চুক্তি

সামনে পরীক্ষা। তার ওপর ওইরকম ইর্ম্পট্যান্ট একটা ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে পড়তে হল রেশমিকে। রোদের তাপে সারা শহর দগ্ধ। কাক পক্ষী সব হাতে গোনা গাছের ফাঁকে আশ্রয় নিয়েছে। মাঝে মাঝে তাদের ডাক নিস্তব্ধ দুপুরটাকে খাঁ খাঁ করে তুলছে আরও। গুটিগুটি বাস স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়াতেই বরাত জোরে সে পেয়ে গেল বাসটা। ও বাবা, একটা ফাঁকা সিটও অপেক্ষা করছে ওর জন্য!

ওড়না এবং ব্যাগপত্র ঠিকমত গুছিয়ে সম্ভাব্য ঘটনার কথা এবার চিন্তা করতে বসল রেশমি। কী হতে পারে বাড়িতে? এ মাসের ভাড়া তো ঠিক সময়েই দিয়েছে সে। গত তিনমাসে কোন ব্যাপারেই কোন অভিযোগ নেই তার। যেসব শর্তে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল, তার কোনটাই আজ পর্যন্ত সে ভাঙেনি। তাহলে কী হল! ফোনে আঙ্কলের গলাটা বেশ কর্কশ লাগছিল। ধমকের সুরে যেভাবে একঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ফিরতে বললেন, গত তিনমাসে চেনা একটা ভালো মানুষকে যেন সম্পূর্ণ আলাদা মনে হল। সেই সঙ্গে একা কলকাতার মত বড় শহরে থাকার জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয় খোয়ানোর চিন্তা তো আছেই। অথচ দুদিন আগেই কাকিমা সকাল সকাল প্লেটে লুচি ভেজে নিয়ে এসে দাঁড়ালো। বলল, তোমার কাকা খেতে চাইল, তাই তোমার জন্যও কটা ভাজলাম। খেয়ে নাও। তারপর থেকে অবশ্য ব্যস্ততার মধ্যে আর কোনও কথা হয়নি।

আচ্ছা, অন্বেশাকে ফোন করলে কেমন হয়! না,ও বেচারিকে এই অসময় ডাকাডাকির দরকার নেই। বাড়িটা যোগাড় করে দিয়েছে বলে যখন তখন বিরক্ত করা ঠিক না। তাছাড়া কী হয়েছে, ওই বা কী করে জানবে। ঠিক আছে, আগে পৌঁছনো যাক। তারপর দেখা যাবে। একা মেয়ে বলে যা খুশি একটা দোষ চাপিয়ে দেবে, সেটা হবে না।

যাদবপুর থেকে রেশমির এই ভাড়া বাড়িটা বেশ খানিকটা দূরে। এখানে বাড়ি নেওয়ার একটাই কারণ। কলেজ এরিয়ায় ভাড়া বেশি। যাতায়াতে সময় কম লাগে বলে,বেশিরভাগ ছাত্র ছাত্রী সেটাই চায়। কিন্তু দূরের যাতায়াতে অভ্যাস হয়ে গেলে খরচ অনেকটাই বাঁচে। অন্বেশাও সেই পরামর্শই দিয়েছিল। বলেছিল,বাবার এক পরিচিত ভদ্রলোক আমাদের পাড়ায় থাকেন। তো তিনি তাঁর একতলার ঘর নাকি ভাড়া দিতে চান। যদি বলিস তো বলে দেখতে পারি।

রেশমির পরিবার কলকাতায় রেখে মেয়েকে পড়াশুনোর বিপক্ষে ছিল। কিন্তু হায়ার সেকেন্ডারিতে ওই রকম মারকাটারি একটা রেজাল্ট নিয়ে রেশমির স্বপ্ন ছিল অন্য। ফলে সে বেপরোয়া। অনেক অশান্তির পর বাড়ির লোক রণে ভঙ্গ দিল। কলেজ ফেরত এখন দু-একটা টিউশনও জুটে গেছে। বাড়ির ওপর আর্থিক চাপ যতটা কম দেওয়া যায়। প্রথম কটা মাস বেশ ভালোই চলছিল। দেখা যাক শেষ মেশ ভাগ্যে কী আছে।

কম দামি মোবাইলের আওয়াজ কিছুটা বেশি। কলেজের বন্ধুরা অন্তত তাই বলে। আর এই আওয়াজ বেশি –এর শর্ট ফর্ম হিসাবে ওরা বলে,আ,বে। সেই কারণে রেশমি ওটা ব্যবহারের সময় বরাবরই সতর্ক। দরকার ছাড়া ব্যাগেই রাখে। ফোন ডাক এলে সরে যায়। কিন্তু এই ভর্তি বাসে কোথায় যাবে? মোবাইল স্ক্রিনে বাড়িওয়ালী কাকিমার নাম দেখে সে উত্তেজনায় হ্যালো হ্যালো করতে থাকে। ওদিকের আওয়াজ বেশ গরম,-আর কতক্ষণ তোমার ফিরতে লাগবে?

-কেন মাসিমা,কী হয়েছে একটু বলবেন?

-সে না হয় এসেই শুনো।

-ঠিক আছে,আমি আসছি,বাসেই আছি,এমনি সব ঠিক আছে তো?

-এমনি মানে?

ও বাবা,এ তো রেগে কাই।

-না মানে,কি হয়েছে বুঝতে পারছি না বলে একটু টেনশন হচ্ছে।

-যাকগে পারলে একটু তাড়াতাড়ি এস।

ফোন কেটে দিল। রেশমি রুমালে ঘাড় কপাল মুছে ব্যাগে রাখল ফোনটা। সে আর ভাবতে পারছে না,ধুর যা হবার হবে।

বাস থেকে নেমে রেশমি রিক্সা স্ট্যান্ডের দিকে ছুটল। সামান্য বৃষ্টি হয়েছে এদিকে। তাই রোদের তাপ কম। বৃষ্টিহীন মাটিতে জল পড়ায় বাতাসে একটা সোঁদা গন্ধ। এখানকার পৌরপিতার উদ্যোগে স্ট্যান্ডের এদিকটায় বেশ নতুন করে সাজানো হয়েছে। সামনের গোল চত্বরের ভেতর সিমেন্ট বাঁধানো কৃত্রিম জলাশয়। ভেতরে রঙিন মাছ। গোল করে ছাটা সবুজ ঘাস। সামান্য মেঘে ঢাকা আকাশের তলায় বেশ লাগছে চারপাশটা। অন্যদিন হলে পাশের চায়ের দোকান থেকে এক ভাঁড় চা খাওয়া যেত। রিকশাওয়ালা রেশমির পরিচিত। রোদ না হলেও ভাড়া থাকলে মাঝে মাঝে সে রিক্সায় যাতায়াত করে। রহমানের বয়স পঞ্চাশের কোঠায়,কথাবার্তা পিতৃ সুলভ। ওকে পেলে রেশমি সোজা গিয়ে ওর রিক্সাতেই ওঠে। রহমান প্যাডেলে চাপ দিতে দিতে রেশমিকে জিগ্যেস করল, কী দিদিভাই,আজ এত আগে যে। কলেজ ছুটি হয়ে গেল?

-না গো বাড়িতে একটা কাজ পড়ে গেছে। রেশমি জবাব দেয়।

রহমান আর কথা বাড়ায় না। বাস থেকে নেমে কয়েক মাসের এই চেনা পরিবেশ পেয়ে এতক্ষণে মনটা যেন একটু হালকা লাগছে। কিন্তু, ভেতরে ভেতরে টেনশনটা রয়ে গেছে। সে ভাবল, বাড়িতে অন্বেশাকে সঙ্গে নিয়ে গেলে কেমন হয়, পথেই তো পড়বে ওর বাড়ি। না থাক। মত পাল্টালো রেশমি।

ভাড়াটে হিসাবে রেশমির কোন লিখিত চুক্তি নেই। আঙ্কল,মানে বোসবাবু পরিষ্কার বলেছিলেন,ভাড়ার টাকা নগদে দিতে হবে,আর লেখা জোকা বলে কিছু থাকবে না,প্রয়োজনে দু পক্ষই মৌখিক নোটিশ দিয়ে বাড়ি খালি করে দেবে। কথাটা মনে পড়তেই রেশমির চিন্তা শুরু হল,পরীক্ষার মধ্যে আবার বাড়ি খুঁজতে হবে নাকি? তেমন কিছু হবার চিন্তা যদিও কম। তবে দুশ্চিন্তার সময় খারাপগুলোই মাথায় আসে।

এই জন্যই মাসিমা,মানে অন্বেশার মা বলেছিলেন,এটা শহরের গা ঘেঁষা এলাকা। একটু সমঝে চলিস বাপু। তোদের ওখান থেকে এখানে বাড়ি করে উঠে আসার পর বুঝতে পেরেছি,দুটো জায়গার লোকজন কত আলাদা। এখানকার লোকজনের মনের নাগাল পাওয়া শক্ত। আমাদের যে একটাই ঘর। নইলে তোকে আমাদের কাছেই রেখে দিতাম।

বাড়ির কাছে এসে রহমনের অভ্যাস হল,পোঁ পোঁ করে হর্ন দেওয়া। যেন দরজার কাছে কেউ দাঁড়িয়ে কেউ অপেক্ষা করছে। ওর হর্ন শুনে খুলে দেবে। আজও কোন ব্যতিক্রম হল না। কিন্তু রেশমি একটু বিরক্তই হল। রহমনও সেটা বুঝতে পেরে বলল,আজ মেরা দিদিকো কুছ পরেশন লাগ রাহি হ্যাঁয়? জোর করে ঠোঁটে একটু হাসি এনে রেশমি তার ব্যাগ থেকে খুচরো বার করে রহমনের হাতে গুঁজে দিল। একবার ভাবল, রহমনকে কী একটু দাঁড়িয়ে যেতে বলনে,না থাক।

রেশমির ঘরে ঢোকার পথটা আলাদা। বারান্দায় উঠেই তার দরজা। তালা খুলতে গিয়ে দেখে সেটা কড়ার সঙ্গে লাগানো, কি ব্যাপার? বাড়িওয়ালার থেকে ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে কেউ খুলেছে? দরজায় হালকা ঠ্যালা দিতেই সরাসরি সে বাড়িওয়ালা ও তার গিন্নির মুখোমুখি। ঘরের মাঝখানে চেয়ারে বসা আরও একজন ভদ্রলোক, সাদা পাজামা গেরুয়া পাঞ্জাবি, তার বসার ধরনই বলে দিচ্ছে কোন হোমরাচোমরা গোছের লোক।

-তোমার নাম কী?

-মানে? রেশমি অবাক।

-মানে টানে না,যা জিগ্যেস করছি তার জবাব দাও।

-কী হয়েছে বলবেন তো?

-তোমার নাম জানতে আমাদের ভুল হয়েছিল,তাই ঠিকটা জানতে চাই।

-আমার কোন ছদ্মনাম নেই। জোরের সঙ্গে রেশমি জবাব দেয়।

-তাহলে এবার জাতটা ঠিকঠাক বলে ফেল। বেশ কৌতুকের সঙ্গেই আঙ্কল কথাটা বলে।

এতক্ষণে রেশমির কাছে বিষয়টা খোলসা হয়। সে বলে,সেটা আপনারা কোনদিন জানতে চাননি,তাই বলিনি। আমি মুসলিম।

-তুমি না বলেছিলে তোমার পদবী চৌধুরী? বাড়িওয়ালী কাকিমা প্রশ্ন করে।

-হ্যাঁ,সেটাও মিথ্যে না। এই বোলে রেশমি ওদের টপকে ড্রয়ার থেকে তার আইডেন্টিটি কার্ডটা বের করে কাকিমার হাতে দেয়। কাকিমা নিজে সেটা একবার দেখে চেয়ারে বসা লোকটার দিকে বাড়ায়। ভদ্রলোক সেটা হাতে নেড়ে বেশ বিজ্ঞের ভঙ্গিতে নাড়াচাড়া করে দেখেন। তারপর রেশমিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেখুন আমি এ অঞ্চলেরই আমাদের এক পার্টির ছেলের কাছে আপনার সম্পর্কে সব শুনেছি। ছেলেটার নাম বলছি না, তবে সেও আপনার কলেজেরই ছাত্র। আপনার অপনেন্ট ইউনিয়নের সদস্য। আমি এখানকার একজন পৌর প্রতিনিধি। বোসবাবু,মানে আপনার বাড়িওয়ালা একটা কাজে আমার সঙ্গে দেখা করতে যান। তো আমি আপনার সম্পর্কে কথাটা পারায় ওনার ভয়ঙ্কর একটা প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করলাম, তাতে ওনার সঙ্গে আমারও আসার প্রয়োজন মনে হল। একটা কথা শুনে রাখুন,এটা সম্পূর্ণ হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চল। লোকে আপনার সম্পর্কে জানলে পরে আপনারই অসুবিধে হবে। তাই ভাল হবে,আপনি যদি নিজে অন্য কোথাও ঘর খুঁজে নিতে পারেন। এইটুকু বলে ভদ্রলোক একটু থামলেন। ঘরে একটা নিস্তব্ধতা,রেশমি আঙ্কলের দিকে তাকাতেই ভদ্রলোক চোখ নামিয়ে নিলেন। নেতা ভদ্রলোক টেবিলের ওপর রাখা জলের বোতল থেকে এক ঢোক জল খেয়ে, আবার শুরু করলেন। বললেন, এসব কথা অন্য কারো সঙ্গে আলোচনার দরকার নেই,কারণ বুঝতেই পারছেন,তাহলে এক্ষুণি আবার রাজনৈতিক চাপান উতোর শুরু হয়ে যাবে। তাছাড়া আমি কোন দলের হয়েও আসিনি। বোসবাবু আমার অনেকদিনের পরিচিত মানুষ,অত্যন্ত সজ্জন। আমি চাই না ইনি কোন অসুবিধায় পড়ুন। তাছাড়া আপনারও এতে ভালো।

-তাহলে আমার এখানে থেকে উঠে যাওয়ার ব্যাপারটা আসলে কে ঠিক করলেন, আপনি না আঙ্কল? রেশমির হঠাৎ এই প্রশ্নে ঘরের হাওয়াটা আরও গুমোট হয়ে উঠল।

-যদি বলি সমাজ, নেতার ভঙ্গিতেই উত্তরটা ফিরিয়ে দিলেন ভদ্রলোক।

রেশমি বুঝতে পারল,এই জন্যই অন্বেশা তাকে বারবার বলেছিল,জাতপাত নিয়ে কেউ প্রশ্ন না করলে কিছু বলার দরকার নেই।

উপায় না দেখে রেশমি এবার একটা মোক্ষম চাল দিল। সে বলল,ঠিক আছে আমি একবার সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী আনিসুর কাকার সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলে দেখি,উনি কী বলেন। তারপর না হয় মিডিয়ার কাছেও…

রেশমির কথা শেষ হওয়ার আগেই পৌর প্রতিনিধি চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ায়। বলেন,আনিসুর বাবু আপনার কাকা হন?

কথাটায় কাজ হয়েছে দেখে রেশমি কোন জবাব দেয় না।

ভদ্রলোক বললেন,দেখুন আমি তো প্রথমেই বললাম, এসব রাজনীতির বিষয় না। বোসবাবু আমার কথায় যেভাবে রিঅ্যাক্ট করলেন তাতে মনে হল, রাগের বশে উনি কোন ভুল করে না বসেন। আমি সেজন্যই নিজে ছুটে এলাম। এখন দেখছি লোকের ভালো করতে নেই। ঠিক আছে, আপনি বরং এখানেই থাকুন। কোথাও যেতে হবে না। ব্যাপারটা নিয়ে আর জল ঘোলার দরকার নেই।

ওরা ঘর ছেড়ে চলে যেতেই রেশমি নিজেই একচোট হেসে নিলো। তারপর অন্বেশাকে ফোনে আদ্যপ্রান্ত সব জানালো। অন্বেশা বলল, সাধে কী তুই অত ভালো রেজাল্ট করেছিস। কাকা জ্যাঠার মত শব্দগুলো ঠিক সময় কাজে লাগানোর উপস্থিত বুদ্ধিটুকু না থাকলে এখন আর এক পাও এগোনো যাবে না, বুঝলি?

দুই বন্ধুর কথা হতে হতেই বাড়িওয়ালী কাকিমা দরজায় এসে হাজির।

-কিছু বলবেন কাকিমা? রেশমি ফোন ছেড়ে জিগ্যেস করে।

-তোমার আঙ্কল তোমাকে একবার ওপরে যেতে বলল। আর এতদূর থেকে হুড়োহুড়ি করে এলে একটু কিছু খেয়ে নাও।

খানিক বাদে রেশমি দোতলায় উঠে এলো। মুখে চোখে একটা জড়তা। বোসবাবু ডাইনিং স্পেসের আয়নায় দাড়ি কামাতে কামাতে বলল, কী হল, দাঁড়িয়ে রইলে কেন? বোসো। আমাদেরও খাওয়া হয়নি। একসঙ্গে খেয়ে নেওয়া যাক। রেশমি তখনও কোনের চেয়ারে বসে মাটির দিকে চেয়ে আছে।

-আরে তুমি এরকম ঘাড় গুঁজে বসে থাকবে নাকি? তারপর? আঙ্কলের অ্যাকটিং কেমন দেখলে বল?

রেশমি প্রথমে কথাটা বোঝার চেষ্টা করল। তারপর বোসবাবু নিজেই খোলসা করে বললেন, হল কী জানো? লোকটা তোমার সব খবরই জানে দেখলাম। প্রথমে আমার ওপর একচোট নিয়ে বলল, বাড়িভাড়া দেবেন বলে যার তার সঙ্গে চুক্তি করতে হবে? অ্যা? বিপদ বুঝে অভিনয় শুরু করলাম। এই বলে উনি একটি হাসলেন। তারপর হাসতে হাসতে বললেন, আরে বাবা আসল চুক্তি যারা করে বসে আছেন, তাদের ফটো তো তোরাই সরকারি অফিসে টাঙ্গাস। তাঁদের জন্মদিনেই সরকারি ছুটি পাস। যা না,সংবিধানটা গিয়ে পাল্টে আয় দেখি! এই বোলে আঙ্কল এমনভাবে হাসতে লাগলেন, যে ওনার হাসির ফোয়ারায় জাতপাতের গন্ধ কোথায় যে ধুয়ে গেল!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here