কিশোর ঘোষ
জন্ম ১ জুন, ১৯৭৮। প্রথম পরিচয় কবিতায়। ২০০৯ সালে প্রকাশিত কিশোরের কাব্যগ্রন্থ 'উটপালকের ডায়েরি'। পাঠকের পছন্দ হওয়ায় এই বইয়ের তিনটি এডিশন হয়। বইটি পুরস্কৃত হয়, এই বইয়ের কবিতা অনুবাদ হয়। আরও নানা কাণ্ড। অন্য কবিতার বইয়ের নাম 'সাবমেরিন'। এইসঙ্গে গল্প এবং নানা স্বাদের গদ্য লেখক হিসেবেও হালে পাঠকমহলে কতকটা পরিচিত। বাংলা সিনেমার জন্য গানও লিখে থাকেন মাঝেমধ্যে। কর্মসূত্রে একটি দৈনিক সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত।

বৃষ্টি হলেই দুষ্টুমি পায় আমাদের

Banglalive

শরীর দিয়ে মন ভিজিয়ে, মন দিয়ে শরীর ভিজিয়ে রাজ কাপুরনার্গিসের মতো গাইতে ইচ্ছে করে পেয়ার হুয়া ইকরার হুয়া…’, কিংবা অক্ষয়কুমাররবিনার মতো করে টিপ টিপ বরসা পানি…’ অথবা আমিরসোনালি হয়ে বলতে ইচ্ছে করে যো হাল দিল কা….’ সত্যি বলতে বাণিজ্যিক হিন্দি সিনেমায় এমন গানের শেষ নেই হিন্দি ছবির দুষ্টুমিষ্টি বৃষ্টির গানের পরম্পরা বহুদিনের সে সব কথাই হবে কিন্তু তার আগে এক অন্য কথা বলে নেওয়া জরুরি

খোপরি মে সানিমা‘, ঊর্বশীরম্ভামেনকা

আজকের হিন্দি সিনেমার সাড়াজাগানো পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত গ্যাংস অব ওয়াসেপুরটু‘-তে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সঙ্গে ভারতীয় দর্শকের সম্পর্ক বিষয়ে অপূর্ব এক সংলাপ আছে ছবির এক দৃশ্যে ভিলেনচরিত্র রামাধির সিং তার চ্যালাদের যা বলে তা সোজা বাংলায় এরকমআমি জীবনে সফল কারণ আমি হিন্দি ছবি দেখি না, তোরা ব্যর্থ কারণ তোরা হিন্দি ছবি দেখিস এরপরই যাকে বলে মোক্ষম ডায়ালগ—‘তুম লোগোকে খোপরি মে সানিমা চল রহি হ্যায়, স্বপ্নো কি দুনিয়া মে খোয়ে রহেতে হো স্বপ্নো কি দুনিয়া সে বাহার আও সালো

কিন্তু কঠিন সত্যিটা হল, প্রতি মুহূর্তে বাস্তবের মার খাওয়া আমরা স্বপ্নের দুনিয়ায় পালিয়েই বাঁচতে চাই লোকাল ট্রেনে বাদাম বেচা গরিব ফেরিওলা থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত কেরানি পর্যন্ত চায় তাঁর স্যাঁতস্যাঁতে জীবনটা ভোজবাজিতে একদিনের জন্য সব পেয়েছির স্বর্গ হয়ে যাক আস্ত একদিন না পাই আড়াই কী তিনঘণ্টাই সই যে তিন ঘণ্টায় ভিলেনকে কেলিয়ে লাট করা যাবে যেমন, তেমনি পাড়ার খেদিপেঁচি না, একঘেয়ে ঘরের বউটিও নয়, অপরূপা ঊর্বসীর সঙ্গে হুলিয়ে প্রেম করা যাবে

ক্যাপিটালের নাম – মাপা জীবনের চাপা সেক্স

দশকের পর দশক ধরে এই সুযোগটাই নিয়েছে বলিউড পৃথ্বীরাজ কাপুর আমলের পরিচালকেরাও বুঝে গেছিল, মালদার প্রযোজক নয়, ভারতীয় ছবির আদত ক্যাপিটাল হল আম আদমির মাপা জীবনের চাপা সেক্স অতএব দে অবদমনের জতুগৃহে দেশলাই ঠুকে, অপূর্ব মুন্সিয়ানায় তৈরি কর সত্যির মতো মিথ্যের নন্দনকানন তাই হল স্বর্গ থেকে হিন্দি সিনেমার নায়িকা হয়ে মর্ত্যে অবতরণ করলেন ঊর্বসী, রম্ভা, মেনকার দল

এমনিতে বলিউডের বৃষ্টির গানে নায়িকাদের সাদা শাড়ি বা সালোয়ার পরা বাধ্যতামূলক। যাঁরা শিল্পী হেমেন মজুমদার কিংবা রাজা রবি বর্মার ক্যানভাস দেখেছেন তাঁরা জানেন জলে ভিজলেই ট্রান্সপারেন্ট হয় সাদা, এরোটিক হয়ে ওঠে দৃশ্য। তবে কিনা ১৯৫৫ সালে গোটা ইন্ডাস্ট্রিই ছিল সাদাকালো।

দুশ্চরিত্ররাজ কাপুর

তবু তিনি রাজ কাপুর। ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সেরা প্রতিভা। তাঁর সময়ের অন্যদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে থাকা মানুষ। আমার ধারণা, হয় রাজ কাপুর দুশ্চরিত্র ছিলেন অথবা তিনি ঘোমটার তলায় খ্যামটা ন্যাচা পছন্দ করতেন নাতাই তাঁর ছবিতে যৌনতা এসেছে মানব জীবনের আর পাঁচটা অনুভূতির মতো অতি স্বাভাবিক চালেতাই তাঁর শ্রী৪২০ছবির পেয়ার হুয়া ইকরার হুয়াগানটি বৃষ্টি ভেজা হিন্দি গানের তালিকায় আজও অবিকল্প রয়ে গেলগানের সুর, কথা ও গায়কী যে অনবদ্য ছিল তা সত্যি। কিন্তু আজ সে কথা হবে না। কারণ যতোই যা হোক হাপুস ভেজা গানটুকুর আসল ইউএসপি ছিলেন সে কালের ডাকসাইটে সুন্দরী নায়িকা নার্গিস। শুধু নার্গিস বলেই নয়, হিন্দি সিনেমার এ ধরনের গানের আসল উদ্দেশ্য ছিল দুষ্টুমি করে মিষ্টি নায়িকাকে ভিজিয়ে দেওয়া। তাই এ গানের হিরোর হাতে ছাতা ধরা থাকলেও তা নেহাতই মেটাফোর। ছাতা মাথায় দিয়েও কীভাবে বৃষ্টি ভেজা যায় তাও তো শিখিয়েছে হিন্দি ছবির বৃষ্টিগানের ধারাবাহিক ইতিহাসআসলে ওই ছাতা হয়তো সমাজের রূপক, যা হাতে ধরে থাকতে হয় তাই ধরা ছিল আসলে এক সেমিন্যুডবিউটি আঁকতে চেয়েছিলেন পরিচালক। তবে কিনা সেকালে ততো পারমিশনছিল না, ফলে নায়কনায়িকা ততখানি ঘনিষ্ঠ হতে পারেনি তাছাড়া আজকের দিনের মতো করে নায়িকার শরীর প্রদর্শনও সম্ভব ছিল না। এর বদলে নার্গিসের অভিব্যক্তিময় মুখে ক্যামেরা তাক করা ছিলতাঁর চোখে, ঠোঁটে ফুটে উঠছিল স্পষ্টত শীৎকারযেমন, ১৯৫৮র ছবি চলতি কা নাম গাড়ির গান এক লড়কি ভিগি ভাগি সি। এই ছবিতে প্রাণ ভরে আমাদের বাবার বাবারা দেখেছিলেন মধুবালাকে। তবে গানের মধ্যে বৃষ্টি নেই, নায়িকা আগেই ভিজে এসেছে। খেয়াল করুন, মধুবালার পরনে বৃষ্টির গানের ট্রেডমার্ক সাদা শাড়ি। তবে রাজেশ খান্না আর জিনাত আমান বেকায়দা ভিজেছিলেন আজনবি‘ (১৯৭৪) ছবির ভিগি ভিগি রাতো মেগানটিতে। তাও আবার দিনের নয় রাতের বৃষ্টিতে, কাছে আসর শ্রেষ্ঠ সময়ে। অতএব জিনাত আমানের পরনে ফিনে ফিনে সাদা নাইট ড্রেস। যা ভিজে গায়ে চিপকে গেছিলএকেই জিনাত আমান ছিলেন সেকালের বিপাশা বসু, ট্রেডমার্ক সেক্সি হিরোইন। অতএব তাঁকে দিয়ে যতখানি প্রেমকরানো যায় তা করানো হয়েছিল

কালীঘাটের পট, বাঙালী সুন্দরী মৌসুমী

তবে মৌসুমী চ্যাটার্জীর মতো কিউট বিউটি ভারতীয় সিনেমা দ্বিতীয়টি পায়নি। তার উপর বাঙালি মেয়েদের প্রতি গোটা ভারতের পুরুষেরা বরাবর ফিদা। তুলনায় অনেক বেশি নরম গড়ন, কালীঘাটের পটসুলভ সুডৌল ভারী স্তন। এবং এই নায়িকার বিখ্যাত গজ দাঁতের হাসি। ১৯৭৯তে মুক্তি পাওয়া মঞ্জিল ছবির বিখ্যাত গান রিমঝিমে গিরে সাওয়ান‘-এ পরিচালক উজাড় করে দেখিয়ে ছিলেন মৌসুমীকে। মুম্বইয়ের মনসুনের বিখ্যাত বৃষ্টিতে সবুজ শাড়ি আর কালো ব্লাউজে নায়িকা সমুদ্রের ধার দিয়ে আমিতাভের হাত ধরে হেঁটে, ছুটে বেড়াচ্ছিলেন মৎসকন্যার মতো। এতটাও রুচিশীল দৃশ্যায়ন (পিকচারাইজেশন) ছিল না অমিতাভস্মিতা পাটিলের আজ রপট যায়ে‘ (নমকহালাল, ১৯৮২)। সেখানে সোজাসুজি ব্ল্যাক বিউটি স্মিতাকে সরু লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরিয়ে শরীরী নাচ নাচানো হয়েছিল। এমনকী অমিতাভ গানের শুরুতেই নায়িকার আচল টেনে খুলে দেন। বিরক্তিকর নকল ছলাকলা চলে গোটা গানজুড়েতবে আমরা ভারতীয় সিনেমার দর্শক, মানে আমরা মূলত পুরুষ। অতএব ঊর্বসীর ঢলানি দেখে মুখে যাই বলি, মনে খুশি হই।

ভেজা সাদা শাড়ি, সেক্সিয়েস্ট উইমেন গারমেন্ট

যাক গে, আসল কথা হল জিনাত বা স্মিতারা কিংবদন্তী সুন্দরী ননমধুবালা, হেমা মালিনির পর যাকে বলে লাইটনিং বিউটি, তিনি শ্রীদেবী। সামান্য কয়েকটি অসামান্য ছবি করা পরিচালক শেখর কাপুর যে শ্রীদেবীকে দুর্দান্ত ব্যবহার করেছিলেন মিস্টার ইন্ডিয়া (১৯৮৭) ছবির সুপার ডুপার হিট গান কাটে নেহি কটতি হ্যায় দিন ইয়ে রাত‘-এ। শাড়ি যে সেক্সিয়েস্ট উইমেন গারমেন্ট তা দৃশ্যত এ গানে প্রমাণ করেছিলেন মেধাবী পরিচালক ও নায়িকা। প্রথমে হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উড়ে‘, পরে বৃষ্টিতে ভিজে যিনি এ গানে পর্দায় নেচেছিলেন তাকে সত্যিই স্বর্গীয় লেগেছিল দর্শকেরএর উপর মিস্টার অনিল ইন্ডিয়া কাপুরকে চোখে দেখতে পাচ্ছিলেন না সুন্দরী, কিন্তু শরীরে প্রেমের পরশ! আর কী চাই বলুন! এরপর যে গানের কথা বলতেই হয়, সেই গান অপূর্ব, সঙ্গীত পরিচালক অপূর্ব, সেই নায়িকা অপূর্বা।

ইনোসেন্ট মনীষা ও সেক্সি কৈরালা!

গান হল রিমঝিম রিমঝিম, রুমঝুম রুমঝুম। নায়িকা মনীষা কৈরালা। এমন স্নিগ্ধ সুন্দর বলিউড কমই পেয়েছেএমনকী ইনোসেন্ট এবং সেক্সি শব্দ দুটো যে পাশাপাশি বসানো সম্ভব তাও অধিকাংশের জানা ছিল না মনীষাকে দেখার আগে ১৯৪২আ লাভ স্টোরি‘(১৯৯৪)-তে হলুদসুন্দরী মনীষা। হলুদ শাড়ি আর ব্লাউজে অষ্টাদশীসর্ষেখেতের মতো সুন্দর লেগেছিল ছবির নায়িকাকে। বলা বাহুল্য, পরিচালকের নাম বিধুবিনোদ চোপড়া যেহেতু তাই যৌনতার ব্যবহার এখানে শিল্পীত সুষমায়, বদখত ভঙ্গিতে নয়। একই বছরে মুক্তি পাওয়া ছবি মোহরাটিপটিপ বরসা পানি‘(অক্ষয়কুমার ও রবিনা ট্যানডন অভিনীত) গানটিকে পাশে ফেললেই পার্থক্য বোঝা যাবে। এর বছর তিনেক বাদে বিশ্ব সুন্দরীকে মিশিয়ে দেওয়া হয় বৃষ্টির সঙ্গে। সে এক অসামান্য মেলবন্ধন—‘তাল সে তাল মিলা। সুভাষ ঘাইএ আর রহমানঐশ্বর্য রাই এবং আদিগন্ত বৃষ্টি। প্রথমে আরও দুই মেয়ের সঙ্গে ঐশ্বর্য সাদা লম্বা ঝুলের সালোয়ার পরে ভারতীয় ধ্রুপদী নৃত্যে ভিজিয়ে দেন দর্শককে। নেমে যান সবুজ প্রকৃতির দিঘিতে সখীদের সঙ্গে জলকেলি করেন। এরপর অপূর্ব সেই বাঁশখড়ের ছাউনিটিকে দেখি আমরা, যেখানে নায়িকা একে একে খুলতে থাকেন পোশাকের উপরের পরত। দেখা যায় যৌবনের প্রতীক কাঁপা কাঁপা নাভিপদ্ম। সে এক অপূর্ব নগ্নতাযেন বৃষ্টি ঐশ্বর্যকে নয়, ঐশ্বর্যই বৃষ্টিকে ভিজিয়ে দিচ্ছেন আপন সৌন্দর্যে। যা দূর থেকে অবলোকন করেন নায়ক অক্ষয় খান্না। যদি বলি, অক্ষয়ই আসলে আপামর ভারতীয় দর্শক। তাহলে কি খুব ভুল বলা হয়?

নেট দুনিয়া, প্রাচ্যের প্যাশন, পাশ্চাত্যের ফ্যাশন

তবে নতুন শতাব্দীতে নেট দুনিয়ার অনুপ্রবেশ। ফলতঃ ভারতীয় প্যাশনের সঙ্গে যোগ হল পাশ্চাত্যের ফ্যাশন। এতে করে আগে যে ছোট পোশাক পরত হেলেনের মতো বল ডান্সাররা, তেমন, এমনকী তার চেয়ে বেশি সাহসী পোশাকে দেখা দিতে থাকলেন নায়িকারাতদুপরি সবার জানা, হিন্দি ছবির নায়কদের তুলনায় নায়িকাদের গরম বেশি! ক্যাটরিনা যখন প্রায় সুইমস্যুট পরে বরফকেলি করেন তখন শাহরুখ বা সলমান লেদার জ্যাকেট কী স্যুট পরে অভিনয় করেনএর উপর ততদিনে এসে গেছেন চুম্বন বিশেষজ্ঞইমরান হাসমি।

অতএব, ‘জহের‘ (২০০৫) ছবিতে আতিফ আসলামের গাওয়া হিট গান ওহ লমহে, ওহ বাতেতে শমিতা শেট্টির পোশাক ছিল সরু ফিতে স্লিভলেস। যাকে বৃষ্টিভেজা রাস্তায় কোলে তুলে নেন নায়ক। শুনতে মন্দ লাগলেও সত্যি, যে এ গানের কথা ও দৃশ্য ঘোষণা করেছিল একশ শতাংশ শরীরী প্রেমকে।

ভারতীয় দর্শক (পড়ুন ভারতীয় পুরুষ)

কিন্তু গুরু (২০০৭) ছবিতে আবারও যখন বৃষ্টি আর ঐশ্বর্য রাই এক হলেন তখন তা ছিল নিস্পাপযৌবনের বার্তা। কারণ পরিচালকটির নাম মণিরত্নম। ফলে বরসো রে মেঘা মেঘাগানে পিঠকাটা চোলিঘাঘরা পরা নায়িকার সঙ্গে দর্শক (পড়ুন ভারতীয় পুরুষ) প্রথমত নিখাদ প্রেম করতে চায়, কেবলই যৌন সম্ভোগে যেতে চায় না। আর এই দুই চাওয়া দ্বিধাহীন ভাবে মিলে মিশে গেছে যে সাম্প্রতিক ছবিতে তার নাম হাফ গার্লফ্রেন্ড‘ (২০১৭)। গান—‘ইয়ে মৌসম কী বারিস। আজকের প্রজন্মের ভাবনার মতোই প্রেমের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ককে স্বাভাবিক লাগে এই গান দেখলেঅর্জুন কাপুর যে শ্রদ্ধা কাপুরকে নিস্পলক দৃষ্টিতে দেখে, সে স্লিভলেস শর্টঝুল ফ্রক পরে নিজের সঙ্গেই নিজে ভিজছে। আরেক দৃশ্যে ব্রার মতো সাদা টপ আর মিনিস্কার্ট পরা শ্রদ্ধা। তাঁর ঠোঁটে মুখে বৃষ্টি নয়, যেন প্রথম যৌবনে ভেজার ভালো লাগা!

কে সভ্য‘, কে অসভ্য

এতক্ষণ বৃষ্টি ভেজা হিন্দি গান নিয়ে যেভাবে অক্ষর খরচ করেছি, জানি, তাতে অনেকেই ক্ষুদ্ধ হবেন। লেখক বদের হাঁড়ি ভাবলেও অবাক হব না। কিন্তু তাতে বাস্তবতার, সত্যের কাঁচকলা এসে যায়। কারণ, যে আপনি ভদ্রলোকপনা দেখাচ্ছেন সেই আপনি আপনিনন। এই আপনিআসলে হাজার বছরের মধ্যবিত্ত মগজধোলাই। যে কুসংস্কার আপনাকে শিখিয়েছে যৌনতা মানেই খারাপ। অথচ যার কৃপায় এ ধরাধামে আপনার আগমনএবং একই কারণে অসভ্যইউরোপ আমেরিকার তুলনায় সভ্যভারতের লোকসংখ্যা হাজার গুণ বেশি। এবং আগেই যা বলেছিআপনার এই ওপরচালাকিকেই ক্যাপিটাল করে আজও কোটি কোটি টাকা মুনাফা করে চলেছে বলিউড। তাই নায়ক সর্বস্ব সিনেমাতেও ক্যাটরিনার মতো সিনিক বিউটিলাগে। তাই আইটেম সঙের প্রয়োজন হয়। মনে মনে সক্কলে দুষ্টু মিষ্টি নায়িকা নয়, আরও এক ধাপ এগিয়ে মেনকাঊর্বসীরম্ভার মতো দুষ্টুবৃষ্টিনায়িকা চাই।

দুষ্টুবৃষ্টিনায়িকা

খেয়াল করে দেখলে সুন্দরী অভিনেত্রীরা নয়, বৃষ্টিই হল এইসব গানের আদত নায়িকা। যে ধারাস্নানের নাম কখনও নার্গিস, কখনও মধুবালা, কখনও শ্রীদেবী, কখনও মাধুরী, কখনও ঐশ্বর্য, কখনও ক্যাটরিনা, করিনা, কখনও হালের শ্রদ্ধা কাপুর কিংবা আলিয়া ভাট।

আরও পড়ুন:  বাঙালীর বিশ্বকাপ এবং কমলাকান্তের পুনরার্বিভাব

NO COMMENTS

এমন আরো নিবন্ধ