জানেন কি বলিউডের এই তারকারা প্রথম ছবিতেই হোঁচট খেয়েছিলেন!?

বলিউডে এন্ট্রি মানেই শুধু নেপোটিজম নয়,ছবি এবং অভিনয় দক্ষতায় হতে হবে পটু। নাহলে এই মস্ত বড় গ্ল্যামর জগতের চাবি পাওয়া একপ্রকার অসুবিধা ভয়ে যাবে বলেই ধারণা রাখা হয়। আর যদি যোগাযোগ বা নেপোটিজমের সাহায্যে এন্ট্রি হয়েও যায়,তবুও টিকে থাকা খুবই অসম্ভব হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ভেবে নেওয়া হয়। তবে জানলে অবাক হবেন বলিউডে এমন কিছু তাবড় তারকা রয়েছেন যাঁরা বলিউডে পা রাখতে না রাখতেই হোঁচট খেয়েছিলেন প্রথম ছবিতেই!………

১। অমিতাভ বচ্চন 

বলিউডের শাহেনশাহ বলা হয় তাঁকে। স্ক্রিনে তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকদের কাছে ছবিটির আলাদা মূল্য তৈরি হয়। বিশ্বাসযোগ্যতা বেড়ে যায় অনেক। তবুও তাঁর ফিল্মি কেরিয়ারেও রয়েছে অনেক ওঠা নামা। অনেক ছবি আছে যেগুলি সফল হয়নি সেভাবে। তবে জানেন কি, বলিউডে এন্ট্রি নেওয়ার সময়েই প্রথম ছবি অসফল হয়েছিল তাঁর। ১৯৬৯ সালে মুক্তি পায় অমিতাভ বচ্চনের ডেব্যু ছবি ‘সাত হিন্দুস্তানি’। যেটি বক্স অফিসে এবং দর্শকদের কাছে কোনমতেই জায়গা করে নিতে পারেনি। 

২। সইফ আলি খান 

বলিউডের নবাব পুত্র হলেন সইফ আলি খান। ফিল্মি কেরিয়ারে হাতে গুনে হলেও ভাল কাজের তালিকায় রয়েছে তাঁর নাম। এমনকি বলিউডে পা রাখতেই একটি ফ্লপ ছবি দিয়ে শুরু করেছিলেন কেরিয়ার। ছবির নাম ‘পরম্পরা’। যেটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৯৩ সালে। 

৩। অক্ষয় কুমার 

বলিউডে বাকি অভিনেতাদের থেকে যে এক্কেবারে আলাদা অক্ষয় সেটির প্রমাণ মিলেছে বহুবার। অ্যাকশন হোক বা কমেডি কিংবা দেশাত্মবোধক কোন ছবি, সবকিছুতেই নিজের ছাপ রাখতে সক্ষম অভিনেতা। খুব কষ্ট করে পেয়েছেন এই জায়গা। স্ট্রাগল করেছেন অনেক। এমনকি প্রথম ছবি বক্স অফিসে ফ্লপ ছিল তাঁর। দর্শকদের হয়তো মনেও নেই তাঁর প্রথম ছবি ‘সৌগন্ধ’-এর কথা। 

৪। মাধুরী দীক্ষিত

১৯৮৪ সালে ‘অবোধ’ ছবির মাধ্যমে নিজের বলিউড কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ধক ধক গার্ল। টলিউড অভিনেতা তাপস পালের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন তিনি। তবে ছবিটি বিপুল পরিমাণে ফ্লপ হয়। কিন্তু অভিনেত্রী হিসেবে বাকি পরিচালক প্রযোজকদের চোখে পড়ে যান মাধুরী। ব্যাস তারপর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। 

৫। কাজল 

নিজের নামের পাশাপাশি দর্শকদের কাছে অঞ্জলি নামেই খ্যাত কাজল। শাহ্রুখের সঙ্গে জুটি বেঁধে এক আলাদই পরিচয় তৈরি করেছেন অভিনেত্রী। তবে জানেন কি,তারকা সন্তান হওয়া সত্তেও প্রথম ছবিতে হোঁচট খেতে হয়েছিল তাঁকে। ছবিটির নাম ‘বেখুদি’। যেটি মুক্তি পায় ১৯৯২ সালে। আর ঠিক তার পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৩ সালে দর্শকদের নিরাশ না করে বাজীগর ছবির মাধ্যমে পরিচয় তৈরি করতে পারেন অভিনেত্রী। 

৬। করিনা কপূর 

রাজ কপূরের নাতনি তিনি। একসময় যেই কপূর পরিবারের হাত ধরে বম্বে টকিজ তৈরি হয়ছিল সেই পরিবারের রক্তে অভিনয় থাকবে সেটাই খুব স্বাভাবিক। কিন্তু আজকের ‘গীত’ বা ‘পু’ তাঁর প্রথম ছবিতেই নিরাশ করেছিলেন দর্শকদের। তারকা সন্তান হিসেবে দর্শকদের আশায় জল ঢেলেছিল তাঁর প্রথম ছবি ‘রিফিউজি’। যদিও তাঁর সঙ্গে এই ছবিতে একইভাবে ফ্লপ হলেছিলেন জুনিয়র বচ্চনও। কারণ করিনার পাশাপাশি অভিষেক বচ্চনও এই ছবির মাধ্যমে ডেব্যু করেন বলিউডে। 

৭। ঐশ্বর্য রাই বচ্চন 

মডেলিং কেরিয়ারে সকলের মন জয় করে বিশ্ব সুন্দরীর তকমা নিয়ে ১৯৯৭ সালে একসঙ্গে টলিউড ও বলিউড দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই ডেব্যু করেছিলেন ঐশ্বর্য রাই বচ্চন। কিন্তু দুই জায়গাতেই ফ্লপ হন অভিনেত্রী। বলিউড ছবিটির নাম,’অউর প্যায়ার হো গয়া’ আর তামিল ছবিটির নাম ‘ইরুভর’। 

৮। সোনম কপূর 

বলিউডের ‘নায়ক’ ওরফে লক্ষ্মণ ওরফে অনিল কপূরের কন্যা হলেন সোনম কপূর। পড়াশোনার পর দীর্ঘদিন পরিচালক সঞ্জয়লীলা ভনসালির সঙ্গে সহ পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন সোনম। এরপর সেই পরিচালকের হাত ধরেই ২০০৭ সালে ‘সাওয়ারিয়া’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে ডেব্যু করেন অভিনেত্রী। কিন্তু ছবিটি জায়গা করতে পারে না বক্স অফিস কিংবা দর্শকের মনে। 

৯। রণবীর কপূর 

যাঁরা মনে করেন তারকা সন্তানদের জন্য ইন্ডাস্ট্রি খুব সোজা তাঁদের জন্য একপ্রকার  উদাহ্রণ রেখে গিয়েছেন কপূর পরিবার। করিনা কপূরের মত রণবীর কপূরও তাঁর প্রথম ছবিতে হোঁচট খেয়েছেন। সোনম কপূরের সঙ্গে একসঙ্গে সহ পরিচালকের কাজ করতেন রণবীর। এরপর একসঙ্গেই সুযোগ পান সাওয়ারিয়া’ ছবিতে কাজ করার। কিন্তু ছবিটি অসফল রয়ে যায় হিন্দি ছবির ইতিহাসে। 

১০। রানি মুখার্জি 

বাংলায় ‘বিয়ের ফুল’ ছবিটিতে বেশ প্রশংসিত হলেও বলিউডে প্রথম ‘রাজা কি আয়েগি বাড়াত’ ছবির মাধ্যমে ডেব্যু হয় রানি মুখার্জির। কিন্তু ছবিটি একেবারেই জায়গা করে নিতে পারেনি বলিউডে। পরবর্তীকালে তারকা সন্তান হওয়ার কারণেই আমির খানের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার সুযোগ পান অভিনেত্রী। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here