পূর্ব ক্রোয়েশিয়ার ব্রডস্কা ভারোসের স্থানীয় বাসিন্দা বৃদ্ধ স্টেজেপান ভোকিক । দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সঙ্গী এক প্রতিবন্ধী সারস । তাঁকে পুকুরে মাছ ধরতে নিয়ে যাওয়া । আবার শিয়ালের হাত থেকে বাঁচিয়ে দায়িত্ব সহকারে ফিরিয়ে নিয়ে আসা । সব বৃদ্ধর দায়িত্ব | স্নান,খাওয়া বা টিভি দেখা, রোজকার দিনযাপনের সঙ্গী পোষ্য সারস ।

Banglalive

এ তো গেল পোষ্য ও প্রভুর গল্প । এরই মাঝে লুকিয়ে আরেক ঘটনা,দুই সারসের প্রেমের গল্প ।

সঙ্গিনী প্রতিবন্ধী । তাই প্রতি বছর হাজার হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে আসে দুজনায় এক হতে । ক্রোয়েশিয়ার ক্লেপেটন ও মালেনার । দুই সারস পাখি । দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এভাবেই চলছে দুই সারসের প্রেম । ক্লেপেটন প্রতিবছর মার্চের শেষে উত্তর আফ্রিকা ছেড়ে উড়ে আসে ব্রডস্কার ছোট্ট গ্রামটিতে । মালেনা পথ চেয়ে থাকে তার সঙ্গীর অপেক্ষায় । অপেক্ষায় থাকে আবার নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটানোর । এখনও পর্যন্ত মালেনার সন্তান বলতে ৬২ জোড়া সারস ।

বৃদ্ধ স্টেজেপান স্থানীয় একটি স্কুলের কেয়ারটেকার ছিলেন | এখন অবসর নিয়েছেন | ১৯৯৩ সালে পুকুরের ধারে খুঁজে পান আহত একটি সারসকে | নাম দেন মালেনা | শিকারির গুলিতে আহত পাখিটি উড়তে পারছিল না | সেই থেকে গত ২৫ বছর ধরে দুজনে হরিহর আত্মা | উদ্ধার করে প্রথমে ঠাঁই দেন গুদাম ঘরে । পরে নতুন বাসা বানিয়ে দেন বাড়ির ছাদেই । সেখানেই ভরা সংসার মালেনার । প্রতিবছর প্রায় ১৪ হাজার কিমি উড়ে আসে ক্লেপেটন । সঙ্গিনীর সঙ্গে কয়েকটা মাস কাটাতে । ফিরে যাওয়ার আগে বাবা ক্লেপেটন বাচ্চাদের শিখিয়ে যায় কীভাবে উড়তে হয় । আবার উড়ে যায় আগস্টের শেষে ।আবারও বছরভর অপেক্ষা ।

কোনও এক সময় মালেনা আর ক্লেপেটনের দেশ একই জায়গায় ছিল | পরিযায়ী হয়ে এসেছিল মালেনা ক্রোয়েশিয়ায় | শিকারির গুলিতে আহত হয়ে আর উড়ে ফিরতে পারেনি | ক্লেপেটন ফিরে গেছে ঠিকই | কিন্তু প্রেয়সীর টানে ফিরতে ভোলে না | সে চলে গেলে সন্তানসম মালেনা আর তার ছানাদের নিয়েই দিন কাটে বিপত্নীক স্টেজেপানের |

আরও পড়ুন:  দিল্লি ডেয়ারডেভিলস-এর অধিনায়কত্ব ছাড়লেন গৌতম গম্ভীর

NO COMMENTS