কেতজেল পাখি (পর্ব ৯)

516
Bengali Novel

পৃথিবীর বুকে এরকম কোনও লেন্স আজ অবধি তৈরি হয়েছে কি – যা এই অলৌকিক, অসম্ভব জাদুবাস্তবময় দৃশ্যপটকে এক ফ্রেমে বেঁধে ফেলতে পারে? ক্রমে দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে নাচের তাল, মাদলের দ্রিমি দ্রিমি আর বৃন্দগানের সুর। ব্যাগে ক্যামেরাটা ঢুকিয়ে ফেলে সেদিকে এগিয়ে গেলো অভরুপ।

ধড়মড়িয়ে ঘাসের বিছানায় উঠে বসেই চোখ গেল হাতঘড়িতে। মাটির ঘরটার ছোট জানালা দিয়ে একফালি রোদ গড়িয়ে এসে পড়েছে মেঝেয়। সাড়ে আটটা! অবাক অভিরূপ। গত দু’দিনে ঘটেনি এটা। প্রতিদিন ভোর পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটা। ঘুম ভেঙে গেছে অথবা ডেকে দিয়েছে স্কোয়াডের কেউ। তার মানে এখানেই কি দীর্ঘ পথচলার অবসান? রাঁচির নার্সিংহোমে শুয়ে থাকা ব্রিজেশের কথাগুলো মনে পড়লো – ‘প্রায় দিনতিনেক সময় লাগবে স্পটে পৌঁছোতে। আজই তো সেই তিনদিন!

পাশে জিতনের বিছানাটা খালি। রাতে এঘরেই শুয়েছিল। অনুষ্ঠান ভাঙতে ভাঙতে প্রায় এগারোটা। রাতের খাওয়া সেরে নিতে নিতে আরও ঘণ্টাখানেক। জঙ্গলে তিনদিনে প্রথমবার কাল রাতের ঘুমটা গাঢ় হয়েছিল। জিতন যে কখন বিছানা ছেড়ে উঠে গেছে, টেরই পায়নি অভিরূপ। গা থেকে কম্বলটা সরাতেই কনকনে ঠাণ্ডা হুল ফোটালো শরীরে। তড়িঘড়ি পাশে রাখা জ্যাকেটটা টেনে নিয়ে গায়ে চড়াতে চড়াতেই দরজায় ‘খুট’ শব্দ। ফুলবন্তী। হাতে ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের গ্লাস। মুখে মিষ্টি হাসি। সতেজ ঝরঝরে। গতকাল রাতের ওই বিপুল পারফর্মেন্স জনিত পরিশ্রমের কোন ছাপই নেই চোখেমুখে। “লাল সালাম কমরেড”। চায়ের কাপটা অভিরূপের হাতে দিয়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। গ্লাসটা মুঠোয় ধরে বাইরে এসে দাঁড়ালো অভিরূপ। গতকালের অনুষ্ঠানের মাঠে একটা বড়সড় জটলা। প্রায় গোটা গ্রামের মানুষ জড়ো হয়েছে সেখানে। ডোরি, ফুলবন্তী, জিতন আর ওদের সহবাদক দুটো ছেলেকেও দেখা যাচ্ছে ভিড়ের মধ্যে। আধ কিলোমিটার টাক দূরে একটা ছোট টিলাপাহাড়। গুটি গুটি পায়ে গিয়ে জটলার পিছনে দাঁড়ালো। ভিড়ের মধ্যে টুকরো টুকরো ফুশফাশ, গুঞ্জন। দুর্বোধ্য, যথারীতি। একদৃষ্টে দূরের টিলাপাহাড়টার দিকে তাকিয়ে রয়েছে সবাই। যেন কারো অপেক্ষায়। মিনিট পাঁচেক বাদে পাহাড়ের বাঁকের আড়াল থেকে প্রথম একজনকে বেরিয়ে আসতে দেখা গেল। কাঁধে ঝোলানো রাইফেল। মলিন, রঙ জ্বলে যাওয়া জলপাই সবুজ সামরিক ঊর্দি। প্রথম ঊর্দিধারীর পিছনে এক, দুই, তিন … প্রায় শ দেড়েকের একটা বিশাল বাহিনী। একের পিছনে আরেকজন। সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে আসছে গ্রামের দিকে। সশস্ত্র প্রত্যেকে। মেশিন কারবাইন, সেল্ফ লোডিং রাইফেল, লাইট মেশিনগান, মাস্কেট, একনলা-দোনলা বন্দুক। বুকে আটকানো কার্টিজ বক্স, কোমরের বেল্টে গ্রেনেডের মালা …। কয়েকজনের কাঁধে ভারি ভারি ব্যাগ আর ঢাউস আকারের সব স্টিল ট্রাঙ্ক অথবা কাঠের বাক্স। মজবুত আর ভারি। বাহকদের বয়ে নিয়ে আসার ভঙ্গিতেই বেশ বোঝা যাচ্ছিল সেটা। রুটমার্চের তালে হেঁটে এসে মাঠের মধ্যে ঢুকে পড়লো পুরো বাহিনীটা। কাঁধে বাক্স আর ব্যাগ বহনকারীরা ছাড়া দলের প্রত্যেকে পুরো গ্রামটায় ঘুরে নজর চালিয়ে নিলো একবার। তারপর দুভাগে ভাগ হয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়লো মাঠে। কাঁধের মালপত্র নামিয়ে রেখে বহনকারিরাও সামিল হলো দলের সঙ্গে। শরীরী ভাষা টানটান সতর্ক। দুধারে ভিড় করে থাকা গ্রামবাসীদের মতো ওদেরও চোখ টিলাপাহাড়ের দিকে। সাংবাদিকতার লাইনে বহু দিনের অভিজ্ঞতা অভিরূপকে বলে দিচ্ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারো জন্য অপেক্ষারত ওরা। এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই গোটা গ্রামে আগে থাকতেই রেইকি চালিয়ে নিলো ওরা। কিন্তু কে সে?

দমবন্ধ উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপছিলো অভিরূপ। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ একটা পার্টির সর্বোচ্চ স্তরের নেতৃত্বের অন্যতম একজনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ওর মন বলে দিচ্ছিলো ওকে। ওর অর্গানাইজেশনে তো বটেই এর বাইরেও চেনাশোনা কারো এরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানা নেই। গুছিয়ে ঠিকঠাক একটা এক্সক্লুসিভ অ্যান্ড থ্রিলিং কভার স্টোরি একটা, নামিয়ে নিয়ে ফিরে যেতে পারলে আর দেখতে হবে না। হইচই পড়ে যাবে মিডিয়া সার্কিটে। প্রেস ক্লাবের লনে, বার কাউন্টারে চায়ের কাপে ড্রিংকসের পেগে জোর তুফান। ‘অভিরূপ মিত্র, এক্সক্লুসিভ কভার স্টোরি হান্টার … ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং জার্নালিস্ট … নিউজ মেকার!’ বন্ধুরা উল্লসিত হবে, লেগ পুলাররা ঈর্ষান্বিত। হায়ার পোষ্ট আর বেটার প্যাকেজের অফার কমপিটিটর হাউজ থেকে … নাঃ আর জাস্ট ভাবা যাচ্ছে না। উত্তেজনাটা কাটাতে সিগারেটের প্যাকেটটা বের করে যেই ধরাতে নীচু হয়েছে ঠিক সেই মুহুর্তে মাঠ কাঁপিয়ে বজ্রগর্জন! “কমরেড অবিনাশজী লাল সালাম!” পরমুহুর্তেই কয়েকশো কণ্ঠে শ্লোগানের প্রতিধ্বনি – “লাল সালাম!!” ‘লাল সালাম!!’’ ঠোঁট থেকে সিগারেটটা খসে পড়ে গেল মাটিতে। চমকে উঠে ঝটিতি মুখ তুললো অভিরূপ! অবিনাশ! অবিনাশজী! পার্টির সেন্ট্রাল কমিটির অন্যতম সদস্য। অনেকগুলো বছর ধরে মিডিয়ায় বহুল প্রচারিত আর প্রশাসনের হাড় হিম করে দেওয়া একটা নাম। বাঙলা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িষ্যা, ছত্তিশগড়, অন্ধ্র, মহারাষ্ট্র … অনেক চেষ্টা করেও যার নাগাল পায়নি এতগুলো রাজ্যের পুলিশ আর প্যারামিলিটারি কমব্যাট ফোর্স। অভিরূপের চোখ তিরের মতো বিঁধে রয়েছে টিলাপাহাড়ের গায়।

কয়েক সেকেন্ড পরে পাহাড়ের বাঁকে যে উতরাইটা ধরে নেমে এসেছিল প্রথম দলটা, ঠিক তার উল্টোদিকে একটা সরু ঢাল বেয়ে নেমে আসতে দেখা গেল একজনকে। দুপাশে দুই দেহরক্ষী। কাঁধে সেল্ফ লোডিং অটোম্যাটিক রাইফেল। একটু একটু করে স্পষ্ট হচ্ছিলো অবয়বগুলো। দেখামাত্র গাঁয়ের প্রায় সবকটা বাচ্চা টেনে দৌড় লাগালো সেদিকে। ততক্ষণে ঢাল থেকে সমতলে নেমে পড়েছে দলটা। খোলা মেঠো প্রান্তর ধরে এগিয়ে আসছে সামনে। এবার স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তিনজনকে। দুপাশে দুই দেহরক্ষী। একটি ছেলে। অপরটি মেয়ে। বয়েস বিশের কোঠায়। কালো কালো মুখগুলো এই ঠাণ্ডায়ও ঘামে চকচকে। চোখে শিকারিবাজের সতর্ক দৃষ্টি। এবার মাঝের জন। মিশকালো রঙ। কম সে কম ছ ফুট। পাথরকোঁদা শরীর। জলপাই উর্দির ওপর গলায় জড়ানো একটা লাল গামছা। চৌকোনা মুখ। ঝকঝকে দুধসাদা দাঁতের আকর্ণ বিস্তৃত হাসি। একটা চোখ নেই। তার বদলে গহ্বরের মধ্যে গোলাপী অংশটা দেখা যাচ্ছে। মাথায় সবুজরঙা আর্মি ক্যাপ। টুপির মাঝখানে ব্যাজের মতো লাল তারা। চকচক করছে সকালবেলার রোদ্দুরে। টুপির নীচে বেরিয়ে থাকা ঘাড় আর কানের পাশে গুঁড়িগুঁড়ি ক্রুকাট চুল যার প্রায় নব্বইভাগই পেকে সাদা। কিউপিড থুতনি আর গালে বেশ কয়েক দিনের না কামানো খোঁচা খোঁচা পাকা দাড়ি। কাঁধে বসা একটা বাচ্চা। ন্যাংটো। টুপিতে তবলা বাজাচ্ছে চাঁটি মেরে। খিলখিলে হাসিতে ভেঙে পড়ছে। বাঁ কোলে আরেকটা। এই ঠাণ্ডায়ও আদুল গা। ন্যাতাকানি পড়া। চারপাশ ঘিরে আরও সব কুচোকাঁচার দল। ঊর্দির হাঁতা ধরে ঝুলে পড়ছে। দেহরক্ষীদের গতিতে পিছনে ফেলে এগিয়ে আসছে লোকটা। অবহেলায় ঝোলানো কালাশনিকভের নলটা উঁকি মারছে কাঁধের পিছন থেকে। রুদ্ধশ্বাসে সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে অভিরূপ। কত বয়স হবে লোকটার, চল্লিশ? পঞ্চাশ? ষাট? নাকি তারও বেশি? এরকম চাবুকের মতো পেটা টানটান চেহারা। চুল আর দাড়ির রঙ না দেখলে তো আরও আন্দাজ করা যেতো না।

দেখতে দেখতে মাঠে ঢুকে পড়লো লোকটা। হেঁটে যাচ্ছে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো স্কোয়াড মেম্বারদের মাঝখান দিয়ে। শ্লোগানে শ্লোগানে ফেটে পড়ছে গোটা মাঠ। মুষ্টিবদ্ধ ডান হাত কাঁধের ওপর তুলে অভিবাদন গ্রহন করছে আগন্তুক। মুখে লেগে থাকা সেই ঝকঝকে সাদা দাঁতের হাসি। অভিবাদনের পালা শেষ হলে লাইনের মাঝখান দিয়ে সোজা বেরিয়ে এসে বসে পড়লো হাঁটু মুড়ে। কালাশনিকভটা মাটিতে নামিয়ে রেখে চেন খুলে হাত ঢোকালো ক্যাম্বিসের সাইড ব্যাগে। বের করে আনলো সস্তা ছোট ছোট কমলালেবু লজেন্সের প্যাকেট। বাচ্চাগুলোর মধ্যে ভাগ করে দিয়েই কাউকে কিছু বলতে হলো না, ভীড় ঠেলে সোজা এগিয়ে এলো অভিরূপের দিকে। তারপর ওকে হাঁ করে দিয়ে কথা বললো পরিষ্কার বাঙলায় – “লাল সালাম কমরেড। আপনি অভিরূপ মিত্র … ‘নিউজ র‍্যাঞ্চের’ কলকাতা ব্রাঞ্চ রিপোর্টার।”

একে তো সামনে দাঁড়ানো অবিনাশ। তার ওপর লোকটা বাঙালি। একসঙ্গে আছড়ে পড়া জোড়া বিস্ময়ের ধাক্কায় স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ অভিরূপ। বিস্ফোরিত দুটো চোখ। কোনমতে জিজ্ঞেস করতে পারলো – “আ-আপনি বাঙালি!” ওর অবস্থা দেখে হাসলো অবিনাশ। কৌতুকের ঝিলিক একচোখের কোনে।

“ক্যানো, আপনি কি ভেবেছিলেন?”

“না মানে … আমার তো মনে হয়েছিল সাউথ ইন্ডিয়ার কোথাও … অথবা আদিবাসী।”

শোনামাত্র হো হো হাসিতে দুলে উঠলো সামনে দাঁড়ানো গ্রানাইট পাথরের মতো শরীরটা। “আরে না মশাই। পাক্কা বাঙালী, খাস কলকাত্তাইয়া। আর আপনি?”

“এখন ঠিকানা সাউথ ক্যালকাটা। তবে ছোটবেলাটা কেটেছে নর্থে … শ্যামবাজার এরিয়ায়।” শোনামাত্রই যেন চোরা একটা বিদ্যুতের ঝিলিক, মুহুর্তের জন্য খেলে গিয়েই মিলিয়ে গেল এক চোখের কোনে। “ঠিক আছে, দুদিন ধরে অ্যাতোটা রাস্তা হেঁটে এসেছেন। আপাতত গিয়ে রেস্ট নিন। ঘুমিয়ে পড়লে কেউ না কেউ ডেকে দেবে দুপুরে খাওয়ার সময় … এখন তাহলে আসি।” হাতটা বাড়িয়ে দিলো অবিনাশ। হাতে হাত মিলিয়েই ব্রহ্মতালু অবধি ঝনঝন করে উঠলো অভিরূপের। বাঘের থাবার মত বিশাল হাতের পাঞ্জা। লোহার মত শক্ত।

একটু দুরে গ্রামবাসীদের জটলা। অপেক্ষামান দুই দেহরক্ষী। হাতটা ছেড়ে দিয়ে সেদিকে এগিয়ে গেলো অবিনাশ। তারপরেও অন্তত মিনিটখানেক ঝনঝনানিটা লেগে রইলো অভিরূপের হাতে।

“উঠ যাইয়ে কমরেড। খানে কা টাইম হো গিয়া।” একটা ছেলে। বয়স বছর পঁচিশেক। বুকের সামনে আড়াআড়িভাবে ঝোলানো মেশিন কারবাইন। বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো অভিরূপ। “আপকে পাস টাওয়েল হায় না?” প্রশ্ন করলো ছেলেটা।

“হাঁ” – ঘাড় নাড়লো অভিরূপ।

“তো সবসে পহলে নাহা লিজিয়ে।” বলে ধীরপায়ে এগিয়ে গেল ছেলেটা। তড়িঘড়ি ব্যাগ খুলে তোয়ালে বের করে ওকে অনুসরণ করলো অভিরূপ।

দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল ঝরনাটা। পাহাড়ের গা বেয়ে তিরবেগে নামছে। “আপ যাইয়ে, অবিনাশজী উঁহা হ্যায়।” বলে ঘুরে গিয়ে যেদিক থেকে এসছিল সেদিকেই চলে গেল ছেলেটা।

সামান্য এগিয়েই একটা খাদমতো। দুধার ঘেঁষে উঠে যাওয়া বিশালকায় সব বৃক্ষরাজি। নেমে আসা ঝরনার জলের তোড়ে একটা পুকুর মতো সৃষ্টি হয়েছে নীচে। উথালপাথাল পুকুরের জল। সামনে গিয়ে বোঝা গেল ঠিক পুকুর নয়। এককোণে আরেকটা বেশ চওড়া নালা। সেখান দিয়ে জল বেরিয়ে যাচ্ছে হুড়হুড় করে। আরেকটা ঝর্না সৃষ্টি হয়ে লাফিয়ে নেমে যাচ্ছে কোথাও। উথালপাথাল ঢেউ জলে আজালুলম্বিত দুটো হাত দুপাশে ছড়িয়ে সাঁতার কাটছে অবিনাশ। চ্যাটালো, চওড়া ভি-শেপ কাঁধ আর পিঠ। বাঁ কাঁধ আর বাহুমূলের সংযোগস্থলে একটা পুরোন ক্ষত। ছোট গোলমত। বুলেটের কি? চামড়া ঠেলে বেরিয়ে ঢিবি মতো পাকিয়ে রয়েছে। কালচে তামাটে রঙের। ওপর থেকে লোকটাকে দেখতে লাগছিলো অতিকায় একটা সামুদ্রিক অ্যালবাট্রাস পাখির মতো। চিৎ সাঁতার দেবার জন্য পাক খেয়ে ঘুরতেই অভিরূপকে দেখতে পেল অবিনাশ। “সাঁতার জানেন?”

“ওই সামান্য … সুইমিং পুলে আর কি …।” ইতস্তত করে জবাব দিলো অভিরূপ।

“ওতে হবে না।” জল কাটতে কাটতেই হাসলো অবিনাশ। “ওদিকটায় ওই চওড়া ধাপমতো পাথরগুলো বেয়ে নেমে আসুন। পাড়ে দাঁড়িয়ে চান করবেন। ওখানে জল গভীর না। বড় জোর কোমর সমান।” ওর কথাকে অনুসরণ করে সাবধানে ধাপ বেয়ে নীচে নেমে গেল অভিরূপ। জলে আঙুল থেকিয়েই বিদ্যুতগতিতে উঠিয়ে নিলো! একটা প্রচণ্ড ধারালো ব্লেড দিয়ে যেন আঙুলগুলো কেটে নিয়েছে কেউ। অ্যাতোটাই ঠাণ্ডা। ওর অবস্থা দেখে সাঁতার কাটতে কাটতেই হেসে উঠলো অবিনাশ, ফের একবার। “ও কিছু নয় … ঘাবড়াবেন না। ওই প্রথমবার ডুব দেওয়াটাই যা কষ্টের। তারপর আর সমস্যা নেই। নিন শুরু করুন।” চোখকান বুজে জলে নেমে ঝপাং করে ডুব দিলো অভিরূপ। বছর চারেক আগে কষের একটা দাঁত তুলতে হয়েছিল। তোলার আগে দাঁতের গোঁড়ায় অ্যানাস্থেটিক জাতীয় ওষুধ ইনজেকট করেছিল ডেন্টিস্ট। হুবহু সেই একই অনুভূতি।

চলবে…

গত পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-8/

৭ পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-7/

৬ পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-6/

৫ম পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-5/

৪র্থ পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-4/

৩য় পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-3/

২য় পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi-episode-2/

১ম পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/bengali-novel-ketjel-pakhi/

Advertisements
Previous articleসাগর আই লাভ ইউ (পর্ব ৩০)
Next articleসুগার ফ্রি
সুপ্রিয় চৌধুরী
জন্ম ও বেড়ে ওঠা উত্তর কলকাতার পুরোনো পাড়ায়। বহু অকাজের কাজী কিন্তু কলম ধরতে পারেন এটা নিজেরই জানা ছিল না বহুদিন। ফলে লেখালেখি শুরু করার আগেই ছাপ্পান্নটি বসন্ত পেরিয়ে গেছে। ১৪২১ সালে জীবনে প্রথম লেখা উপন্যাস 'দ্রোহজ' প্রকাশিত হয় শারদীয় 'দেশ' পত্রিকায় এবং পাঠকমহলে বিপুল সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে আরও দুটি উপন্যাস 'জলভৈরব' (১৪২২) এবং 'বৃশ্চিককাল' (১৪২৩) প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে পুজোসংখ্যা আনন্দবাজার এবং পত্রিকায়। এছাড়া বেশ কিছু প্রবন্ধ এবং দু চারটি ছোটগল্প লিখেছেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা আর লিটিল ম্যাগাজিনে। তার আংশিক একটি সংকলন বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে 'ব্যবসা যখন নারীপাচার' শিরোনামে। ২০১৭ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার।

3 COMMENTS

  1. এ দৃশ্যের বর্ণনা এত ঊজ্জ্বল যে মনে হয় অভিরূপের সঙ্গে আছি আমরাও…অসাধারণ প্রবেশ দৃশ্য.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.