মহাপুরুষদেরও তাহলে গোপন যৌনজীবন থাকে!

ভারতীয় মহাপুরুষদের শরীরে কামনা-বাসনা বলে সত্যি কিছু থাকে কিনা, সেটা নিয়ে এতদিন গভীর সন্দেহ ছিল | মানে মনে ভাবতাম, জীবনের যে পরম মুহূর্তে পুরুষ থেকে তাঁরা মহাপুরুষে উত্তীর্ণ হন, তখন থেকেই সম্ভবত তাঁদের কামবোধের নিরানব্বই ভাগই চলে যায়, নিজের বৌ ছাড়া তাই আর কারুর দিকে চোখ তুলে তাকানোর ইচ্ছে-টিচ্ছেও আর তাদের হয় না | সেইজন্যে বোধহয় তাঁদের জীবন নিয়ে তখন যত চর্চাই হোক না কেন, তাঁদের সেক্স-লাইফ নিয়ে মিডিয়া পালন করে হিরন্ময় নীরবতা | আর হবে নাই বা কেন? দেশের জন্যে সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন যে মহাপুরুষ, তাঁরও যে কখনও এক বিদেশি কন্যার কাছে নিজেকে সমর্পণ করার সাধ জাগতে পারে, সেটা মেনে নিতে যে সত্যি আমাদের প্রবল হেঁচকি ওঠে | বিয়ের পরেও যুগাবতার মহাপুরুষ স্ত্রীকে মাঝরাতে মা জ্ঞানে পুজো করছেন, তেমনটা ভেবে নিতেই আমাদের প্রাণের আরাম | সেই মহাপুরুষের প্রধান শিষ্যের টানে এক বিদেশিনী দেশ ছেড়ে পাকাপাকিভাবে ভারতে চলে এসেছিলেন, তবু এই টানটার কোনও সামাজিক শীলমোহর দেবার নামে আমরা বিষম খেয়ে আঁতকে উঠি | দেশি-বিদেশী পুরস্কারজয়ী মহান চিত্রপরিচালক তাঁর একাধিক ছবির সুন্দরী নায়িকার জন্য কামনার্ত হয়ে পড়েছেন, দাম্পত্য জীবনে সেটা নিয়ে তুলকালাম হবার পরে সেই নায়িকা আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন, এসব সত্যি কি কখনও হজম করা যায় , বলুন্? খুব স্বাভাবিক এক শারীরিক প্রবৃত্তিকে এরকম লক্ষ্মণরেখার মধ্যে ঢেকে-ঢুকে রেখে দিনের পরে দিন কাটিয়ে যাচ্ছেন যাঁরা, রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা-র নতুন ছবি ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ দেখার পরে তাঁদের না শেষটা সাংস্কৃতিক আমাশা হয়ে যায় |

এমনি এমনি বলছি না কথাটা | ছবির একটা দৃশ্য এইরকম : ১৯৫৬ সাল — ভারতের প্রতিনিধি মিলখা সিং (অভিনয়ে ফারহান আখতার) এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরে অলিম্পিক গেমসে যোগ দিতে | কোয়ালিফাইং রাউন্ডে দৌড়ের আগেই রুক্ষ কঠিন শরীরের মিলখা সিংয়ের সঙ্গে আলাপ হলো এক লাবণ্যময়ী সেক্সি বিদেশিনী স্টেলা-র (রেবেকা ব্রিডস) | সেই সন্ধেটা শহর ঘুরে নাইট ক্লাবে মজা করার জন্যে স্টেলাই ডেকে নিলো মিলখাকে | অনেক রাতে নাচ-গানের মজা শেষ হলে হোটেল রুমে শরীরের মজা সেদিন ডাক দিয়েছোল ওদের দুজনকে | অবিবাহিত মিলখার রুক্ষ্ম পৌরুষ চেটেপুটে খাবার জন্যে মিলখার কোলে তখন উঠে পড়েছিল রাইকিশোরী স্টেলা | মিলখাও তাঁর পোশাক খুলে ফেলে তৈরি | স্টেলার নরম শরীর চটকাতে চটকাতে কোলে করে তাকে বিছনায় নিয়ে ফেলেন মিলখা | এরপর অবশ্য সেই শরীরী উৎসবের শীৎকার আর না শুনিয়ে সেই সিন ফেড আউট করে পরিচালক ফেড ইন করেন পরের সিনটা | সেটা আরও নিষ্ঠুর সত্যি | মাঝরাত অব্দি জেগে মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করা চোটে সকালের প্র্যাকটিসে চূড়ান্ত লেট হয়ে যাচ্ছেন মিলখা | আর উতরোতে পারছেন না অলিম্পিকের কোয়ালিফাইং রাউন্ডটুকুই | বাস্তবের মহাপুরুষরাও তাহলে গোপন মেয়েবাজি করেন এভাবে? আর তার ফলে কখনও কখনও হেরে যান জীবন-দৌড়ে? ঠিক করে বলুন তো, এমন বেহায়া সত্যি ভারতীয় ছবিতে এর আগে আর এসেছে কি? সেক্স নিয়ে ধরি-মাছ-না-ছুঁই -পানি করে জীবন কাটিয়ে গেলেন যে ভারতীয় জ্যাঠামশাইরা, মিলখার এই নির্লজ্জ যাপনের ছবি দেখে তারা আর ঢোঁক গিলতে পারবেন তো?

কিন্তু এই সব কিছুর পরেও তিনি হলেন মিলখা সিং | বিদেশি গিয়ে তাজা ফরেন-ফ্রেশ যুবতী নিয়ে ফুর্তি করে সময় কাটাতেন শুধু, এইভাবে ভাবলে মহাভুল করবেন | স্টেলা-র সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল শারীরিক সম্পর্কের পরে অলিম্পিকে যখন হেরে ভূত হলেন মিলখা, তখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে একের পর এক চড় মারতে থাকেন তিনি | কটা চড় মেরেছিলেন সেদিনকে জানি না, গুনে দেখলাম আঠেরোটা অব্দি দেখিয়েছেন পরিচালক | আর এরপর ফের যখন মিলখার কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে আসে স্টেলা (তার তখন সম্ভবত ভারতীয় পুরুষ-অঙ্গের নেশা লেগে গেছে), তখন খুব নরম করে স্টেলাকে প্রত্যাখান করেন মিলখা | ফেরার সময় ফ্লাইটে কোচের থেকে (এই ভূমিকায় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংহের বাবা যোগরাজ সিংহ) মিলখা জেনে নেন ৪০০ মিটার দৌড়ের বিশ্বরেকর্ড কত সেকেন্ডের | এয়ার ইন্ডিয়ার টিকিটের খামের ওপর সংখ্যাটা লিখে দেন কোচ : ৪৫.৯ | রেকর্ড-লেখা ওই খামটাকে এরপর নিজের জীবনসঙ্গী বানিয়ে ফেলেন মিলখা | এবং কোমরে ভারি টায়ার বেঁধে দৌরের যে সুকঠিন অনুশীলন শুরু করেন তিনি, সেটা ভাষা দিয়ে বোঝাতে পারবো না, আমায় মাফ করবেন ভাই, তাতে যদি কিছুটা বোঝা যায় | এই অনুশীলন চলাকালীন পুরোটা সময় অনুশীলন ক্ষেত্রের একধারে রাখা থাকতো একটা বড় মগ | কীসের জন্যে জানেন? অনুশীলনের সময় পুরো জামা ঘেমে চুপচুপে হয়ে যাবার পরে এসে জামা নিংড়ে সেই মগে তাঁর ঘাম জমাতেন মিলখা | এইভাবে ঘাম জমিয়ে জমিয়ে, যতক্ষণ না পুরো একমগ ঘাম হচ্ছে, ততক্ষণ জারি থাকতো তাঁর দৈনিক দানবিক অনুশীলন | একটা মগ আর গায়ের ঘামকে কীভাবে অনুশীলনের ঘড়ি বানিয়ে ফেলা যায়, তার এর চেয়ে আর কোনও বড় উদাহরণ হয় কি?

এরপরেও যে মিলখা সিংয়ের জীবনে ফের হট অ্যান্ড সেক্সি বিদেশিনী আসেনি তা নয় | সুইমিং পুল থেকে উঠে এসে ভিজে শরীরে মিলখার শরীর মেশাতে চেয়েছেন যে সুন্দরী, অসামান্য মানসিক দৃঢ়তায় তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছেন মিলখা | আগের সেই ভুলটা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন যে? এই সিন দেখে আমার কী মনে হচ্ছিলো জানেন? এটা যেন কোনও সাম্প্রতিক অতীত নয়, বরং বহুযুগ আগের এক টুকরো পৌরাণিক লোকগাথা, যেখানে কঠোর তপস্যারত মুনিকুমারকে ভ্রষ্ট করবার জন্যে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছেন লুচ্চা কামপটিয়সী গণিকারা, আর মুনিকুমার সেই গণিকার ডাকে টলে গেলেন কিনা, তার ওপরেই লেখা হতে চলেছে তাঁর তপস্যার সাফল্য-গ্রাফ | শিখ পুরুষ মিলখার গেট-আপে এই ছবির ফারহানকে লেগেছেও যথার্থই এক সাচ্চা মুনিকুমারের মতো | শুধু এটা ভেবে পাচ্ছিলাম না, এই সুকঠিন অধ্যবয়সী মিলখাকে কার সঙ্গে তুলনা করবো? তৃতীয় পাণ্ডবের সঙ্গে, নাকি একলব্যের সঙ্গে? নাকি দুজনের এক আশ্চর্য মিশ্রণ? এখানে তথ্য হিসেবে জানিয়ে রাখি, ২০০১ সালে ভারত সরকারের দেওয়া অর্জুন পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মিলখা সিং, শুধু এই কারণে যে এই পুরস্কার পাওয়া অন্য মানুষেরা জীবন-সংগ্রামের নিরিখে তাঁর ধারে-কাছেও আসতে পারেন না |

হক কথা | ১৯৩৫ সালে তৎকালীন বৃটিশ ইন্ডিয়ার মুজফফারগড়ে জন্ম | মা-বাবা আর বেশ কয়েকজন ভাইবোনকে নিজের চোখে কোতল হতে দেখলেন সাতচল্লিশের দেশভাগের দাঙ্গায় ( ছবির এই অংশের ভিসুয়্যাল ট্রিটমেন্ট দেখে বিখ্যাত ‘৩০০” ছবির কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল) | সেই রক্তে ভেজা মাটিতে আছাড় খেতে খেতে পৌঁছলেন শরণার্থী শিবিরে, সেখানে খোঁজ পেলেন দিদির | সেই শরণার্থী তাঁবুতে জীবনের অন্যতম নির্মম অভিজ্ঞতাটাও তাঁর হয়ে গেল | কীরকম? বেঁচে থাকার তাগিদে মাঝরাতে অন্য পুরুষের বিছানায় উঠে যেতে দেখলেন প্রায়-কিশোরী দিদিকে, অস্বচ্ছ মশারির এধার থেকে শুনতে লাগলেন অন্ধকারের ওপার থেকে আসা দিদির শরীর পিষে বেরনো অপমানের শীৎকার | সেই শীৎকার ভুলতে পারলো না বালক মিলখা, পরেরদিন দিনের আলোয় উন্মাদের মতো ভাঙচুর করে দিতে গেলো শরণার্থী তাঁবু, তারপরে সেই ‘অপরাধ’-এর জন্যে মারও খেল বেধড়ক | ঠান্ডাঘরে চুক্তি সই করে আনা দেশের স্বাধীনতা কত কোটি মানুষের অবচেতনটাকে এইভাবে সেদিন গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, তার খোঁজ সরকার বাহাদুর আদৌ রেখেছিলেন কি?

না, রাখেন নি | আর তাই এত কিছু হবার পরেও ১৯৬০ সালে খোদ জওহরলাল নেহেরু (অভিনয়ে দলীপ তাহিল) মিলখাকে অনুরোধ করে বসলেন সেই অভিশপ্ত প্রতিবেশী দেশে গিয়ে এক সৌহার্দ্য-দৌড়ে অংশ নিতে | মিলখা খুব সবিনয়ে জানান, পাকিস্তানের মাটিতে তিনি আর যেতে পারবেন না | সেই প্রথম নেহেরু জানলেন, দেশের সরকার জানলো, সেই দেশের মাটি ভিজে আছে মিলখার স্বজনের শেষ আর্তচিৎকারে | এতকিছু জানার পরেও নেহেরু অবশ্য আরেকবার একই অনুরোধ করলেন মিলখাকে | নাহলে নাকি হিংস্র রক্তলালসার কাছে হেরে যাবে মরমী সখ্যতা! শুনে-টুনে শেষটায় পাকিস্তান গেলেন বটে মিলখা | কিন্তু দৌড়ের আগের দিন কূটনীতিজ্ঞ মানুষজন যখন কুশলী প্রেস কনফারেন্সে ব্যস্ত, সেইসময় আর থাকতে না পেরে নিজের বাপ-পিতেমোর ভিটেয় গিয়ে ভেঙে পড়লেন হু-হু কান্নায় | এই মাটিতেই সেদিন তিনি মায়ের লাশ-কাটা রক্তে আছাড় খেয়েছিলেন না? তখন সেই হাউ-হাউ কান্না দেখে কে বলবে এই তিনিই এক পুরুষসিংহ বটে!

তাঁর জীবনের প্রথম ছবি ‘অকস’ (২০০১) ছিল ভয়াবহ ফ্লপ, পরের ছবি ‘রং দে বাসন্তি’ (২০০৬) ছিল ব্লকবাস্টার হিট, আর তারপরে ‘দিল্লি সিক্স’ (২০০৯) ফের ফ্লপের তালিকায় নাম লিখিয়েছিল | পরিচালক রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরার এই চতুর্থ ছবি ‘ভাগ মিলখা ভাগ’-কে কিন্তু আর শুধু ফ্লপ-হিট দিয়ে মাপা মুশকিল | কিছি কিছু সিনেমা হয় না, যেটা এইসব বক্স অফিসের পাকদন্ডী পেরিয়ে সারা জীবনের সেরা ছবির তালিকায় জায়গা করে নেয়? ১৮৭ মিনিট লম্বা এ ছবি হলো সেইরকম এক মহাসিনেমা | এটা দেখতে বসে এরকম আরেক মহাসিনেমা ‘লগান’ (২০০১)-এর কথা আপনার মনে পড়ে যাবে কিনা জানি না | বড় বাংলা কাগজে এ ছবির রিভিউ করতে বসে বাংলার সুন্দরী টেবিল টেনিস প্লেয়ার অবশ্য ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ (২০০৭) ছাড়া আর কোনও খেলার ছবির নাম মনেই করতে পারেন নি | আচ্ছা, বাঙালি কি তার একদম নিজস্ব সেই অসামান্য নির্মাণ ‘কোনি’ (১৯৮৬) ছবিটার কথা একেবারে ভুলেই গেল? খুব ছোট বাজেটে, ছোট স্কেলে তৈরি সেই ছবির মধ্যেও তো সেই এই ভায়ানক আগুনটাই ছিল, যেটা আছে আজকের ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ ছবিটায়? বিশ্বাস করুন, যখন এই ছবিতে ১২ বছরের বালক মিলখাকে (মাস্টার যবতেজ সিং) তাঁর মৃত্যুপথযাত্রী বাবা বলেন ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ (আর একটু পড়েই ধড় থেকে তাঁর মাথা তরোয়ালের এক কোপে কেটে আলাদা করে দেবে দাঙ্গার হানাদারেরা), সেইসময় আমার মনের মধ্যে মিলখা আর কোনি গুলিয়ে-ঘেঁটে একাকার হয়ে গিয়ে শুধু ক্ষিদ্দা-র সেই অমোঘ উচ্চারণ ‘ফাইট কোনি ফাইট’ | রাকেশ মেহরা আর ফারহান আখতারকে তাই যত পেন্নামই ঠুকি না কেন, প্রথম দুটি পেন্নাম মতি নন্দী (কোনি উপন্যাসের লেখক) আর সরোজ দে (কোনি ছবির পরিচালক)-কে না ঠুকে নিলে নিজের কাছে নিজে অপরাধী রয়ে যাবো যে!

১৯৪৭ থেকে এই ছবি শুরু হয়ে ১৯৬০-এ এসে যখন ছবির সময়কাল থমকে দেল, তখন সাড়ে তিন ঘন্টা সিনেমাহলে বসে থাকার পরেও আমার আফশোস, মিলখার বাকি জীবনটুকু দেখা যাবে না আর পর্দায়? ‘বোস-দ্য ফরগটেন হিরো’ বানানোর সময় শ্যাম বেনেগাল দুটো ভার্সন বানিয়েছিলেন, একটা সিনেমাহলের জন্য ১৮০ মিনিট ভার্সন, আরেকটা ২২২ মিনিটের ‘ডিরেকটরস কাট’ | এই সিনেমার সেরকম কিছু ডিটেলড ভার্সন নেই? মিলখার অতি বর্ণময় জীবনে ১৯৬০ সালের পরেও তো বহু কিছু ঘটেছে ( শেষতমটা বোধহয় এই ছবির জন্যে নিজের জীবন কাহিনি ১ টাকায় বিক্রি করা), সেই অ-কথিত কাহিনি তাহলে জানবো কী করে?

বাংলা-হিন্দি দুই মার্কেটেই এখন জীবনীমূলক রিয়্যালিটি সিনেমা বানানোর হিড়িক পড়েছে | রিয়্যালিটি যে কল্প-গল্পের চেয়েও বেশি রহস্যময় আর রোমহর্ষক, বহু ফ্লপ ছবি প্রসব করার পরে তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে ভারতীয় সিনেমা-ইন্ডাস্ট্রির একাংশ | সেনসেশনাল বায়োপিক সিনেমাই সেই জন্যে এখন সেফ টার্গেট | বাংলায় লালন ফকিরের বায়োপিক সুপারহিট, ঋত্বিক ঘটকের বায়োপিক ফ্লপ হলেও প্রশংসাধন্য | অগস্টেই রিলিজ করতে চলেছে বরুণ বিশ্বাসের (এই মাস্টারমশাই গণধর্ষনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হন) জীবন-কাহিনি ‘প্রলয়’ আর তৈরি হচ্ছে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির বায়োপিক ‘জাতিস্মর’ | যে ছবি আদৌ বায়োপিক নয়, সেটাকেও খবরের কাগজে নিজের আত্মজীবনী বলে প্রচার করে ব্যবসা বাঁচাতে চাইছেন বাংলার সুপারস্টার | হিন্দিতে তো বায়োপিক তৈরির কারখানা শুরু হয়ে গেছে | ভগৎ সিং-জেসিকা লালের কথা ভুলে যান ভাই | মিলখা সিংয়ের হ্যাং ওভার কাটিয়ে বেরতে না বেরতেই পরের মাসে পেয়ে যাবেন দাউদ ইব্রাহিমের বায়োপিক (‘ওয়ানস আপন আ টাইম ইন মুম্বাই দোবারা’) আর আন্না হাজারের সংগ্রাম কাহিনি (‘সত্যাগ্রহ’) | রাজীব হত্যা নিয়েও ছবি করতে গেছিল বলিউড, তবে অতটা বাড়াবাড়ি হজম না হওয়ায় চিত্রনাট্য কিছুটা বদলে সেই ছবিও মুক্তি পাবে পরের মাসে (ম্যাড্রাস কাফে’) | বুঝে দেখুন অবস্থা | বাণিজ্যের তাগিদে ভুবনজয়ী ক্রীড়া তারকার পাশাপাশি কুখ্যাত গ্যাংস্টার কিম্বা হিট জননেতা সবার জীবন এখন কিনা এক সারিতে | তাদের নিজস্ব যাপনের রক্তমাংস কেটে ছিঁড়ে প্লেটে সাজিয়েই যেন তৈরি হচ্ছে মাল্টিপ্লেক্সে মুভি-রেস্তোঁরার ২৫০ টাকার থ্রি কোর্স ডিনার-মেন্যু |

সত্যি বলতে কি, গল্প আর ব্যবসা খোঁজার তাগিদে ভারতীয় সিনেমা এখন আবার এক পুরো অন্যরকম পালাবদলের মুখোমুখি | এই সবে শুরু | চেনা মানুষের আরও কত অচেনা গল্প আসতে চলেছে আপনার সামনে | তৈরি থাকুন |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here