নীহারুল ইসলাম
জন্ম- ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৭, মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘী থানার হরহরি গ্রামে (। শিক্ষা- স্নাতক (কলা বিভাগ), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা- শিক্ষা সম্প্রসারক। সখ- ভ্রমণ। বিনোদন- উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শ্রবণ। এযাবৎ তিন শতাধিক গল্পের রচয়িতা। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক “ইলা চন্দ স্মৃতি পুরস্কার” প্রাপ্তি (২০১০)। ‘ট্যাকের মাঠে মাধবী অপেরা’ গল্পগ্রন্থটির জন্য পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি প্রবর্তিত “সোমেন চন্দ স্মারক পুরস্কার” প্রাপ্তি (২০১০)। ভারত বাংলাদেশ সাহিত্য সংহতি সম্মান “উত্তর বাংলা পদক” প্রাপ্তি (২০১১)।

জনার্দনপুরের কালুর সাধ জেগেছিল ধুকি খাওয়ার। গতকাল সন্ধ্যায় বাজার থেকে আতব চাল কিনে এনে বউ জুলেখাকে সঙ্গে করে সেই চাল ভিজিয়ে রেখেছিল। সব ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটল আজ সাতসকালে। সেই চাল ঢেঁকিতে ভানতে গিয়ে জুলেখার ডান হাতের চার-চারটে আঙুল আদা থেঁতলানোর মতো থেঁতলে গেল। একেবারে রক্তারক্তি কান্ড। কালু তখন বাড়িতেই, ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে সে-ই জুলেখাকে সাহায্য করছিল। ধুকি খাওয়ার আনন্দে এই সাতসকালেও সে তার সুরেলা কন্ঠে গান গাইছিলঃ

Holi Hai

“ ও দুলা চাল ভানেরে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া

ঢেঁকি নাচে দুলা নাচে হেলিয়া দুলিয়া … ”

যা শুনে ঘুম ঘুম চোখেও জুলেখার হেসে গড়াগড়ি যাওয়ার অবস্থা। তার মধ্যেই এমন দুর্ঘটনা। কালু আর কী করে, তড়িঘড়ি বউ জুলেখার হাতে নিজের ঘাড়ের গামছাটাকে কোনও মতে জড়িয়ে তাকে সঙ্গে করে বেরিয়ে এল বাইরে রাস্তায়। জুলেখাকে এক্ষুনি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার। তার নিজস্ব গাড়িঘোড়া নেই। তবে পাড়ায় আজকাল অনেকগুলি টুকটুক ভ্যান হয়েছে। সেগুলির একটিতে চড়ে চটজলদি হাসপাতালে পৌঁছাবে। যদিও রাস্তায় বেরিয়ে সেগুলির একটিও এখন তার চোখে পড়ছে না।

বাড়ির সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে কী করবে না করবে ভাবছে কালু। হঠাৎ দক্ষিণ দিক থেকে একটা টাটাসুমোকে আসতে দেখল। কার গাড়ি কে জানে। তবু সে গাড়িটাকে হাত তুলে দাঁড় করায়। অপরিচিত ড্রাইভার। ভেতরে কোটপ্যান্ট পরা একজন ভদ্রলোকও বসে আছেন। তিনিও অপরিচিত। তাহলে এঁদেরকে সে কী বলবে? অগত্যা হাত নামিয়ে রাস্তা ছেড়ে সরে দাঁড়ায় সে। ততক্ষণে টাটাসুমোর কাঁচ নেমে গেছে। কোটপ্যান্ট পরা ভদ্রলোক গাড়ি থেকে মুখ বের করে জিগ্যেস করলেন, কী হয়েছে?

কালু বলল, মস্ত বিপদে পড়েছি গো বাবু। ঢেঁকিতে হামার বিবির হাত থেঁতলে গেলছে। হাসপাতাল লিয়ে যাবো তো কিছু পেছি না।

কালুর কথা শুনতে শুনতে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা যন্ত্রণা-কাতর একটি মেয়েকে দেখতে পেলেন গাড়িতে বসা ভদ্রলোক। মেয়েটির ডান হাতে গামছা জড়ানো, কিন্তু সেই গামছাটা রক্তে ভিজে চবচব করছে। তা থেকে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত মাটিতে চুইয়ে পড়ছে পর্যন্ত। 

গাড়িটা আসলে বিডিও অফিসের। বিডিও খোদ গাড়িতে বসে আছেন। খাস কলকাতার ছেলে তিনি। ডাব্লু. বি. সি. এস. দিয়ে বিডিও হয়ে প্রথম পোস্টিং একেবারে এই মফস্বল ব্লকে। সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশ। জলের মাছকে ডাঙায় তুললে যে অবস্থা হয়, এখানে আসার পর এই বিডিওসাহেবের সেই অবস্থা হয়েছে। তার ওপর সরকারের ‘স্বচ্ছ ভারত’ অভিযানের ঠেলায় রোজ ভোর ভোর ঘুম থেকে ওঠে গ্রামে গ্রামে ছুটে বেড়াতে হচ্ছে।

[ ঢেঁকি : ১ ]

 

কেউ যাতে মাঠঘাট বা খোলা জায়াগায় শৌচকর্ম না করে। কেউ করলে কেন করছে? প্রত্যেকটি বাড়িতে শৌচাগার আছে কিনা? এইসব খতিয়ে দেখে বেড়াতে হচ্ছে। এসডিও সাহেবের ইচ্ছে আগামী মার্চের মধ্যে জেলার প্রথম স্বচ্ছ ব্লক হিসেবে ঘোষণা করবেন এই ব্লককেই। যে কারণে আজ ক’মাস সেটা নিয়েই পড়ে আছেন। খুব টাফ কাজ। কোন গ্রামে কাজের কতটা অগ্রগতি হল সেটা দেখতেই আজ তাঁর জনার্দনপুরে আসা। আর এসেই যেন ফ্যাসাদে পড়লেন তিনি। জুলেখা বিবির ঢেঁকিতে হাত থেঁতলানোর মতো একটা গুরুতর দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলেন। বোধহয় একেই বলে গোদের ওপর বিষফোঁড়া!

আরও পড়ুন:  দম্পতি

যাই হোক, তিনি স্বচ্ছ ভারতের স্বচ্ছতার কাজ ফেলে কালু ও কালুর বউ জুলেখা বিবিকে নিজের গাড়িতে তুলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে পৌঁছানোর নির্দেশ দিলেন ড্রাইভার অবনীকে।

 

দুই

স্বয়ং বিডিওসাহেব হাসপাতালে পেশেন্ট নিয়ে এসেছেন। নিমেষেই হাসপাতালের এমারজেন্সি বিভাগ তৎপর হয়ে উঠল। ডাক্তার থেকে নার্স, অন্যান্য কর্মচারী সবাই খুব ব্যস্ত হয়ে উঠল। জুলেখা বিবির চিকিৎসা শুরু হতে দেরি লাগল না। কিন্তু ক্ষত থেকে প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হওয়ায় জুলেখা বিবির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ছে। দেখে শুনে ডাক্তার বললেন, রক্ত লাগবে।

গ্রামীন হাসপাতাল। এখানে ব্লাড ব্যাংক নেই। তাহলে উপায়? মহকুমা হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক আছে। সেখান থেকে রক্ত আনাতে হবে। কিন্তু সেখানে রক্ত আনতে যাবে কে? কালুকে জিগ্যেস করা হল সে মহকুমা হাসপাতালে গিয়ে রক্ত আনতে পারবে কিনা। কালু হাতজোড় করে বলল, মহকুমা হাসপাতাল কুন্ঠে তা তো জানি না বাবু। তাছাড়া হামি সেখান থেক্যা কী করে রক্ত আনবো? রক্ত কি বহে আনার জিনিস? রক্ত তো শরীলে বহে।

অদ্ভূত কথা! বিডিওসাহেব কালুর কথা শুনে চমকে উঠলেন। কিন্তু এখন চমকানোর সময় নয়, ডাক্তার যখন বলেছেন রক্ত লাগবে তখন লাগবেই। এটাই বাস্তব। অগত্যা বিডিওসাহেব তাঁর গাড়ির ড্রাইভার অবনীকে জিগ্যেস করলেন, কী করা যায় বলুন তো?

অবনী বলল, স্যার আপনি যদি অনুমতি দেন তাহলে আমি গিয়ে ব্লাড আনতে পারি।

  • আপনি যাবেন। কখনো গেছেন?
  • হ্যাঁ স্যার। আমার একমাত্র ছেলে জন্য প্রতি মাসেই আমাকে সেখানে রক্ত আনতে যেতে হয়।
  • আপনার ছেলের জন্য! কেন, আপনার ছেলের কী অসুখ যে প্রতি মাসে রক্ত দিতে হয়?
  • লিউকোমা।
  • বয়স কত?
  • সাত বছর।
  • স্যরি অবনীবাবু!
  • আপনি কেন স্যরি বলছেন স্যার? দোষ আমার ভাগ্যের।
  • অমন কথা বলবেন না। ভাগ্যের দোষ বলে কিছু হয় না। দেখবেন আপনার ছেলে ঠিক সেরে উঠবে।

বিডিওসাহেব অবনীকে সান্ত্বনা দিলেন বটে, কিন্তু তাঁর বুকের ভেতরটা কেন জানি কেমন হু হু করে উঠল। তিনি চুপ করে রইলেন।

[ ঢেঁকি : ২ ]

 

অবনী তাঁকে জিগ্যেস করল, স্যার আমি কি যাব রক্ত আনতে?  

  • হ্যাঁ, হ্যাঁ, আপনি যান। দেরি করবেন না, তাড়াতাড়ি যান।
  • স্যার আপনি অফিসে ফিরবেন কী করে?
  • ওটা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। আমি রিক্সা বা টুকটুক কিছু একটা ধরে অফিসে ফিরে যাচ্ছি। আপনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব থেকে রক্ত নিয়ে আসুন।

ডাক্তারের লিখে দেওয়া একটা চিরকুটকে সঙ্গী করে অবনী গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায়। বিডিওসাহেব হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর তাঁর কী করণীয় বুঝতে পারেন না। মনে পড়ে যায় তাঁদের ফ্ল্যাটের পাশের বস্তির সেই ছেলেটিকে। বহুতলের জানালা থেকে যাকে প্রতিদিন দেখতেন। আপন মনে যে ছেলেটি আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে নিজের স্বপ্নের জাল বোনে। বাদপড়া টায়ার গড়িয়ে যে নিজের উন্নতির স্বপ্ন দেখে। আর আস্তাকুঁড়ে থেকে কুড়িয়ে পাওয়া বিরিয়ানি খেয়ে পেট ভরায়।

আরও পড়ুন:  সাগর আই লাভ ইউ (১৮ পর্ব)

ছেলেটার কথা ভাবতে ভাবতে শেষপর্যন্ত একটা টুকটুক চড়ে বিডিওসাহেব তাঁর ব্লক অফিসে ফিরে আসেন। যদিও যে ঢেঁকি নিয়ে এত কান্ড ওটা কী জিনিস – ওতে কিভাবে মানুষের হাত থেঁতলে যায় এখনও পর্যন্ত তিনি সেটাই বুঝতে পারছেন না।

 

তিন

অফিসে ঢুকেই নিজের চেয়ারে বসতে না বসতে কলিং-বেল বাজালেন বিডিওসাহেব। সঙ্গে সঙ্গেই আর্দালি বাবলু দাস এসে হাজির, স্যার কিছু বলছেন?

  • হ্যাঁ। একটু বসুন তো! কথা আছে।

বাবলু দাস চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। তার নিজের কথায়, ‘আমি বিডিওর অর্ডারলি। এটুকু জীবনে আমি এখন পর্যন্ত পাঁচ-পাঁচটা বিডিওকে পার করেছি। এটাকে নিয়ে ছ’টা চলছে। বিডিওদের মনের কথা আমি সব বুঝতে পারি।’ অথচ এখন বিডিওসাহেবের দিকে তাকিয়ে সে কিছুই বুঝতে পারছে না। তবে তার মনে হচ্ছে, বিডিওসাহেব নিশ্চয় খুব বিপদে পড়েছেন। তাঁকে কেমন বিধ্বস্ত লাগছে। মাথার ওপর ফ্যানটা ফুলস্পীডে ঘুরছে তবু তাঁর কপালের ঘাম কিছুতেই শুকোচ্ছে না।

এসব দেখে বাবলু দাসের নিজেকেও কেমন অসহায় লাগছে। বিডিওসাহেবের জন্য সে কী করতে পারে, বুঝতে পারছে না। বিডিওসাহেব ‘কথা আছে’ বলে বসতে বলে আর কিছু বলছেন না। সে যে নিজে থেকে জিগ্যেস করে কিছু জানবে, সেটাও সম্ভব নয়। কারণ সে বিডিওসাহেবের ‘অর্ডারলি’। বিডিওসাহেবের অর্ডার নেওয়াটাই তার কাজ, প্রশ্ন করা নয়। অগত্যা সে অর্ডারের অপেক্ষা করে।  

আসলে বিডিওসাহেব তখন কম্পিউটারে গুগল সার্চ করে বুঝে নিতে চাইছেন ‘ঢেঁকি’ বস্তুটা কী। কিন্তু এই মফস্বলে নেটওয়ার্কের যা অবস্থা! এতই ধীর গতি যে পাতা খুলতেই কালঘাম ছুটে যাওয়ার জোগাড়। এরকম ব্যবস্থায় নাকি দেশ ডিজিটাল হবে? ছ্যাঃ!

মনে মনে কার উদ্দেশে যে ‘ছ্যাঃ’ বলেন বিডিওসাহেব তা নিজেও জানেন না।

শেষপর্যন্ত বাবলু দাস ধৈর্য রাখতে পারে না। জিগ্যেস করে বসে, কোনও সমস্যা স্যার?

[ ঢেঁকি : ৩ ]

 

বিডিওসাহেব কম্পিউটারের পর্দা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে বাবলু দাসকে দেখেন। বলেন, আচ্ছা বাবলুবাবু বলুন তো- ঢেঁকি বস্তুটা কী?

বাবলু দাস বিডিওসাহেবের প্রশ্ন শুনে অবাক হয়ে যায়। এই সামান্য ব্যাপারটা বিডিওসাহেব জানেন না! এর জন্যই বিডিওসাহেবের এই অবস্থা?  

বিডিওসাহেব হয়ত সেটা টের পান। বলে ওঠেন, সত্যি বলছি বাবলুবাবু জিনিসটা কী সেটা দূরের কথা– শব্দটার  সঙ্গেই আমার কোনও পরিচয় ছিল না। আজকেই প্রথম শুনলাম।

শেষপর্যন্ত বাবলু দাস মুখ খোলে, কী করে শুনলেন স্যার?

বিডিওসাহেব আজ সকালের বৃত্তান্ত খুলে বললেন। সব শুনে বাবলু দাস জিগ্যেস করল,  নারদের নাম শুনেছেন স্যার?

আরও পড়ুন:  বন্ধ ঘরের ভিতর

বিডিওসাহেব জিগ্যেস করেন, কোথাকার নারদ?

  • ত্রিভূবনের নারদ, নারদমুনি!
  • ত্রিভূবনের নারদ! সে আবার কে?
  • নারদ হলেন একজন মুনি। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী মতে তিনি ব্রহ্মার মানসপুত্র। শুধু তাই না, তিনি ত্রিকালজ্ঞ, বেদজ্ঞ ও তপস্বী । ‘নার’ শব্দের অর্থ হচ্ছে জল। তিনি সবসময় তর্পণের জন্য জলদান করেন বলে তাঁর নাম নারদ।

বিডিওসাহেব ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকেন বাবলু দাসের দিকে। বাবলু দাস এ কার গল্প শোনাচ্ছে? কিছুই যে তাঁর বোধগম্য হচ্ছে না। সত্যিই এসব মুনিটুনির গল্প তিনি কখনও শোনেননি। কেউ তাঁকে শোনায়নি। ফ্ল্যাটবাড়িতে জন্ম, বেড়ে ওঠা। আয়ার হাতে বড় হয়েছেন। ইংলিশমিডিয়াম স্কুলে পড়েছেন। বাবা-মা থাকলেও তাঁরা নিজের নিজের জগতে ব্যস্ত ছিলেন। চাকরি, পার্টি আরও কত কী সব! আত্মীয় বলতে আর কেউ ছিল না। স্বভাবতই তাঁর বন্ধু হয়েছিল সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান, আইরণম্যান, ফ্যান্টমের মতো চরিত্রেরা। তাহলে তিনি নারদকে জানবেন কী করে? যাই হোক, এখন না হয় জানলেন। কিন্তু ঢেঁকি’র কথা জানতে চেয়ে নারদ এল কেন? ঢেকি’র সঙ্গে নারদের কী সম্পর্ক? বাবলু দাসকে সেকথা জিগ্যেস করলেন তিনি। বাবলু দাস বলল, এটাই জানেন না স্যার! ওই ঢেঁকিতে চড়ে নারদমুনি ত্রিভূবন ঘুরে বেড়ান। ঢেঁকি হল নারদমুনির বাহন।

বিডিওসাহেব বাবলু দাসের কথার মাথামুন্ডু কিছু খুঁজে পাচ্ছেন না। নারদমুনির বাহন ঢেঁকি হলে সেটা কিভাবে জনার্দনপুরের কালুর বউ জুলেখা বিবির হাত থেঁতলে দেয়? আর এটা যদি সত্যিও হয় এবং কালু-জুলেখা মিলে যদি নারদের নামে আদালতে নালিশ ঠুকে দেয়? কোন একটা হিন্দি সিনেমায় ভূমিকম্পে সর্বস্বান্ত হওয়া এক ব্যক্তি ভগবানের নামে কেস ঠুকে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। বিডিওসাহেবের মনে পড়ে যায় সেই সিনেমাটার কথা। আর তাঁর কেমন ভয় ভয় করে। যদিও সেই ভয় যাতে বাবলুবাবুর সামনে প্রকাশ না পায়, সেই চেষ্টায় করছেন তিনি। সদ্য এসেছেন মফস্বলের এই ব্লকে। সরকারের নির্দেশ ছাড়া আর কিছুই জানেন না, কিছুই বোঝেন না।  এখানকার মানুষ সম্পর্কেও তাঁর কোনও ধারণা নেই। যেমন ধারণা নেই নারদ বা নারদের বাহন ঢেঁকি সম্পর্কে।

[  ঢেঁকি : ৪ ]

 

ইতিমধ্যে অবনী ফিরে এসেছে। বিডিওসাহেব তাকে দেখে জিগ্যেস করলেন, কী খবর অবনীবাবু? রক্ত পেয়েছেন?

অবনী বলল, হ্যাঁ স্যার- পেয়েছি। হাসপাতালে রক্ত পৌঁছে দিয়ে এলাম। বউটার হাতের রক্ত ক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। বউটা এখন ভাল আছে। আর হাসপাতালে আপনার খুব সুনাম হচ্ছে। লোকজন বলছে, আপনি নাকি এই ব্লকের প্রথম বিডিও যিনি অসুস্থ মানুষের জন্য নিজের গাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন।  

অবনী আরও কী কী বলে যাচ্ছে বিডিওসাহেব খেয়াল করতে পারছেন না। তখন তাঁর সামনে কম্পিউটারে ‘ঢেঁকি’ লেখা গুগলের পাতাটা ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে। কী আশ্চর্য- যেখানে তিনি নিজেকে টুকটুক চড়ে হাসপাতাল থেকে ফিরতে দেখতে পাচ্ছেন। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার- নিজেকে তাঁর মনে হচ্ছে নারদ, আর টুকটুকটাকে ঢেঁকি।

NO COMMENTS