ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি নিয়ে শতাধিক বছর ধরে মাটির তলায় রহস্যময় রণসুন্দরী

উত্তর ভার্জিনিয়ার সেন্টারভিল অঞ্চলে ১৯৯২ সাল নাগাদ একটি কনস্ট্রাকশন সাইটের খোঁড়া মাটিতে আমেরিকার গৃহযুদ্ধের নানা নিদর্শন খোঁজার কাজে ব্যস্ত ছিলেন এক প্রত্নতাত্বিক | ওই বিশেষ অঞ্চলটি আমেরিকার সিভিল ওয়ারের সময়ে একটি ব্যস্ত রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হত | ওই অঞ্চল থেকেই মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে কয়েকটি সিভিল ওয়ারের সময়কার বুলেট খুঁজে পেয়েছিলেন প্রত্নতাত্বিক | আশা করছিলেন হয়ত খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে যেতে পারেন কোনও সিভিল ওয়ারের বেল্ট বাকল বা বকলস | কিন্তু হঠাৎ করেই মেটাল ডিটেক্টর শোনালো তীব্র জোরালো শব্দ | ঠিক বুলেট খুঁজে পাওয়ার সময়ের মত শব্দ নয় | এইবার শব্দটি ছিল আরও বেশি জোরালো | মহা উদ্যমে মাটি খুঁড়তে লাগলেন প্রত্নতাত্বিক |

মাটি খোঁড়ার পর মাটির প্রায় পাঁচ ইঞ্চি তলায় পাওয়া যায় বিশেষ জিনিস | সেটি ছিল একটি ধাতব প্লেট | খননকারী প্রত্নতত্ত্ববিদ ধাতব প্লেটটি মাটি থেকে তুলে তাতে লেগে থাকা মাটি ঝেড়ে ফেলে দেখতে পান সিভিল ওয়ার বকলসে যেমন স্টেট সিলের অক্ষর বা শব্দ খোদাই করা থাকে তেমন কিছুই নেই ধাতব পাতটিতে | বরং তাতে ফুটে উঠেছে এক মহিলার অবয়বের হাল্কা আভাস |

আসলে সেটি ছিল একজন নারীর ছবির নেগেটিভের ধাতব পাত | নেগেটিভ দেখে বোঝা যায় ছবিটি তোলার সময় সিভিল ওয়ারের সময়ের বিশেষ বলডান্সের পোশাক পরে ছিলেন মহিলা | কিন্তু ছবিটির মোটা ধাতব নেগেটিভ পাতের কোথাও মহিলার নাম বা ছবিটির সময়কালের কোনও উল্লেখ ছিল না | সেই সময় ধনী সম্ভ্রান্ত পরিবারের মহিলারা যেমন অফ শোলডার জামা পরতে পছন্দ করতেন ঠিক তেমনই একটি জামা ছবিতে পরে আছেন মহিলাটি | তাঁর পরা গয়নগাটিতেও সেই সময়ের ছাপ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে | তাঁর পরে থাকা হারটিতে রয়েছে বড় বড় লকেট যাতে সাধারণত সেই সময়ে নিজের প্রিয়জনদের ছোট ছোট ছবি আটকানো থাকত | উনবিংশ শতকের জনপ্রিয় ধরণে মহিলার চুলের সাজ‚ মাথার মাঝখানে সিঁথি কাটা | অর্থাৎ তাঁকে দেখে আন্দাজ করা যায় কোনও ধনী সম্ভ্রান্ত পরিবারেরই মহিলা হবেন তিনি | মাথার মাঝখানে সিঁথি কেটে চুল পরিপাটি করে বাঁধা | উনিশ শতকের মাঝামাঝি সে সময়ে সব শ্রেণীর মহিলাদের জনপ্রিয় হেয়ারস্টাইল ছিল এটা |মাথায় উকুন আছে কিনা তা ধরার সুবিধার জন্য এভাবে চুল বাঁধা হতো |

খননকারী প্রত্নতাত্বিক ভেবেছিলেন কোনও ফোটোগ্রাফ ডেভলপ করার দোকানে গিয়ে নেগেটিভটি ডেভলপ করিয়ে মহিলার আসল রূপটি দেখবেন | কিন্তু ততদিনে ফোটোগ্রাফের নেগেটিভের ধরণ অনেকখানিই বদলে গিয়েছিল | তাই যেকোনও দোকান থেকেই উদ্ধার করা ফোটোনেগেটিভটি ডেভলপ করার সুযোগ ছিল না | নিজের কয়েকজন সহকর্মী বা বন্ধুবান্ধবকে ছাড়া আর কাউকেই নিজের উদ্ধার করা এই ফোটোনেগেটিভটি দেখাননি প্রত্নতাত্বিক |

সম্প্রতি‚ ২৭ বছর পরে হঠাৎই তাঁর মনে হয় এই প্রাচীন প্রত্নতাত্বিক নিদর্শনটি বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার কথা | মনে পড়ে ফোটোশপ ব্যবহার করেই এই ফোটোনেগেটিভটিকে পজেটিভে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে | বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে নিজের তোলা ছবিটি ব্যবহার করে ফোটোশপের মাধ্যমে ফোটোনেগেটিভটির আসল রূপ দেখা যায় | ছবিটির পুরনো সেকেলে আমেজ বজায় রাখতে সেটিকে সাদাকালো ছবিতে পরিণত করেন তিনি | ছবিতে থাকা রূপসী মহিলাটির ঠোঁটের কোণের মৃদু হাসিও তখন বোঝা যায় |

সামরিক ছবিবিশেষজ্ঞ রোনাল্ড কডিংটনের সঙ্গে ছবিটি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে রোনাল্ড জানান ছবিটি ১৮৭০ থেকে ১৮৮০ সালের মধ্যে কোনও এক সময়ে তোলা হয়েছিল | ১০০ বছরেরও বেশি কিছু সময় ধরে মাটির তলাতেই চাপা পড়ে ছিল ছবিটি | কোনও প্রিন্টিং প্রেসের জন্য ছবিটি তোলা হয়েছিল বলে অনুমান তাঁর | মাটির তলা থেকে আবিষ্কৃত বহুযুগের আগের সুন্দরী মহিলার ছবি আবিষ্কারের এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমত ভাইরাল হয়ে পড়েছে |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here