বিশ্বের বৃহত্তম জলপূর্ণ গুহায় আছে রহস্যময় প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহাসিক নিদর্শন ?

3651

একইসঙ্গে ভৌগোলিক এবং ঐতিহাসিক যুগান্তকারী আবিষ্কার বোধহয় একেই বলে | একদিকে বিশ্বের বৃহত্তম জলপূর্ণ গুহা | অন্যদিকে মায়া সভ্যতার নতুন দিক | মেক্সিকোর নতুন আবিষ্কার নিয়ে আলোড়ন গবেষক মহলে |

মেক্সিকোর ইয়াকুতান উপদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চলছিল সাবটেরানিয়ান জলভাগের গভীরে | প্রথমে আবিষ্কৃত হয় জলের গোলকধাঁধাঁ বা ‘Maze of Underwater Channels’ | তার কয়েক মাস পরে সেখানেই পাওয়া যায় ৩৪৭ কিমি বা ২১৬ মাইল লম্বা গুহা | 

পুরো প্রকল্পটির নাম The Gran Acuifero Maya বা GAM | এর ডিরেক্টর তথা গভীর জলতলের পুরাতাত্ত্বিক গিলারমো দ্য অ্যান্ডা জানিয়েছেন এই গভীর গুহায় আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা অনুসন্ধান চালালে বিশদে জানা যাবে মায়া সভ্যতা নিয়ে | স্প্যানিশ অভিযানের আগে যে রহস্যময় সভ্যতা বিকশিত হয়েছিল লাতিন আমেরিকার বিস্তৃত অঞ্চলে |

ইয়াকুতান উপদ্বীপ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মায়া সভ্যতার বিভিন্ন নিদর্শন | তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্থাপত্য | যার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখন চলে গেছে জলের নিচে | গভীর জলে যে সিঙ্কহোলগুলো আছে তাদের ভৌগোলিক পরিভাষায় সেনোট Cenote বলা হয় |

অনেক সময় উপকূলীয় অঞ্চলে বিস্তীর্ণ অংশের ভূভাগ ধসে পড়ে | তখন যে গভীর গহ্বর সৃষ্টি হয় তাকেই বলে সিঙ্কহোল বা সেনোট | মায়া সভ্যতার অধিবাসীরা এই প্রাকৃতিক দানকে কাজে লাগাত | বিশেষত তাদের পুজো এবং বলিদানের পার্বনে | ফলে এই গহ্বর ছিল তাদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র | বহু সিঙ্কহোলে পুরাতাত্ত্বিকরা ঐতিহাসিক মায়া সভ্যতার নিদর্শন খুঁজে পেয়েছেন | পরবর্তী কালে প্রকৃতির খেয়ালে এই গহ্বর জলপূর্ণ হয়ে যায় | অনেক সময় সমুদ্র এগিয়ে এসে গ্রাস করে তাদের |

সদ্য আবিষ্কৃত এই গুহাও মায়া সভ্যতার বহু নিদর্শন ধারণ করে আছে বলে মনে করা হচ্ছে | হয়তো যার অনুসন্ধানে অনেক নতুন তথ্য উঠে আসবে এই সভ্যতা নিয়ে | বস্তুত লাতিন আমেরিকায় বাস করেন এমন অনেকেই নিজেদের মায়া সভ্যতার বাসিন্দাদের বা মায়ানদের বংশধর বলে দাবি করেন |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.