দেহ বিলীন মাটিতে‚ রয়েছে ১৫০০ বছরের বাদ্যযন্ত্র‚ ব্রিটিশ তুতানখামেনের রহস্যময় সমাধি

রাস্তা খোঁড়া চলছিল। একদিকে পাব। অন্যদিকে সুপার মার্কেট। কে ভাবতে পেরেছিল মাটির তলায় কোনও ঐশ্বর্যের সন্ধান মিলবে? ঐশ্বর্য বলতে গুপ্তধন নয়। কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে সেই আবিষ্কারের মূল্য গুপ্তধনের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। ২০০৩ সালে এভাবেই আচমকা এসেক্সের প্রিটলওয়েলের কাছে পাওয়া যায় এক প্রাচীন রাজার জমকালো কবর। খ্রিস্টীয় অ্যাংলো-স্যাক্সন আমলের সবচেয়ে পুরনো রাজকীয় এই কবরকে বলা হচ্ছে ‘ব্রিটিশ তুতানখামেন’-এর কবর ! প্রাচীন মিশরের বিখ্যাত ফারাও তুতানখামেনের মমির মতোই এক্ষেত্রেও সমাধি-প্রকোষ্ঠ ছিল চোখ ধাঁধানো। কালের গর্ভে মিশে যাওয়া এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে পর্যবেক্ষণ করে প্রত্নতাত্ত্বিকরা চমকে গিয়েছেন।

মিউজিয়াম অফ লন্ডন আর্কিওলজি (মোলা)-র অধিকর্তা সোফি জ্যাকসন বলেছেন, এটিকে অনায়াসেই তুতানখামেনের সমাধির ব্রিটিশ সংস্করণ বলা চলে। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই অবশ্য পার্থক্য রয়েছে। গত পঞ্চাশ-ষাট বছরে ব্রিটেনে এমন প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার হয়নি বলেই জানান তিনি।

প্রথমে মনে করা হচ্ছিল এই কবর সম্ভবত পূর্ব স্যাক্সনদের রাজা সেবার্টের। কিন্তু তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৬১৬ খ্রিস্টাব্দে। কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিকদের বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যাচ্ছে এই কবরটি ৫৮০ খ্রিস্টাব্দের। তাই ধারণা করা হচ্ছে সেবার্ট নয়, এই কবর তাঁর ভাই সিক্সা’র। তবে কবরের মধ্যে সংরক্ষিত দেহের আর প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই। কেবল দাঁতের সামান্য অংশ ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেহাবশেষ ছাড়া আর সবই মাটিতে মিশে গিয়েছে।

এত বছর ধরে গবেষণার ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাচ্ছে। এই সমাধি-প্রকোষ্ঠ যেন তৈরিই করা হয়েছিল নিজেদের জাত্যভিমানকে প্রকট করে তুলতে। পাশাপাশি এই কবর যে একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সেই বার্তাও পৌঁছে দেওয়াটা উদ্দেশ্য ছিল। কবরে সঙ্গে নানা রকমের জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছে। মিলেছে কাঠের লায়ারও। লায়ার সেই প্রাচীন পৃথিবীর এক জনপ্রিয় বাদ্যযন্ত্র ছিল। মিলেছে আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

সব মিলিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিকরা নিশ্চিত, সেযুগে এসেক্সের বাসিন্দারা পূর্ব স্যাক্সনদের রাজত্বে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষমতায় একেবারে প্রথম সারিতে ছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও তা থেকে উঠে আসা সত্য ইতিহাসকে আরও নিখুঁত ভাবে দেখতে সাহায্য করবে বলে তাঁদের বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কফি হাউসের আড্ডায় গানের চর্চা discussing music over coffee at coffee house

যদি বলো গান

ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স-এ সারা রাত ক্লাসিক্যাল বাজনা বা গান শোনা ছিল শিক্ষিত ও রুচিমানের অভিজ্ঞান। বাড়িতে আনকোরা কেউ এলে দু-চার জন ওস্তাদজির নাম করে ফেলতে পারলে, অন্য পক্ষের চোখে অপার সম্ভ্রম। শিক্ষিত হওয়ার একটা লক্ষণ ছিল ক্লাসিক্যাল সংগীতের সঙ্গে একটা বন্ধুতা পাতানো।