ম্যাগনোলিয়া

801

সাঙ্গে শেরপা বিরক্ত মুখে বলল ‘ফালতু গাছ একটা, কোন কাজে লাগে না’ মিতুলের বুকে তীরের মতো বিঁধল কথাটা। আকাশ আলো করে ফুল ফুটিয়েছে যে গাছ, সে গাছ ফালতু! কে জানে এই গাছটার সঙ্গে এত শ্ত্রুতা কেন সাঙ্গের? যখনি ওরা দাঁড় করাতে বলছে ছবি নেবে বলে, তখনি কোন না কোন ছুতোয় এড়িয়ে যাচ্ছে সাঙ্গে, বলছে, এখানে জংলী লেপার্ড আছে , গাড়ি থামানো যাবে না, কিংবা অনেক দূরে গিয়ে দাঁড় করাচ্ছে, যেখানে ম্যাগনোলিয়ার কোন চিহ্ন নেই। সে কথা বললে আবার অন্য একটা ফুলের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলছে ‘ইসকা পিকচার খিঁচিয়ে না। বহোত আচ্ছা ফুল। লক্তি নাম হ্যাঁয়’ এই ফুলটা আগেও দেখেছে মিতুল, সুন্দর, ছোট ছোট, গোলাপি আর সাদার আভা বেরুনো, হিমাচলেও দেখেছে, যেন গুঁড়ো গুঁড়ো বরফ। কিন্তু লক্তি কি ম্যাগনোলিয়া? সেটা কে বোঝাবে সাঙ্গেকে?

বরাবরই মিতুল দেখেছে বেড়াতে গেলে ওদের কপালে যত জ্যাঠামশাই টাইপের ড্রাইভার জোটে, পৃথিবীর সব ব্যাপারেই শুধু যে তাদের অগাধ জ্ঞান- তাই নয়, তারা মনে করে বিদেশ বিভুঁইয়ে তাদের অভিভাবকত্ব মিতুলদের জন্যে জরুরি। সেবার ঝাড়খণ্ডে গিয়ে যেমন বাচ্চা সিং জুটেছিল। কোন কিছু ভালো লাগলে একটু উচ্ছ্বসিত হবার উপায় নেই, বাচ্চা সিং ওমনি ক্যাঁক করে ধরে সেই বিষয়ে মিনিট পনেরোর একটা ক্লাস নিয়ে নেবে। সে দুধারে আগুন ধরিয়ে দেওয়া পলাশ হোক, কিংবা বুন্দুর সূর্জমন্দিরের সাত ঘোড়ার স্থাপত্যের বিশেষত্ব হোক। লাতেহারের ওপর দিয়ে যাবার সময় মিতুল দেখেছিল বিয়ে করে নতুন বউ নিয়ে মাঠ দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছে চুল দিয়ে তেল গড়ানো বর, সে নিয়ে ও রাজার সঙ্গে একটু হাসাহাসি করতে গেলে বাচ্চা সিং গম্ভীর গলায় বলেছিল ‘শুনিয়ে, গাঁওমেই শাদী শাদী মালুম হোতা হ্যাঁয়।’ এই বলে সে পাক্কা কুড়ি মিনিট শহর ও গ্রামের বিয়ের তুলনাত্মক আলোচনা করেছিল। এরপর সারা রাস্তা মিতুল কোন কিছু দেখেই আর রা কাড়তে সাহস পায়নি। বেতলায় গিয়ে বিকেলে ওরা নিজেদের মতো একটু হাঁটাহাঁটি করছিল, করতে করতে দেখেছিল একটা ঠেলাগাড়িতে মুড়ি, ছোলা ইত্যাদি নিয়ে একটা লোক চলেছে। ওরা মহানন্দে এক ঠোঙ্গা মুড়িমাখা খেয়েছিল কিনে। সারাদিনে এই প্রথম যেন মুক্তির স্বাদ। রাজা নিঃশ্বাস ফেলে বলেছিল ‘বাঁচা গেছে, ধারে কাছে জেঠুকে দেখা যাচ্ছে না, থাকলে হয়তো এই মুড়ি খেতেই দিত না, কিংবা এমন লেকচার ঝাড়ত যে খাওয়া মাথায় উঠত’

ওরা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি বাচ্চা সিং আড়াল থেকে ওদের প্রতিটা পদক্ষেপ লক্ষ্য করছে। পরের দিন সকালে দেখা হতেই প্রথম কথা সে বলেছিল ‘ কাল আপ যো কিয়া ঠিক নেহি কিয়া’ ওরা ডাইনিং হলে ব্রেকফাস্ট করছিল। বাচ্চাও স্নান টান সেরে কোণের টেবিলে নিজের নাস্তা নিয়ে বসেছিল। ডাইনিং হলে আরও লোক ছিল, তাদের সবার সামনে এমনভাবে চেঁচিয়ে কথাটা বলেছিল বাচ্চা, যে রাজার গলায় অমলেট আটকে গেছিল। সবাই এমন করে তাকাচ্ছিল, যেন ওরা মাওবাদি, কিংবা কাল মহুয়া খেয়ে হুজ্জুতি করেছে। অবশ্য বাচ্চার পরের কথাটায় সবার মুখে ফুটে উঠেছিল কৌতুকের হাসি। বাচ্চা নিজের রুটি ছিঁড়তে ছিঁড়তে বলেছিল ‘ইধার শামকো বাহার পয়দল ঘুমনা খতরনাক হ্যাঁয়, ইয়ে তো আপকো বোলা থা। অউর ও মুড়ি কোয়ি খানে কা চিজ হ্যাঁয়? আপকা বঙ্গাল কা মুড়ি কিতনা আচ্ছা হ্যাঁয়’ এই বলে ও বাংলার মুড়ির ওপর এমন একটি জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দিয়েছিল, যে ওকে অনায়াসে বাংলার মুড়ির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার করে দেওয়া যায়। পাশের টেবিল থেকে এক ভদ্রলোক উঠে এসে বলেছিলেন ‘এ আপনাদের ড্রাইভার? অসাধারণ পাণ্ডিত্য!’ রাজা হেসে বলেছিল ‘ড্রাইভার কোথায়? ও আমদের জেঠু’ ডাইনিং হলে হাসির ঝড় উঠেছিল।

সেই বাচ্চা সিংও, মনে পড়ল মিতুলের, পলাশ দেখে ও মুগ্ধতা প্রকাশ করলে নাক সিঁটকে বলত ‘ এ ফুল কুছ কামকা নেহি’ তার মানে কি ধরে নিতে হবে প্রকৃতির অসাধারণ দানগুলির প্রতি ড্রাইভারদের এই তাচ্ছিল্য একটা বিশ্বজনীন প্রবণতা?

তবে বাচ্চা সিং পলাশের ছবি তুলতে কখনো বাধা দেয়নি, যখনি বলেছে, গাড়ি থামিয়েছে, না বললেও নিজের থেকে থামিয়ে বলেছে ‘ ফটো খিচনা হ্যাঁয় তো খিঁচ লিজিয়ে। আরামসে। হড়বড়ি মত কিজিয়ে’ এই বলে অবিশ্যি সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে কলকাতার এক দল পর্জটকের ছবি তোলার ব্যগ্রতা নিয়ে মজার কিস্যা। কিন্তু এই সাঙ্গে শেরপা কেমন এক অদ্ভুত লোক। ও কিছুতেই ম্যাগনোলিয়ার ছবি তুলতে দেবে না ওদের, ম্যাগনোলিয়া দেখে রাজা গাড়ি থামানোর জন্যে কাকুতি মিনতি করলে গাড়ি থামাবে আধঘণ্টা পর, যেখানে ও ফুলের কোন চিহ্ন মাত্র নেই।

বেশ কয়েকবার এমন হবার পর, মিতুলের কাছে ব্যাপারটা বেশ রহস্যাবৃত মনে হল। ও ফিসফিস করে বলল ‘বুঝলে, আমার মনে হচ্ছে এই গাছটার সঙ্গে ওর জীবনের কোন দুঃখের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। অথবা কোন ট্রিপে, হয়তো আমাদের মতো কোন পর্জটক ছবি তুলতে গিয়ে’

‘পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ে গিয়েছিল- এই তো? বেশি থ্রিলার সিরিয়াল দেখার ফল এসব। তবে হ্যাঁ প্রথমটা , দাঁড়াও জিগ্যেস করছি, এই গাছের ডালে ওড়না জড়িয়ে ওর বউ সুইসাইড করেছিল কিনা’

‘যাঃ’ হেসে গড়িয়ে পড়েছিল মিতুল। কিন্তু একটু পরে ব্যাপারটা আর হাসির রইল না। একটা যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হল, একদিকে প্রো-ম্যাগনোলিয়া মিতুল আর রাজা, অন্যদিকে অ্যান্টি- ম্যাগনোলিয়া সাঙ্গে শেরপা।

এন জে পি তে নেমে ওরা একটা ভাড়া করা গাড়িতে এসেছিল শ্রীখোলা। সেখানে দিন দুই কাটিয়ে ওরা সান্দাকফুর পথে রওনা দিয়েছে। লজের মালিক বাঙালি, তিনিই একে ঠিক করে দিয়েছেন, পাহাড়ি রাস্তায় নাকি এর থেকে ভালো ড্রাইভার আর হয় না। সে নিয়ে কোন সন্দেহই নেই, তার ওপর সাঙ্গে আবার এক্স মিলিটারি, হিন্দি ইংরেজি দুটোতেই চোস্ত, লেদার জ্যাকেট, কাউবয় টুপিতে একেবারে দেখার মতো। কিন্তু, দুধে ওই একটাই চোনা- ম্যাগনোলিয়া। তাতেই সারা ট্যুর মাটি হবার জোগাড়।

বিকেল বিকেল ওরা টুমলিং এসে পৌঁছল। কাল সকালে এখান থেকে সান্দাকফু যাবে। কি থ্রিলিং জার্নি, কিন্তু রাজার মন ভার। ও শুনেছে সান্দাকফুর রাস্তা ম্যাগনোলিয়ায় ঢাকা। তার মানে সারা রাস্তাটাই সাঙ্গের সঙ্গে ঠান্ডা লড়াই চলবে। মিতুল সেটা আন্দাজ করে বলল ‘ যাক গে ছাড়ো, গাড়ি থেকেই দেখে নেব। আর নেটে তো ম্যাগনোলিয়ার কত ছবি পাওয়া যায়। এই নিয়ে সাঙ্গের সঙ্গে চটাচটি করো না। পাহাড়ি রাস্তায় ড্রাইভারকে চটাতে নেই’

রাজা তাতে আরও খেপে গিয়ে বলল ‘ তাহলে তো বেড়াতে না এসে বাড়িতে বসে নেটে দেখে নিলেই হত। সবই তো পাওয়া যায় নেটে’

ঠিক তখনি বৃষ্টি নামল, এমনি বৃষ্টি নয়, শিলাবৃষ্টি। দেখতে দেখতে সারা টুমলিং সাদা হয়ে গেল। মিতুল ভাবল এই দেখে রাজা ম্যাগনোলিয়ার কথা ভুলে যাবে। ওমা, কোথায় কি! রাজা মুগ্ধ চোখে বরফের ছবি তুলতে তুলতে বলল ‘বরফের রংটা দেখো। ঠিক ম্যাগনোলিয়ার মতো!’

পরেরদিন সকালে সব পরিষ্কার। আকাশ তকতকে নীল। হোটেল থেকে অনেকটা নিচে ডাইনিং হল। সেখানে ব্রেকফাস্ট খেতে গিয়ে দেখল বিখ্যাত এক পরিচালক ফালুট যাচ্ছেন, কী একটা ডকুমেন্টারির শুটিং এ। তিব্বতি রুটি দিয়ে আলুর তরকারি খেতে খেতে তাঁর মুখে নানান গল্প শুনল ওরা। আজ থেকে তিরিশ বছর আগে এ পথেই সান্দাকফু গেছিলেন ওঁরা কয়েকজন বন্ধু মিলে। তখন পুরোটাই ট্রেক করে যাওয়া, কোন গাড়ি যেত না, একটা ঝুপড়িতে ছিলেন সবাই মিলে, কি হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। রাজা ওঁকে মাঝখানে থামিয়ে বলে উঠল ‘ম্যাগনোলিয়া দেখেছিলেন?’ পরিচালক কথার খেই হারিয়ে বললেন ‘ম্যাগনোলিয়া? কীরকম দেখতে বলুন তো?’ খাওয়া শেষ করে একটা কুকুরকে আদর করছিল সাঙ্গে, টুক করে বলে দিল ‘ও কোয়ি খাস ফুল নেহি হ্যাঁয়’। সঙ্গে সঙ্গে রাজা ওর দিকে কটমট করে চাইল। মিতুল তাড়াতাড়ি বলল ‘গাড়িতে উঠি?’ পরিচালকের সঙ্গে সেলফির মায়া ছেড়ে ও রাজাকে নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়ল।

কিন্তু হায়! গাড়ি তো সেই ম্যাগনোলিয়ার পাশ দিয়েই যাচ্ছে আর চালাচ্ছে সেই কট্টর ম্যাগনোলিয়া-বিরোধী সাঙ্গেই। ফলে সারা রাস্তা রাজা আর সাঙ্গের দ্বৈরথ চলারই কথা। খিটিমিটি শুরুও হয়েছিল, কিন্তু অন্য দিনের মতো তা দানা বাধার আগেই, ফটাশ করে গাড়ির চাকা ফেটে গেল। স্টেপনি খুলে লাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল সাঙ্গে, আর কি আশ্চ্ররজ, সেই জায়গাটায় পর পর ম্যাগনোলিয়া। রাজা আশ মিটিয়ে ছবি তুলল, চাকা পাল্টাতে ব্যস্ত সাঙ্গে লক্ষ্যও করল না। বাকি রাস্তাটা তাই চমৎকার কাটল। রাজা নিজের তোলা ছবিগুলো এডিট করতে ব্যস্ত রইল আর মিতুল, এই প্রথম শান্তিতে জানলা দিয়ে চারপাশ দেখছিল। ওদের গাড়ির পাশ দিয়ে অনেক বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়ে, এমনকি বয়স্ক নারী পুরুষও ট্রেক করতে করতে চলেছিল। আগে এ রাস্তায় ট্রেকিং ছাড়া যাওয়া যেত না। এখন গাড়ির পর গাড়ি যাচ্ছে।

সান্দাকফু পৌঁছে অবশ্য সে ভালোলাগার আমেজ কেটে গেল। শেরপা লজে গিয়ে ঘর পাওয়া গেল না। মিতুল রাজার ওপর চটে গেল আগে থেকে বুক করেনি বলে। অনেক বলার পর ওরা অবশ্য লজ থেকে একটু দূরে একটা একতলা কটেজ টাইপের দিল। সেখানে তিনটি ঘর। কমন বাথরুম। যেটা দেখে আরও খেপে গেল মিতুল। তার ওপর মেন দরজা খুললেই পুরো ফাঁকা মাঠ, চাবুকের মতো বরফঠান্ডা হাওয়া শপাং শপাং করে পিঠে পড়ছে। এসবের থেকেও চরম বিরক্তির কারণ হল, ওদের পাশের ঘরটিতে কোন বোর্ডার না থাকলেও মেন দরজার কাছের তৃতীয় ঘরটিতে উঠেছে, আর কেউ নয়, সাঙ্গে শেরপা। সে তার খাটে শুয়ে আছে দরজাটা খোলা রেখে। ফলে যেতে আসতে তার চোখ এড়াবার উপায় নেই। রাতে শেরপা লজে আধ সেদ্ধ চাল-চাল ভাত আর ৮০ টাকা দিয়ে একটা অমলেট খেয়ে হাড় কাঁপানো হিম হাওয়ার মধ্যে দিয়ে প্রায় ছুটে ছুটে কটেজে ঢুকে রাজা মিতুলকে বুকে টেনে চুমু খেতে যাবে, সাঙ্গে ওমনি ঘর থেকে বলল ‘কাল সাত বাজে তৈয়ার রহনা। ফালুট জানা হ্যায়’ মিতুল রাজাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকে গেল। রাতে আর ওদের শরীর জাগল না শুধু হাড় জমানো ঠান্ডার জন্যে নয়, ওদের মনে হচ্ছিল ঘরের মধ্যে ঠিক বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সাঙ্গে শেরপা!

ফালুটের রাস্তা মারাত্মক খারাপ। রাজার হাত চেপে চোখ বুজে মার মুখটা ভাবছিল মিতুল। মার সঙ্গে বোধহয় আর দেখা হবে না। রাস্তা বলে কিছু নেই, বড় বড় পাথর ভরতি সরু ফিতের মতো পথ, তার মধ্যে দিয়ে কি অসামান্য দক্ষতায় জিপ নিয়ে এগোচ্ছিল সাঙ্গে। একটা মারাত্মক বাঁকে এসে রাজা আঁতকে উঠে বলল ‘প্লিজ রুকিয়ে’ । সাঙ্গে গাড়ি থামিয়ে বলল ‘ আগে কা রাস্তা অউর খতরনাক হ্যাঁয়। গাড়ি জানা মুশকিল হ্যাঁয়। ট্রেক করকে জাইয়ে’ রাজা খেপে উঠে বলল, আগে কেন এসব বলেনি সাঙ্গে, পয়সা কেটে নেবে হ্যানা ত্যানা। মিতুল ওকে থামিয়ে বলল ‘কিন্তু আমরা লাঞ্চ করব কোথায়? সান্দাকফু ফিরতে তো পাঁচটা বেজে যাবে। রাস্তায় কিছু আছে?’ সাঙ্গে কিছু উত্তর না দিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল।

ঘণ্টা দেড়েক পরে ওরা চামচের মতো চকচকে নীল আকাশের নিচে রোদের ওম নিতে নিতে হাতে সবুজ প্লাস্টিকের প্লেট ধরে গরম ভাত খাচ্ছিল। এটা শবর গ্রাম। বনবিভাগের একটা ছোট্ট ডেরা। সাঙ্গের জান পহেচান আছে এখানে । সাঙ্গের কথায় লোকটি গরম গরম ভাত, আর ডিমের ঝোল করে দিয়েছে, আবার গরম ভাতে অনেকখানি মাখনও ছড়িয়ে দিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে সবুজ উপত্যকার বসে সেই ভাত খেতে খেতে মিতুলের মনে হচ্ছিল ওরা স্বর্গে বসে অমৃত খাচ্ছে। সাঙ্গেও খাচ্ছিল একটু দূরে বসে। খেতে খেতেই বলল ‘খানে কা বাদ উধার ঘুম আইয়ে। বহোত সারে ম্যাগনোলিয়া মিল জায়েগি। মগর জাদা দের মত কিজিয়ে। শাম হোনে কি পহলে সান্দাকফু লোটনে হোঙ্গে। ঠান্ড বহোত জাদা হ্যাঁয়’

রাজা বা মিতুল ওর কথার কোন উত্তর দিল। ওরা মন দিয়ে খাচ্ছিল। আর দেখছিল সবুজ প্লেটে সাদা ভাত অবিকল ম্যাগনোলিয়ার মতো ফুটে আছে!

Advertisements

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.