চারুলতা এখন

1181

চায়ের জল ফোটার শোঁ শোঁ শব্দের সঙ্গে মিশে শ্রীলতার একদম ভেতর থেকে ফুটন্ত অস্ফুট কিছু ধ্বনি ছিটকে উঠল। কিছু এলিয়ে পড়ল তৃপ্তিতে। পাশেই স্তূপ হয়ে পড়ে থাকা শ্রীলতার শাড়ি দিয়ে কোনরকমে নিজেকে সাফসুতরো করে মানস নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। আর একটু বাদে তাপস যখন অফিস থেকে আসবে দেখবে মানস তার ঘরে কম্পিউটারের সামনে ধ্যানস্থ। শ্রীলতার ইচ্ছে করছিল মানসকে আর একটু জড়িয়ে ধরে থাকতে। আলোবাতাসহীন এই ছয় বাই আট রান্নাঘরে কী অবিশ্বাস্য দ্রুততায় যে স্বর্গসুখ নেমে আসতে পারে তা কয়েকদিন আগেও শ্রীলতার জানা ছিল না।

সল্টলেকের কোন একটা আই টি কোম্পানিতে বেশ ভাল একটা চাকরি পেয়ে মানস ছয়মাস আগে ডিব্রুগড় থেকে এসে উঠেছিল দাদাবৌদির সংসারে। শাশুড়ি ফোনে বলেছিলেন, ওকে একটু দেখেশুনে রেখো আর পারলে একটা ভাল মেয়ে দেখে থিতু করে দিও।

শ্রীলতার অগাধ অবসরে যেন জোয়ার লেগেছিল। তাপসের মারাত্মক ব্রিজের নেশা। ছুটির দিনে তো বটেই অফিসের পরেও লাগাতার টুর্নামেন্ট। মানস আসায় বিবেক দংশন মুক্ত হয়ে সে আরও বেশি করে সাহেব বিবি গোলামের জটিল ধাঁধায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

রবিবার একসঙ্গে বসে পাত্রপাত্রীর বিজ্ঞাপন দেখা থেকে শুরু হয়েছিল মানস ও শ্রীলতার অন্তরঙ্গতা। এমনিতে মুখচোরা ছেলেটার ভেতরে যে এত রস এত রঙ্গ তা শ্রীলতা কল্পনাও করতে পারেনি। আর তার নিজের মধ্যেও যে এত হাসি পাথরচাপা হয়ে ছিল তাই বা কে জানত। দুজনের মধ্যের আড়ালটা আস্তে আস্তে সরছিল। নিশুতি রাতে সুফলা শস্যক্ষেত থেকে খাদ্যকণা মুখে ঝটিতি পালানো ইঁদুরের মতো মানস চকিতে তুলে নিত শ্রীলতার ঠোঁটের পদ্মমধু, ঘাড়ের স্বেদগন্ধ, চুলের অন্ধকার। শ্রীলতাও ঠাট্টাচ্ছলে খেলছিল এই মধুর খেলা।

প্রথম দিকে ছিল কুমির তোর জলকে নেমেছি বলে একটু ছুঁয়েই পালিয়ে যাওয়া। শ্রীলতার চারদিকে তখন ছলাৎছল জল। সে ভেসে ভেসে রান্না করছে। জলের ভেতর হাত ডুবিয়ে শুকনো কাপড় পাট করে রাখছে দুই ঘরে। জল থেকে ঘাটে উঠে তাপসকে বিদায় দিয়েই ডুবসাঁতার দিয়ে মানসের কাছে। মানস তার সখা, প্রেমিক, না হওয়া ছেলেটা। দু’রঙের সংসার তার দু’ঘরে।

হঠাৎ গরম এসে পড়ল হুড়মুড় করে। নতুন গড়ে ওঠা জায়গাটায় গাছপালা নেই বলে জ্বালাপোড়া আরও বেশি। ঠাণ্ডাতে আজন্ম অভ্যস্ত মানসের সর্দিগর্মি হয়ে শরীর খারাপ। অফিসে যায় নি। শ্রীলতা কাজকর্মের ফাঁকে ফাঁকে দেখে গিয়েছে। আদা চা দিতে এসে মানসের বাসি চুল হাত দিয়ে এলোমেলো করে দিয়েছে। তারপর সে নিজে চান করে এলো। তার কপালের ওপর দিয়ে ভেজা চুলের গুছি গালের ওপর নেমে এসেছে। কানের লতির আগায় টুলটুল করছে জলবিন্দু মুক্তোর দুলের মতো। সায়া ব্লাউজ ব্লটিং পেপারের মত শরীর থেকে কিছুটা জল টেনে ভেজা মানচিত্র এঁকে রেখেছে শরীরের এখানে সেখানে। শ্রীলতা ইচ্ছে করেই গায়ে কিছুটা জল রেখে দেয় যাতে চান চান ভাবটা বজায় থাকে খানিকক্ষণ।

হলুদ ফুলছাপ শাড়িটা সবে আধখানা পরা হয়েছে এই সময় পেছন থেকে দুটো হাত জড়িয়ে ধরল তাকে। শ্রীলতার হাত অবশ হয়ে ছেড়ে দিল শাড়ির কুচি। পায়ের কাছে উজ্জ্বল হলুদ ফুল স্তূপ হয়ে পড়ে রইল। শ্রীলতার শরীর থেকে সমস্ত জলকণা বাষ্প হয়ে উড়ে গেল। সেই বাষ্প জলভরা মেঘের সঙ্গে মিশে বৃষ্টি হয়ে ছড়িয়ে পড়ল সর্ষে ক্ষেতে। নাকছাবিটি হারিয়ে গেল হলুদ বনে বনে। শ্রীলতা বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে রইল কিছুক্ষণ। শরীরের সঙ্গে মনটাও তোলপাড় করছিল। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে চমকে উঠে জানালার কাছে এসে দেখল শিকড়সুদ্ধ উপড়ে ফেলা হচ্ছে একটা বিশাল গাছ। রাস্তা চওড়া হবে। একটা পাখির বাসা ডিম টিম সুদ্ধ ছিটকে পড়ল। শ্রীলতা নির্বিকার তাকিয়ে দেখল দৃশ্যটা। তারপর খুব ধীরে নিঃশব্দ চরণে এসে দাঁড়ালো মানসের ঘরের দরজায়। ঘরের মেঝেতে কাঙালের মত বসেছিল মানস। শ্রীলতাকে দেখে মুখ তুলে তাকালো। চোখে ভয়, সংশয়। শ্রীলতা তার দিকে এগিয়ে গেল। মানস উঠে দাঁড়ালো কাঠের পুতুলের মত। কিছু বলতে চাইল। হয়ত ক্ষমা চাইত। শ্রীলতা তার আগেই তৃষ্ণার্তের মত তাকে বুকে টেনে সব কথা বন্ধ করে দিল।

সেই থেকে শুরু। তারপর কতবার। পাত্রী দেখার বিজ্ঞাপনের কথা দুজনেই ভুলে গেছে। বরং সেটা এখন দুজনের মধ্যে গোপন হাসাহাসির বিষয়। অদেখা সুশ্রী শিক্ষিতা গৃহকর্মনিপুণার দল শ্রীলতার নখের যোগ্য নয় এসব স্তুতি শ্রীলতার পাদপদ্মে অঞ্জলি হয়ে ঝড়ে পড়ে।

কেউ যদি মানসের বিয়ের সম্বন্ধ আনে শ্রীলতা বলে কতই তো দেখলাম। দেখছিও সমানে। কন্তু কোনটাই যে ওর মনে ধরছে না।

আড়ালে মানসকে বলে, কারোকে আর দরকার আছে কী?

আড়ালটির পূর্ণ সুবিধে আদায় করে মানসও বুঝিয়ে দেয় সেটা কত অপ্রয়োজনীয়।

এভাবেই চলছে গত কয়েকমাস। বর্ষা জল দেয়। ফল দেয়। ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখে। বসন্ত বয়ে আনে দখিনা বাতাস। তার ছোঁয়ায় মরা ডালে ফুল ফোটে। সুর বাজে আকাশে বাতাসে। শ্রীলতার দিন কাটে বর্ষা আর বসন্তের মাঝে নিঁখুত সময় ভাগ করে।

শরৎ এলো প্রতিবারের মত মহাসমারোহে।অফিসে বাইরে তাস ছাড়া তাপসের আর কিছুতে উৎসাহ নেই বলে এতদিন পুজোর বিপুল তরঙ্গ বয়ে গেছে শ্রীলতার সংসারের পাশ দিয়ে। এইবার মানস আছে বলেই আকাশ নির্মলতম নীল। বাতাসে সোনার বরন আলো। ম্যাগাজিন দেখে শ্রীলতা নানা স্বাদে নানা রঙে উৎসবের দিনগুলোকে সাজিয়েছে।

পঞ্চমীর দিন রাত্রিবেলা খেতে বসে তাপস বলল – আজ অফিসে মেয়ের মামা এসেছিল।
-কোন মেয়েটার বল তো?
-শাদি ডট কমের। পুজোয় সব বেড়াতে যাচ্ছে। তারপর দেখা সাক্ষাতের কখন ভাল টাইম জিজ্ঞেস করছিল, ওই সঙ্গে একটু খোঁজ খবরও করে গেল। তলাপাত্রের পাড়ায় থাকে তো – ওর সঙ্গেই এসেছিল। কবে বলব।

মানসের খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। বলল – তোমার সুবিধে দেখে দিন ঠিক কর।

এঁটো প্লেট রাখার জন্য রান্না ঘরে ঢুকতেই মানসের বুকের জামা নয় যেন তার আত্মাটাকেই খামছে ধরল শ্রীলতা। তার নিঃশ্বাসে প্রখর তপন তাপ। তরল আগুনের স্রোতে ভাসছে দু’চোখ।

মানস বুকের জামা এক ঝাঁকুনিতে আলগা করে বলল – ছাড়। দাদা আছে।
-সেটাই কি তোমার একমাত্র অসুবিধে?

কথাটা বিষাক্ত ছোবলের মত আঘাত করল মানসকে। সে শুধু বলল – ছিঃ

মৃত্যুশোকের থেকেও তীব্র অন্য আর একরকম শোকে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে শ্রীলতা। দিনটা কেটে যায় কাজেকর্মে। মাঝরাতে হঠাত গুমগুম শব্দে খুলে যায় বুকের ভেতরের এক গোপন কুঠুরি। একটা নেই নেই শব্দ হাহাকারের মত ছিটকে ওঠে সেখান থেকে। তীব্র প্রেমতৃষ্ণা পাকে পাকে অঙ্গ বিহীন মরণ আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরে আছে তাকে। মৃত্যু ছাড়া মুক্তি নেই। ঘুমন্ত তাপসের দিকে তাকিয়ে ভাবে একটু চেষ্টা করলেই বদলানো যায় সব কিছু। নিশিতে পাওয়া মানুষের মত অন্য ঘরটার বন্ধ দরজার দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দেয় ঘুমহীন রাত।

তাপস মাঝে মাঝে বলে তোমাকে শুকনো শুকনো লাগছে। ডাক্তার টাক্তার দেখালে পার তো। এইটুকু বলাই যথেষ্ট তার কাছে। একদম ঘাড়ের কাছে একটা আগ্নেয়গিরি জেগে উঠছে আস্তে আস্তে এটা সে টেরই পায় না। হঠাৎ করে মানসও বড় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাইরেই কাটছে বেশিটা সময়। শ্রীলতার ভয়ংকর কিছু একটা করে চারপাশ খান খান করে ফেলতে ইচ্ছে করে। সমাজ সংসারের কথা ভেবে মানস যদি ভয় পায় শ্রীলতা ঘিরে রাখবে তাকে বাইরের সমস্ত আঘাত থেকে। আঁচল দিয়ে আড়াল করে রাখবে ঝোড়ো হাওয়ায় শিউরে ওঠা প্রদীপ শিখাটিকে।

দিনরাত এই সমস্ত কথাই সে নিরুচ্চারে ভাসিয়ে দেয় মানসের দিকে। দহনে দহনে অগ্নিগর্ভ হয়ে থাকে বায়ুতরঙ্গ। সে সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুসরণ করে মানসকে যতটা সম্ভব।

তাপসের কাছে শ্রীলতা খবর পায় – বন্ধুর সঙ্গে মানস মেয়ে দেখতে যাচ্ছে প্রায়ই। অফিস থেকে চলে যায়। সেটাই সুবিধে। মোটামুটি পছন্দ হলে বাড়ির মেয়েরা যাবে। কি স্বাভাবিক স্বচ্ছন্দ সব কিছু। মানস পারতপক্ষে একলা থাকে না। বাড়ি ঢোকে তাপসের সঙ্গে নয়তো পরে। ছুটির দিন কনে দেখার সঙ্গী বন্ধুটা আসে। শ্রীলতার কান মন পড়ে থাকে তার ঢুকতে মানা ঘরের চৌকাঠে। একদিন চাপা হাসি আর কথার মাঝে ওই ঘর থেকে ভেসে এল আগুনমাখা কতগুলো শব্দ – সব থেকে সোজা ম্যারেড মেয়ে পটানো। কোনভাবে যদি তাদের লাইফের একঘেয়েমি কাটাতে পারিস তাহলেই কম্ম সারা। আরে হ্যাঁ – সবাই এই করেই হাত পাকায়। দিদি বউদিরা আছেই তো এই জন্য।

শ্রীলতা প্রাণপনে একটা অবলম্বন খুঁজছিল যা আশ্রয় করে সে তার জীবনের বিষণ্ণতম মুহূর্তগুলো পার হতে পারে। যদি হাউমাউ করে কাঁদতে পারত তাহলে হয়ত চোখের জলে চাপা কষ্টটা একটু গলতে পারত। কিন্তু তার বদলে তার চোখ দুটো মরুভূমি হয়ে থাকে। সে টের পায় তীব্র তাপে তার চুল নখ চামড়া পুড়ছে। একটু একটু করে। চামড়া পোড়া কটু গন্ধ চারদিকে। তার গা গুলিয়ে বমি উঠে আসে। শরীর খারাপ বলে রাতে খেল না। সারারাত ছটফট করতে করতে প্রতিমুহূর্তে আশা করল ভদ্রতা করে অন্তত মানস দেখতে আসবে। সে এলে শ্রীলতা কঠিন হয়ে ফিরিয়ে দেবে তাকে। তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অহংকার চুরমার করে দেবে। কিন্তু মানস এল না। এর পরের প্রতিটি দিন শ্রীলতা শুধু মরন চিন্তা করল। শেষ পরিণামের সহজ কঠিন ভয়ংকরের মোহন রূপে মগ্ন হয়ে রইল।

ঠিক এক সপ্তাহ পর দু’ভাই অফিস থেকে ফিরল একসঙ্গে। দুজনেরই সর্বাঙ্গ দিয়ে খুশি ঝড়ে পড়ছে। তাপস বলল সুখবরটা দিতে আর তর সইছিল না বাবুর। অফিসে গিয়ে হাজির একেবারে। বৌ নাকি ঠিকই ছিল, আজ বাড়িটাও ফাইনাল করে এসেছে। অদ্যই ওর শেষ রজনী। কাল পাখি উড়ে যাবে তাই সেলিব্রেট করার জন্য বিরিয়ানি নিয়ে এলাম। শ্রীলতা শান্ত ভাবে খাবারের প্যাকেটগুলো নিল। তিনটে প্লেটে গুছিয়ে রাখল সাদা হলুদ সুগন্ধী ভাত। বড় বড় মাংস খন্ডগুলো যেন তারই লিভার ফুসফুস মগজ কিডনি। সে তাকিয়ে দেখল চারদিকে ছড়িয়ে থাকা তার সাজানো বাগানটিকে। তারপর গোপন কুঠুরি খুলে বার করল প্রাণঘাতী বিষ। ভগবানের মত শক্তিশালী মনে হচ্ছে নিজেকে। এখনই এক মুহূর্তে সে বদলে দিতে পারে সব কিছু। ফুল ফোটাতে পারে, ঝড় তুলতে পারে। লক্ষ তারার মালা জ্বালাতে পারে আবার মরনঘুর্ণিতে টেনেও নিতে পারে পাতালের দিকে। হাতের পাতায় মারণ বিষ নিয়ে সে ভাবছে কোন থালায় মেশাবে এই গুঁড়ো। হালকা ধোঁয়া উঠছে পরমান্ন থেকে। হাতের ওষুধটার কটু গন্ধকে ছাপিয়ে জাফরান ঘি এলাচের সুগন্ধ ছড়িয়ে যাচ্ছে হেমন্ত বাতাসে। পাশের ফ্ল্যাট থেকে দ্রুতলয়ে বাজনা ভেসে আসছে খুব জোরে।

তাপস রান্না ঘরের দিকে মুখ করে বলল – তাড়াতাড়ি কর। বিরিয়ানির গন্ধেই খিদে বেড়ে যায়। দুই ভাই আসন্ন উৎসবের কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা করছে। শ্রীলতাকে ডাকছে থেকে থেকে। সাড়া না পেলেও তার মতামত জানতে চাইছে চেঁচিয়ে। মানস বলল – নেক্সট উইকে মা এসে যাবে। এর মধ্যে তোমরাও পারলে চলে এসো। কিছু সাজেশন থাকলে বোলো।

তাপস সস্নেহে বলল – যাব। এবার তো ঘন ঘনই যেতে হবে।

তারপর শ্রীলতার দেরি দেখে অধৈর্য হয়ে তাপস উঠে এসে রান্না ঘরের দরজায় দাঁড়াল। তখন ওই ভ্যাপসা গুমোটে দাঁড়িয়ে শ্রীলতা ঘেমে উঠছিল। বাঁ হাতে আঁচল তুলে ঘাড় গলা মুখ মুছল। তাপসের মনে হল অনেকক্ষণ ধরে সে যেন কেঁদেছে। প্রতিদিনের চেনা শ্রীলতাকে তার কেমন অন্যরকম মনে হচ্ছিল। নতমুখী শোকার্ত নারীটিকে সে চিনতে পারছিল না বলে বিভ্রান্ত বোধ করছিল। ফিরে যাবে না ডাকবে ভাবতে ভাবতেই শ্রীলতা মুখ তুলে তাকাল তার দিকে। তারপর খুব স্বাভাবিক ভাবেই বলল – যাও বস গিয়ে। আমি এখনই নিয়ে যাচ্ছি।

তীব্র ঝিঁঝিঁ ডাকের মধ্যে এতক্ষণ শ্বাসরোধ করে শ্রীলতা দাঁড়িয়েছিল। তার ইন্দ্রিয়গুলো কাজ থামিয়ে বোবা হয়ে গেছিল। হঠাৎ চারপাশের রূপ রস গন্ধ সবই একসঙ্গে ফিরে এলো প্রবল্ভাবে। চাপা গর্জনে মোটরবাইক স্টার্ট করল কে যেন। হাসির হররার সঙ্গে উলুধ্বনি ভেসে এল দূর থেকে।

গোপন কুঠুরিটা খোলাই পড়ে আছে। নিওনের আলোয় ভেতর পর্যন্ত ঝলমল করছে। শ্রীলতা বিষের প্যাকেটটা ছুঁড়ে ফেলে দিল বাইরে। রাশিকৃত আবর্জনার মাঝে কোথায় হারিয়ে গেল সেটা। তারপর সে ভাল করে হাত ধুয়ে উৎসবের গন্ধ মাখা ভাতের থালাগুলো একটা একটা করে নিয়ে গেল বাইরের ঘরে। সেখানে তার স্বজনেরা অপেক্ষা করছে তার জন্য।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.