না কে আসবেন কথা বলতে। আর তাছাড়া আমরা আপনার সঙ্গে শেষ অবধি যাবোও না। পথে অন্য ‘দস্তা’ (স্কোয়াড) আপনার জিম্মা নিয়ে নেবে। ফির রাস্তেমে ‘দস্তা’ চেঞ্জ হোগা কি নেহি, হামে নেহি মালুম। ইয়ে ভি নেহি মালুম কি কাঁহা আপকো লে যায়া যায়গা।”

শহুরে মাল্টিপ্লেক্সে দেখা হলিউডি বলিউডি সিনেমার দৃশ্যগুলোর কথা মনে করে হাসি পাচ্ছিল অভিরূপের। সন্ত্রাসবাদীরা কাউকে চোখ হাত বেঁধে তাদের গোপন ডেরায় নিয়ে যাচ্ছে। সেটা যে কতটা হাস্যকর বুঝতে পারছে এই মুহূর্তে। হাজার হাজার মাইল এই গহীন জঙ্গল রাতের বেলা তো দুরস্থান, ভর দিনের বেলাতেও কাউকে কোথাও নিয়ে গেলে মানুষ তো কোন ছাড়, দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী র‍্যাডারের পক্ষেও বোধহয় সেটা ট্র্যাক করা সম্ভব নয়।

চায়ের পাট শেষ করে উঠে দাঁড়ালোতিনজন নিজেদের কাঁধের রাকস্যাক ধরনের বড় বড় ব্যাগগুলোয় মিনিট পাঁচেকের মধ্যে গুছিয়ে নিলো সবকিছু। যতীনের ভাষায় ‘চলতাফিরতা সনসার।’ ডালের বাড়ি মেরে মেরে কুণ্ডলীর শেষ আগুনটুকুও নিভিয়ে ফেললো অবিশ্বাস্য দ্রুততার সঙ্গে। তারপর সেই সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে চলা। রাতে বুঝতে পারেনি। এবার বুঝতে পারলো অভিরূপ। এই ছোট্ট দলটার লিডার কোশি। একদম সামনে। পিছনে পরপর অভিরূপ, যতীন আর সবার শেষে কান্দু। সামান্য দূরে নদী দেখা যাচ্ছে।

 

আরও পড়ুন:  ধর্মঘট

চলবে…

গত পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-4/

৩য় পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-3/

২য় পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-2/

১ম পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi/

2 COMMENTS

  1. Excellent, kobe pura golpota prakasita hobe? Abar sai Sudipta r Puna chemistry fire pabo

এমন আরো নিবন্ধ