কেতজেল পাখি (পর্ব ৭)

Bengali Novel

অভিরূপের অনুমান সত্যি। যতীন আদতে এই অরন্যের ভূমিপুত্র নয়। বিহারের জামুই জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে ওর বাড়ি। রামপ্রতাপ চৌধুরী। দোর্দণ্ডপ্রতাপ জমিদার ওদের গ্রামের। ঘরে বেওয়া মা আর দাদা সুরজ। গ্রামের শেষ প্রান্তে চামারটোলা মানে হরিজন বস্তিতে ওদের বাস। দাদা সুরজের খুব ইচ্ছে ছিল ভাই লেখাপড়া শিখুক। মাছেলে দুজনে উদয়ান্ত হাড়ভাঙ্গা খাটনি খাটতো রামপ্রতাপের হাভেলিতে। তবু যতীনকে কোনদিন কাজ করতে পাঠায়নি। রামপ্রতাপ অনেকবার বলেছিল – “আরে এ সুরজোয়া, তোহার ওহ ছোটকোয়া কো ভি কাম পে লাগা দে, চামার কা বেটা পড়লিখকে কওন সা ব্যারিস্টার বনেগা?” রামপ্রতাপের কথা শোনেনি সুরজ। ছোটভাইটাকে পড়হালিখা শিখিয়ে বড়া আদমী সে বানাবেই।

রোজ সকালে বইখাতার থলেটা কাঁধে ঝুলিয়ে পড়তে যেতো যতীন, দু মাইল দূরের স্কুলে। ভূমিহার মহল্লার সামনে দিয়ে যাবার সময় ওদের ছেলেরা টিটকিরি কাটতো – “দেখ শালা চামার কা বাচ্চা ডাগদার বননে যা রহা। ইসকো ভি শালা মদনোয়া কা হাল করুঙ্গা একদিন।”

মদন। মদন পাশোয়ান। চামার টোলির প্রথম ছেলে, স্কুলের গণ্ডি টপকেছিল। পড়তে গেছিল শহরের কলেজে। গরমের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিল। পায়ে জুতো। পরিষ্কার জামাকাপড়। চুল পরিপাটি করে তেল দিয়ে আঁচড়ানো। বছরখানেক শহরের হস্টেলে কাটিয়ে সম্ভবত ভুলেই গেছিল এটা ওর গ্রাম আর এখানে রামপ্রতাপ চৌধুরীর রাজ চলে। হাভেলীর সামনে দিয়ে যাবার সময় হাভেলীর বারান্দায় বসে থাকা রামপ্রতাপের চোখে পড়ে ব্যাপারটা। দাওয়া থেকেই হাঁক পেড়েছিল রামপ্রতাপ। “আরে, কওন যাওথ রে?”

মদন মালিক।”

কওন মদন?”

ভিখু পাসয়ান কা বেটা, মালিক।”

ভিখুয়া দুসাদ কা বেটা!” টেরি বাগিয়ে জুতো মচমচিয়ে চলেছে। আজ অবধি কোন চামারের বাচ্চার হিম্মৎ হয়নি চপ্পল পড়ে উঁচাজাতের মহল্লা দিয়ে যাবার। আর এ শালা …! ক্রোধে বিস্ময়ে হাঁ হয়ে গিয়েছিল রামপ্রতাপ।

বাজখাঁই গলায় হাঁক পেড়েছিল – “ইধার আ!” ত্রস্তপায়ে সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলো মদন। আপাদমস্তক ওকে মাপছিল রামপ্রতাপ। হাড়হিম করা নেকড়ে হাসি খেলে যাচ্ছিল চোখের কোনে। সাপের মত হিসহিস করে উঠেছিল রামপ্রতাপ – “শালা! বাপ চামার অওর বেটা দিলীপকুমার? এই! কওন হায় রে! নাঙ্গা করকে পিট বেটিচোদকো।” পাশে দাঁড়ানো দুই অনুগত লাঠিয়াল, কুন্দন আর ভানওয়ারি। আদেশ পাওয়ামাত্র এগিয়ে এসে লাথি মেরে মদনকে মাটিতে ফেলে আগাপাশতালা জুতো পেটা করেছিল আধঘণ্টা ধরে। তারপর হাত পা বেঁধে উলঙ্গ করে গোয়ালের পাশে ঠায় দাঁড় করিয়ে রেখেছিল বোশেখ মাসের কাঠফাটা রোডে, যতক্ষণ না জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যায়।

মদনের অভিজ্ঞতাটা মনে ছিল যতীনের। উঁচুজাতের ছেলেদের হুমকি আর টিটকিরি এড়াতে ভূমিহার মহল্লাটা এড়িয়ে ঘুরপথে যেতে শুরু করেছিল ইস্কুলে। একটু আগে বাড়ি থেকে বেরোতে হতো। বেশ খানিকটা সময় বেশি লাগতো। তা লাগুক। সুখের চেয়ে সোয়াস্তি ভালো। কি হবে বেকার ঝামেলায় পড়ে? তবু ঝামেলাটা এড়ানো গেলনা।

বড়দা সুরজ। সেই ছোটবেলাতেই গাওনা হয়েছিল আধক্রোশ দূরে জিতন পাশোয়ানের মেয়ে কৌশল্যার সঙ্গে। ওদের দেহাতে হয় এমনটা। খুব ছেলেবেলায় পাকাপাকি হয়ে যায় সবকিছু। পরে কন্যা ঋতুমতী হলে স্বামীর ঘরে নিয়ে আসতে হয়। তো অনেকদিন ধরেই তাগাদা আসছিল সুরজের শ্বশুরাল থেকে। এদিকে সুরজের মনেও নিয়মিত হুল ফুটিয়ে চলেছে অকালবসন্তদিন। থেকে থেকেই কাকুতিমিনতি করতো রামপ্রতাপের কাছে – “একবার যানে দিজিয়ে হুকুম। দোদিন মে বহুরি কো লেকে ওয়াপস আ যায়েঙ্গে। রামকসম।” প্রতিবারই হাল্কা ধমকমেশানো স্তোক দিতো বিরক্ত রামপ্রতাপ – “আবে ভোঁসরি কে খাটিয়া তোড়নে কা ইতনি গর্মি চড় গইলে তোহারি কো। ইতনা ক্যা জলদি হায়? চলে যানা দো চার দিন কে বাদ।”

সেই ‘দো চার দিন’ আর আসে না। একদিন ধৈর্যের সব বাঁধ ভেঙে গেল সুরজের। ভোররাতে উঠে রওয়ানা দিয়েছিল মিঠাপুরের দিকে। হাভেলীতে কিচ্ছুটি না জানিয়ে। ফিরেও এসেছিল ঠিক দুদিন বাদে। সঙ্গে একহাত ঘোমটা টানা কৌশল্যা। চামারটোলায় নিজের ঘরে না গিয়ে সোজা এসে দাঁড়িয়েছিলো হাভেলীর দরজায়। দাওয়ার মাঝখানে বিশাল খাটিয়াটায় উপুড় হয়ে শুয়েছিল রামপ্রতাপ। দুজন নোকর তেল মাখিয়ে দলাইমলাই করে দিচ্ছিল। সেই অবস্থাতেই হুঁড়ারের মতো রক্তলাল দুটো চোখ তুলে তাকিয়েছিলো রামপ্রতাপ। ঠাণ্ডা বরফের মত গলার আওয়াজ – “তো মেরা হুকুম মাননে কা জরুরত হি নেহি সমঝা তু?”

গলতি হো গিয়া মালিক মাফি দেই দো।” থরথর করে কাঁপছিল সুরজ।

কুন্দন!” হাভেলী কাঁপিয়ে হাঁক পেড়েছিল রামপ্রতাপ। দৌড়ে সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল কুন্দন। কুন্দনের দিকে তাকিয়ে সেই হাড়হিম করা হাসিটা ফের একবার হাসলো রামপ্রতাপইয়ে শুয়র মাফি মাঙ্গ রহা হায়, ইসে বরাবর কে লিয়ে মাফি দে দে।” হুকুম পাওয়ামাত্র দাওয়ার থামে হেলান দেওয়া তেল খাওয়ানো পাকা বাঁশের লাঠিটা তুলে নিয়েছিল কুন্দন। সাপপেটা পিটতে শুরু করেছিল সুরজকে। হাভেলীর ভিতরের উঠোনে ইঁদারার ধারে বাসন মাজছিল মালতী। সুরজের মা। আর্তনাদ শুনে ছুটে এসেছিল উন্মাদিনীর মতো চিৎকার করতে করতে। ছেলের প্রান বাঁচাতে শুয়ে পড়েছিল রক্তাক্ত শরীরটার ওপর। নির্মম লাঠির মার রেয়াত করেনি ওকেও। এই প্রহারপর্ব ততক্ষণ চলেছিল যতক্ষণ না দুটো শরীর দলা পাকিয়ে যাওয়া মাংসপিন্ডে পরিণত হয়। ওদিকে দাওয়ার এককোণে নেতিয়ে পড়ে থাকা কৌশল্যা। মার শুরু হওয়ার দুএক মিনিটের মধ্যেই দৃশ্যটা সহ্য করতে না পেরে সটান মাটিতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেছিল বছর পনেরোর মেয়েটা। সেদিকে তাকিয়ে লেঠেলদের বলেছিল রামপ্রতাপ। “উঠাকে লে যা শালীকো হাভেলীকে পিছে। পুরা ভূমিহার মহেল্লা কে লিয়ে আজ দাওয়াত ফিরি (ফ্রি)।”

যতীন তখন নাইন টপকে সবে ক্লাস টেন। ভূগোলের ক্লাস করছিল ইসকুলে। ছেলেবেলার বন্ধু দুখিয়া। বাগাল খাটে, গাইভঁয়েস চড়ায় রামপ্রতাপের গোয়ালে। খানাখন্দ ভেঙ্গে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে এসেছিল দুমাইল দূরের ইশকুলে। “তোহার মা, ভাইয়া আর ভউজি কো মার ডালা রামপ্রতাপনে!” তীব্র দৌড়জনিত পথশ্রমে বেদম হাঁফাচ্ছিল দুখিয়া। হাপরের মতো ওঠানামা করছিল রোগাভোগা বুকের খাঁচাটা। শোনা মাত্রই বইখাতা ক্লাসে ফেলে রেখেই দুখিয়ার সঙ্গে দৌড়েছিল যতীন।

হাভেলীর পিছনে অনেকটা খোলা জঙ্গুলে জমি। দূর থেকেই চোখে পড়েছিল বিশাল গর্ত খুঁড়ে তিন তিনটে কাপড়ে বাঁধা লাশ নামিয়ে দিচ্ছে রামপ্রতাপের লোকজন। দৌড়ে সেদিকে যাওয়ার চেষ্টা করতেই যতীনের হাতখানা চেপে ধরে একঝটকায় ওকে পিপুল গাছটার আড়ালে টেনে নিয়েছিলো দুখিয়া। “পাগল হো গিয়া তু? দিমাক ঘুর গিয়া তেরা? উঁহা যানে সে ওহলোগ তুঝে ভি মার ডালেগা অওর মুঝে ভি।”

তো আব হাম কা করেঙ্গে?” প্রশ্ন করেছিল যতীন। ফাঁকা দুটো চোখ। বোধশূন্য। ঘটনার অভিঘাতে কাঁদতেও ভুলে গেছে।

এক কাম কর। তু থানা মে যাকে রপট (রিপোর্ট) লিখা।” ওর কাঁধে হাত রেখে পরামর্শ দিয়েছিল দুখিয়া।

অওর তু? তু নেহি চলেগা মেরা সাথ।”

নেহি রে, তেরা সাথ যানেসে মেরা পরিবার কো ভি মার ডালেগা ওহ লোগ।” ত্রাস আর বিষণ্ণতা একসঙ্গে খেলে যাচ্ছিল দুখিয়ার চোখে।

থানায় ঢোকামাত্র বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেছিল যতীন। থানেদার অধবেশ তিওয়ারির পাশে বসে রয়েছে রামপ্রতাপ। হেসে হেসে খোশগল্প করছে। যতীনকে ঢুকতে দেখে চোখ তুলে তাকিয়েছিলেন থানেদার। “কা রে? কা চাহিয়ে তুঝে?”

রপট লিখোয়ানা হায় দারোগাজী।” কাঁপছিল যতীনের গলা।

রপট? কিস লিয়ে?”

মেরা পরিবার কো মার ডালা ।”

কিসনে মার ডালা রে?” বাঁকা হেসে প্রশ্ন করেছিলেন থানেদার। ভয়মাখা চোখে রামপ্রতাপের দিকে তাকিয়েছিল যতীন। সেটা দেখার পর ঠোঁটের কোনে বাঁকা হাসিটা আরেকটু চওড়া হয়েছিল থানেদারের – “গোপালজী, ইয়ে নবাবসাহাব রপট লিখওয়ানা চাহতা হায় আচ্ছা সে লিখ দিজিয়ে।”

থানার সাব ইন্সপেকটর গোপাল মিশ্র। আদেশ পাওয়ামাত্র এগিয়ে এসেছিল। কোমর থেকে খুলে নেয়া মোটা চামড়ার বেল্টের প্রথম আঘাতটা এসে আছড়ে পড়েছিল পিঠে। সপাসপ সপাসপ একটানা বেল্টের মার। প্রতিবার চামড়া কেটে উঠে আসা, বেল্টের গায়। মার খেতে খেতে থানার বাইরে ছিটকে এসে পড়েছিল যতীন। ওর কলার ধরে টেনে তুলে পাছায় একটা সপাট লাথ কষিয়েছিল সাব ইনস্পেকটর গোপাল মিশ্র – “ভাগ শালা দুসাদ কা বাচ্চা! ফির ইস ইলাকা মে দিখাই দিয়া তো তেরা পরিবারকা সাথ তুঝে ভি গাঢ় দেঙ্গে।”

মার খেয়ে যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে দূরে জঙ্গলের দিকে দৌড়েছিল যতীন। ‘লাল দস্তা’ অর্থাৎ গেরিলা স্কোয়াডের লোকজন তখন সদ্য সদ্য ঢুকতে শুরু করেছে ওই এলাকার জঙ্গলগুলোয়। এদিকে ভীত পশুর মতো মার খেয়ে পালাতে থাকা যতীন। রক্তাক্ত অপমানিত, বিধ্বস্ত। কোথায় যাবে, কি করবে জানা নেই। শুধু ছুটে চলা উন্মাদ উদভ্রান্তের মতো। দৌড়োতে দৌড়োতে ওইরকম একটা স্কোয়াডের সামনে পড়ে যায় ও। ওদের প্রশ্নের মুখে খুলে বলে সবকিছু।

সেটা ছিল মাঘ মাস। শীতঘুমে গোটা গ্রাম যখন অচেতন, মাঝরাতে নিঃশব্দে রামপ্রতাপের হাভেলী ঘিরে ফেলেছিলো বিশ পঁচিশজনের গেরিলা স্কোয়াড। কুন্দন, ভানওয়ারি সমেত আটদশজনের লেঠেল বাহিনী কিছু বুঝে ওঠার আগেই বুলেটে বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে লুটিয়ে পড়েছিল মাটিতে। শোবার ঘরের দরজা ভেঙ্গে হ্যাঁচড়াতে হ্যাঁচড়াতে হাভেলীর উঠোনে এনে ফেলা হয়েছিল রামপ্রতাপকে। কাছি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়েছিল দাওয়ার থামে। কপালে তাক করা রাইফেলের নল। স্কোয়াড লীডার অরুন কুমার কাছে ডেকেছিলো যতীনকে। রাইফেলের মাঝামাঝি অংশে একটা জায়গায় আঙুল দেখিয়ে বলেছিল – “ইসকো বোলতা হায় ট্রিগার। নিশানা লাগাও অওর দাগ দো শালে কি খোপড়িয়া মে।”

গুড়ুম! ফের একবার রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে রাইফেলের গর্জন। থামের গায়ে বাঁধা নিথর লাশ। এদিক ওদিক ছিটকে যাওয়া ঘিলু আর খুলির টুকরো। থাম বেয়ে গড়িয়ে নামা রক্তধারা। সিন্দুক ভেঙ্গে সমস্ত কাগজ আর বন্ধকির দলিলপত্র বের করে এনে উঠোনে ফেলে পোড়ানো হয়েছিল। পরিবারের বাকি লোকজনদের বের করে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল হাভেলীতে। রাতের অন্ধকার চিরে আকাশে পাক মেরে ওঠা লেলিহান অগ্নিশিখা। হাভেলীর তিনখানা ডবল ব্যারেল বন্দুকের একটা যতীনের হাতে তুলে দিয়ে ওর কাঁধে হাত রেখে হেসেছিল অরুন কুমার – “চলো কমরেড, ক্রান্তিকা বুলাওয়া আ গিয়া।”

সেই তবসে কান্ধা পে বন্দুক লেকে ঘুম রহা হুঁ। বিহার, ওরিষ্যা, ঝাড়খণ্ড ।” ক্লান্ত বিষণ্ণ শোনাচ্ছিল যতীনের গলা। গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে বসা অভিরূপ। হাতের নোটপ্যাড আর কলম হাতেই থেমে আছে। কি লিখবে? এই মর্মান্তিক পটভূমি আর কথকতার কোন বর্ণনা হয় কি?

চলবে…

গত পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-6/

৫ম পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-5/

৪র্থ পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-4/

৩য় পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-3/

২য় পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-2/

১ম পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi/

Advertisements
Previous articleসাগর আই লাভ ইউ (পর্ব ২৮)
Next articleস্বাধীনতার স্বাদ
সুপ্রিয় চৌধুরী
জন্ম ও বেড়ে ওঠা উত্তর কলকাতার পুরোনো পাড়ায়। বহু অকাজের কাজী কিন্তু কলম ধরতে পারেন এটা নিজেরই জানা ছিল না বহুদিন। ফলে লেখালেখি শুরু করার আগেই ছাপ্পান্নটি বসন্ত পেরিয়ে গেছে। ১৪২১ সালে জীবনে প্রথম লেখা উপন্যাস 'দ্রোহজ' প্রকাশিত হয় শারদীয় 'দেশ' পত্রিকায় এবং পাঠকমহলে বিপুল সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে আরও দুটি উপন্যাস 'জলভৈরব' (১৪২২) এবং 'বৃশ্চিককাল' (১৪২৩) প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে পুজোসংখ্যা আনন্দবাজার এবং পত্রিকায়। এছাড়া বেশ কিছু প্রবন্ধ এবং দু চারটি ছোটগল্প লিখেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা আর লিটিল ম্যাগাজিনে। তার আংশিক একটি সংকলন বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে 'ব্যবসা যখন নারীপাচার' শিরোনামে। ২০১৭ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার।

6 COMMENTS

  1. E ki uponyas ! Eto arek rakom vabe Manusher benche thaka……Matha unchu kore lore benche thaker jibanto dalil. Eta matha unchu kore benche thaka kina kingba Path ta thik na bethik esab niye Samaj o Samoy bichar korbe. Kintu Supriyo Chowdhury r ei Struggle for Existence er barnana etotai sabolil o jibanto je pore monehae ” je jekhane lore jae amader e lara “

  2. আপনার লেখা পড়তে ভালো লাগে. ফেসবুক এ আপনাকে ফ্রেন্ড request
    পাঠালাম. আপনার লেখা গুলির epdf পেলে ভালো লাগতো. কোথায় পাবো
    জানাবেন

  3. হিন্দু ধর্ম নিজেদেরই জাতিগত ভেদাভেদ আর নিচুজাতিদের উপর অকথ্য অত্যাচারেই শেষ হয়ে গেল। এমনি এমনিই মাওবাদী তৈরী হয় নি , এতটা না , অসভ্য বর্বর উঁচু জাতিদের অত্যাচার করতে দেখেছি, একসময় এসব অন্চলে থাকার সময়। লজ্জা নিজের হিন্দু জাতের ‘পরে। আজও এই অত্যাচারের মাত্রা কমেনি।

  4. আপনার কেতজেল পাখি উপন্যাস টি সম্পূর্ণ গ্রন্থাকারে হাতে পেতে চাই।কতদিনে কিভাবে কোথায় পাবো pls জানাবেন।আপনার এইরকম সুদৃঢ লেখা আরো পড়তে চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.