মনখারাপ বনাম পেটখারাপ

Bengali funny article

– আমার ফোন ধরছিলি না কেন ?

– আমার মনখারাপ ছিল ।

– তোর মন কখন ঠিক থাকে বলবি ?

– আছিস কেন ? ছেড়ে দে ।

– ভয় দেখাস না । তোকে প্রচণ্ড ভালবাসি বলে বার বার ব্রেকআপের ভয় দেখাস না ।

– ফালতু কথা বলিস না । অতোবার ফোন করেছিলিই বা কেন ?

– আমার পেটখারাপ হয়েছিল ।

– তো আমাকে ফোন করেছিলি কেন ? আমি কি তোকে ছুঁচিয়ে দেবো ?

– আমি তোকে মিস করছিলাম । মনে রাখিস ক্রাইসিসের সময়েই মানুষ তাঁর কাছের মানুষকে সবচেয়ে বেশী মিস করে ।

– ক্রাইসিস ! শোন ক্রাইসিস মাঝে মাঝে আসে । তোর পেটখারাপটা ক্রাইসিস নয় । ওটা প্রায় রোজই আসে ।

– তুই কি বুঝিস ক্রাইসিস এর ? আমার কষ্টগুলো একটুও বুঝিস তুই ?

– তুই যেন আমার সব কষ্ট বুঝে উলটে দিস ! আর পেটখারাপটা লাইফের ক্রাইসিস এই প্রথমবার শুনলাম । তুই একদম ম্যাচুওর নোস । রাহুল কত ম্যাচুওর কথা বলে । ও সমাজ বদলের কথা বলে ।

– রাহুল সমাজ বদলের কথা বলে ! যে নিজের জাঙ্গিয়া বদলায় না সে নাকি সমাজ বদলাবে !

– রাহুলকে হিংসে করিস তুই ।

– কথা ঘোরাস না । আমি বলতে চাইছি , আমার খারাপ সময়ে আমি তোকে পাশে পাইনা ।

– তোর পেটখারাপ হয়েছে , আমি কি তোর পাশে বসে গন্ধ শুঁকবো ! আমার মনখারাপ হলে তুই কোন গন্ধমাদন বয়ে আনিস শুনি !

– এরকমটা বলতে পারলি ! ঘণ্টার পর ঘণ্টা কানে ফোন নিয়ে বসে থাকি । তুই কাঁদলে আমিও কাঁদি , তুই হাসলে আমিও হাসি ।

– ফোন করলেই কি মনখারাপ কেটে যায় ?

– আমি তোর পাশে থাকি ফোনে । এতেই তো মনখারাপ কেটে যাওয়া উচিত ।

– তুই খুব ইমম্যাচুওর । কিছু বুঝিস না । সব ওভাবে বোঝানো যায় না ।

– সেই এক কথা । কিছু জানতে বা বুঝতে চাইলে , আমি ইমম্যাচুওর , আমি কিছু বুঝিনা । বাদ দে । আমি তোকে খুব মিস করছিলাম , তাই বার বার ফোন করছিলাম । বাট তুই যা করলি …

– শোন , ফুস্কুড়িকে ফুটবল করিস না । বলছি তো আমার মনখারাপ ছিল ।

– তারমানে তুই বলতে চাস যে , তোর মনখারাপটা ইম্পরট্যান্ট । আমার পেটখারাপটা নয় ।

– বলতে চাই না , বলছি ।

– আসলে ইমম্যাচুওর তুই । শোন পেটখারাপ অনেক বেশী ইম্পরট্যান্ট দ্যান মনখারাপ । পেটখারাপ একটা সিরিয়াস প্রবলেম , মনখারাপ চুলকে ঘা । এসব মেয়েদের হয় ।

– তা মেয়ের সঙ্গে আছিস কেন ? ছেলের সঙ্গে প্রেম কর ।

– আমার পেটখারাপ হয়েছিল বলে জলমুড়ি খেতে হল । সকালে মা কচুরি বানিয়েছিল , বাবা জিলিপি এনেছিল । কিছুই মুখে ঠ্যাকাতে পারলাম না । তুই এর কষ্ট কি বুঝবি ? সেই জন্যই তোকে ফোন করেছিলাম । তুই তো ফোন ধরলি না । তোর কেন মনখারাপ হয়েছিল ?

– ছাড় । জেনে কি করবি ?

– বল না প্লিজ ।

– পুচি দুদিন পটি করেনি । আমার সঙ্গে ভালো ভাবে বিহেভ করছে না ।

– তোর এই বিড়াল নিয়ে আদিখ্যেতা দেখলে আমার গা পিত্তি জ্বলে যায় । বাড়ির বিড়াল পটি করেনি বলে তোর মনখারাপ ! তুই কি কারণ খুঁজিস মনখারাপ করার । অথচ তোর বয়ফ্রেনড পেটখারাপে কাহিল হয়ে তোকে খুঁজে বেড়াচ্ছে , তার বেলায় তোর হুঁশ নেই ।

– আমার মনখারাপটাকে ছোটো করে দেখানো , আর নিজের পেটখারাপকে গ্লোরিফাই করার চেষ্টা করিস না ।

– নিজেই ভেবে দেখ না , পেটখারাপ বড় , নাকি মনখারাপ ।

– অভিয়াস্লি মনখারাপ । তোর আমার ভালবাসা মনেই তৈরি হয়েছিল , পেটে নয় ।

– পেটে ভালবাসা নয় , পাইখানা তৈরি হয় । ফালতু যুক্তি দিস না । পেটখারাপ বড় ।

– মোটেই না । মনখারাপ । এই পৃথিবীর কত ভালো গান , কবিতা , লেখা মনখারাপ থেকে সৃষ্টি হয়েছে জানিস ? পেটখারাপ থেকে একটাও গান , কবিতা হয়েছে ?

– হ্যাঁ , রবি ঠাকুরের গান আছে – ‘শুধু যাওয়া আসা’ ।

– এই গান রবি ঠাকুর পেটখারাপ নিয়ে লিখেছেন ? উনি কি স্বপ্নে এসে বলে গেছেন ? গোবর পার্টির আইটি সেলে ইনটার্নশিপ করছিস নাকি !

– তুই যেটা বুঝিস না তর্ক করিস না ।

– তুই বিরাট বুঝিস । শোন , মনখারাপ অনেক বড় , পেটখারাপ তার ধারেকাছে আসে না ।

– আচ্ছা , বল মন শরীরের কোথায় থাকে ?

– না , মানে …

– কি রে । এখন চুপ ! পেট কোথায় থাকে সবাই জানে । বাট , মন কোথায় আছে , আদৌ আছে কিনা কেউ জানে না । আর যে জিনিসটার পজিশন কেউ জানে না , সেটা খারাপ হওয়া নিয়ে ভাবা স্রেফ ফালতু ব্যাপার ।

– আমার সবকিছুই তোর ফালতু লাগে । নে থাক তুই তোর পেটখারাপ নিয়ে । আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখিস না ।

– প্লিজ এরকম করিস না । আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারবো না ।

– এসব শুনতে আমার ভালো লাগছে না । আমার মন নেই । আমাকে ভুলে যা ।

– সরি । আমি ওভাবে বলতে চাইনি । প্লিজ ভুল বুঝিস না । আমি বলতে চেয়েছি পেটখারাপ মনখারাপের চেয়ে অনেক বেশী সিরিয়াস । কিন্তু , আমি ভুল ছিলাম । বিশ্বাস কর । মনখারাপ অনেক বেশী সিরিয়াস । কারণ , পেটখারাপের ওষুধ হয় , মনখারাপের ওষুধ হয় না ।

– একদম আমার মনের কথাটা বললি । কেন যে এতক্ষণ এরকম ভুলভাল বকছিলি । লাভ ইউ ।

– লাভ ইউ টু …

সুমন সরকার
পড়াশুনা প্রেসিডেন্সী কলেজে স্ট্যাটিস্টিকস নিয়ে । বর্তমানে আইএসআই , কলকাতায় ডক্টরেট করছেন । ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে লেখালিখি শুরু । যেভাবে গীটার বাজিয়ে গান গাইতে ভালো লাগে , সেভাবে লিখতে ভালো লাগে , তাই লেখেন । লিখেছেন রম্যগদ্যের দুটো বই- 'লাকি থারটিন' , 'ফাউ' ।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here