২০০৬ সালে ১.২ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছিলেন | বারো বছর পরে ২০১৮-এ কিনলেন ১১.৬ কোটি টাকা দিয়ে | কিনলেন পবিত্র কলস যা পূর্ণ দুধ‚ মধু‚ জাফরান‚ হলুদ‚ চন্দন‚ নারকোলের জল‚ অশ্বগন্ধা‚ সোনা‚ রুপো‚ আখের রস‚ চালের গুঁড়ো এবং অন্যান্য সুগন্ধিতে | কিনলেন বলে এক বিরল এবং মূল্যবান অভিজ্ঞতার শরিক হতে পারলেন রাজস্থানের ব্যবসায়ী অশোক পাটনী | বাহুবলী বা গোমতেশ্বরের মহামস্তকাভিষেক অনুষ্ঠানে | যা প্রতি বারো বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয় কর্নাটকের জৈন তীর্থভূমি শ্রাবণবেলগোলায় | 

Banglalive

স্থানীয় বিন্ধ্যগিরিতে ৫৭ ফিট উঁচু গোমতেশ্বরের মূর্তি হল বিশ্বের বৃহত্তম গ্র্যানাইট মোনোলিথিক বিগ্রহ | প্রথম জৈন তীর্থঙ্কর আদিনাথ বা ঋষভনাথের পুত্র ছিলেন বাহুবলী বা গোমতেশ্বর | রাজত্ব ত্যাগ করে সন্ন্যাসে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাস্তবের বাহুবলী | জৈন ধর্মীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রতি বারো বছর বা এক যুগ পর পর অনুষ্ঠিত হয় মহামস্তকাভিষেক পর্ব | যিনি প্রথম জলপূর্ণ পবিত্র কলস কিনতে পারেন তিনি প্রথম জলাভিষেকের বা গোমতেশ্বরের মূর্তিতে জল ঢালার সুযোগ পান | দিগম্বর সম্প্রদায়ের জৈনদের কাছে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ | ২০০৬-এও এই অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন কোটিপতি অশোক পাটনী | জয়পুরে তাঁর বিশাল মার্বেল-ব্যবসা | কোম্পানির নাম আর কে মার্বেলস | এই অভিষেক উৎসবে দ্বিতীয় পবিত্র জলপূর্ণ দ্বিতীয় কলস কিনেছেন কলকাতার ব্যবসায়ী পঙ্কজ ও পরশ জৈন | তবে তাঁরা কত টাকা তার জন্য দিয়েছেন জানা যায়নি |   

অভিষেকের প্রথমদিন ১০৮ ঘড়া জলে স্নান করানো হয় | ১৯ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি অবধি চলবে উৎসব | মোট ১০০৮ ঘড়া জলে স্নান করানো হবে গোমতেশ্বর বিগ্রহকে | গত আড়াই হাজার বছর ধরে শ্রাবণবেলগোলা পুণ্য জৈন তীর্থক্ষেত্র | গঙ্গা বংশীয় রাজাদের সময়ে শুরু হয়েছিল এই মহামস্তকাভিষেকম | প্রতি ১২ বছর অন্তর হয়ে আসছে গত ১০৩৮ বছর ধরে | হায়দর আলি এবং টিপু সুলতানের শাসনেও এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে | এ বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৮৮ তম মহামস্তকাভিষেক | 

উৎসবের সূত্রপাত হয়েছে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাতে | কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া সাধারণ ভক্তদের মতো ৬৪০ টি সিঁড়ি অতিক্রম করে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন | ২০০৬-এ উৎসব শুরু হয়েছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের উপস্থিতিতে | দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এখানে এসেছিলেন ১৯৫১-এ‚ কন্যা ইন্দিরাকে নিয়ে | পরে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার মহামস্তকাভিষেকে এসেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী | ১৯৬৭ এবং ১৯৮১-তে | ১৯৮১ ছিল গুরুত্বপূর্ণ বছর | কারণ এই উৎসব ও গোমতেশ্বর মূর্তি স্থাপন দুটি ঘটনারই ১০০০ বছর পূর্তি হয় সে বার | হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী | 

এই উৎসব থেকে প্রাপ্ত অর্থ কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয় বলে জানানো হয়েছে জৈন মঠ থেকে | যেমন পবিত্র কলসবাবদ ব্যবসায়ীদের প্রদেয় অর্থ দিয়ে তৈরি হবে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল |  

আরও পড়ুন:  অসতর্ক মুহূর্তে হাত থেকে পড়ে গেল কফির কাপ‚ জনসমক্ষে নিজেই পরিষ্কার করলেন ডাচ প্রধানমন্ত্রী

NO COMMENTS