ইন্দ্রনীল সান্যাল
জন্ম ১৯৬৬ সালের ১৯ জুলাই | নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ থেকে স্নাতক‚ স্নাতকোত্তর পড়াশুনো পিজি হাসপাতাল থেকে | প্রথম প্রকাশিত গল্প উনিশ কুড়ি পত্রিকায়‚ ২০০৪ সালে | প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয় সানন্দা পুজো সংখ্যায়‚ ২০০৮ সালে | প্রকাশিত উপন্যাসের সঙখ্যা দশ | তাঁর কাহিনি থেকে নির্মিত স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি 'হাবাব' কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে |

‘ওরে টুম্পা! এবার ঘুম থেকে ওঠ! আজ ইশকুল খুলছে রে!’ বারো বছরের মেয়েকে খোঁচা দিল সুলতা। টুম্পা একটা মিষ্টি স্বপ্ন দেখছিল। চোখ বুঁজে রয়েছে কিন্তু ঠোঁটের কোনে মুচকি হাসি। লাঠির খোঁচা খেয়েও স্বপ্ন ভেঙে যায়নি। বিড়বিড় করে কী সব বলে পাশ ফিরে শুল।

Banglalive

   ‘ওঠ মা! সকাল সাতটা বাজে।’ আবার খোঁচা দিয়েছে সুলতা।

   ‘ধুর ভাল্লাগে না।’ ফুটপাথের বিছানায় বসে বেজার মুখে বলল টুম্পা। ‘কী ভাল একটা স্বপ্ন দেখছিলাম শারুক খানকে নিয়ে! দিল সব চটকে!’

   সুলতা ফুটপাথের ইটের উনুনে রান্না বসিয়েছে। মুখ ভেটকে বলল, ‘শারুক খানকে নিয়ে ধাস্টামো পরে করবি। আপাতত গতর নেড়ে আমাকে উদ্ধার কর। তোর খাতার বান্ডিল আর পেনের গোছা আমি গুছিয়ে রেখেছি।’

   টুম্পা লম্বা হাই তুলে বাবার দিকে তাকাল। সুকুমার হাঁ করে ঘুমোচ্ছে। কাল রাতে আবার ওইসব খেয়েছিল। ঘুমোচ্ছে না অজ্ঞান হয়ে আছে বোঝা দায়। মুখ ঈষৎ হাঁ হয়ে আছে, ঠোঁটের কোন দিয়ে নাল গড়িয়ে চাদরে পড়ছে, মুখের আশেপাশে মাছি ভনভনিয়ে উড়ছে।

   সুকুমার চাকরি করত মহাবীর ব্লেড ফ্যাক্টরিতে। দারোয়ানের চাকরি, যৎসামান্য মাইনে। তবে নানারকম সুবিধে ছিল। ওখানকার কো-অপারেটিভ থেকে শস্তায় জিনিসপত্র কেনা যেত। চালডাল, তেলনুন কিনতে খুব কম টাকা লাগত। তা ছাড়া কোম্পানির স্টাফ কোয়ার্টারে বিনি পয়সায় থাকার মজাই আলাদা।

বাংলায় একটা কথা আছে, ‘সুখে থাকতে ভূতে কিলোয়’। সুকুমারের হল সেই দশা। পার্টির লোক কানে কী গুরুমন্তর দিল, আর সে-ও ঝান্ডা হাতে লেবার ক্লাসের দাবি দাওয়া মেটানোর আন্দোলন শুরু করে দিল।

   সত্যি কথা বলতে কি, লেবারদের দাবি অন্যায্য কিছু ছিল না। ব্লেড ফ্যাক্টরির মালিক মহা ত্যাঁদড়। কর্মচারীদের মানুষ বলে মনে করত না। দিনে বারো ঘন্টা খাটাতো। ওপরটাইমের জন্যে নয়া পয়সা ঠেকাত না। পুজোয় বোনাস দিত না। প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইএসআইয়ের কথা বলতে গেলে হেসে উড়িয়ে দিত। এমন মালিকের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলন না করে উপায় থাকে না।

   তা বলে জঙ্গী আন্দোলনের নামে মারধোর? সুকুমারের ঝান্ডার বাড়িতে ম্যানেজারের মাথা ফাটল। পতাকার আর রক্তের লাল রং মিলেমিশে গেল। সশস্ত্র বিপ্লবের শেষে ম্যানেজার মারা গেল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে এবং সুকুমারের জেল হল। ব্লেড ফ্যাক্টরির মালিক ফ্যাক্টরিতে লক আউট ঘোষণা করে সপরিবারে থাইল্যান্ডে বেড়াতে চলে গেলেন। পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তখন পাশের জেলার চটকলে আন্দোলন করছেন।

   সুকুমার যখন জেলে গেল, তখন টুম্পা সুলতার পেটে। জেল থেকে যখন বেরোল, তখন টুম্পার পাঁচ বছর বয়স। এই পাঁচ বছরে ভলগা নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। ব্লেড ফ্যাক্টরি উঠে গিয়ে সেখানে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স তৈরি হয়েছে। লেবার বাদ দিয়ে বাকি স্টাফরা অন্য জায়গায় কাজ নিয়ে চলে গেছে। অবাঙালি লেবাররা ‘গাঁও’ চলে গিয়ে খেতিবাড়ি করছে। বাঙালি শ্রমিকরা রিকশা বা টোটো চালায়, জমিবাড়ির দালালি করে। কেউ পানবিড়ির দোকান দিয়েছে। কেউ সাট্টার পেনসিলার। কেউ আত্মহত্যা করেছে।

আরও পড়ুন:  প্রেম, ভূত ও চুমু

  মোদ্দা কথা যে যার নিজের মত আছে। শুধু সুকুমারের পরিবারটা ভেসে গেছে। সামান্য যা কিছু সঞ্চয় ছিল তাই দিয়ে কেস লড়েছে সুলতা। পাঁচ বছরের মাথায় যখন সুকুমার ছাড়া পেল, তখন সুলতার ঠাঁই ফুটপাথ। চার ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় মেয়েটা লাভ ম্যারেজ করে দিল্লি পালিয়েছে। তার আর কোনও খোঁজ নেই। মেজছেলে বর্ডারের দিকে কী সব করে। সেজছেলে পিন্টু কর্পোরেশানের স্কুলে লেখাপড়া শিখছে।

ফ্লাইওভারের নিচে, ফুটপাথের এই আস্তানায় থাকে সুলতা, সুকুমার, পিন্টু আর টুম্পা। সুকুমার রোজ সন্ধেবেলা চুল্লুর ঠেকে গিয়ে একগাদা টাকা ওড়ায়।বাড়ি ফিরে সব্বাইকে অকথ্য গালিগালাজ করে। সুলতা আর টুম্পাকে মারধোর করে। পিন্টুর গায়েও একদিন হাত দিয়েছিল। পিন্টু পাল্টা হাত চালিয়েছিল বলে আর ঘাঁটায় না।

   গত রাতে যখন টুম্পাকে মারছিল, তখন টুম্পা মনে মনে ভাবছিল, সে শারুক খানকে এত ভালবাসে। হিরো কি আসবে না, তার ফ্যানকে বাঁচাতে?

   কেউ আসেনি। কেউ কাউকে বাঁচাতে আসে না। নিজেরটা নিজেকেই বুঝে নিতে হয়। টুম্পা টপাত করে উঠে দাঁড়াল। যে চাদর পেতে শুয়েছিল, সেটা নিপুন পাট করে পলিথিনের নিচে ঢুকিয়ে দিল। সঙ্গে রাখল পাতলা বালিশটা। এইটে না হলে তার ঘুম আসে না। স্বপ্নে শারুক খানও আসে না।

   প্লাস্টিকের চটি গলিয়ে, পরিষ্কার সালোয়ার কামিজ আর গামছা নিয়ে টুম্পা দৌড়ল রাস্তার ওপারের সুলভ শৌচালয়ের দিকে। এই একটা ভাল জিনিস হয়েছে। নর্দমার ধারে আর হাগামোতা করতে হয় না। তবে এখানে খুব হুজ্জুত। লাইন লেগেই থাকে। কাউন্টারে বসা নুরুলদা ইচ্ছে করে দেরি করে। ও দেখেই বুঝতে পারে কার খুব জোরে হাগা পেয়েছে। তাকে বলে, ‘খুচরো নিয়ে আসুন। পাঁচ টাকার খুচরো নেই।’ বলে, ‘একটু দাঁড়াতে হবে। সব কাউন্টার ভর্তি।’ টুম্পা একবার একটা লোককে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হেগে ফেলতে দেখেছিল। নুরুলদাটা টর্চার করে আনন্দ পায়!

   নুরুলদা অবশ্য টুম্পার সঙ্গে এইরকম পেজোমি করে না। নুরুলদার বৌ ইশকুলের সুইপার। খুব ভাল। টুম্পাকে খুব ভালবাসে। 

চান সেরে, সালোয়ার কামিজ গলিয়ে শৌচালয় থেকে বেরোল টুম্পা। মায়ের কাছে এসে দেখল, বাপটা খোঁয়াড়ি কাটিয়ে ঘুম থেকে উঠেছে। থেবড়ে বসে গাল চুলকোচ্ছে আর বলছে, ‘চা দাও!’

আরও পড়ুন:  শাড়ি

   সুলতা ইটের আগুনে অ্যালুমিনিয়ামের সসপ্যান চড়িয়ে বলল, ‘চা হচ্ছে। ততক্ষণে পাইখানা করে এসো।’

   ‘বেশি কতা না বলে চা দাও,’ বিড়ি ধরিয়েছে সুকুমার, ‘পেটে চা না পড়লে রাজধানী এক্সপ্রেস ছাড়বে না।’

   খাতার বান্ডিল আর পেনের গোছা গুছিয়ে রাখতে গিয়ে টুম্পা খেয়াল করল পিন্টুর ঘুম ভাংলেও সে মটকা মেরে পড়ে রয়েছে। টুম্পা জানে বাবা এখান থেকে বিদেয় না হওয়া পর্যন্ত পিন্টু এইভাবেই ঘুমের অ্যাক্টিং করবে। পিন্টুকে ঘুম থেকে উঠতে দেখলেই বাবা পা টিপে দেওয়ার হুকুম করে।

   সুলতা চা এগিয়ে দিয়েছে। তাতে আয়েশ করে চুমুক দিয়ে সুকুমার বলল, ‘গতকাল হরেনদার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। গরমেন্ট চাইছে না যে বিরোধীদের সঙ্গে পুরনো ঝগড়া থাকুক। সেন্টারের গরমেন্ট গুছিয়ে বাঁশ দিতে আসছে। সামনের ভোটে বড় কেলো হবে। এই রাজ্যের সব দল মিলে মহাজোট তৈরির চেষ্টা চলছে।’

   ‘জোট নয়। ওটা ঘোঁট।’ মুখ ভ্যাটকায় সুলতা।

   ‘আসল কথাটা শোনো। এই গরমেন্ট ব্লেড ফ্যাক্টরি খোলার জন্যে চেষ্টা করছে। মালিক কন্ডিশান দিয়েছে, লক আউটের সময় যারা ঝামেলা পাকিয়েছিল তাদেরকে আর নেবে না। আমি হরেনদাকে পটিয়ে পাটিয়ে রাজি করিয়েছি…’

   সুকুমারকে থামিয়ে সুলতা বলল, ‘ব্লেড ফ্যাক্টরি আবার খুলছে? সত্যি?’

   বাবা আর মায়ের আলোচনা জমে গেছে। এই ফাঁকে নিজের ঝুলি থেকে কয়েকটা স্টিকার বার করল টুম্পা। সবগুলোই শারুক খানের ছবি। টুম্পা তাল করেছে, সে যেদিকে মাথা করে শোয়, ফ্লাইওভারের সেই দেওয়ালে পরপর সাঁটবে। বেশ একটা ডিজাইন মত হবে।

   স্টিকারগুলো পাশাপাশি রেখে ডিজাইনটা ভাবছে টুম্পা, এমন সময় সুলতা আবার খোঁচা দিল। ‘এটা খেয়ে স্কুলে যা। এখানে বসে ধাষ্টামো করলে বেদম ঠ্যাঙাবো!’

   ব্যাজার মুখে স্টিকারগুলো ঝুলিতে ঢোকায় টুম্পা। মায়ের কাছ থেকে রুটি আর আলুর ঘ্যাঁট নিয়ে খেতে থাকে। রাস্তার কুকুর লালি আলুর ঘ্যাঁটের গন্ধ পেয়ে টুম্পার কাছে এসে ল্যাজ নাড়ছে। লালি টুম্পার খুব ন্যাওটা। মাকে আড়াল করে আদ্ধেক রুটি আর তরকারি চালান করে দিল টুম্পা।

   ব্লেড ফ্যাক্টরি খুলে গেলে কী কী সুবিধে হবে, তার ফিরিস্তি দিচ্ছে সুকুমার। তাকে থামিয়ে সুলতা বলল, ‘আমি একবার নুরুলের বাড়ি থেকে ঘুরে আসি। ওর বউয়ের জ্বরটা সারছে না।’

   সুলতা চলে যাওয়ার পরে সুকুমার পিন্টুর মাথার চুল ঘেঁটে দিয়ে বলল, ‘কীরে? উঠবি না?’

   বাবার স্পর্শ পেয়ে পিন্টু আরও জোরে নাক ডাকছে। টুম্পা ফিক করে হেসে বলল, ‘বাবা! ও কিন্তু ঘুমোচ্ছে না। মটকা মেরে পড়ে আছে।’

   ‘কেন?’ চা পেটে পড়ায় সুকুমারের মুড এখন ভাল।

আরও পড়ুন:  দিনে নায়িকা...রাতে হাই-ফাই গণিকা!!

   তুমি ওকে গা-হাত-পা টিপে দিতে বলবে, তাই ও ন্যাকামি করছে।’

   গোপন কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এক লাফে উঠে বসেছে পিন্টু। টুম্পাকে চেপে ধরে ফুটপাথে ফেলে কাতুকুতু দিচ্ছে। টুম্পা তো হেসে হেসে পাগল হয়ে যাবে।

   এমন মজার সময়ে ব্যাগড়া দিল সুকুমার। পিন্টুকে বলল, ‘অ্যাই! দিদিকে ছেড়ে দে। ওকে ইশকুল যেতে হবে।’

   টুম্পার মনটা খারাপ হয়ে গেল। কয়েকদিন বৃষ্টি হওয়ার পরে আজ কী সুন্দর রোদ উঠেছে! পুজোর সময়ে এই সোনারোদটা দেখা যায়। ঘন নীল আকাশ, কোলবালিশের মত সাদা আর ফোলা ফোলা মেঘ, ফুটপাথের ইট ফাটিয়ে যে কটা ঘাস উঁকি দিচ্ছে, তাদের রংও ঝকঝকে সবুজ। পাড়ার মোড়ে প্যান্ডেলের খুঁটি বাঁধা শুরু হয়ে গেছে। এই সময়ে ভাইয়ের সঙ্গে খেললে কী ক্ষতি হত?

পিন্টুকে জিভ ভেঙিয়ে উঠে দাঁড়াল টুম্পা। ওড়না জড়িয়ে নিল, পায়ে গলাল ছেঁড়া প্লাস্টিকের চটি। খাতার বান্ডিল আর পেনের গোছা নিয়ে দৌড় দিল রাস্তা ধরে। দেরি হয়ে গেল না কি?

   লালিও দৌড় দিয়েছে তার সঙ্গে। তুড়ুক তুড়ুক করে লেজও নাড়ছে।

বিরাট বড় ইংলিশ মিডিয়াম ইশকুলটা বড় রাস্তার ওপরে। সেদিকে গেল না টুম্পা। ওখানে দারোয়ান থাকে। বাপমাগুলো ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকে। ওখানে কিছু হবে না। পিছনের পুঁচকে গেট দিয়ে অনেক মেয়েরা ঢোকে। গেটের পাশে দাঁড়িয়ে টুম্পা চ্যাঁচাতে লাগল, ‘নতুন সেশানের নতুন খাতা। চিপ স্টোরের থেকে কম দামে। নিয়ে নাও! নিয়ে নাও!’

   নুরুলদার বউ এই ইশকুলে গ্রুপ ডি স্টাফ। সে নিয়মিত চিপ স্টোর থেকে খাতা ঝেঁপে নিয়ে যায়। চিপ স্টোরে যে খাতার দাম কুড়ি টাকা, টুম্পা সেটা বিক্রি করে পনেরো টাকায়। সবাই টুম্পার থেকেই কেনে। যা লাভ হয়, তার থেকে টেন পার্সেন্ট নুরুলদাকে দিয়ে বাকিটা টুম্পার। সুলতার হাতে টাকাটা তুলে দিতে হয়। তা ছাড়া, বউদি যখন বাপের বাড়ি যায়, তখন রাতে নুরুলদার ঘরে গিয়ে মালিশ করে আসতে হয়। খুব বমি পায় টুম্পার। ওই সময়গুলোয় শারুক খানকে ডাকে টুম্পা।

নুরুলদাকে মালিশ করা, ইশকুলে খাতাপেন বিক্রি করা ছাড়াও রাস্তার ক্রসিং-এ ঘুরে ঘুরে চুড়ি বিক্রি করে টুম্পা। বিকেল থেকে স্টেশান রোডে বসে সুর করে হাঁক পাড়ে, ‘দুটো টাকা দাও না বাবু! দুটো টাকা দাও না গো মা। খিদে লেগেছে।’

 তার রোজগারেই সংসার চলে। পিন্টুর ইশকুলের খরচা চলে।

খাতার বান্ডিল আর পেনের গোছা সব বিক্রি হয়ে গেছে। আজ টুম্পা আর একটা শারুক খানের স্টিকার কিনবে! সে দৌড়তে দৌড়তে ইশকুল থেকে বাড়ি ফিরছে।

3 COMMENTS

  1. অদ্ভুত…পড়তে গিয়ে এক ঝকঝকে দৃশ্য পেলাম যেন…

এমন আরো নিবন্ধ